আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

সংসারের মধ্যে নাইঅনেক সংসার করলামঅখন অসিসালামু আলায়কুম। তােমার কথাবার্তা কিছুই বুঝতেছি না। বুঝলে নাইআছিয়া উঠানে চলে গেলজলচৌকিতে বসে বাঁশঝাড়ের দিকে তাকিয়ে রইলজমির আলী চিন্তিত মুখে শিশুর কান্না সামলানাের জন্যে এগিয়ে গেল। তার সঙ্গে যুক্ত হলাে আসমানী জামদানী বাচ্চাটাকে এখন আরো ফরসা লাগছে

হাতপা ছুড়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে কাদছেজমির আলী মেয়ের মুখের দিকে ঝুঁকে এসে বলল, এই পয়সাএই পয়সা কান্না থামাচ্ছে নাআসমানি বলল, বাপজান, গীত গাওজমির আলী গীত ধরলবানিয়ে বানিয়ে সুর করে কথা বলাভিক্ষুকরা এটা খুব ভালো পারে এই পয়সা কান্দে রে তার ভইন রে বান্দে রে ভইনের নাম আসমানী হে দেশের রাজরানীতার ছােটটা জামদানী ঘরে টেকার আমদানি টেকা বলে পয়সা কই হে আমার প্রাণের সই। 

জামদানী উৎফুল্ল গলায় চেঁচিয়ে উঠল, কান্দন বন্ধ হইছেকান্দন বন্ধ হইছেজমির আলী অবাকআরে তাই তাে, পিচকা কান্না বন্ধ করে তাকাচ্ছেআসমানী বলল, বাপজান, তােমারে দেখেতােমারে দেখে। 

জমির আলী বলল, কী দেখসরে বেটি ? আমি কেদেহিআমি তাের পিতা জমির আলীতাের মাতার নাম আছিয়াদুই ভইনের একজনের নাম আসমানী, আরেকজনের নাম জামদানীআমাদের সবেরে যে সৃষ্টি করেছেন তার নাম আল্লাহসাত আসমানের উপরে তার সিংহাসন। জামদানী বলল, তােমার সব কথা শুনতাছেমনে হয় বুঝতাছে। 

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

জমির আলী গম্ভীর গলায় বলল, বুঝনের কথাশিশুরা ফিরিশতার সামিলফিরিশতা কথা বুঝব না এইটা কেমন কথা ? আমার পয়সা আম্মা সব বুঝতাছেবুঝতাম না মা

কী আশ্চর্য কথা, পিচকি চোখ মিটমিট করছে! পাখির পালকের মতাে একটা হাত এগিয়ে দিল বাবার মুখের দিকেআসমানী উত্তেজিত গলায় বলল, বাপজান, তােমার নাক ধরতে চায় । জমির আলী নাক বাড়িয়ে দিয়ে হৃষ্ট গলায় বলল, ধর বেটি নাক ধরজন্মের পরেই নাক ধইরা টানাটানি কেমন মাইয়া! বয়সকালে এর খবর আছে কন্যা নিয়ে উল্লাস দীর্ঘস্থায়ী হলাে না

সন্ধ্যা নামার পর পর সে কাঁদতে শুরু করলদিনও খারাপ করলঝুম বৃষ্টিমাঝে মাঝে বাতাস দিচ্ছেবাতাসে ঘরের চালা নড়বড় করছেবাড়িঘরের যে অবস্থা বাতাসের বেগ আরেকটু বাড়লে বাড়ি উড়ে যাবেআছিয়া তার রােরুদ্যমান কন্যার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে নাসে ভেতরের বারান্দায় মাদুর পেতে বসে আছেমনে হচ্ছে গভীর আগ্রহে সে ঝড়বৃষ্টি দেখছেআসমানী মায়ের কাছে এসে ভয়ে ভয়ে বলল, পয়সা কানতেছে। 

আছিয়া বলল, কান্দুককান্দনের কপাল নিয়া আসছে, কানব না তাে কী করবমনে হয় ক্ষিধা লাগছেতাের বাপরে দুধ খাওয়াইতে আমি আর ঝামেলার মইদ্যে নাইবাচ্চার কান্নার চেয়েও যে দুশ্চিন্তা জমির আলীকে কাতর করে ফেলল সেটা দিনের অবস্থাভাবভঙ্গি মােটেই সুবিধার নাঅনেক দূর থেকে গুম গুম শব্দ আসছেসবাইকে নিয়ে কেরামতের পাকা দালানে চলে যাওয়া দরকার। 

জামদানী ভীত গলায় বলল, ঘরবাড়ি কাঁপতাছে বাপজান। জমির আলী বলল, কোনাে চিন্তা করিস নাআমরার সাথে ছােট শিশু আছেছােট শিশু ফিরিশতার সামিলফিরিশতার বিপদআপদ নাইআসমানী বলল, কেরামত চাচার বাড়িত যাইবা ?

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

জমির আলী বলল, মনে হয় যাইতে হবেতাের মারে বল ... আচ্ছা আমিই বলবঝড়তুফানরে সমীহ করা লাগেঝড়তুফান কারাের খালাতাে ভাই মামাতাে ভাই নাআছিয়া বলল, আপনের যেইখানে ইচ্ছা সেইখানে যানগুষ্ঠী সাথে লইয়া যানআমি যাব নাজমির আলী চিন্তিত মুখে বলল, ঘর-বাড়ি তাে পইড়া যাইতেছেযাউক পইড়া। সত্যি যাইবা না

বউ তােমারে আল্লাহর দোহাই লাগেআফনেরে আল্লাহর দোহাই লাগে কানের কাছে ভ্যানভ্যান কইরেন না। ঝড় প্রবল হয়েছেবাড়ির চালার একটা অংশ উড়ে চলে গেলআসমানী এবং জামদানী দুদিক থেকে বাবাকে জাপ্টে ধরে আছেজমির আলী শিশু সন্তানটিকে কথায় মুড়ে বুকের কাছে দুহাতে ধরে রেখেছে

ঝড়ঝঞার জন্যই হােক বা পরিশ্রান্ত হবার কারণেই হােক সে কাঁদছে নাজমির আলী বলল, চল রওনা দেইদুইজন আমারে শক্ত কইরা ধর মনে মনে নুহ নবির নাম নেঝড়তুফানের সময় নুহ নবির নাম খুব কামে দেয়। আসমানী বলল, তুমি অত কিছু জান ক্যামনে

আছিয়া তিক্ত গলায় বলল, তাের বাপ বিরাট তালেবর বিদ্যার মটকিহে জানব না তাে কে জানব ? যা বাপের সাথে যাপথে পিছলাইয়া পইড়া পাও ভাঙএক আধজন লুলা হইলে সুবিধা আছেভিক্ষা বেশি পাওন যাইব| ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছেবিদ্যুৎ চমকের আলাে দেখে দেখে এগুতে হচ্ছেএমিতে চারদিক ঘন অন্ধকারবৃষ্টির পানি বরফ শীতল

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

বনজঙ্গলের ভেতর দিয়ে পথবৃষ্টির পানিতে পিছল হয়ে আছেবুড়াে আঙুলটি টিপে টিপে খুব সাবধানে এগুতে হচ্ছেঝড় এমন ঝাপটা দিচ্ছে যে জমির আলীর মনে হচ্ছে, তার দুটি মেয়ের একটিকে বুঝি উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেজমির আলী বলল, শক্ত কইরা ধইরা থাকপ্রয়ােজনে পাও ধইরা ঝুইলা পড়মনে মনে বললাইলাহা ইল্লাল্লাহ। 

পথের উপর বাঁশঝাড়ের বাঁশ ভেঙে পড়েছেডিঙিয়ে যাবার কোনাে উপায় নেইবাঁ দিকের ফাঁকা জায়গাটা দিয়ে কিছুদূর যাওয়া যাবে, সেটিও বিপদজনকরুস্তমের ভিটার উপর দিয়ে যেতে হবেরুস্তমের ভিটার উপর দিয়ে দিনমানেও কেউ যায় নাঝড়বৃষ্টির নিশুতি রাতে অভিশপ্ত ভিটার ধারে কাছে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে নাহয়তাে দেখা যাবে উঁচু ভিটার উপর সাদা থান পরা রুস্তমের দাদি বসে আছে

বহু বছর আগে মৃত এই খুনখুনি বুড়িকে দেখে নাই এমন লােকের সংখ্যা এই গ্রামে খুবই কমবুড়ি ভিটার উপর বসে পান খায়পানের পিক ফেলেপিকের বর্ণ টকটকে লালমনে হয় যেন পিক নাতাজা রক্ত। মনের ভুলে রাতে বিরাতে কেউ যদি রুস্তমের ভিটার পাশ দিয়ে যায় তাহলেই বুড়ি মধুর গলায় ডাকবেযায় কেডা ? বদরুলের বেটা ছদরুল ?

কেমন আছসরে ভাইটি ? আয় কাছে আয়, পান খাইয়া যামনের ভুলে কেউ যদি বুড়ির সঙ্গে গল্পগুজব শুরু করে তাহলেই সর্বনাশসে বাড়ি ফিরে আসবে প্রবল জ্বর নিয়েখিচুনি শুরু হবেমুখ দিয়ে গেজলা বেরুবেডাক্তারকবিরাজ করার আগেই শেষএই গ্রামের দুইজন আর ভিনদেশী একজন এইভাবে শেষ হয়েছে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

জমির আলী ভীত গলায় বলল, আসমানী জামদানী, আমরা রুস্তম আলীর ভিটার উপর দিয়া যাববুড়িরে যদি দেখস ভয় খাইস নাআর বুড়ির কোনাে কথার জবাব দিবি নাখবরদার কইলাম আমি মনে মনে আয়াতুল কুরশি পড়তে থাকবভয়ের কিছু নাইআয়াতুল কুরশির কাছে কেউ ভিড়তে পারে। বড় শক্ত সূরা জীনভূতের জন্যে কোরামিন ইনজেকশন। আসমানী কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, আইচ্ছা। 

আয়াতুল কুরশি পড়ার ব্যাপারটা জমির আলী মেয়েদের সাহস দেবার জন্যে বলেছেআয়াতুল কুরশি সে জানে নাআল্লাহর পাক কালাম নিয়ে মিথ্যা কথা বলা মহাঅপরাধমেয়ে দুটিকে সাহস দেবার জন্যে জমির আলী এত বড় অপরাধ করলমেয়েরা সাহস পেল কিনা বুঝা গেল না, তবে ভয়ে জমির আলীর বুকে ব্যথা শুরু হয়ে গেলসে নিশ্চিত রুস্তম আলীর দাদিকে দেখা যাবেইবুড়ি পানের পিক ফেলতে ফেলতে মধুর গলায় বলবেকে যায় ? আমরার ফকির জমির আলী না ? ঝড়বৃষ্টির মধ্যে তিন কইন্যা লইয়া কই যাস? একটারে আমার কাছে থুইয়া যাআদর কইরা পালব‘ 

মেয়ে তিনটিকে কেরামতের পাকাবাড়ির বারান্দায় রেখে জমির আলী আবার বের হলােআছিয়ার খোঁজ নেয়া দরকাররাগ ভাঙায়ে তাকে নিয়ে আসতে হবেপ্রয়ােজনে কোলে করে আনতে হবেস্ত্রী স্বামীকে কোলে নিতে পারে না, তবে স্বামী স্ত্রীকে কোলে নিতে পারেতাতে দোষ হয় নাআছিয়াকে পাওয়া গেল নাসে উঠানে বসে নেইঘরের ভেতরে নেই আশেপাশে কোথাও নেইঝড়বৃষ্টির মধ্যে অসুস্থ মানুষটা যাবে কোথায় ?

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

এমন কি হতে পারে মেয়ে তিনটার টানে সে ঘুরপথে কেরামতের পাকা দালানে উপস্থিত হয়েছে! সন্তানের টান বড় মারাত্মক টানলােহার শিকলের টানজমির আলী আবারাে কেরামতের বাড়িতে উপস্থিত হলাে| দুই বােনই জড়সড় হয়ে উঠানে বসে আছেআসমানীর কোলে পয়সাসে কুঁকুঁ শব্দ করছেদুটি মেয়েই শীতে কাঁপছেকেরামত দরজা খুলে মেয়েগুলিকে ভিতরে ঢুকতে দেয় নিআসমানী বলল, বাপজান, মা কই

জমির তখন বলল, এখনাে খুঁজতে যাই নাই, তরার কী অবস্থা দেখতে আসছিঅবস্থা কী

আসমানী বলল, শীত লাগেভিজা কাপড়ে শীত তাে লাগবইতােরা টাইট হইয়া বইয়া থাকতাের মারে নিয়া আসতাছিনয়া আবুর খবর কী

একটু পরে পরে কান্দে। কান্দুক, জন্মের সময় যে সব সন্তান বেশি কান্দে তারা বড় হইয়া এমন সুখে থাকে যে কান্দন কী জিনিস ভুইল্যা যায়তাের ছােট ভইন বড়ই ভাগ্যবতীতার ভাইগ্য দেইখা অবাক হইতেছি জমির আলী আবারাে স্ত্রীর সন্ধানে বের হলােতাকে খুঁজে পাওয়া গেলচুকচুক শব্দ হচ্ছে। 

পয়সা দুধ খাচ্ছেদুধের বাটিতে কড়ে আঙুল ডুবিয়ে সেই আঙুল ঠোটের কাছে ধরতেই পয়সা আঙুল মুখে নিয়ে চুকচুক শব্দ করছেবড়ই মজার দৃশ্যজামাদানীর খুব ইচ্ছা সেও বড়বােনের মতাে দুধ খাওয়ায়কথাটা বলতে কেন জানি তার লজ্জা করছেতার লজ্জা একটু বেশি; তবে সে মােটামুটি নিশ্চিত আসমানী দয়াপরবশ হয়ে এক সময় বলবে, নে তুই দুধ খাওয়াজামদানী সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছে। 

দুধ খাওয়ানাে উৎসব হচ্ছে বাড়ির উঠোনেঅনেক আয়ােজন করা হয়েছেপাটি বিছানাে হয়েছেকাঁথা বালিশ আনা হয়েছেজলচৌকিতে রাখা হয়েছে দুধের বাটি এবং সরিষার তেলের বাটিদুধ খাওয়ানাে শেষ হলেই পয়সার গায়ে তেল মাখিয়ে রােদে শুইয়ে রাখা হবেসমস্ত শরীরটা থাকবেরােদে, শুধু মাথার উপর ছায়া ফেলে একজনকে ছাতা ধরে রাখতে হবেজমির আলী সেই নির্দেশ দিয়ে গিয়েছে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

আঙুল চুবিয়ে দুধ খাওয়ানাের কৌশলটা আসমানী বের করেছেআগে ন্যাকড়া দুধে ডুবিয়ে মুখে ধরা হতােএতে সময় লাগত অনেক বেশিআঙুল পদ্ধতিতে সময় কম লাগছেপুরাে ব্যাপারটায় আনন্দও আছেএই আনন্দ স্থায়ী হবে নাজমির আলী বলেছেএক মাস কষ্ট করএক মাস পরে আবু শিশি দিয়া দুধ খাইবতখন নয়া আবুর মুখে শিশি ধরার কষ্ট ছাড়া আর কষ্ট নাই

তখন খালি আরামআসমানী এবং জামদানীর কাছে আঙুল দিয়ে দুধ খাওয়ানাের ব্যাপারটা কষ্টের না, বরং আনন্দেরএই আনন্দ এক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে ভাবতে ভালাে লাগে না। জামদানী অনেকক্ষণ হলাে চুপচাপ বসে আছেআসমানী তাকে কিছুই বলছে নালজ্জা ভেঙে সে নিজেই মিনমিন করে বলল, বুবু, আমি দুধ খাওয়াই

আসমানী গম্ভীর গলায় বলল, হাত ধুইয়া আয়ভালােমতাে ধুবি। জামদানী প্রায় দৌড়ে গেল হাত ধুতেএই ফাঁকে আসমানী তার বােনের সঙ্গে কিছু গল্পগুজব করলএখন তােমারে কে দুধ খাওয়াইব জানাে ? তােমার ভইনতার নাম জামদানীহে তােমারে খুবই পেয়ার করেআমার পয়সা ভইন, তােমার মনটা খারাপ কেন গাে ? মাজন্যে পেট পুড়ে ? আহারে লক্ষ্মীআহারে কুটুরা পক্ষীমা চইল্যা আসবকয়েকটা দিনের মামলামা আইস্যা তােরে কুলে নিয়া খালি হাঁটব, খালি হাঁটবহাঁটতে হাঁটতে গীত গাইবগীত শুইন্যা তুই ঘুমাইয়া পড়বি

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

বােনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে আসমানী উঠে পড়লতার অনেক কাজকলসিতে খাওয়ার পানি নাইটিউব কল থেকে জগে করে পানি এনে এনে কলসি ভরতে হবেতাকে আসা যাওয়া করতে হবে পনের বারকলসি ভরতে পনের জগ পানি লাগেসব তার হিসাব করা। গাঙ্গের পাড়ে কচুগাছে প্রচুর লতি এসেছেলতি তুলে আনতে হবে রুস্তমের ভিটার সবরি গাছে সবরির বান ডাকছেসেইখানে একলা যাওয়া যাবেভয় লাগেবাপজানকে সাথে নিয়ে যেতে হবে

জঙ্গলার ভেতর লটকন গাছ ঝেপে লটকন এসেছেএখনাে পাকে নি, তবে পাকার সময় হয়ে এসেছেরােজ একবার খবর না নিলে পাকা লটকন অন্য কেউ নিয়ে যাবেজঙ্গলা থেকে খড়ির ব্যবস্থাও করতে হবেরান্ধাবাড়ার ঝামেলা অবশ্যি নাইজমির আলী সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরে রাঁধতে বসবে। রান্না হয় একবেলা, তাতে কষ্ট হয় নাদুইবােন চিড়া খেয়ে থাকেচিড়া খুবই গুণের খাদ্য

গুড় দিয়ে দুই মুঠ চিড়া খেয়ে ভরপেট পানি খেলে সারাদিন আর ক্ষিধে লাগে নাক্ষিধা লাগতে থাকে আছরের পর থেকেসন্ধ্যাবেলায় ক্ষিধায় চোখ অন্ধকার হয়ে আসেতখন গরম গরম ভাত কী যে ভালাে লাগেটিউব কলটা সরকার বাড়ির পিছনেসরকার বাড়ির বড় বউ রমিলা টিউব কলে কাপড় ধুচ্ছিলআসমানীকে দেখে বলল, আসমানী, তাের ভইন কেমন আছে

আসমানী বলল, ভালাে তাের মার কোনাে খোঁজ আছে

সংসার ফালাইয়া তাের মা গেল কই ?

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০২

আসমানী জবাব দিল নাজবাব দেবার কিছু নেইতার মা কোথায় গিয়েছে সে জানে নাতাের বাপও তাে বাদাইম্যাশইল্যে শক্তি আছে, অসুখ নাই বিসুখ নাইকরে ভিক্ষাএমন মানুষরে কানে ধইরা গেরামের বাইরে বাইর কইরা দেওনদরকার ছিঃ ছিঃ

আসমানীর মনটা খারাপ হলােতার বাপজানরে কেউ কিছু বললে মন খারাপ লাগেরাগ হয়সে রমিলা চাচির উপর রাগ করতে পারছে নারমিলা চাচি অসম্ভব ভালাে একজন মানুষসব সময় তাদের খোঁজখবর করছেএটা সেটা দিচ্ছেসে এখন যে হলুদ জামাটা পরে আছে এটাও রমিলা চাচির দেওয়ারমিলা বলল, তুই কেমন মেয়েরে আসমানী, তাের বাপরে নিয়া দুইটা মন্দ কথা বললাম সাথে সাথে মুখ কালাযে মন্দ তারে মন্দ বলব না

আসমানী নিচু গলায় বলল, বাপজান মন্দ না। রমিলা হাসি মুখে বলল, আচ্ছা যা তাের বাপজান মন্দ নাহে রসগােল্লারসের মইধ্যে ডুইব্যা আছেকি খুশি হইছস

আসমানী কিছু বলল নারমিলা বলল, একটা মুরগি ছদগা দিছিমনে কইরা নিয়া যাবি। ছদগা কী জন্যে দিছেন ? বিপদ আপদ হইছে ?

 

Read more

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *