এইখানে বনমালী বাগান করেছে। বাগানের মাঝখানটিতে তার লাল ইটের বাড়ি। বলতে কী, যৌবনকালটা তো সুখে কাটায়নি বনমালী। বড় কষ্ট গেছে। সে সময়ে সে ঘর ছেড়ে কাপড়ের গাঁট নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল। মহাজন ধারে কাপড় দিত, নইলে সে ব্যাবসাও শুরু করতে পারত না। ক্রমে ফিরি করতে-করতেই তার শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড়ের কাছে দোকানটা হয়ে গেল। সারাটা জীবন সে… Continue reading বনমালীর বিষয়-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
তবু জীবন অগাধ-সমরেশ মজুমদার
তুমি ভুল বুঝলেই নিশ্বাস ভারী হয়। বারোতলা বাড়ির এগারোতলার ফ্ল্যাটে বসে ঠিক দুপুরবেলায় এই লাইনটা লিখে ফেলল কল্পন। তার টেবিলের সামনে একটা বড় জানলা। চিলগুলো পাক খাচ্ছে জানলার বাইরে। মেঘগুলো বড় কাছে কিন্তু কাছাকাছি নয়। হলে ভালো লাগত না, যে মেঘের শরীর জলে ভেজা নয় তাদের সাহারায় চলে যাওয়া উচিত। এখন দুপুর। ফ্ল্যাটে কেউ নেই।… Continue reading তবু জীবন অগাধ-সমরেশ মজুমদার
শঙ্খনদী – হুমায়ূন আহমেদ
পঞ্চগড় থেকে বাবা বদলি হলেন রাঙ্গামাটিতে। দেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথা। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ। ভাগ্য ভালো হলে দেখা যাবে রাঙ্গামাটি খুব জলি জায়গা– স্কুল নেই। বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, স্কুল আছে নাকি? তিনি বললেন, অবশ্যই আছে। স্কুল থাকবে না কেন? রাঙ্গামাটি বেশ বড় শহর। খুব সুন্দর শহর! স্কুল আছে শুনে একটু মনমরা… Continue reading শঙ্খনদী – হুমায়ূন আহমেদ
নব-বৃন্দাবন-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কর্ণপুর সংসার ছাড়িয়া বৃন্দাবনে যাইতেছিলেন। সংসারে তাঁহার কেহই ছিল না। স্ত্রী পাঁচ-ছয় বছর মারা গিয়াছে, একটি দশ বৎসরের পুত্র ছিল, সেও গত শরৎকালে শারদীয় পূজার অষ্টমীর দিনে হঠাৎ বিসূচিকা রোগে দেহত্যাগ করিয়াছে। সংসারের অন্য বন্ধন কিছুই নাই। বিষয়সম্পত্তি যাহা ছিল, সেগুলি সব জ্ঞাতিভ্রাতাদের দিয়া অত্যন্ত পুরাতন তালপত্রে কয়েকখানি ভক্তিগ্রন্থ জীর্ণ তসরের পুটুলিতে বাঁধিয়া লইয়া পদব্রজে… Continue reading নব-বৃন্দাবন-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ভাগলপুরের পাঞ্জাবি-তারাপদ রায়
রেলগাড়ির কামরার জানলা দিয়ে অনেক দামদর করে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের হকারের কাছ থেকে একটা চাদর কিনেছিলাম। মধ্য রাত, বোধহয় ভাগলপুর স্টেশন ছিল সেটা, বেশ কয়েক বছর আগেকার কথা। ফিকে হলুদ রঙের। বেশ শক্ত বুনোট, লম্বায় চওড়ায় বেশ প্রমাণ সাইজের চাদর সেটা। বেশ একটা মুগা মুগা ভাব আছে, লোকাল জিনিস, দামও তেমন বেশি ছিল না। অল্প শীতে… Continue reading ভাগলপুরের পাঞ্জাবি-তারাপদ রায়
নামঞ্জুর গল্প-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের আসর জমেছিল পোলিটিক্যাল লঙ্কাকাণ্ডের পালায়। হাল আমলের উত্তরকাণ্ডে আমরা সম্পূর্ণ ছুটি পাই নি বটে, কিন্তু গলা ভেঙেছে; তা ছাড়া সেই অগ্নিদাহের খেলা বন্ধ। বঙ্গভঙ্গের রঙ্গভূমিতে বিদ্রোহীর অভিনয় শুরু হল। সবাই জানেন, এই নাট্যের পঞ্চম অঙ্কের দৃশ্য আলিপুর পেরিয়ে পৌঁছল আণ্ডামানের সমুদ্রকূলে। পারানির পাথেয় আমার যথেষ্ট ছিল, তবু গ্রহের গুণে এপারের হাজতেই আমার ভোগসমাপ্তি। সহযোগীদের… Continue reading নামঞ্জুর গল্প-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘাটের কথা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাষাণে ঘটনা যদি অঙ্কিত হইত তবে কতদিনকার কত কথা সোপানে সোপানে পাঠ করিতে পারিতে। পুরাতন কথা যদি শুনিতে চাও তবে আমার এই ধাপে বইস ; মনোযোগ দিয়া জলকল্লোলে কান পাতিয়া থাকো, বহুদিনকার কত বিস্মৃত কথা শুনিতে পাইবে। আমার আর-এক দিনের কথা মনে পড়িতেছে। সেও ঠিক এইরূপ দিন। আশ্বিন মাস পড়িতে আর দুই-চারি দিন বাকি আছে।… Continue reading ঘাটের কথা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
হিপিরা এসেছিল-সমরেশ মজুমদার
কাল রাতের বুলেটিনে বি বি সি বলেছিল আজ আকাশ মেঘলা থাকবে। চাই কি, কয়েক পশলা বৃষ্টিও নামবে। অথচ সামার এসে গেছে ক্যালেন্ডারে। বছরের এই কটা মাস একটু হালকা হয়ে রোদ পোয়ানো, লিজা ঠিক থাকলে গাড়ি নিয়ে ব্ল্যাকপুলে চলে যাওয়ার মজা পাওয়া ববের অনেকদিনের অভ্যেস। কনকনে বাতাসটা নেই, টিপটিপ বৃষ্টি বন্ধ, বরফ পড়ছে না, তার বদলে… Continue reading হিপিরা এসেছিল-সমরেশ মজুমদার
মানুষের মেটে-সমরেশ মজুমদার
এতকাল বাবুর যত রোগ ছিল মনে, এবার শরীরেও। রাত তিনটে পর্যন্ত মাল খেলে সারাটা সকাল পেট চেপে পড়ে থাকে বাবু। তখন ওই বিশাল শরীর থেকে কুঁই-কুঁই শব্দ বের হয়। ঘনঘন ওষুধ ঢালে মুখের গর্তে। ইদানীং এই অবস্থা চলে দু-তিনদিন ধরে। হরিমাধব ডাক্তার এসে গম্ভীর মুখে বলে, এবার ওসব ছাড়ুন। লিভারের আর দোষ কি! পচে গেল… Continue reading মানুষের মেটে-সমরেশ মজুমদার
একটি গ্রাম্য পটচিত্র-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
একদিন সকাল দশটা-এগারোটায় দিলারাবিবিকে তালাক দিয়ে বসল ইরফান আলি। তিন-চারজন সাক্ষীর সামনে। হ্যাঁ, রাগের মাথায় কাজটা করে ফেলেছে বটে, কিন্তু তুমি হাসতে-হাসতে বললে না চোখ পাকিয়ে চিৎকার করে বললে, শরিয়ত তো তা দেখতে যাবে না। ধর্মের বিধান মানতেই হবে। হয়েছে কী, দু-দিন আগেই বাড়ির পুকুরধারের বেলগাছ থেকে পাঁচটা পাকা বেল পাড়া হয়েছে। অত বেল কে… Continue reading একটি গ্রাম্য পটচিত্র-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়