ঊর্মিমালা -মনিকা শকুন্তলা

ঊর্মিমালা -মনিকা শকুন্তলা   ঊর্মিমালা তুমি ঠিক সাগরের সফেদ বুদবুদ ফোঁটা ঢেউ আমার এই স্হবির জীবনটাকে কখনো বুঝতে চায়নি কেউ নিতে চায়নি স্নেহের ডোরে আবেশে আমি সত্যি বড় কৃতজ্ঞ এবং বড় বেশি আহ্লাদিত আজ তোমার কাছে মনে পড়ে বারবার সেদিনের কথা, হঠাৎ রেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার পা হারানো আমি অসার শরীরে শুয়ে আছি হসপিটালের… Continue reading ঊর্মিমালা -মনিকা শকুন্তলা

ভ্রান্তিবিলাস – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ভ্রান্তিবিলাস – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভ্রান্তিবিলাস – ১ প্রথম পরিচ্ছেদ। হেমকূট ও জয়স্থল নামে দুই প্রসিদ্ধ প্রাচীন রাজ্য ছিল। দুই রাজ্যের পরস্পর ঘোরতর বিরোধ উপস্থিত হওয়াতে, জয়স্থলে এই নৃশংস নিয়ম বিধিবদ্ধ হয়, হেমকূটের কোনও প্রজা, বাণিজ্য বা অন্যবিধ কার্য্যের অনুরোধে, জয়স্থলের অধিকারে প্রবেশ করিলে তাহার গুরুতর অর্থদণ্ড, অর্থদণ্ড প্রদানে অসমর্থ হইলে প্রাণদণ্ড, হইবেক। হেমকূটরাজ্যেও, জয়স্থলবাসী লোকদিগের… Continue reading ভ্রান্তিবিলাস – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

শকুন্তলা – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

শকুন্তলা – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শকুন্তলা – ১ প্রথম পরিচ্ছেদ অতি পূর্ব্বকালে, ভারতবর্ষে দুষ্মন্ত নামে সম্রাট্ ছিলেন। তিনি, একদা, বহু সৈন্য সামন্ত সমভিব্যাহারে, মৃগয়ায় গিয়াছিলেন। এক দিন, মৃগের অনুসন্ধানে বনমধ্যে ভ্রমণ করিতে করিতে, এক হরিণশিশুকে লক্ষ্য করিয়া, রাজা শরাসনে শরসন্ধান করিলেন। হরিণশিশু, তদীয় অভিসন্ধি বুঝিতে পারিয়া, প্রাণভয়ে দ্রুত বেগে পলাইতে আরম্ভ করিল। রাজা, রথারোহণে ছিলেন, সারথিকে… Continue reading শকুন্তলা – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

এই পতাকার জন্য -মনিকা শকুন্তলা

এই পতাকার জন্য মনিকা শকুন্তলা এই লাল সবুজে আঁকা পতাকার জন্য নয়টি মাস প্রতীক্ষা ছিল অনন্য। শুধু এই পতাকার জন্য কতো শহিদ জীবন দিয়েছে হয়েছে অগ্রগণ্য। এই লাল সবুজের জন্য আজ জীবন মোদের ধন্য গর্বিত জাতি গর্বিত হলো মাতৃভাষার জন্য। এই পতাকা তোমার জন্য এই পতাকা আমার জন্য মোরা শিহরিত আজ পুলকিত এই বাংলার মাটি… Continue reading এই পতাকার জন্য -মনিকা শকুন্তলা

গান- সুতপা ভট্টাচার্য

গান সুতপা ভট্টাচার্য। কেউ বলেনি কেউ ডাকেনি কেউ শোনেনি গান তবুও হৃদয় গেয়েই গেলো ভালোবাসার গান। কেউ শুনেছে কেউ দেখেছে কেউ বেঁধেছে তান, তবুও তারা দেখলোনাকো বুঝলো নাকো মান। রাত্রি এলো জোছনা ঘেরা হাজার তারার আলো, জ্বললো না আর হৃদয় বাতি, বৃথায় আঁধার কালো। কেউ বলেনি কেউ ডাকেনি কেউ শোনেনি গান, তবুও হৃদয় গেয়েই গেলো… Continue reading গান- সুতপা ভট্টাচার্য

কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ১২

মৃত্যুক্ষুধা – কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ১২ মৃত্যুক্ষুধা – ১২ একদিকে মৃত্যু, একদিকে ক্ষুধা। সেজোবউ আর তার ছেলেকে বাঁচাতে পারা গেল না। ওর শুশ্রূষা যেটুকু করেছিল সে শুধু ওই মেজোবউ আর ওষুধ দিয়েছিল মেম সায়েব – রোমান ক্যাথলিক মিশনারি। মেজোবউ সেজোর রোগ-শিয়রে সারারাত জেগে বসে থাকে। কেরোসিনের ডিবে ধোঁয়া উদগিরণ করে ক্লান্ত হয়ে নিবে যায়।… Continue reading কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ১২

কাজী নজরুল ইসলাম -মৃত্যুক্ষুধা – ১১

মৃত্যুক্ষুধা – কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ১১ মৃত্যুক্ষুধা – ১১ “ঝড় আসে নিমেষের ভুলে।” জীবনের কোন পথ দিয়ে কখন বিপর্যয় আসে, মুহূর্তের জন্যে – নিমেষে সব ওলট-পালট করে দিয়ে যায় –বন্ধনের দড়াদড়ি কখন যায় টুটে, –কেউ জানে না। ‍এক দিঘি ফোটা পদ্মবনের উপর দিয়ে – ঝড় নয় – শুধু একটা ঘূর্ণি হাওয়ার চলে-যাওয়া দেখেছিলাম। সেই… Continue reading কাজী নজরুল ইসলাম -মৃত্যুক্ষুধা – ১১

কাজী নজরুল ইসলাম -মৃত্যুক্ষুধা – ১০

মৃত্যুক্ষুধা – কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ১০ মৃত্যুক্ষুধা – ১০ সেদিন রবিবার। ছুটি। প্যাঁকলের গোটা দুয়েকের সময় স্নান করতে বেরুল। বেরুবার আগে তেলের শূন্য শিশিরটা অনেকক্ষণ ধরে উলটে রাখলে হাতের তালুর উপর। মিনিট পাঁচেকে ফোঁটা পাঁচেক তেল পড়ল। তেল ঠিক নয়, তেলের কাই। শিশিটার পিছন দিকে গোটা দুত্তিন থাপ্পড় মেরেও যখন আর এক ফোঁটার বেশি… Continue reading কাজী নজরুল ইসলাম -মৃত্যুক্ষুধা – ১০

কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ০৯

মৃত্যুক্ষুধা – কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ০৯ মৃত্যুক্ষুধা – ০৯ সেদিন বড়োবউ, প্যাঁকালে, তার মা আর পাঁচিতে মিলে একটা গোপন পরামর্শসভা বসেছিল। প্যাঁকালের অতিমাত্রায উত্তেজিত হয়ে বললে, “আমি তা কখনও পারব না। আমি কালই চললাম রানাঘাট। সেখেনে রোজ চোদ্দো আনা করে পয়সা পাব।” তার মা অনুনয়ের স্বরে বললে, “রাগ করিস কেন বাবা? এমন তো সব… Continue reading কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ০৯

কাজী নজরুল ইসলাম- মৃত্যুক্ষুধা – ০৮

মৃত্যুক্ষুধা – কাজী নজরুল ইসলাম মৃত্যুক্ষুধা – ০৮ মৃত্যুক্ষুধা – ০৮ সেদিন ঘিয়াসুদ্দিন শ্বশুরবাড়ি এসেছে। মেজোবউও বোনাইকে দেখলতে এসেছে। ও-ই এসেছে কিংবা ওর বোনাই-ই আনিয়েছে – এই দুটোর একটা-কিছু হবে। আগুন আর সাপ নিয়ে খেলা করতেই যেন ওর সাধ। ঘিয়াসুদ্দিন ওকে বুঝতে পারে না। বুঝতে পারে না বলেই এত ঘন ঘন আসে। মেজোবউ তা বোঝে, তাই… Continue reading কাজী নজরুল ইসলাম- মৃত্যুক্ষুধা – ০৮