প্রগতিসংহার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই কলেজে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বরঞ্চ কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। এরা প্রায় সবাই ধনী ঘরের—এরা পয়সার ফেলাছড়া করতে ভালোবাসে। নানারকম বাজে খরচ করে মেয়েদের কাছে দরাজ হাতের নাম কিনত। মেয়েদের মনে ঢেউ তুলত, তারা বুক ফুলিয়ে বলত—‘আমাদেরই কলেজের ছেলে এরা’। সরস্বতী পুজো তারা এমনি ধূম করে করত যে, বাজারে গাঁদা ফুলের আকাল পড়ে যেত। এ ছাড়া চোখ-টেপাটেপি… Continue reading প্রগতিসংহার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কথা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তোমাকে আমার অনেক কথা বলার আছে টুপু। এ কথা প্রায়ই টুপুকে বলার জন্য যায় কুশল। বলা হয় না। কী করে হবে? টুপু যে বড্ড ব্যস্ত। কুশল কলকাতায় এসেছে চার বছর। একটা বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং শেখানোর স্কুল থেকে সে লেদ মেশিনের কাজ শিখেছিল। তার বেশি আর কী করার ছিল তার? গাঁয়ে তার বাবা মারা গেছে, কিন্তু চাষবাসের… Continue reading কথা-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ওষুধ -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

উকিলবাবু এখনও আসেননি। মক্কেলরা বসে-বসে মশা মারছে। দুর্গাপদ খুবই ধৈর্যশীল লোক। সে জানে, বড় অফিসার, বড় ডাক্তার, বড় উকিল ধরলে ধৈর্য রাখতে হয়। যে যত বড় সে তত ঘোরাবে। দুর্গাপদ রাস্তা পেরিয়ে উলটোদিকের পানের দোকানে গিয়ে লেমনেড চাইল। তেষ্টা পেয়ে রয়েছে অনেকক্ষণ। উকিলবাবুর বাড়ির চাকরের কাছে জল চাইলে দিত নিশ্চয়ই, কিন্তু চাইতে কেমন ভয়-ভয় আর… Continue reading ওষুধ -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

নামাবলী-তারাপদ রায়

প্রথমে নাম ছিল কালাচাঁদ হুই। সবাই কালাচাঁদ নামেই ডাকত। কাছাকাছি নিকটজন, পাড়াপ্রতিবেশী অবশ্য বলত কালু, কেউ কেউ আদর করে কেলো। গুছাইতগঞ্জের নয়নচাঁদ হুইয়ের একমাত্র ছেলে কালাচাঁদ। সাত মেয়ের মধ্যে একমাত্র ছেলে। সাত ভাই চম্পার ঠিক উলটো আর কি! সাত ভাই চম্পা এক বোন পারুল না হয়ে এক ভাই চম্পা সাত বোন পারুল। পারুল বোনেদের যথাসময়ে… Continue reading নামাবলী-তারাপদ রায়

নিজেকে জানো -তারাপদ রায়

উপনিষদে অনেক ভাল ভাল কথা লেখা আছে। তার মধ্যে একটা হল নিজেকে জানো৷ মূল কথাটি বোধহয় আত্মানং বিদ্ধি। কে আমি? আমি কোথা থেকে এলাম, কোথায় যাচ্ছি। এই বিশাল বিশ্বে আমাদের কী কাজ, কী ভূমিকা; এইসব নিয়ে প্রাচীন ঋষি আমাদের মাথা ঘামাতে, চিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নিজেকে জানতে বলেছেন। এ অবশ্য খুবই জটিল ভাবনা। এর কোনও… Continue reading নিজেকে জানো -তারাপদ রায়

পথিকের বন্ধু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মহকুমার টাউন থেকে বেরুলাম যখন, তখনই বেলা যায় যায়। কলকাতা থেকে আসছিলাম বরিশাল এক্সপ্রেসে। বারাসাত স্টেশনে নিতান্ত অকারণে (অবশ্য যাত্রীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী) উক্ত বরিশাল এক্সপ্রেস চল্লিশ মিনিট কেন যে দাঁড়িয়ে রইল দারুব্রহ্মবৎ অনড় অবস্থায় তা কেউ বলতে পারলে না। গন্তব্যস্থান বনগাঁয়ে পৌঁছে দেখি রানাঘাট লাইনের গাড়ি চলে গিয়েচে। বেলার দিকে চাইলাম। বেশ উঁচুতেই সূর্যদেব, লিচুতলা… Continue reading পথিকের বন্ধু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পেয়ালা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সামান্য জিনিস। আনা তিনেক দামের কলাই-করা চায়ের ডিশ-পেয়ালা। যেদিন প্রথম আমাদের বাড়িতে ওটা ঢুকল, সেদিনের কথা আমার বেশ মনে আছে। শীতকাল, সকাল সকাল খাওয়া-দাওয়া সেরে লেপের মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছি, এমন সময় কাকার গলার সুর শুনে দালানের দিকে গেলাম। কাকা গিয়েছিলেন দোকান নিয়ে কুবেড়ের মেলায়। নিশ্চয়ই ভালো বিক্রি-সিক্রি হয়েছে। উঠোনে দু-খানা গোরুরগাড়ি। কৃষাণ হরু মাইতি… Continue reading পেয়ালা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আইনস্টাইন ও ইন্দুবালা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আইনস্টাইন কেন যে দার্জিলিং যাইতে যাইতে রানাঘাটে নামিয়াছিলেন বা সেখানে স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল হলে ‘On…ইত্যাদি ইত্যাদি’ সম্বন্ধে বক্তৃতা করিতে উৎসুক হইয়াছিলেন—এ কথা বলিতে পারিব না। আমি ঠিক সেইসময়ে উপস্থিত ছিলাম না। কাজেই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ আমি আপনাদের নিকট সরবরাহ করিতে অপারগ, তবে আমি যেরূপ অপরের নিকট হইতে শুনিয়াছি সেরূপ বলিতে পারি। আসল কথা, নাৎসি জার্মানি হইতে নির্বাসিত… Continue reading আইনস্টাইন ও ইন্দুবালা-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

চিড়িয়াখানা -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

–ইঃ বাবা রে। এই শালো মানুষ খায়। গেঁয়ো যুবকটি বলল। —গতরখানা দেখেছিস? তার প্রৌঢ় কাকার চোখ পটপটাং হয়ে খুলে আছে। নথ-নাড়া বউটা কথা বলছে না। বাক্যহারা হয়ে গেছে। কুঁচো-কাঁচাদের মধ্যে একটা ছেলে ঘুষি পাকিয়ে লাফাচ্ছে—আয় বাঘ, লড়বি? এক ঘুষিতে মুখ ভেঙে দেব। খাঁচার শিক-এর ওপাশে ভারী চকিত পায়ে অবিশ্রান্ত পায়চারি করছে বিশাল রাজকীয় বাঘ। বিরক্ত,… Continue reading চিড়িয়াখানা -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

চিহ্ন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অন্ধকারে ভেসে যাচ্ছে জ্বলন্ত মোমবাতি। হলুদ আলোয় যেন জলের মধ্যে জেগে আছে ইভার মুখ। মুখখানা এখন ভৌতিক। একটু নীচুতে আলো, শিখাটা হেলছে, দুলছে, কাঁপছে। ইভার মুখে সেই আলো। গালের গর্তে, চোখের গর্তে, কপালের ভাঁজে ছায়া। মুখখানা যেন বা এখন ইভার নয়। ইভা এ ঘর থেকে ও ঘরে যাচ্ছে। মাঝখানের পরদা উড়ছে হাওয়ায়। অমিত বলে–সাবধান। পরদায়… Continue reading চিহ্ন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়