ঠিক তিনদিনে মুকুন্দর গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গেল। এত মোটা যে হাঁটু গেড়ে বসতে কষ্ট হয়, কনুই ভাঁজ করা মুশকিল। সারাক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, চেয়ারে বসতেও কেমন অস্বস্তি হয়, টান ধরে। এছাড়া আর কোনও অসুবিধে নেই, জ্বরজারি, যন্ত্রণা অথবা কোনওরকম শারীরিক কষ্ট হচ্ছে না। তিনদিন আগে ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হয়েছিল… Continue reading টাটকা বরফের মাছ-সমরেশ মজুমদার
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
অন্য আয়না-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যারাকপুরে এক বন্ধুর বাড়িতে আমার নেমন্তন্ন ছিল, সেখান থেকে রাত্তিরে আর বাড়ি ফেরা হয়নি। পরদিন সকালে ফিরতে-ফিরতে সাড়ে আটটা বেজে গেল। দরজা খুলেই বউদি বললেন, একজন ভদ্রমহিলা তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, প্রায় আধঘণ্টা ধরে বসে আছেন। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা হয়েছে, ভালো করে ঘুম হয়নি। তা ছাড়া অফিসে দরকারি কাজ আছে, ছুটি নেওয়ারও উপায়… Continue reading অন্য আয়না-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শিল্পী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া হয়েছে প্রচুর, তারপর একটু ঘুম দিলে মন্দ হয় না। কিন্তু তার উপায় নেই। বাইরে কোথাও বেড়াতে এলে সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত পিকনিকের মেজাজ, এর মধ্যে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। স্থান মধ্যপ্রদেশ, চতুর্দিকে জঙ্গল ও ছোট-ছোট পাহাড়, তার মাঝখানে এই সুদৃশ্য অতিথিভবন, অনেকগুলি ঘর। সামনে অনেকখানি ফুলের বাগান আর প্রকৃতির সুষমা… Continue reading শিল্পী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সেই গাছটির নীচে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আমার বন্ধু তপন প্রথম আমাকে নিয়ে গিয়েছিল সেই ক্লাবে। ক্লাবের নামটি বিচিত্র, সুখী পরিবার, বিশেষ কেউ এর নাম শোনেনি। যে-কেউ এ-ক্লাবের সদস্য হতে পারে না। এখানে ভরতি হওয়ার শর্ত হল, অন্য সদস্যদের সঙ্গে কিছু-না-কিছু একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ সবাই এক পরিবারের মানুষ। আসলে কিন্তু তা নয়। বকুলবাগানে গগন ভদ্রের একটা ছিমছাম দোতলা বাড়িতে… Continue reading সেই গাছটির নীচে-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সাঁকো-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ওরা আমার হাত দুটো পেছনদিকে মুড়ে বাঁধল নাইলনের দড়ি দিয়ে। চোখে বেঁধে দিল নিরেট কালো কাপড়। মুখের মধ্যে একটা বেশ বড় তুলোর গোল্লা ভরে দিয়ে ঠোঁটে আটকে দিল স্টিকিং প্লাস্টার। তারপর বুঝতে পারলুম, দু-তিনজন লোক আমাকে উঁচু করে তুলে বেশ খানিকটা বয়ে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল একটা কাঠের তক্তার ওপরে। একজন খুব ঝকঝকে পালিশ… Continue reading সাঁকো-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভিত মজবুত-সমরেশ মজুমদার
এখনও এই পরিবারের সদস্যসংখ্যা আঠারো। কাজের লোকদের ধরলে রোজ বিয়াল্লিশজন দুবেলা ভাত-তরকারি মাছের ঝোল খায়। সপ্তাহে একদিন, রবিবার সকালে, প্রত্যেকের জন্য লুচি বেগুনভাজা এবং তরকারি বরাদ্দ থাকে। অন্যদিন যে যার ঘরে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে নেয়। এই ঝামেলা থাকলে অফিসের ভাত ঠিক সময়ে নামবে না, পাড়ার লোক তো বটেই, তিনটি টিভি চ্যানেল এসেছিল অবাক হয়ে। এখনও এই… Continue reading ভিত মজবুত-সমরেশ মজুমদার
মানুষের মতো-সমরেশ মজুমদার
এই বাড়ি ওর। মাঝে-মাঝে নিজের কাছেই কেমন অস্বস্তিকর মনে হয়। চার কামরার দোতলা এই বাড়িটা সে কিনেছে বারো হাজার পাউন্ডে। দোতলাটা কাঠের কিন্তু সর্বত্র কার্পেট পাতা। ওটা আগে থেকেই ছিল। এমনকী বাথরুমের আধুনিক ব্যবস্থাও। নিচের ঘরের রঙিন টিভি, স্টিরিও, ভি সি আর, কিচেনের যাবতীয় আধুনিকীকরণ যার যে-কোনও একটার দিকে তাকালে দেশে থাকতে চমকে উঠত। পনেরো… Continue reading মানুষের মতো-সমরেশ মজুমদার
ফুলের মধ্যে সাপ -সমরেশ মজুমদার
রাস্তাটা যেখানে ঘোড়ার নালের মতো বাঁক মেরেছে সেখানে পৌঁছে বুক জুড়িয়ে গেল অশ্বিনীর। আর, কত লোক। যেদিকে তাকাও গিজগিজ করছে। ট্যুরিস্ট বাসগুলো এখনও আসছে আর মানুষগুলো লাফিয়ে নামছে বালির ওপরে। এতবড় বালির চর এখনই ভরভরন্ত। শীত শুরুর রবিবারে ভিড় হয়ই কিন্তু এত মানুষ কল্পনা করেনি অশ্বিনী। এখন মাত্র নটা বাজে। একটু আগে ভোঁ বেজেছে। অন্তত… Continue reading ফুলের মধ্যে সাপ -সমরেশ মজুমদার
সহযাত্রী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাথরুম থেকে ফিরে এসে কমলিকা চোখ বড়-বড় করে বলল, জানো, একটা লোক বসে আছে, হাতে হ্যান্ডকাফ…পাশেদুজন পুলিশ…লোকটার চোখ দুটো দেখলেই ভয় করে… ট্রেনটা ব্রিজের ওপর দিয়ে যাচ্ছে বলে ঝমঝম শব্দ হচ্ছে, সুমিত্রা ভালো করে শুনতে পেল না মেয়ের কথা। জানলা থেকে মাথাটা সরিয়ে এনে জিগ্যেস করল, কী বললি? কমলিকার মুখখানা এমনিতেই দেখলে মনে হয় বিস্ময়… Continue reading সহযাত্রী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বোঝা-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রথম পরিচ্ছেদ বিবাহ সাগরপুরে আজ মহাধুম, রোশনচৌকি আর ঢাকের বাদ্যে গ্রাম সরগরম। সপ্তাহ ধরিয়া যে কি কাণ্ড বাধিয়া গিয়াছে, তাহা গ্রামের এবং তৎপার্শ্ববর্তী চারি-পাঁচ ক্রোশের সকল লোক জানে। এ রাজসূয়-যজ্ঞে ঢাকঢোলের এমন মহান একত্র সমাবেশ, সানাই-দলের এমন আদর্শ ঐক্যভাব, কাংস্য-নির্মিত বাদ্যযন্ত্রের এমন প্রচণ্ড বিক্রম দেখা গিয়াছিল যে, গ্রামের লোক ইতিপূর্বে এমন কাণ্ড কখনও আর দেখে… Continue reading বোঝা-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়