আমার বন্ধু তপন প্রথম আমাকে নিয়ে গিয়েছিল সেই ক্লাবে। ক্লাবের নামটি বিচিত্র, সুখী পরিবার, বিশেষ কেউ এর নাম শোনেনি। যে-কেউ এ-ক্লাবের সদস্য হতে পারে না। এখানে ভরতি হওয়ার শর্ত হল, অন্য সদস্যদের সঙ্গে কিছু-না-কিছু একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ সবাই এক পরিবারের মানুষ। আসলে কিন্তু তা নয়। বকুলবাগানে গগন ভদ্রের একটা ছিমছাম দোতলা বাড়িতে… Continue reading সেই গাছটির নীচে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
সাঁকো-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ওরা আমার হাত দুটো পেছনদিকে মুড়ে বাঁধল নাইলনের দড়ি দিয়ে। চোখে বেঁধে দিল নিরেট কালো কাপড়। মুখের মধ্যে একটা বেশ বড় তুলোর গোল্লা ভরে দিয়ে ঠোঁটে আটকে দিল স্টিকিং প্লাস্টার। তারপর বুঝতে পারলুম, দু-তিনজন লোক আমাকে উঁচু করে তুলে বেশ খানিকটা বয়ে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল একটা কাঠের তক্তার ওপরে। একজন খুব ঝকঝকে পালিশ… Continue reading সাঁকো-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভিত মজবুত-সমরেশ মজুমদার
এখনও এই পরিবারের সদস্যসংখ্যা আঠারো। কাজের লোকদের ধরলে রোজ বিয়াল্লিশজন দুবেলা ভাত-তরকারি মাছের ঝোল খায়। সপ্তাহে একদিন, রবিবার সকালে, প্রত্যেকের জন্য লুচি বেগুনভাজা এবং তরকারি বরাদ্দ থাকে। অন্যদিন যে যার ঘরে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে নেয়। এই ঝামেলা থাকলে অফিসের ভাত ঠিক সময়ে নামবে না, পাড়ার লোক তো বটেই, তিনটি টিভি চ্যানেল এসেছিল অবাক হয়ে। এখনও এই… Continue reading ভিত মজবুত-সমরেশ মজুমদার
মানুষের মতো-সমরেশ মজুমদার
এই বাড়ি ওর। মাঝে-মাঝে নিজের কাছেই কেমন অস্বস্তিকর মনে হয়। চার কামরার দোতলা এই বাড়িটা সে কিনেছে বারো হাজার পাউন্ডে। দোতলাটা কাঠের কিন্তু সর্বত্র কার্পেট পাতা। ওটা আগে থেকেই ছিল। এমনকী বাথরুমের আধুনিক ব্যবস্থাও। নিচের ঘরের রঙিন টিভি, স্টিরিও, ভি সি আর, কিচেনের যাবতীয় আধুনিকীকরণ যার যে-কোনও একটার দিকে তাকালে দেশে থাকতে চমকে উঠত। পনেরো… Continue reading মানুষের মতো-সমরেশ মজুমদার
ফুলের মধ্যে সাপ -সমরেশ মজুমদার
রাস্তাটা যেখানে ঘোড়ার নালের মতো বাঁক মেরেছে সেখানে পৌঁছে বুক জুড়িয়ে গেল অশ্বিনীর। আর, কত লোক। যেদিকে তাকাও গিজগিজ করছে। ট্যুরিস্ট বাসগুলো এখনও আসছে আর মানুষগুলো লাফিয়ে নামছে বালির ওপরে। এতবড় বালির চর এখনই ভরভরন্ত। শীত শুরুর রবিবারে ভিড় হয়ই কিন্তু এত মানুষ কল্পনা করেনি অশ্বিনী। এখন মাত্র নটা বাজে। একটু আগে ভোঁ বেজেছে। অন্তত… Continue reading ফুলের মধ্যে সাপ -সমরেশ মজুমদার
সহযাত্রী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাথরুম থেকে ফিরে এসে কমলিকা চোখ বড়-বড় করে বলল, জানো, একটা লোক বসে আছে, হাতে হ্যান্ডকাফ…পাশেদুজন পুলিশ…লোকটার চোখ দুটো দেখলেই ভয় করে… ট্রেনটা ব্রিজের ওপর দিয়ে যাচ্ছে বলে ঝমঝম শব্দ হচ্ছে, সুমিত্রা ভালো করে শুনতে পেল না মেয়ের কথা। জানলা থেকে মাথাটা সরিয়ে এনে জিগ্যেস করল, কী বললি? কমলিকার মুখখানা এমনিতেই দেখলে মনে হয় বিস্ময়… Continue reading সহযাত্রী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বোঝা-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রথম পরিচ্ছেদ বিবাহ সাগরপুরে আজ মহাধুম, রোশনচৌকি আর ঢাকের বাদ্যে গ্রাম সরগরম। সপ্তাহ ধরিয়া যে কি কাণ্ড বাধিয়া গিয়াছে, তাহা গ্রামের এবং তৎপার্শ্ববর্তী চারি-পাঁচ ক্রোশের সকল লোক জানে। এ রাজসূয়-যজ্ঞে ঢাকঢোলের এমন মহান একত্র সমাবেশ, সানাই-দলের এমন আদর্শ ঐক্যভাব, কাংস্য-নির্মিত বাদ্যযন্ত্রের এমন প্রচণ্ড বিক্রম দেখা গিয়াছিল যে, গ্রামের লোক ইতিপূর্বে এমন কাণ্ড কখনও আর দেখে… Continue reading বোঝা-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
আঁধারে আলো-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক সে অনেকদিনের ঘটনা। সত্যেন্দ্র চৌধুরী জমিদারের ছেলে; বি.এ. পাশ করিয়া বাড়ি গিয়াছিল, তাহার মা বলিলেন, মেয়েটি বড় লক্ষ্মীবাবা, কথা শোন্, একবার দেখে আয়। সত্যেন্দ্র মাথা নাড়িয়া বলিল, না মা, এখন আমি কোনমতেই পারব না। তা হলে পাশ হতে পারব না। কেন পারবি নে? বৌমা থাকবেন আমার কাছে, তুই লেখাপড়া করবি কলকাতায়, পাশ হতে তোর… Continue reading আঁধারে আলো-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মামলার ফল-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বুড়া বৃন্দাবন সামন্তর মৃত্যুর পরে তাহার দুই ছেলে শিবু ও শম্ভু সামন্ত প্রত্যহ ঝগড়া-লড়াই করিয়া মাস-ছয়েক একান্নে এক বাটীতে কাটাইল, তাহার পরে একদিন পৃথক হইয়া গেল। গ্রামের জমিদার চৌধুরীমশাই নিজে আসিয়া তাহাদের চাষবাস, জমিজমা, পুকুর-বাগান সমস্ত ভাগ করিয়া দিলেন। ছোটভাই সুমুখের পুকুরের ওধারে খান-দুই মাটির ঘর তুলিয়া ছোটবৌ এবং ছেলেপুলে লইয়া বাস্তু ছাড়িয়া উঠিয়া গেল।… Continue reading মামলার ফল-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মেজদিদি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
এক কেষ্টার মা মুড়ি-কড়াই ভাজিয়া, চাহিয়া-চিন্তিয়া, অনেক দুঃখে কেষ্টধনকে চোদ্দ বছরেরটি করিয়া মারা গেলে, গ্রামে তাহার আর দাঁড়াইবার স্থান রহিল না। বৈমাত্র বড় বোন কাদম্বিনীর অবস্থা ভাল। সবাই কহিল, যা কেষ্ট, তোর দিদির বাড়িতে গিয়ে থাক গে। সে বড়মানুষ, বেশ থাকবি যা। মায়ের দুঃখে কেষ্ট কাঁদিয়া-কাটিয়া জ্বর করিয়া ফেলিল। শেষে ভাল হইয়া, ভিক্ষা করিয়া শ্রাদ্ধ… Continue reading মেজদিদি-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়