নুহাশ এবং সে – হুমায়ূন আহমেদ

মাঝে মাঝে খুব সাধারণ কিছু দৃশ্য আমাকে অভিভূত করে। দারুণ মন খারাপ করিয়ে দেয়। বরিশাল থেকে লঞ্চে করে ঢাকায় আসছি। সাধারণত ঢাকা-বরিশাল লঞ্চগুলি রাতে চলাচল করে। এক সময় দিনেও লঞ্চ ছিল। আমি নদীর দু’পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে আসব ভেবে দিনের লঞ্চ নিয়েছি। বসেছি ছাদে। প্রচুর বাতাস, প্রচুর রোদ গায়ে মাখছি, চমৎকার লাগছে। হাওয়া এবং রোদ… Continue reading নুহাশ এবং সে – হুমায়ূন আহমেদ

অচিনপুর পর্ব (৪)- হুমায়ূন আহমেদ

হাতি আনতে লােক গেল হালুয়াঘাট। সেখানে কালুশেখের দু‘টি মা এত আছে। বন থেকে কাঠের বােঝা টেনে নামায়। বিয়ের আগের রাতে মাহুতকে ঘাড়ে করে মাতু এসে দাঁড়াল। উৎসাহী ছেলেমেয়েরা কলাগাছের পাহাড় বানিয়ে ফেল উঠোনে। মাহুতের সঙ্গে দু’দণ্ড কথা বলার জন্যে কী আগ্রহ সবার। মাহুত সাহেবের কি একটু তামাক ইচ্ছে করবেন?  হাতির পিঠে চড়ে বর এসে নামল।… Continue reading অচিনপুর পর্ব (৪)- হুমায়ূন আহমেদ

অচিনপুর পর্ব (৩)- হুমায়ূন আহমেদ

 সে যে আমার বড়াে বােন এবং নানাজানের এই প্রকাণ্ড বাড়িতে আমিই যে তার সবচেয়ে নিকটতম জন, তা জানাতে তার ভারি আগ্রহ ছিল।  শাড়ি–পরা হালকা–পাতলা শরীর কোনাে ফাঁকে আমার নজরে পড়ে গেলেই মন খারাপ হয়ে যেত। অবধারিতভাবে সে হাত ইশারা করে আমায় ডাকবে। ফিসফিস করে বলবে, ‘কাল সবাই দু‘খান করে মাছ ভাজা খেয়েছে, আর তুই যে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (৩)- হুমায়ূন আহমেদ

অচিনপুর পর্ব (২)- হুমায়ূন আহমেদ

রাতে কখন যে ফিরতেন, তা কোনাে দিনই জানি নি। ঘুম ভাঙার আগে আগেই চলে গেছেন। কোনাে কোনাে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে দেখেছি, গুনগুন করে কী পড়ছেন। যেদিন মেজাজ ভালাে থাকত, সেদিন খুশিখুশি গলায় বলতেন, ‘রজু, শােন তাে দেখি, কেমন হচ্ছে বলবি।” আমি হঠাৎ ঘুমভাঙা অবস্থায় কী হচ্ছে ঠিক বুঝতে পারছি না। মামা দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে… Continue reading অচিনপুর পর্ব (২)- হুমায়ূন আহমেদ

অপেক্ষা পর্ব (শেষ)- হুমায়ূন আহমেদ

‘বললেইতাে লিখে ফেলা যায় না, চিন্তা ভাবনা করে লিখতে হবে। রাতে লিখব। শুরুটা হবে কিভাবে জানিস -ওগাে আমার প্রাণপাখি বুলবুলি।  সুপ্রভা আবারাে খিল খিল করে হেসে উঠল । মিতু বিরক্ত গলায় বলল, বললাম না হায়নার মত হাসবি না।  ‘হাসি আসলে কি করব ?  ‘হাসি আসলে হাসি চেপে রাখবি। হাসলে মেয়েদের যত সুন্দর লাগে হাসি চেপে… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (শেষ)- হুমায়ূন আহমেদ

অপেক্ষা পর্ব (১৪)- হুমায়ূন আহমেদ

সুরাইয়া আয়নার সামনে বসে আছে। তার চোখে মুখে হতভম্ব ভাব। আয়নায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সিঁথির কাছের কিছু চুল তামাটে হয়ে আছে। কি ভয়ংকর কথা! চুল পেকে যাচ্ছে ? না-কি হলুদ-টলুদ জাতীয় কোন রঙ লেগেছে ? হলুদ রঙ লাগবে কিভাবে ? কত বছর হল সে রান্না ঘরে যায় না। সুরাইয়া তীক্ষ্ণ গলায় ডাকলেন- সুপ্রভা!  সুপ্রভা দরজা… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (১৪)- হুমায়ূন আহমেদ

অপেক্ষা পর্ব (১৩)- হুমায়ূন আহমেদ

শােভন খাট ছেড়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। জানালায় লম্বা করে শিক বসানাে। একটা শিক বাঁকানাে কোন কঠিন কাজ না। শাবল দিয়ে চাড় দিলেই শিক বাকবে। দারােয়ান ভাইয়ের ঘরে শাবল আছে।  জানালার পাশে ইমনের মুখ দেখা গেল। ভয়ে তার মুখ শাদা হয়ে গেছে। টোকন–শােভন দুই ভাইই তার খুব প্রিয় মানুষ। রাতে সে এই ঘরে তাদের সঙ্গে… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (১৩)- হুমায়ূন আহমেদ

অপেক্ষা পর্ব (১২)- হুমায়ূন আহমেদ

তােমরা কে কই আছ দেইখ্যা যাও আমার ইমইন্যা আইছে। দাদীর কান্না দেখে ইমনের লজ্জা লাগছে। আবার ভালও লাগছে। সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না এমন বুড়াে একজন মানুষ তার মত ছােট্ট একজনকে এত ভালবাসে কেন। দাদীজানের শরীর অবশ । শুধু ডান হাতটা নাড়াতে পারেন। সেই হাতে তিনি ইমনকে ধরে আছেন। কিছুতেই ছাড়ছেন না। হাতে ন্যাপথলিনের গন্ধ।… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (১২)- হুমায়ূন আহমেদ

অপেক্ষা পর্ব (১১)- হুমায়ূন আহমেদ

শুধু ইমন হাত দিয়ে ছুলেই এমন করে । যেন তার হাতে হাসির কোন ওষুধ আছে। ইমন নিজে যখন সুপ্রভার মত ছােট ছিল তখন সেও কি এরকম করতাে ? মা’কে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করছে কিন্তু সাহসে কুলাচ্ছে না। ছােট চাচাকে জিজ্ঞেস করতে হবে ।  ইমন।’ ‘জ্বি মা।  স্কুলে পড়াশােনা কেমন হচ্ছে ? ভাল।’ আকাশ ইংরেজী কি ?… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (১১)- হুমায়ূন আহমেদ

অপেক্ষা পর্ব (১০)- হুমায়ূন আহমেদ

‘হ্যা। ‘ওকে দিন একটু কোলে নিয়ে আদর করি।  ‘কোলে নিয়ে আদর করতে হবে না। ঘুম ভেঙ্গে যাবে। ঘুম ভাঙ্গলে বিশ্রী করে কাঁদে। অসহ্য লাগে। সুপ্রভার কান্না শুধু না সুরাইয়ার সব কিছুই অসহ্য লাগে। ইমন যখন পড়ার টেবিলে বসে গুনগুন করে সেই গুনগুন কিছুক্ষণ শুনলেই অসহ্য লাগে । আবার সে যখন নিঃশব্দে পড়ে তখন চারদিকের নৈশব্দও… Continue reading অপেক্ষা পর্ব (১০)- হুমায়ূন আহমেদ