লিলির যে–চিঠির জন্যে পরম আগ্রহে প্রতীক্ষা করেছিলাম, সে–চিঠি এসে গেছে। লিলি গােটা গােটা হরফে লিখেছে, আমি জানি, তুই রাগ করেছিস। কত দিন হল গিয়েছি, কিন্তু কখনাে তাের কাছে চিঠি লিখি নি। কী করব বল? এমন খারাপ অবস্থা গেছে আমার! তাের দুলাভাইয়ের চাকরি নেই। বসতবাটিও পদ্মায় ভেঙে নিয়েছে। একেবারে ভিক্ষা করবার মতাে অবস্থা। কত দিন যে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (শেষ)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (১৬)- হুমায়ূন আহমেদ
টিনের কানেস্তারায় বাড়ি পড়েছে। উচ্চকণ্ঠে কী যেন ঘােষণা করা হচ্ছে। কৌতুহলী হয়ে দাঁড়াতেই দেখি বাদশা মামা বিব্রত মুখে সারা গায়ে চাদর এ}}}ড়া ইট। তার আগে আরেক জনকে টিনে বাড়ি দিয়ে দিয়ে উচ্চকণ্ঠে কী বলছে। আমি বললাম, ‘কী ব্যাপার, মামা?‘ ‘কিছু না, কিছু না।‘ ঢােল দিচ্ছে কে, আপনি নাকি? কিসের জন্যে?‘ বাদশা মামা দাঁড়িয়ে পড়লেন। জড়িত কণ্ঠে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১৬)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (১৫)- হুমায়ূন আহমেদ
সমস্ত দিন কেটে গেল। সফুরা খালা কাঁদতে লাগলেন! কী বিশ্রী অবস্থা! বাদশা মা নৌকা করে চলে গিয়েছেন শ্রীপুর। লাল মামীর মাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন একেবারে। কানাবিবি বারবার বলে, বউয়ের কোনাে খারাপ বাতাস লেগেছে, না হলে এমন হয়! মুকুন্দ ওঝাকে খবর দেও না এক বার। লাল মামীর মা খবর পেয়েই এসে পড়লেন। লা মামী বলল… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১৫)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (১৪)- হুমায়ূন আহমেদ
দরজা খুলে দেখি সারা গায়ে চাদর জড়িয়ে সফুরা খালা বৃষ্টির ছাটে ভিজছেন। মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘এদিকে গান হচ্ছিল নাকি রঞ্জু? ‘হ্যা, নবু মামা কলের গান বাজাচ্ছিলেন। কলের গান এনেছেন নবু মামা। ‘নবু কোথায়? ‘লাল মামী আর নবু মামা গান বাজাচ্ছেন। সফুরা খালা আরাে একটু এগিয়ে এসে বললেন, ‘কই, গান শুনছি না তাে? | আমরা দুজন… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১৪)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (১৩)- হুমায়ূন আহমেদ
অন্ধকারেই হাতড়ে হাতড়ে এমােফোন বের করলেন নবু মামা। বহু কষ্ট করে চোঙ ফিট করা হল। দম দিতে গিয়ে বিপত্তি––ঘ্যাসঘাস শব্দ হয়। তবে ভরসার। কথা––ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। নবু মামা ফিসফিসেয়ে বললেন, কোন গানটা দিয়েছি কে জানে? একটা খুব বাজে গান আছে। এটা প্রথম এসে গেলে খারাপ হবে খুব। আমি বললাম, ‘নবু মামা, দেরি করছ কেন? ‘দিচ্ছি। বৃষ্টিটা… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১৩)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (১২)- হুমায়ূন আহমেদ
আমরা সবাই তাঁর ঘরের সামনে ভিড় করে দাঁড়ালাম। পরিপাটি বিছানা পাতা। বালিশের চাদর পর্যন্ত একটুও কোঁচকায় নি। বড় নানিজান সেই পরিপাটি বিছানায় শক্ত হয়ে পড়ে আছেন। ইদুর কিংবা অন্য কোনাে কিছু তাঁর ঠোট আর একটি চোখ খেয়ে গিয়েছে। বিকট হাঁ করা সেই মূর্তি দেখে সফুরা খালা ও মাগাে ও মাগাে বলে কাঁদতে লাগলেন। লাল মামী… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১২)- হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর পর্ব (১১)- হুমায়ূন আহমেদ
কিন্তু তিনি নিজের চারদিকে একটি দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন। এই দেয়াল ভেদ করে তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় নেই। নিজের সৃষ্ট জগতেই তিনি ডুবে আছেন। বাইরের প্রতি একটুও খেয়াল নেই। ইচ্ছে হল তাে চলে গেলেন পুকুরপাড়ে, একা বেড়াতে গেলেন বাগানে। এ–সব দেখেশুনে কেন জানি না আমার একটা ধারণা হয়েছিল, সফুরা খালা। বড়াে রকমের দুঃখ পাবে জীবনে। এ–রকম… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১১)- হুমায়ূন আহমেদ
সুহাসিনী মাসিমা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুহাসিনী মাসিমাকে আমি দেখিনি। কিন্তু খুব ছোটো বয়সে যখনই মামারবাড়ি যেতুম, তখন সকলের মুখে মুখে থাকত সুহাসিনী মাসিমার নাম।…….—সুহাস কী চমৎকার বোনে! এই বয়েসে কী সুন্দর বুনুনির হাত!………—সুহাসিনী বললে, এসো দিদি বসো। বেশ মেয়ে সুহাসিনী। —সেবার সুহাসিনীকে নেমন্তন্ন করে খাওয়ালুম পূর্ণিমার দিন।…..—সুহাসিনী ওসব অন্যায্য দেখতে পারে না, তাই জন্যে তো মায়ের সঙ্গে বনে না।…..সুহাসিনী গ্রামের… Continue reading সুহাসিনী মাসিমা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শিবু আর রাক্ষসের কথা – সত্যজিৎ রায়
অ্যাই শিবু–এদিকে শোন।……….শিবুর ইস্কুল যাবার পথে ফটিকদা তাকে প্রায়ই এইভাবে ডাকে।……..ফটিকদা মানে পাগলা ফটিক।…জয়নারায়ণ বাবুদের বাড়ি ছাড়িয়ে চৌমাথার কাছটায় যেখানে একটা পুরনো মরচে-ধরা স্টিম রোলার আজ দশ বছর ধরে পড়ে আছে, তার ঠিক সামনেই ফটিকদার ছোট্ট টিনের চালওয়ালা বাড়ি। অষ্টপ্রহর দাওয়ায় বসে কী-যে খুটুর খুটুর কাজ করে ফটিকদা তা ও-ই জানে। শিবু শুধু জানে ফটিকদা… Continue reading শিবু আর রাক্ষসের কথা – সত্যজিৎ রায়
অচিনপুর পর্ব (১০)- হুমায়ূন আহমেদ
না, চুপ করব কেন? বউ, শেষ কথা আমার, তাবিজ দিবা কি না কও। লাল মামী বললেন, আপনার ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন। সে যদি বলে তাবিজ দিলেই আমার ছেলেমেয়ে হবে, তাহলে দেব।‘ এমন সময় নিচে প্রচণ্ড হৈচৈ শােনা গেল। আমি আর নবু মামা দৌড়ে গিয়ে দেখি রহমত মিয়া শিকল খুলে কীভাবে যেন বেরিয়ে পড়েছে। হাতের শিকল নাচাচ্ছে,… Continue reading অচিনপুর পর্ব (১০)- হুমায়ূন আহমেদ