দশ বছর আগে পরে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথমে মনে হয়েছিল পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর। একটা লঘু ভুল। কিংবা কারও রসিকতা। সকাল নটা। প্রতিদিন এই সময় ইন্দ্রনাথ বসু তানপুরা নিয়ে রেওয়াজ করেন ঘণ্টা দু-এক। তিনি রাতচরা পাখির মতন ঘুমোতে যান তৃতীয় প্রহরে, তাই ভোরবেলা ওঠা হয় না। ভোরবেলা গলা সাধার পক্ষে প্রশস্ত, এটাই প্রথাসিদ্ধ। এই সময় ইন্দ্রনাথ কোনও বহিরাগতের সঙ্গে দেখা করেন না। তাঁর… Continue reading দশ বছর আগে পরে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

দেওয়ালের সেই ছবি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাবা অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হন ঠিক সাড়ে ন’টায়। একদিনও তার দেরি করার উপায় নেই। কারণ বাবা দেরি করলেই টুবলুরও দেরি হয়ে যাবে। অফিস যাওয়ার পথে বাবা টুলুকে ইস্কুলে নামিয়ে দিয়ে যান। এমনিতে বাবার খুব ভুলোমন। প্রায়ই বেরুবার সময় কিছু না কিছু নিতে ভুল করেন। নিচে নেমে গিয়ে মনে পড়ে অফিসের দেরাজের চাবি নেননি, কিংবা… Continue reading দেওয়ালের সেই ছবি-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বৃষ্টিরাতের আপদ বিপদ-সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আমাদের গোরাচাঁদ রোডে একপশলা বৃষ্টিতেই হাঁটু জল জমে। এদিনে বিকেল মাচারটে থেকে রাত আটটা অব্দি একটানা বৃষ্টি। খবরের কাগজের আপিসে চাকরি করি। রাত নটায় ডিউটি শেষ। বেরিয়ে দেখি, বৃষ্টি বন্ধ। কাতারে কাতারে লোক বাস-ট্রামের অপেক্ষায় এসপ্লানেড জুড়ে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে। ভাগ্য ভালো। একটা বাসে গোত্তা মেরে ঢুকে গেলুম। আধঘন্টা পরে যখন গোরাচাঁদ রোডে বাস থামল,… Continue reading বৃষ্টিরাতের আপদ বিপদ-সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

মহামহিম-তারাপদ রায়

জয়দেব পাল এবং মহিমাময় রায়চৌধুরীর কথা বার বার লেখার কোনও মানে হয় না। তা ছাড়া এদের এখন বয়েস হয়েছে, দুজনেই বেশ কিছুদিন হল পঞ্চাশ পার হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কীর্তিকলাপ করার ক্ষমতা এদের এখন খুবই কমে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এরা এখানে মাঝে মধ্যে এমন কিছু অঘটন ঘটিয়ে বসেন যার তুলনা শুধু খোজা নাসিরুদ্দিনের গল্পে অথবা… Continue reading মহামহিম-তারাপদ রায়

স্বর্ণলতা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ডাক্তারের বলার ইচ্ছে ছিল, মহিলাটি আপনার কে হন, কিন্তু চারদিকে কৌতূহলের দৃষ্টিতে তাকাতে-তাকাতে মুখে বললেন, দেখুন অ্যাক্সিডেন্টের ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন। সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন দুজনে, সেকেলে ধরনের চওড়া কাঠের সিঁড়ি, প্রতি পদক্ষেপে বেশ শব্দ হচ্ছিল। বাড়িটা বেশ বড়ই, কিন্তু ঘরগুলো সব ফাঁকা, লোকজন নেই বলেই মনে হয়। কথা। বলতে-বলতে ভালো করে তাকালেন ছেলেটির দিকে বয়েস… Continue reading স্বর্ণলতা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বিষ্ণু জ্যাঠামশাইয়ের প্রত্যাবর্তন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রজনীগন্ধার ঝাড়ে আজ প্রথম ফুলের ছড়া এসেছে। নতুন বাড়ি, নতুন বাগান। পাড়াটাও নতুন। ইস্টার্ন বাইপাসের ধারে গড়ে উঠছে নতুন বসতি। সবকটা বাড়িই ঝকঝকে। বাড়ির সঙ্গে একটা বাগান থাকার বিলাসিতায় এখনও ঠিক ধাতস্থ হতে পারেনি সুকোমল। প্রত্যেক দিনই ফেরার পর একটুক্ষণ সে অবাক হয়ে দেখে। আগে সে ফুলটুল গ্রাহ্য করত না। ঠিক সাদা নয়, একটু সোনালি… Continue reading বিষ্ণু জ্যাঠামশাইয়ের প্রত্যাবর্তন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ট্যাক্সির হর্ন -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চিঠির বাক্সে একটি সাদা খাম পেলেন অমৃত। এ চিঠি ডাকে আসেনি, কেউ নিজে এসে দিয়ে গেছে। ভেতরে একটি খাতা-ছেঁড়া আধখানা পাতায় মাত্র দুটি লাইন লেখা, আমি আগামী বুধবার বেলা এগারোটায় আপনার সঙ্গে একবার। দেখা করতে চাই, সেদিন যদি আপনার সময় না থাকে, তাহলে আর কিছু দরকার নেই। এ চিঠিতে কোনও সম্বোধন নেই, স্বাক্ষরও নেই। হাতের… Continue reading ট্যাক্সির হর্ন -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সাংসারিক-সমরেশ মজুমদার

পনেরো দিন বাড়িটা মিস্ত্রিদের হাতে ছেড়ে দিয়ে গেস্টহাউসে থাকতে হয়েছিল কমলেন্দুকে, সস্ত্রীক। স্ত্রী-র ইচ্ছা ছিল তার বোনের বাড়িতে গিয়ে থাকার। অনেক জায়গা, ওরাও চেয়েছিল কিন্তু কমলেন্দু রাজি হননি। স্ত্রী-র বাপের বাড়ি বলে নয়, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে থাকাটা তাঁর পছন্দ নয়। পনেরোদিন পরে একতলা বাড়িটার সবকটা ঘরের চেহারা পালটে নতুন করে মিস্ত্রিরা যখন বিদায় হল তখন… Continue reading সাংসারিক-সমরেশ মজুমদার

কণ্টকাকীর্ণ-তারাপদ রায়

যথা সময়েই পৌঁছানো গেল। আমার বন্ধু সমীরের কাকার শ্রাদ্ধবাসর। আশা করেছিলাম বন্ধুবান্ধব অন্যান্য অনেকেই হয়তো আসবেন। কিন্তু গিয়ে দেখলাম আমি একা, আর সবই সমীরদের আত্মীয়স্বজন এবং পারিবারিক বন্ধুবান্ধব। একা একাই চুপচাপ বসেছিলাম, এমন সময় সমীর এসে আমার পাশে বসল। বাইরের ঘরের পাশে একটা প্যাসেজের মধ্যে বসে আছি। একে একে অতিথি-অভ্যাগত সব প্রবেশ করছেন। সমীর পরিচয়… Continue reading কণ্টকাকীর্ণ-তারাপদ রায়

আঁচড়-সমরেশ মজুমদার

এখন দিনদুপুরেই বাড়িটাকে ভূতুড়ে বলে মনে হয়। এই বাড়ির শেষ অধিবাসী হরশংকর রায় দুপুরবেলায় চিঠি পড়ছিলেন। বর্ধমানের জীবনবাবু লিখেছেন, আপনার মেয়েকে আমাদের ভালো লেগেছিল। পছন্দ করেছিলাম। কিন্তু সে যদি বিবাহ করবে না বলে স্থির করেই থাকে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এমন অপমান নাই বা করতেন! চিঠিটা পড়ে পাংশু চোখে ভেতরের দিকে তাকালেন হরশংকর। বিশাল লম্বা… Continue reading আঁচড়-সমরেশ মজুমদার