টিচার-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজমাতা হাইস্কুলের সেক্রেটারি রায়বাহাদুর অবিনাশ তরফদার ভেবেচিন্তে শেষপর্যন্ত টিচারদের কিছু সদুপদেশ দেওয়া স্থির করল। বুড়ো বয়সে এমনিতেই তার ঘুম হয়। কম, তার ওপর এইসব যাচ্ছেতাই খাপছাড়া ব্যাপারে মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় কদিন আর ঘুম হয়নি। টিচাররা ধর্মঘট করবে বেতন কম বলে, বেতন বাকি থাকে বলে, এটা সেটা হরেকরকম অসুবিধা আছে বলে চাকরি করতে। বাপের জন্মে… Continue reading টিচার-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

‘দু’টুকরো মাংস’- মুহাম্মদ বরকত আলী

আজ কুরবানির ঈদ। দীপু ঈদগাহ্ থেকে বাড়ি ফিরেই তার পূর্বের গুছিয়ে রাখা ব্যাগটি হাতে নিয়ে দেয় ছুট। দীপুর মা আবেদা হাঁক ছাড়ল, ‘এই দীপু, কিছু মুখে দিয়ে যা।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা? আবেদার কথার কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে দৌঁড় দিলো চৌধুরীদের বাগানবাড়ির দিকে। আপাতত তার পেটে এখন খিদে নেই। ঈদগাহে নামাজে যাওয়ার পূর্বে সেমাই… Continue reading ‘দু’টুকরো মাংস’- মুহাম্মদ বরকত আলী

ফেল -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ল্যাজা এবং মুড়া, রাহু এবং কেতু, পরস্পরের সঙ্গে আড়াআড়ি করিলে যেমন দেখিতে হইত এও ঠিক সেইরকম। প্রাচীন হালদার-বংশ দুই খণ্ডে পৃথক হইয়া প্রকাণ্ড বসত-বাড়ির মাঝখানে এক ভিত্তি তুলিয়া পরস্পর পিঠাপিঠি করিয়া বসিয়া আছে; কেহ কাহারো মুখদর্শন করে না। নবগোপালের ছেলে নলিন এবং ননীগোপালের ছেলে নন্দ একবংশজাত, একবয়সি, এক ইস্কুলে যায় এবং পারিবারিক বিদ্বেষ ও রেষারেষিতেও… Continue reading ফেল -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছোটসাহেব- তারাপদ রায়

শরৎকালের কোনও কোনও বিকেলে বেগমবাহার ঘুড়ির কাটাকুটির মতো সাদা মেঘ আর কালো মেঘ ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে। সহসা হু হু করে বাতাস আসে। কোন দিক থেকে আসবে বোঝা কঠিন, সাদাকালো মেঘগুলো ক্রমাগত দিক বদল করে। এদিকেরটা ওদিকে যায়, ওদিকেরটা এদিকে আসে। গোপালগ্রামের ছোটসাহেব তাঁদের দোতলা বাড়ির ভাঙা ছাদে উঠে একটা অদৃশ্য লাটাই হাতে মেঘগুলোকে কন্ট্রোল… Continue reading ছোটসাহেব- তারাপদ রায়

হুঁকো-তারাপদ রায়

০১. মীরণ বনাম মিড়ন বাবা, হুঁকো কী? ব্যাপারটা আরম্ভ হয়েছিল এই রকম অতি সাধারণ ভাবে। কিন্তু সেটা যে শেষ পর্যন্ত এত জটিল আকার ধারণ করবে সেরকম কিছু সমীরণ ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি। সেটা কোনও এক রবিবারের সকালবেলা। সমীরণ সদ্য বাজার থেকে এসে দিনের দ্বিতীয় পেয়ালা চা নিয়ে খবরের কাগজ খুলে বসেছে। সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকালবেলায়… Continue reading হুঁকো-তারাপদ রায়

প্রায়শ্চিত্ত – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ স্বর্গ ও মর্তের মাঝখানে একটা অনির্দেশ্য অরাজক স্থান আছে যেখানে ত্রিশঙ্কু রাজা ভাসিয়া বেড়াইতেছেন, যেখানে আকাশকুসুমের অজস্র আবাদ হইয়া থাকে। সেই বায়ুদুর্গবেষ্টিত মহাদেশের নাম ‘হইলে-হইতে-পারিত’। যাঁহারা মহৎ কার্য করিয়া অমরতা লাভ করিয়াছেন তাঁহারা ধন্য হইয়াছেন, যাঁহারা সামান্য ক্ষমতা লইয়া সাধারণ মানবের মধ্যে সাধারণভাবে সংসারের প্রাত্যহিক কর্তব্যসাধনে সহায়তা করিতেছেন তাঁহারাও ধন্য; কিন্তু যাঁহারা অদৃষ্টের… Continue reading প্রায়শ্চিত্ত – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শাস্তি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে। এমন নয় যে, ফাঁকা মাঠের মধ্যে বাড়ি। এখন কোথাও আর ফাঁকা জায়গা পড়ে থাকে না। চতুর্দিকে আগাছার মতন বাড়ি গজিয়ে উঠছে। তবে, এ-বাড়িটার সামনে একটা বেশ বড়, ছড়ানো তিনতলা বাড়ি। তাই ছোট দোতলা বাড়িটা আড়াল পড়ে গেছে, বড় রাস্তা থেকে দেখা যায় না। ডানপাশে কীসের যেন একটা কারখানা। শিশির… Continue reading শাস্তি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কালমেঘ-তারাপদ রায়

বঙ্গাব্দ তেরোশো ছিয়াশি। রোববার ফাল্গুন মাস শেষ সপ্তাহ, সকাল সাড়ে দশটা। বাইরের তিন কোনাচে ঘরে পুরনো বেতের চেয়ারে বসে পা দোলাতে দোলাতে মহিমাময় দেয়ালঘড়িটার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। এ বছর দোল পড়েছে মাসের দ্বিতীয় শনিবারে। একটা চমৎকার ছুটি বেঘোরে মারা গেল। শুধু তাই নয়, রোববারের আড়াটাও মারা পড়েছে। বন্ধুবান্ধব, জানাশোনা সবাই গেছে শান্তিনিকেতনে, বসন্ত উৎসবে। কেউ… Continue reading কালমেঘ-তারাপদ রায়

বিচারক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রথম পরিচ্ছেদ অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল, সেও তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল। তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্কার বোধ হইল। যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন… Continue reading বিচারক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বড়লোক কিসে হয়?-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

‘সহজে কি বড়লোক হওয়া যায়’ এই নামের প্রস্তাবটি শেষ করিবার সময় আমরা গিরিশের পরে কি হইল, তৎসম্বন্ধে কিছু বলিতে প্রতিশ্রুত হইয়াছিলাম। কিন্ত গিরিশের জীবনে এত কষ্ট সহ্য করিতে হইয়ছিল যে আমরা সে-সব বলিতেও কষ্ট বোধ করি। তবে এইমাত্র বলা আবশ্যক যে, বেচারা কোন দিনই বড়লোক হইতে পারে নাই। দুঃখ কষ্টের একশেষ তাহার জীবন হইয়াছিল। পরিশেষে… Continue reading বড়লোক কিসে হয়?-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী