“—” সে আজ অনেকদিনের কথা। প্রায় দশ-বারো বৎসরের কথা। তখন দুর্গাদাসবাবু উকিল হন নাই। দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুমি বোধ হয় ভাল চেনো না, আমি বেশ চিনি। এসো তাঁহাকে আজ পরিচিত করিয়া দিই। ছেলেবেলায় কোথা হইতে এক অনাথ পিতৃমাতৃহীন কায়স্থ বালক রামদাসবাবুর বাটীতে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল। সকলেই বলিত, ছেলেটি বড় ভাল! বেশ সুন্দর বুদ্ধিমান চাকর, দুর্গাদাসবাবুর পিতার… Continue reading হরিচরণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
ভাঙা দাঁত-সমরেশ মজুমদার
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে সোমরার চার মাস কাবার হয়ে গেল। এখনও শরীরে তেমন বল আসেনি। তাছাড়া, পায়ের হাড় জোড়া লাগলেও মনে হচ্ছে এই বুঝি ভেঙে গেল ফের। মুখচোখের কাটা দাগগুলো মিলিয়েছে। তবে কিনা চারবেলা ভালোমন্দ ঠিক সময়ে পেটে পড়ত, হাসপাতালে এইটেই আরাম। সদর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বাস ধরে সে যখন আবার হাতিমবাড়ি চলে এল, তখন… Continue reading ভাঙা দাঁত-সমরেশ মজুমদার
টুনি মেম – সৈয়দ মুজতবা আলী
বেশি দিনের কথা নয়, হালের। পড়িমড়ি হয়ে শেয়ালদায় আসাম লিঙ্কে উঠেছি। বোলপুরে নাবব। কামরা ফাঁকা। এককোণে গলকম্বল মানমুনিয়া দাড়িওয়ালা একটি সুদর্শন ভদ্রলোক মাত্র। তিনি আমার দিকে আড়নয়নে তাকান, আম্মো। একসঙ্গেই একে অন্যকে চিনতে পারলুম। আমি বললুম, খান না রে? সে হাকল, মিতু না রে? যুগপৎ উল্লম্ফন, ঘন ঘন আলিঙ্গন। পাঠশালে পাশাপাশি বসতুম। তার পর এই… Continue reading টুনি মেম – সৈয়দ মুজতবা আলী
চর, শহর এবং একটি বেকুফ-সমরেশ মজুমদার
দিনরাত এখানে হাওয়া উথালপাথাল হয়। চিকন বালির সর গায়ে মেখে পাক খায় নিচু আকাশে। সূর্যের কড়া টানে ঝুরু-ঝুরু হয়ে গিয়েছে চরের বালি। কাশ আর বুনো ঝোপে ছেয়ে গেছে চওড়া নদীর বুক। শুধু এক পাশে, সেই সে-পাড়ে, পঞ্চাশ গজ চওড়া একটা জলের ধারা তিরতিরিয়ে। বয়ে যায় বাংলাদেশের দিকে। ওপারের গরু হেঁটে পেরিয়ে আসে এদিকের চরে। স্বচ্ছন্দে।… Continue reading চর, শহর এবং একটি বেকুফ-সমরেশ মজুমদার
হৃদয়ঙ্গম-সমরেশ মজুমদার
বিছানায় শুয়েই সূর্য টের পেল বউদি দাদাকে তাতাচ্ছে। ওপাশের বারান্দায় খাওয়ার টেবিল। দাদা ব্রেকফাস্ট খায় টেবিলে বসে। এইসময় বউদি একপ্রস্থ চুকলি কাটবেই। দাদাটা সচরাচর কিছু বলে না। ওই এক অদ্ভুত লোক। অত চুকলি কী করে হজম করে কে জানে। চুকলির নমুনাগুলো মজার। কাল রাত্রে বারোটা পর্যন্ত সূর্য আলো জ্বেলে রেখেছিল। বাপের বাড়ির একটা খবর নিতে… Continue reading হৃদয়ঙ্গম-সমরেশ মজুমদার
টাইপ-রাইটার-তারাপদ রায়
তখন আমার বন্ধুদের মধ্যে দু-একজন সবে সিগারেট-টিগারেট খায়, সেও মোটামুটি লুকিয়ে-চুরিয়ে। দাদার বন্ধুরা কিন্তু মদ ধরেছে। অনেকদিন আগের কথা। কলেজে পড়ার বয়স সেটা। আমি পড়তাম, দাদা কলেজ-টলেজে পড়েনি। লেখাপড়ায় দাদার মোটেই আস্থা ছিল না। আমরা থাকতাম সেই কালীঘাটের পুরনো বাড়ির দোতলায়–পাশাপাশি দুটো ছোট ঘরে। ঘরের সামনে একটা একচিলতে পূর্বমুখী বারান্দা। সেই বারান্দায় দড়ি দিয়ে ঝোলানো… Continue reading টাইপ-রাইটার-তারাপদ রায়
পুলিশের নাম বসন্ত-সমরেশ মজুমদার
ট্রামবাস চলতে শুরু করে দেয় দুটো নাগাদ, ওই সময় আর কেউই রং ছোড়ে না। তবু অহনা ইতস্তত করেছিল, কালকের দিনটা ছেড়ে দাও। স্বপ্নময় বলেছিল, ইমপসিবল। আগামীকাল বছরের সবচেয়ে বড় চাঁদ উঠবে আর একসঙ্গে দেখব না? তুমি এরকম ভাবতে পারছ? অহনা স্বপ্নময়ের মুখের দিকে তাকাল। তার মনে হল এত আর্তি সে আর কারও মুখে দেখেনি। তবু… Continue reading পুলিশের নাম বসন্ত-সমরেশ মজুমদার
দেশলাইয়ের বাক্স এবং নির্বারুদ কাঠি-সমরেশ মজুমদার
সিগারেটের তামাক সরু তার দিয়ে পটু হাতে বের করে চেটোয় রাখল নীতা, তারপর কাগজের পুরিয়া খুলে বস্তুটি মেশাল সেই তামাকে। পুনরায় ফাঁকা সিগারেটটা নব্য মশলা দিয়ে টাইট হয়ে যেতেই একটা অপার্থিব আনন্দ ফুটল নীতার মুখে। অদ্ভুত উচ্চারণে ইংরেজি বলল সে, কে প্রথম ভালোবাসবে? তিনটি হাত উঠল। জিনা বলল, হাই, আমি ভালোবাসার জন্যে মরে যাচ্ছি! সীতা… Continue reading দেশলাইয়ের বাক্স এবং নির্বারুদ কাঠি-সমরেশ মজুমদার
জননী-সমরেশ মজুমদার
তিন-তিনটে শকুন মাথার ওপর পাক খেয়ে গেল। খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল ওরা, ডানায় শব্দ তুলে ওপরে উঠে গেল, অনেকটা ওপরে। জলে পা ডুবিয়ে ভেজা বালিতে আধা শোয়া বিন্দু দেখল ডানা টানটান করে মুখ ঝুঁকিয়ে ওরা ওকে লক্ষ করছে। আকাশটা আজ সকাল থেকেই এইরকম। আধপোড়া কাঠের মতো চেহারা। নামছে না একটা ফোঁটাও অথচ আলো বলতে যেটুকু… Continue reading জননী-সমরেশ মজুমদার
সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার স্ত্রী-বর্তমানে প্রভা সম্বন্ধে আমার কোনো চিন্তা ছিল না। তখন প্রভা অপেক্ষা প্রভার মাতাকে লইয়া কিছু অধিক ব্যস্ত ছিলাম। তখন কেবল প্রভার খেলাটুকু হাসিটুকু দেখিয়া, তাহার আধো আধো কথা শুনিয়া, এবং আদরটুকু লইয়াই তৃপ্ত থাকিতাম; যতণ ভালো লাগিত নাড়াচাড়া করিতাম, কান্না আরম্ভ করিলেই তাহার মার কোলে সমর্পণ করিয়া সত্বর অব্যাহতি লইতাম। তাহাকে যে বহু চিন্তা… Continue reading সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর