ওঃ, এ যে, একেবারে হরিপদ জিনিস রে!………….আজ্ঞে, ভালো জিনিস বলেই তো আপনার কাছে আসা। এসব জিনিসের কদর ক-জন করতে পারে বলুন? আর দামই বা দিতে পারে ক-জন?……..তা আনলি কোথা থেকে? বাজারি জিনিস নয় তো! তোকে বাপু বিশ্বাস নেই। কী যে, বলেন। কবে নেমকহারামি করেছি বলতে পারেন? দ্বিজপদ আর যাই হোক বিশ্বাসঘাতক নয়। সত্যি কথাই বলছি,… Continue reading লক্ষ্মীপ্যাঁচা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
কালকূট – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
ওই যে উনিশ-কুড়ি বছরের মেয়েটি তোমাদের হাসি-গল্পের আসর ছাড়িয়া হঠাৎ আড়ষ্টভাবে উঠিয়া বাড়ি চলিয়া গেল, শ্রীমতী পাঠিকা, তোমরা উহাকে চেন কি? কেন চিনিবে না? ও তো প্রফেসার হীরেন বাগচির স্ত্রী। গত পাঁচ বছর ধরিয়া তোমরা নিত্য উহার সঙ্গে মেলামেশা করিতেছ। ওর নাম কমলা, ওর একটি চার বছরের মেয়ে আছে, ওর বাপের বাড়ি চন্দননগরে, সবইতো তোমরা… Continue reading কালকূট – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
র্যাডিস উইথ মোলাসেস – তারাপদ রায়
কেউ হয়তো বিশ্বাস করবেন না কিন্তু সত্যের খাতিরে আমাকে স্বীকার করতে হবে যে আমার এই সামান্য সাহিত্য-জীবনে গদ্য লেখা আমি আরম্ভ করেছিলাম ‘রন্ধন প্রণালী’ দিয়ে। সে বড় দুঃখের কাহিনী। আমি তখন (এমনকী এখনও) রান্নার ‘র’ পর্যন্ত জানি না। আমি নিতান্ত অর্থলোভে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তখন দৈনিক কাগজের রবিবাসরীয়তে নিয়মিত ‘রন্ধন প্রণালী’, যেমন মানকচুর… Continue reading র্যাডিস উইথ মোলাসেস – তারাপদ রায়
লোকটি – হুমায়ূন আহমেদ
ঐ কৃপণ লোকের গল্প কি তোমরা শুনেছ? যে চিনির কৌটার পিপাড়া ফেলে দিত না। অন্য একটা কৌটায় জমা করে রাখত? চিনি শেষ হয়ে গেলে ঐ সব পিপড়া দিয়ে চা বানিয়ে খেত। এগুলি গল্পকথা। বাস্তব জীবনে এ রকম ভয়ংকর কৃপণ থাকে না। তবে একেবারেই যে থাকে না তাও না। আজহার উদ্দিন খাঁ এ রকম একজন কৃপণ।… Continue reading লোকটি – হুমায়ূন আহমেদ
নসিমন বিবি – হুমায়ূন আহমেদ
গায়ক এস আই টুটুল শুধু যে চমৎকার গান করে তা না, সুন্দর করে গল্পও বলতে পারে। তার গল্প বলার স্টাইলে মুগ্ধ হয়ে আমি প্রায়ই নাটকে অভিনয় করতে ডাকি। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, ক্যামেরার সামনে সে মোটেই স্বচ্ছন্দ না। ডায়ালগও মনে রাখতে পারে না। যাই হোক কি এক নাটকে মনে হয় ‘চন্দ্র কারিগর’ সে অভিনয় করতে এসেছে।… Continue reading নসিমন বিবি – হুমায়ূন আহমেদ
গণ্ডগোল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
রামী কেমন মেয়ে তাও কুমুদ জানে না। অথচ রামী একরকম তার বিয়ে করা বউ। খবর যা পাচ্ছে কুমুদ তা মোটেই ভালো নয়। রামীর নাকি বিয়ে! গণ্ডগোল মানেই হল কুমুদ। তার গোটা জীবনটাই নানা গণ্ডগোল, গুবলেট আর কেলোর একটা যোগফল। বাপের দুটো বউ আর তেরোটা ছেলেমেয়ে। তার ওপর বাপটা রগচটা, দুই মায়ের উত্তম কুস্তম ঝগড়া। সব… Continue reading গণ্ডগোল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সজিনা পাতার গুণাগুণ ও উপকারিতা
সজিনা গাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। তাই সজিনা পাতাকে বলা হয় পুষ্টিগুণে ভরপুর সুপার ফুড এবং সজিনা গাছকে বলা হয় মিরাক্কেল ট্রি। আমরা অনেকেই সজনে সজবি হিসেবে খাই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে সজনের সাথে সাথে সজনে পাতাও খাওয়া যায়। সজনে গাছের পাতা এবং ফল উভয়ের মধ্যেই… Continue reading সজিনা পাতার গুণাগুণ ও উপকারিতা
ইচ্ছাশক্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
মনস্তত্ত্বের এক প্রচণ্ড পণ্ডিত বলিলেন, ইচ্ছাশক্তির দ্বারা হয় না এমন কাজ নেই। যদি মরীয়া হয়ে ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করতে পারো, যা চাইবে তাই পাবে। কোনও কাজ করতে হবে না, স্রেফ মনের ইচ্ছাটাকে প্রবল একাগ্র দুর্নিবার করে তুলতে হবে। সেকালে মুনি-ঋষিরা কথাটা জানতেন, তাই রামায়ণ-মহাভারতে এত বর দেওয়া আর শাপ দেওয়ার ছড়াছড়ি। পণ্ডিতের কথা সত্য কিনা পরীক্ষা… Continue reading ইচ্ছাশক্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
রামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়
রামধনের লোকটাকে চেনা চেনা লাগায় আরেকটু কাছে গিয়ে একটা গাছের আড়াল থেকে দেখে তার বুকের ভিতরটা হিম হয়ে গেল। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও চিনতে কোনও অসুবিধা নেই। এই সেই খগেশবাবু। খগেশ খাস্তগির, পুরনো ইটপাথর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। খগেশবাবুর সঙ্গে ছিলেন বকুলতলার সত্যপ্রকাশবাবু। তিনি বলছিলেন: কই, তেমন বদনাম তো কেউ দেয়নি এ বাড়ির। ভূতটুত এ তল্লাটে… Continue reading রামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়
আকাশপরী – হুমায়ূন আহমেদ
নীলুদের বাসায় মাঝে মাঝে একজন হেডমাস্টার সাহেব বেড়াতে আসেন। তিনি নীলুর বাবার বন্ধু আজীজ সাহেব। হেডমাস্টাররা সাধারণত যে রকম হন, উনি কিন্তু মোটেই সে রকম নন। খুব হাসিখুশি স্বভাব। আর এমন মজার মজার ধাঁধা জিজ্ঞেস করেন নীলুকে, যে নীলু হেসেই বাচে না। একদিন জিজ্ঞেস করলেন, বলো দেখি মা, তিন আর এক যোগ করলে কখন পাঁচ… Continue reading আকাশপরী – হুমায়ূন আহমেদ