এই রকম একটা জায়গায় এসে বই ফেলে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার কোন মানে হয়? বাকের বিরস মুখে সানগ্লাস চোখে দিল। সানগ্লাসটা সে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিনেছে। রাতের বেলা কেনা বলে দেখেশুনে কেনা যায়নি এখন দেখা যাচ্ছে দুই চোখে দুরকম রঙ একটা হালকা সবুজ আরেকটা গাঢ় নীল। ঢাকায় ফিরে টান দিয়ে ঐ হারামজাদার কান ছিঁড়ে… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২৫ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২৪ হুমায়ূন আহমেদ
মামুন এগিয়ে এসে পা ছুঁয়ে সালাম করল। হাসিনা তাকিয়ে আছেন তীক্ষ্ণ চোখে। ছেলেটা লম্বা আছে একটা ভাল দিক। তবে বয়স বেশি। জাহানারার চেয়ে সাত আট-বছরের বড় তো হবেই আরো বেশিও হতে পারে। গায়ের রঙ ময়লা। পুরুষ মানুষের গায্যের রঙ ময়লা হলে যায় আসে না। সভ্য ভদ্র বলেও মনে হচ্ছে পা ছুঁয়ে সালাম করল। কেউ করে… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২৪ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২৩ হুমায়ূন আহমেদ
বাকের তার আধখাওয়া বেনসন বাড়িয়ে ধরেছে। রিকশাওয়ালা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। কিন্তু সিগারেটের জন্যে কোনো আগ্রহ দেখাল না। ব্যাটা নবাবের বাচ্চা একটা চড় দিলে হারামজাদা তার বাপের নাম ভুলে যাবে। বাকের অবশ্যি চড় দিল না। দুটাকা বিকশিসের জায়গায় এক টাকা বকশিস দিল। বেয়াদবি না করলে দুটাকাই পেত। হারামজাদার কপালে নেই কি করা যাবে।জলিল মিয়া অবাক হয়ে… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২৩ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২২ হুমায়ূন আহমেদ
সুন্দর করে সাজানো বসার ঘর। পর্দা টেনে রাখার জন্যে আধো আলো আধো আঁধার। তবু এর মধ্যেই বোঝা যাচ্ছে এ ঘরে একবিন্দু ধুলো নেই। রোজ দুবেল কিংবা কে জানে হয়ত তিন বেলা এই ঘর ঝাড়পোচ করা হয়। অডিকেলনের গন্ধের মতো মিষ্টি একটা গন্ধ আসছে নাকে। গন্ধটাও ঘরের সঙ্গে মানিয়ে গেছে। যেন এটা না থাকলেই মানাত না।… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২২ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২১ হুমায়ূন আহমেদ
এইবার জাহানারার কথা বলি। কৃষি ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার। এখানে একা একা থাকে। তোমার সাথে মিল আছে। তার মধ্যে কঠিন একটা ভাব আছে। যখন বিরক্ত হয় তোমার মতো ঠোঁট বাকিয়ে দেয়। তুমি নিশ্চয়ই ভাবছ মেয়েটিকে নিয়ে এত কথা লিখছি কেন? লিখছি কারণ লেখার কিছু নেই। অথচ আমার ইচ্ছা করছে বিরাট একটা চিঠি লিখতে। মুনা আমি খুব… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২১ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২০ হুমায়ূন আহমেদ
বকুল অবাক হয়ে দেখল সত্যি সত্যি দুপুর নাগাদ এক ঘোড়া উপস্থিত। দাড়িওয়ালা এক বুড়ো ঘোড়ার দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বাবু ঘোড়ার পিঠে বসে আছে। মুখ ভর্তি হাসি। বাবুর মুখে এমন হাসি বকুল আগে দেখেনি। বকুলের মনে হল, জহির বাবুকে মুগ্ধ করতে চেষ্টা করছে। মাকড়সার সূক্ষ্ম জালের মতো জাল। চোখে দেখা যায় না। কিন্তু আটকা পড়ে… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ২০ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৯ হুমায়ূন আহমেদ
বাকের অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে রাস্তার এ-মাথা থেকে ও-মাথা পৰ্যন্ত কয়েকবার হাটল। রাস্তার মোড়ে টর্চ হাতে দু’জন ট্রাফিক পুলিশ। এই রকম জায়গায় ট্রাফিক পুলিশ? নিৰ্ঘাৎ মিনিস্টার সাহেব আসছেন সেই উপলক্ষে। একবার গিয়ে দেখে আসবে নাকি কেমন জমেছে সব কিছু? বাকের মনস্থির করতে পারল না। মুনাদের বাসায় গেলে কেমন হয়? না, তাদেরও পাওয়া যাবে না। সেজেগুজে দল বেঁধে… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৯ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৮ হুমায়ূন আহমেদ
আপনি এতদিন ছিলেন আমাদের সঙ্গে। এখন চলে যেতে চাচ্ছেন। অথচ একা মেয়ে মানুষ লোকজন আমাকে নিয়ে নানান কথা ভাববে।জাহানারা হকচকিয়ে গেল। তার দারুণ মন খারাপ হল। এটা এমন জায়গা যে মন খারাপ হলেও কিছু করার নেই। কোথাও যাবার নেই। ঢাকায় থাকলে কত কি করা যেত। একটা গল্পের বই নিয়ে বারান্দায় বসে থাকা যেত। বই মুখের… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৮ হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৭ -হুমায়ূন আহমেদ
ড্রইং রুমে সিদ্দিকুর রহমান সাহেব বসে ছিলেন। গায়ে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি! পান চিবাচ্ছেন। ঠোঁট বেয়ে এক ফোঁটা পানের রস পড়েছে সাদা পাঞ্জাবিতে। তার দিকে তাকালে পাঞ্জাবিতে সদা হওয়া পানের পিকের দাগই সবার প্রথম চোখে পড়বে। হাসান সাহেবেরও পড়ল। তিনি ভ্রূ কুঁচকে তাকিয়ে রইলেন। স্নামালিকুম স্যার। আমার নাম সিদ্দিকুর রহমান। আমি থাকি আপনার……………………আমি চিনি আপনাকে। কি… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৭ -হুমায়ূন আহমেদ
কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৬ হুমায়ূন আহমেদ
বাকের চলে গেল রিহার্সেল দেখতে। নাটকের নাম রাতের পাখিরা। নাম শুনেই মনে হচ্ছে বাজে মাল। টিপু সুলতানটা নামালে হয়, তা না। সামাজিক নাটক। টিপু সুলতানে অনেক শেখার জিনিস ছিল। দেখলে মনটা অন্য রকম হয়। তা না রুন্দিমাল রাতের পাখি। বাকেরকে দেখে একটা সাড়া পড়ে গেল। বাকের ভাইকে বসতে দে। চায়ের কথা বলে আয়। নাটকটির পরিচালকের… Continue reading কোথাও কেউ নেই পর্ব – ১৬ হুমায়ূন আহমেদ