অরন্ধনের নিমন্ত্রণ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এক-একজন লোকের স্বভাব বড়ো খারাপ, বকুনি ভিন্ন তারা একদণ্ডও থাকতে পারে না, শ্রোতা পেলে বকে যাওয়াতেই তাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ। হীরেন ছিল এই ধরনের মানুষ। তার বকুনির জ্বালায় সকলে অতিষ্ঠ। আপিসে যারা তার সহকর্মী, শেষপর্যন্ত তাদের অনেকের স্নায়ুর রোগ দেখা দিলে, অনেকে চাকরি ছাড়বার মতলব ধরলে। সব বিষয়ের প্রতিভার মতোই বকুনির প্রতিভাও পৈতৃক শক্তির আবশ্যক… Continue reading অরন্ধনের নিমন্ত্রণ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশ নাইট – হুমায়ূন আহমেদ

ভোর চারটার সময় টেলিফোন বেজে উঠল, অসময়ে টেলিফোন মানেই রিসিভার না নেয়া পর্যন্ত বুক ধড়ফড়। নির্ঘাৎ বাংলাদেশের কল। একগাদা টাকা খরচ করে কেউ যখন বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় কল করে তখন ঘটনা খারাপ ধরেই নিতে হবে। নিশ্চয়ই কেউ মারা-টারা গেছে। তিনবার রিং হবার পর আমি রিসিভার তুলে ভয়ে ভয়ে বললাম, হ্যালো।…ওপার থেকে ভারী গলা শোনা গেল,… Continue reading বাংলাদেশ নাইট – হুমায়ূন আহমেদ

নীল আতঙ্ক – সত্যজিৎ রায়

আমার নাম অনিরুদ্ধ বোস। আমার বয়স উনত্রিশ। এখনও বিয়ে করিনি। আজ আট বছর হল আমি কলকাতার একটা সদাগরি আপিসে চাকরি করছি। মাইনে যা পাই তাতে একা মানুষের দিব্যি চলে যায়। সর্দার শঙ্কর রোডে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে আছি, দোতলায় দুখানা ঘর, দক্ষিণ খোলা। দুবছরই হল একটা অ্যাম্বাসাডার গাড়ি কিনেছি–সেটা আমি নিজেই চালাই। আপিসের কাজের বাইরে… Continue reading নীল আতঙ্ক – সত্যজিৎ রায়

নিজের ওজন নিজে বুঝুন – তারাপদ রায়

একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। রাস্তাটা অপেক্ষাকৃত ফাঁকা। সন্ধ্যার দিকে চৌরঙ্গি রোড ধরে হেঁটে ফিরছি, হঠাৎ সামনে এক ব্যক্তি এসে উদয় হলেন। দেখে একটু চমকে উঠেছিলাম, আগে-ভদ্রলোক-ছিলাম গোছের চেহারা। শীর্ণ, ময়লা জামা, ছেঁড়া চটি, চোখে-মুখে ক্ষুধার্ত ভাব। অবশ্য একটু পরেই বুঝলাম আমার চমকানোটা অমূলক, লোকটি একজন সামান্য ভিখিরি; গুণ্ডা বা ছিনতাইকারী নয়। ব্যক্তিটি… Continue reading নিজের ওজন নিজে বুঝুন – তারাপদ রায়

অমরবৃন্দ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

গৃহিণী থিয়েটার দেখিতে গিয়াছিলেন। কাজেই শুইতে যাইবার বিশেষ তাড়া ছিল না। রাত্রি দশটা নাগাদ আহারাদি শেষ করিয়া লাইব্রেরি-ঘরে আসিয়া বসিলাম। ভৃত্য তামাক দিয়া গেল। নৈশ-প্রদীপের তৈল পুড়াইয়া কাজ করা আমার অভ্যাস নাই-ভারি ঘুম পায়! কিন্তু আজ স্থির করিলাম-গৃহিণী যখন বারোটার পূর্বে ফিরিবেন না, তখন মাঝের এই দুই ঘণ্টা সময় কাজ করিয়াই কাটাইয়া দিব। বাংলা সাহিত্যের… Continue reading অমরবৃন্দ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

খোলা দরজার ইতিহাস – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্তোষ দত্ত আমাদের মধ্যে একজন বড়ো গাল্পিক। বাইরে শ্রাবণ সন্ধ্যার ঘনায়মান মেঘজাল, মাঝে মাঝে জোনাকি পোকা জ্বলচে। মুখুজ্যে বাড়ির বৈঠকখানায় আমাদের নৈশ আড্ডা বসেছে। না, ও সব কিছু না, শুধু চা। আর আছে গরম মুড়ি, কচি শশা, নারকেল কুচি। সন্তোষদা আজ কলকাতা থেকে দু-দিন এসেছেন। পরলোকতত্ত্বের আলোচনা করেন। এ সম্বন্ধে প্রবন্ধও লিখেছেন। নামও আছে। সন্তোষবাবু… Continue reading খোলা দরজার ইতিহাস – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা – হুমায়ূন আহমেদ

কিছুদিন আগে আমার একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমার সব অভিজ্ঞতাই তিক্ত, তবে এই অভিজ্ঞতাটা একটু বেশী রকম তিক্ত। সন্ধ্যাবেলা টিভির সামনে বসামাত্র টেলিফোন এল। অতি মিষ্টি গলায় এক তরুণী বলল, আপনি কি আমাদের বাসায় একটু আসবেন? তরুণীদের মিষ্টি গলায় আমি সচরাচর বিভ্রান্ত হই না। অভিজ্ঞতায় দেখেছি মিষ্টি গলার তরুণীরা সাধারণত মৈনাক পর্বতের মত বিশাল হয়।… Continue reading একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা – হুমায়ূন আহমেদ

সুখে থাকতে ভূতে কিলায় – হুমায়ূন আহমেদ

আমাদের ময়মনসিংহের একটি প্রবচন হচ্ছে–সুখে থাকতে ভূতে কিলায়। কিলায় হচ্ছে কিল+খায়; এক ধরনের সন্ধি যেখানে একটা অক্ষর হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। মধ্য অক্ষরলোপী সন্ধি বলতে পারেন।…..মধ্য অক্ষর লোপী সন্ধির ব্যাপারটা আমার জীবনে ঘটল। সুখে ছিলাম হঠাৎ ভূতের কিল খেলাম–রাম কিল। মনস্থীর করে ফেললাম ভ্রমণে যাব। হাতের কাছে সমুদ্র, ঠিক হল সমুদ্র-দর্শন করা হবে। আমার তিন কন্যা… Continue reading সুখে থাকতে ভূতে কিলায় – হুমায়ূন আহমেদ

লোড শেডিং – সত্যজিৎ রায়

ফণীবাবু তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে থেকেই আঁচ করলেন যে তাঁর পাড়ায় লোড শেডিং হয়ে গেছে। আজ আপিসে ওভারটাইম করে বেরুতে বেরুতে হয়ে গেছে সোয়া আটটা। ডালহৌসি থেকে বাসে তাঁর পাড়ায় পৌঁছাতে লাগে পঁয়ত্রিশ মিনিট। কতক্ষণ হল বিজলি গেছে জানার উপায় নেই, তবে একবার গেলে ঘণ্টা চারেকের আগে আসে না। ফণীবাবু বাস থেকে নেমে রাস্তা… Continue reading লোড শেডিং – সত্যজিৎ রায়

বোমাইবুরুর জঙ্গলে – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জঙ্গলের বিভিন্ন অংশে সার্ভে হইতেছিল। কাছারি হইতে তিন ক্রোশ দূরে বোমাইবুরুর জঙ্গলে আমাদের এক আমিন রামচন্দ্র সিং এই উপলক্ষ্যে কিছুদিন ধরিয়া আছে। সকালে খবর পাওয়া গেল রামচন্দ্র সিং হঠাৎ আজ দিন দুই-তিন হইল পাগল হইয়া গিয়াছে। শুনিয়া তখনই লোকজন লইয়া সেখানে গিয়া পৌঁছিলাম। বোমাইবুরুর জঙ্গল খুব নিবিড় নয়, খুব ফাঁকা উঁচু-নীচু প্রান্তরের মাঝে মাঝে বড়ো… Continue reading বোমাইবুরুর জঙ্গলে – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়