বড় বােনের নাম আসমানী। আসমানীর সঙ্গে মিল রেখে তার পরের জনের নাম। জামদানী । তৃতীয়জনের জন্যে মিলের নাম খুঁজে পাওয়া গেল না। তার নাম পয়সা।
এত নাম থাকতে ‘পয়সা’ নাম কেন— তার ইতিহাস আছে। জমির আলী তার তৃতীয় কন্যার জন্মের সময় খুবই অর্থকষ্টে পড়েছিল। সে বসে ছিল নদীর ঘাটলায় । খেয়া পারানি দেখতে দেখতে তার মনে অতি উচ্চশ্রেণীর চিন্তা–ভাবনা হচ্ছিল। যেমন— এমন কোনাে ব্যবস্থা যদি থাকত যে, সন্তান জন্মের পরপর তাকে ওজন করা হবে।
সরকারের কাছ থেকে ওজনের সমান সােনা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেয়া হবে। মােটাসােটা বাচ্চা যাদের হবে তারা লাভবান, সােনা বেশি পাবে। চিকনা–চাকনাগুলি পাবে কম। মায়ের কোলে যেসব সন্তান মারা যাবে তাদের জন্যে আফসােস লাশ দাফনের খরচ ছাড়া কিছুই পাবে না।
জমির আলী মাটি কাটার কাজ করত। বর্তমানে ভিক্ষা করে । ভিক্ষা করার জন্যে সুন্দর সুন্দর জায়গা খুঁজে বের করে। খেয়াঘাট জায়গা হিসেবে ভালাে। ভিক্ষা তেমন পাওয়া যায় না, তবে নৌকায় লােক পারাপার করে, দেখতে ভালাে লাগে। কত কিসিমের মানুষ নামে। কেউ উদাস কেউ কুদাস। কুদাস’ শব্দটা জমির আলীর আবিষ্কার।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
কুদাস হলাে উদাসের উল্টা। উদাস মানুষ দেখতে ভালাে লাগে। কুদাস দেখতে ভালাে লাগে না। জমির আলীর ধারণা। সে একজন উদাস মানুষ এবং ভাবের মানুষ। সে ভাবনা–চিন্তা ছাড়া থাকতেই পারে না। ভাবনা–চিন্তার জন্যে ভিক্ষা পেশাকে তার আদর্শ পেশা বলে মনে হয়।
সামনে একটা অ্যালুমিনিয়ামের থালা রেখে ভাবনা–চিন্তা কর । কোনাে সমস্যা নাই। মাঝে মধ্যে চলমান পাবলিকের দিকে তাকিয়ে বলা ‘একটা পয়সা দিয়া যান। একটা পয়সা হারায়ে গেলে আপনের কোনাে ক্ষতি হবে না, কিন্তু একজনের জীবন রক্ষা হবে। কথা না বলে চুপচাপ বসে থাকলেও হয়। যার দেবর সে চাইলেও দিবে, না চাইলেও দিবে। যে দিবে না তার সামনে দাঁড়িয়ে হাত–পা নেড়ে এক ঘণ্টার বক্তৃতা দিলেও কিছু হবে না। খামাখা পরিশ্রম।
জমির আলী পরিশ্রম পছন্দ করে না। তার ধারণা আল্লাহপাক পরিশ্রম করার জন্যে মানুষকে তৈরি করেন নাই। পরিশ্রম করার জন্যে তিনি তৈরি করেছেন। গাধা এবং মহিষকে। ফাজলামি করার জন্যে তৈরি করেছেন বানরকে | ময়লা ঘটার জন্যে তৈরি করেছেন শূকর এবং কাককে। একেক কিসিমের জন্তু একেক উদ্দেশ্যে তৈরি করা। মানুষও জন্তু। তাকেও একটা উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। উদ্দেশ্যটা কী, মাঝে-মধ্যে জমির আলী সেই নিয়েও চিন্তা–ভাবনা করে। এখনাে তেমন কিছু বের করতে পারে নি।
তার তৃতীয় সন্তানের জন্মের খবর যখন সে পায় তখন সে উদাস গলায় বলছিল— ভদ্রলােকের সন্তানরা, একটা পয়সা পঙ্গু মানুষটাকে দিয়া যান। (কথাটা সত্য না। সে পঙ্গু না । মাটি কাটার কাজ সে ইচ্ছা করলে এখনাে করতে পারে, তবে ইচ্ছা করে না ।) কন্যার জন্মের সময় পয়সা নামটা মুখে ছিল বলে । কন্যার নাম রাখা হলাে ‘পয়সা । সে তৎক্ষণাৎ মেয়ের মুখ দেখার জন্যে বাড়িতে রওনা হলাে না। মেয়ের ভাগ্য কেমন দেখার জন্যে ঘণ্টা দুই খেয়াপাড়ে বসে রইল।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
মেয়ে ভাগ্যবতী হলে ভালাে ভিক্ষা পাওয়া যাবে। দেখা গেল মেয়ের ভাগ্য খারাপ না। দুই ঘণ্টায় এগারাে টাকা উঠে গেল ।। মেয়ের পয়সা নামকরণের পর তার মাথায় প্রথম যে চিন্তাটা এলাে তা হচ্ছে— পয়সা জিনিসটা দেশ থেকে উঠে গেছে। ভিক্ষা করার সময় সে অবশ্যি চায় পয়সা। মানুষ দেয় টাকা। জিনিস উঠে গেছে কিন্তু নাম থেকে গেছে। পয়সা বলে কিছু নাই, কিন্তু পয়সা নামটা আছে! এরকম জিনিস আর কী আছে যে জিনিস নাই কিন্তু নাম আছে ?
জমির আলী গভীর চিন্তায় ডুবে গেল । একই সঙ্গে জগতে চিন্তার বিষয় অনেক আছে এটা ভেবে সে নিশ্চিন্ত বােধ করে। চিন্তার বিষয় শেষ হয়ে গেলে তার জন্যে সমস্যা হতাে। চিন্তা–ভাবনা ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের থালা নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকা কষ্টের ব্যাপার। হতাে। মাটি কাটার চেয়েও কষ্টের হতাে।
আছরের নামাজের সময় জমির আলী তার কন্যাকে দেখতে গেল। দু’টাকার একটা চকচকে নােট আলাদা করা। মুখ দেখে মেয়ের হাতের মুঠোয়। ধরিয়ে দেবে। সে রাজা–বাদশা হলে মােহর দিয়ে মেয়ের মুখ দেখত। মেয়ের। হাতে এক মােহর। মেয়ের মায়ের হাতে এক মােহর । আল্লাহ তাকে ফকির বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, কাজেই দু’টা গিনি সােনার মােহরের বদলে দু‘টাকার চকচকে নােট।
মেয়ের মুখ দেখে জমির আলী আনন্দিত গলায় বলল, শুকুর আলহামদুলিল্লাহ, মেয়ে তােমার মতােই সুন্দরী হয়েছে। মাশাল্লাহ। মেয়ের মা আছিয়া তীব্র গলায় বলল, ঢং কইরেন না কইলাম । ঢং এর কী দেখলা? দেখি আবুরে কোলে দাও, তার জন্যে পুরস্কার আছে। দূরে থাকেন। দূরে থাকেন কইলাম । আপনের পুরস্কারে আমি ঝাড় মারি।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
জমির আলী আহত গলায় বলল, নিজের সন্তানরে কোলে নিব না ? আমি জন্মদাতা পিতা।
আছিয়া তীব্র গলায় বলল, দূরে থাকেন কইলাম।।
জমির আলী নিজেকে সংযত করে সহজ গলায় বলল, ঠিক আছে। মা বিনা অন্য কারাের কাঁচা আৰু কোলে নেওন ঠিক না। গর্দানে ব্যথা পাইতে পারে। কাঁচা আবুর গর্দান পাটখড়ির মতাে নরম।
খামাখা বকর বকর কইরেন না। নাই কাজের উজির। আসল পরিচয় পথের ফকির। ছিঃ ছিঃ।
জমির আলী অপমান গায়ে মাখল না। যারা ফকিরি ব্যবসায় নামে তাদের অপমান গায়ে মাখতে হয় না। তাদের হতে হয় হাঁসের মতাে। পানির মধ্যে বাস কিন্তু শরীর শুকনা। জমির আলী কিছুই হয় নি এমন ভঙ্গিতে বলল– নয়া আবুরে মধু খাওয়াইছ ? মধু না খাওয়াইলে জবান মিষ্ট হবে না। জবান হবে কাকপক্ষীর মতাে কর্কশ।
আছিয়া বলল, আমারে কি আপনে মধুর চাকের উপরে বসাইয়া রাখছেন ? চাক ভাইঙ্গা আবুর মুখে মধু দিব ?
জমির আলী চিন্তিত মুখে বলল, মুখে মধু দেয়া প্রয়ােজন ছিল। মেয়ে মানুষের আসল পরিচয় জবানে। যার যত মিষ্ট জবান সে তত পেয়ারা। সামনে থাইক্যা যান কইলাম।
দুবলা শইল্যে চিল্লাফাল্লা করবা না। পেটের নাড়িতে টান পড়ব। পুয়াতি মেয়েছেলের নাড়িতে টান পড়লে বিরাট সমস্যা।
আরেব্বাসরে, আমরার কবিরাজ আইছে। সামনে থাইক্যা না গেলে আফনের খবর আছে।
জমির আলী ঘর থেকে বের হলাে। সন্তানের মুখ দেখে সে খুবই আনন্দিত। গায়ের রঙ মাশাল্লা ভালাে হয়েছে। চৈত্র মাসের সকালের রােদের মতাে রঙ। আসমানী এবং জামদানী দুই জনের গায়ের রঙ একটু ময়লার দিকে। এই মেয়ে রঙের দিকে উড়াল দিয়েছে। জমির আলী পেছনের উঠানে গিয়ে মধুর গলায়
ডাকল— আমার দুই মেয়ে কই ? কই আমার আসি, কই আমার জামি ?
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
দুই মেয়ে তৎক্ষণাৎ ছুটে এলাে। দুই মেয়েই বাবাঅন্তঃপ্রাণ। মা’র ধমক খেয়ে তারা বাড়ির উত্তরে বাঁশঝাড়ে চুপচাপ বসে ছিল । দু’জনেরই খুব ইচ্ছা নয়া বােনকে কোলে নেয়। কোলে নেয়া দূরের কথা, ভালােমতাে দেখতেই পারে নি। আছিয়া ধমকে তাদের বাড়িছাড়া করেছে।
জমির আলী মেয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তােমরার সবচে’ ছােট ভইনটার নাম আমি দিলাম পয়সা। কী, নাম কেমুন হয়েছে ?
আসমানী বলল, পয়সা আবার কেমুন নাম ?
খুবই সৌন্দর্য নাম। ডাক নাম পয়সা, ভালাে নাম মােসাম্মত পয়সা কুমারী । এখন বলাে, নাম ভালাে হইছে না ?
হুঁ।
এখন যাও চুলা ধরাও। খিচুড়ি রান্ধা হইব। ইসপিসাল খিচুড়ি। ঘরে চাউল ডাউলের অবস্থা কী দেখ। না থাকলে দোকানে যাইবা ।
দুই বােনের চোখ আনন্দে চকচক করতে লাগল। তারা তাদের বাবার হাতের খিচুড়ির ভক্ত। খিচুড়ি রান্নার প্রক্রিয়ারও ভক্ত। হাঁড়িতে জ্বাল উঠতে থাকে। হাঁড়ি ঘিরে সবাই বসে আছে। জমির আলী হাসিমুখে বলে— আরেকটা কিছু দিলে ভালাে হইত। ঘরে আর কিছু আছে ? না থাকলে দুই ভইন দুইটা যাও দৌড়াইতে থাকবা, চোখের সামনে সবজি বা সবজি কিসিমের যা পাইবা নিয়া আসবা। খালি কাঁঠাল পাতা আর ঘাস আনবা না। এই গুলান গরু–ছাগলের খাদ্য।
দুই মেয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে বের হয়ে যায়। তাদের বড়ই মজা লাগে।
জমির আলী খিচুড়ি রাঁধতে বসেছে। আজকের খিচুড়ি ইসপিসাল, খিচুড়িতে দু’টা ডিম ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আসমানী এবং জামদানী চোখ বড় বড় করে বাবার দু‘পাশে বসেছে। মাঝে মাঝে হাঁড়ির ঢাকনা খােলা হয়। খিচুড়ির সুঘ্রাণ নাকে এসে লাগে— তাদের শরীর ঝিমঝিম করে। এরা দুজনই সকাল থেকে কিছু খায় নি। আছিয়া প্রসব–বেদনায় কাতর হয়ে ছটফট করছিল। দুটি ক্ষুধার্ত শিশুর কথা তার একবারও মনে হয় নি। মনে হলেও কিছু করা যেত না। ঘরে কোনাে খাবার ছিল না।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
জমির আলী বলল, বলাে দেখি জগতের সবচে‘ ভালাে খাদ্যের নাম কী ? আসমানী এবং জামদানী এক সঙ্গে উত্তর দিল, খিচুড়ি।
জমির আলী আনন্দিত স্বরে বলল, হয়েছে। দুইজনেই পাস। ফাস ডিভিসনে পাস। এখন বলাে দেখি খিচুড়ি কী জন্যে সবচে’ ভালাে খাদ্য ?
জানি না। চিন্তা–ভাবনা কইরা বলাে।
তুমি বলাে।
জমির আলী আগ্রহ নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে খিচুড়ি–মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে। তার দুই কন্যা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে। তারা তাদের বাবার জ্ঞান ও প্রতিভায় বিস্মিত বােধ করে।
খিচুড়ি জগতের সবচে ভালাে খাদ্য, কারণ আল্লাহপাক খিচুড়ি পছন্দ করেন। জগৎ–সংসারের দিকে চাইয়া দেখ— যে–দিকে চোখ যায় সেদিকে খিচুড়ি। কালা মানুষ, ধলা মানুষ, শ্যামলা মানুষ মানুষের খিচুড়ি। গাছ পালার কথা বিবেচনা কর— আম গাছ, জাম গাছ, কাঁঠাল গাছ, তেঁতুল গাছ। গাছের খিচুড়ি। ঠিক কি–না ?
জগাই বিরাট এক খিচুড়ি। আল্লাহপাক কী করেছে শােন— বিরাট এক হাঁড়ি জ্বালে বসাইছে। সেই হাঁড়ির মধ্যে মানুষ, গরু, ছাগল, গাছপালা সব দিয়া খালি ঘুটতাছে। জামদানী বলল, কী জন্যে ? ” উনার মনের কথা আমি কেমনে বলব ? আমি ফকির মানুষ আমার কি জ্ঞান বুদ্ধি আছে ?
আসমানী বলল, বাপজান, তােমার বেজায় জ্ঞান বুদ্ধি।জমির আলী মেয়ের কথায় আনন্দিত বােধ করে। সংসার তার কাছে মধুর বােধ হয়। নতুন শিশুর আগমনে অভাবের সংসার যে আরাে জটিল হচ্ছে তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। নয়া আবুর খানা খাদ্যের পিছনে বাড়তি খরচ নাই। নয়া আবুর খানা খাদ্যের ব্যবস্থা আল্লাহপাক নিজে করেন। মায়ের বুকে দুধ দিয়ে দেন। আল্লাহপাকের নাম রহমান রহিম তাে খামাখা হয় নাই। আল্লাহপাক খামাখার মধ্যে নাই।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
জমির আলীর ক্ষীণ সন্দেহ ছিল রাগ করে আছিয়া খিচুড়ি খাবে না। কিন্তু জমির আলীকে অবাক করে দিয়ে সে খিচুড়ি খুবই আগ্রহ করে খেল। জমির আলী বলল, ‘টেস’ ভালাে হইছে না ?
আছিয়া জবাব দিল না।জমির আলী বলল, চাউলের বদলে গম দিয়াও খিচুড়ি হয়। গমের খিচুড়ির ‘টেস’ আরাে বেশি, তয় গমের খিচুড়ির মধ্যে মাংস দেয়া লাগে। দেখি তােমরারে একদিন গমের খিচুড়ি খাওয়াব। ইনশাল্লাহ। ‘
আছিয়া থালার খিচুড়ি শেষ করে ফেলেছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে তার ক্ষুধা এখনাে আছে। জমির আলী বলল, আরেক হাত খিচুড়ি দেই ?
আছিয়া ঠাণ্ডা গলায় বলল, থাকলে দেন। আরেকটা কথা মন দিয়া শুনেন— আমি আপনের সংসারে থাকব না।জমির আলী বলল, কই যাইবা ?
যেখানে ইচ্ছা যাব । সেইটা দিয়া আপনের দরকার নাই। সেইটা আমার বিবেচনা। নয়া আৰুরে নিয়া ঘুরাঘুরি করা ঠিক না। নয়া আবুরে সাথে নিব আপনেরে কে বলেছে? জমির আলী অবাক হয়ে বলল, তারে কই থুইয়া যাইবা? আছিয়া বলল, আফনেরে দিয়া যাব। তারে সাথে নিয়া ভিক্ষা করবেন। যাইবা কবে ?
শইল্যে যেদিন বল পাইব সেইদিন চইল্যা যাব। আপনের গুষ্ঠী আপনে সামলাইবেন। ভাত-কাপড় দিবেন। মেয়েরা বড় হইলে বিবাহ দিবেন। আমি ঝামেলার মধ্যে নাই।জমির আলী চিন্তিত বােধ করছে। তার চিন্তার প্রধান কারণ হলো আছিয়া সহজ মেয়ে না । জটিল মেয়ে। মুখে যা বলে তাই করে। জমির আলী চিন্তিত মুখে বলল, সংসারে ঝামেলা আছে কথা সত্য, তবে বউ, সংসারে মজাও আছে।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০১
আছিয়া বলল, মজা থাকলে তাে ভালােই, আপনে চাইট্যা চাইট্যা মজা খনি। আমি মজা খাইতে পারব না। অনেক খাইছি। আমার পেট ভরা। ফকির সাব শুনেন চোখের সামনে দুই মাইয়া না খাইয়া ঘুরে। পেটের ক্ষিধায় বাঁশঝাড়ে বইস্যা কান্দে। অনেক কান্দন গুনছি, আর শুনব না।তুমি যাইবা কই ?
সেটা আমার বিবেচনা। পান খাওয়াইতে পারবেন । খিচুড়ি আরাম কইরা খাইছি— একটা পান খাইতে পারলে ভালাে হইত।পনি নিয়া আসতেছি। এইটা কোনাে বিষয়ই না। জর্দা খয়ের দিয়া বানানি পান। কাঁচা সুপারি দিয়া আনব ?
যা ইচ্ছা দিয়া আনেন। কাঁচা সুপারি দিয়া আনেন, পাকনা সুপারি দিয়া আনেন। আমার পান খাওয়া দিয়া কথা। ঘরে পান–সুপারি ছিল না। দোকান থেকে দুই খিলি পান কিনে এনে জমির আলী দেখল আছিয়া হাঁটা চলা করছে। সামান্য খিচুড়ি খেয়েই তার শরীরে মনে হয় বল ফিরে এসেছে। নয় আবু হাত–পা ছুঁড়ে কাঁদছে, আছিয়া সে দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। আসমানী এবং জামদানী বােনের কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
তারা ভীত চোখে একবার মাকে দেখছে, একবার কথায় মোড় নতুন শিশুটির দিকে তাকাচ্ছে। জমির আলীর হাত থেকে পান নিতে নিতে আছিয়া বলল— আপনের পুটল কানতাছে। পুটলা সামলান। জমির আলী বলল, মনে হয় ক্ষিধা লাগছে। বুকের দুধের জন্যে কানতেছে। আছিয়া পানের পিক ফেলতে ফেলতে বলল, বুকে দুধ অখনাে নামে নাই। আর নামলেও লাভ নাই। আমি আর এর মধ্যে নাই। কীসের মধ্যে নাই ?
Read more
