কেউ হয়তো বিশ্বাস করবেন না কিন্তু সত্যের খাতিরে আমাকে স্বীকার করতে হবে যে আমার এই সামান্য সাহিত্য-জীবনে গদ্য লেখা আমি আরম্ভ করেছিলাম ‘রন্ধন প্রণালী’ দিয়ে। সে বড় দুঃখের কাহিনী। আমি তখন (এমনকী এখনও) রান্নার ‘র’ পর্যন্ত জানি না। আমি নিতান্ত অর্থলোভে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তখন দৈনিক কাগজের রবিবাসরীয়তে নিয়মিত ‘রন্ধন প্রণালী’, যেমন মানকচুর… Continue reading র্যাডিস উইথ মোলাসেস – তারাপদ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
লোকটি – হুমায়ূন আহমেদ
ঐ কৃপণ লোকের গল্প কি তোমরা শুনেছ? যে চিনির কৌটার পিপাড়া ফেলে দিত না। অন্য একটা কৌটায় জমা করে রাখত? চিনি শেষ হয়ে গেলে ঐ সব পিপড়া দিয়ে চা বানিয়ে খেত। এগুলি গল্পকথা। বাস্তব জীবনে এ রকম ভয়ংকর কৃপণ থাকে না। তবে একেবারেই যে থাকে না তাও না। আজহার উদ্দিন খাঁ এ রকম একজন কৃপণ।… Continue reading লোকটি – হুমায়ূন আহমেদ
নসিমন বিবি – হুমায়ূন আহমেদ
গায়ক এস আই টুটুল শুধু যে চমৎকার গান করে তা না, সুন্দর করে গল্পও বলতে পারে। তার গল্প বলার স্টাইলে মুগ্ধ হয়ে আমি প্রায়ই নাটকে অভিনয় করতে ডাকি। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, ক্যামেরার সামনে সে মোটেই স্বচ্ছন্দ না। ডায়ালগও মনে রাখতে পারে না। যাই হোক কি এক নাটকে মনে হয় ‘চন্দ্র কারিগর’ সে অভিনয় করতে এসেছে।… Continue reading নসিমন বিবি – হুমায়ূন আহমেদ
গণ্ডগোল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
রামী কেমন মেয়ে তাও কুমুদ জানে না। অথচ রামী একরকম তার বিয়ে করা বউ। খবর যা পাচ্ছে কুমুদ তা মোটেই ভালো নয়। রামীর নাকি বিয়ে! গণ্ডগোল মানেই হল কুমুদ। তার গোটা জীবনটাই নানা গণ্ডগোল, গুবলেট আর কেলোর একটা যোগফল। বাপের দুটো বউ আর তেরোটা ছেলেমেয়ে। তার ওপর বাপটা রগচটা, দুই মায়ের উত্তম কুস্তম ঝগড়া। সব… Continue reading গণ্ডগোল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ইচ্ছাশক্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
মনস্তত্ত্বের এক প্রচণ্ড পণ্ডিত বলিলেন, ইচ্ছাশক্তির দ্বারা হয় না এমন কাজ নেই। যদি মরীয়া হয়ে ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করতে পারো, যা চাইবে তাই পাবে। কোনও কাজ করতে হবে না, স্রেফ মনের ইচ্ছাটাকে প্রবল একাগ্র দুর্নিবার করে তুলতে হবে। সেকালে মুনি-ঋষিরা কথাটা জানতেন, তাই রামায়ণ-মহাভারতে এত বর দেওয়া আর শাপ দেওয়ার ছড়াছড়ি। পণ্ডিতের কথা সত্য কিনা পরীক্ষা… Continue reading ইচ্ছাশক্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
রামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়
রামধনের লোকটাকে চেনা চেনা লাগায় আরেকটু কাছে গিয়ে একটা গাছের আড়াল থেকে দেখে তার বুকের ভিতরটা হিম হয়ে গেল। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও চিনতে কোনও অসুবিধা নেই। এই সেই খগেশবাবু। খগেশ খাস্তগির, পুরনো ইটপাথর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। খগেশবাবুর সঙ্গে ছিলেন বকুলতলার সত্যপ্রকাশবাবু। তিনি বলছিলেন: কই, তেমন বদনাম তো কেউ দেয়নি এ বাড়ির। ভূতটুত এ তল্লাটে… Continue reading রামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়
আকাশপরী – হুমায়ূন আহমেদ
নীলুদের বাসায় মাঝে মাঝে একজন হেডমাস্টার সাহেব বেড়াতে আসেন। তিনি নীলুর বাবার বন্ধু আজীজ সাহেব। হেডমাস্টাররা সাধারণত যে রকম হন, উনি কিন্তু মোটেই সে রকম নন। খুব হাসিখুশি স্বভাব। আর এমন মজার মজার ধাঁধা জিজ্ঞেস করেন নীলুকে, যে নীলু হেসেই বাচে না। একদিন জিজ্ঞেস করলেন, বলো দেখি মা, তিন আর এক যোগ করলে কখন পাঁচ… Continue reading আকাশপরী – হুমায়ূন আহমেদ
করালী স্যারের অঙ্কের ক্লাস – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
করালী স্যারের অঙ্কের ক্লাস। ছাত্ররা এখন আর অঙ্ককে অঙ্ক বলে না, বলে ভয়াঙ্ক। ভয় আর অঙ্ক সন্ধি করে এই নতুন শব্দটা তারা বানিয়ে নিয়েছে।……তা ভয়াঙ্কই বটে। ক্লাসে যেসব অঙ্ক করানোর কথা, সেসব তো আছেই, তাছাড়াও করালীবাবু ছাত্রদের অঙ্কে পোক্ত করে তুলবার জন্য বাইরের বই থেকে যত রকম ম্যাথমেটিক্যাল প্রবলেম নিয়ে এসে ছাত্রদের দেন। আজ করালীবাবু… Continue reading করালী স্যারের অঙ্কের ক্লাস – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
মুরগিখেকো মামদো – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
টিমামার সঙ্গে কোথাও গিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাত্তির হলেই ভূতের পাল্লায় হাপড়াটা যেন অনিবার্য। তাই সেবার পাশের গায়ে ঝুলনপুর্ণিমার রাসের মেলায় যাওয়ার জন্য ছোটমামা আমাকে খুব সাধাসাধি করলেও বেঁকে দাঁড়ালুম। ছোটমামা আমাকে কলকাতায় যাত্রা, সার্কাসের বাঘ, সিংহ, প্রোফেসর ফুং চু র ম্যাজিক আর নররাক্ষসের আস্ত মুরগিভক্ষণের অনেক সব রোমাঞ্চকর গল্প শোনালেন। তবু আমি গো ধরে… Continue reading মুরগিখেকো মামদো – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
তিনটি বর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক দেশে এক কামার ছিল, তার মত অভাগা আর কোনো দেশে কখনো জন্মায় নি। তাকে এক জিনিস গড়তে দিলে তার জায়গায় আর-এক জিনিস গড়ে রাখত। একটা কিছু সারাতে দিলে তাকে ভেঙে আরো খোঁড়া করে দিত। আর লোককে ফাঁকি যে দিত, সে কি বলব! কাজেই কেউ তাকে কোনো কাজ করতে দিতে চাইত না, তার দুবেলা দুটি… Continue reading তিনটি বর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী