নি পর্ব:১০ হুমায়ূন আহমেদ

নি পর্ব:১০

অপমানসূচক একটা কথা বললাম, ওসি সাহেব। খুবই অপমানসূচক কথা। কিন্তু প্ৰাণে বাঁচতে হলে এ ছাড়া পথ নেই। হেড মাস্টার সাহেবও একই জিনিস কববেন। উনি রাজি হয়েছেন। বুদ্ধিমান লোক তো। বিপদ আঁচ করতে পেরেছেন। আপনার বুদ্ধি কম। আপনি বিপদ টের পাবেন শেষ সময়ে, যখন করার কিছু থাকবে না।ওসি সাহেব জালালুদিনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি কম বুদ্ধির মানুষ না তিনি বিপদ টের পাচ্ছেন। ভালোই টের পাচ্ছেন। তার কপালে ঘাম জমছে। পা কাঁপছে। তৃষ্ণা বোধ হচ্ছে। প্রচণ্ড বমি ভাব হচ্ছে।জেবার জ্বর অসম্ভব বেড়েছে।

জ্বর ঠিক কত তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ তার গায়ে থার্মোমিটার ছুঁয়ানো যাচ্ছে না। সে কাউকেই তার কাছে আসতে দিচ্ছে না।আফজাল সাহেব রফিককে বললেন, মেয়ে না করছে বলে কেউ তার কাছে যাবে না এটা কেমন কথা? মাথায় পানি ঢালতে হবে। ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করাতে হবে।রফিক বলল, কোনো লাভ হবে না। বাবা। ওর অনিচ্ছায় কিছু করা যাবে না।যাবে না কেন? আপনি বুঝবেন না বাবা, অনেক সমস্যা আছে।জ্বরে তোর মেয়ে পুড়ে যাচ্ছে আর তুই দেখবি না?

এরকম ভয়ঙ্কর জ্বর তার মাঝে মাঝে হয়, আবার আপনাতেই সারে। ডাক্তাব ডাকতে হয় না।জেবা ক্ষিপ্ত গলায় বলল, তোমরা সবাই এখানে ভীড় করে আছ কেন? তোমরা যাও। যাও বললাম। আর ঘরে বাতি জ্বলিয়েছ কেন? বললাম না বাতি চোখে লাগে? বাতি নিভিয়ে দাও।বাতি নিভিয়ে রফিক সবাইকে নিয়ে বেবী হয়ে এলো। তার মিনিট দিশেকের ভেতর জেবা বের হয়ে এলো। সহজ স্বাভাবিক মানুষ। জ্বর নেই। চোখে-মুখে ক্লান্তির কোনো ছোঁয়াও নেই। যেন ঘুমুচ্ছিল, ঘুম থেকে উঠে এসেছে। জেবা বলল, জ্বর সেবে গছে। ফুপু কোথায়?

রূপা বারান্দাতেই ছিল। সে চোখ তুলে তাকাল। কিছু বলল না। জেবা বলল, ফুপু তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে। আমার সঙ্গে এসো।জেবা রূপাকে নিয়ে ঘরে ঢুকে গেল। ঘর অন্ধকার। বাতি জ্বালাল। হাসতে হাসতে বলল, তোমার জন্যে খুব ভালো খবর আছে ফুপু।কী খবর? তোমার স্যারকে ওরা ছেড়ে দেবে। ছেড়ে না দিয়ে অবশ্যি উপায়ও নেই। হি-হি-হি।তুমি কীভাবে জানো? যেভাবেই হোক জানি। অনেক রাতে তিনি একা একা বাড়ি ফেবার সময। এই বাড়িতে আসবেন।তাও তুমি জানো? হ্যাঁ, তাও জানি। তুমি কি আমার কথা বিশ্বাস করছ না?

না।আমি সব সময় সত্যি কথা বলি ফুপু। তবু কেউ আমার কথা বিশ্বাস করে না। তাতে কিছু অবশ্যি যায় আসে না।তুমি মেয়েটা খুব অদ্ভুত জেবা।সব মানুষই অদ্ভুত ফুপু। তুমিও অদ্ভুত। পৃথিবীটাও অদ্ভুত।তুমি একেবারে বড়দের মতো কথা বলছি।মাঝে মাঝে আমি বড়দের মতো কথা বলি। বড়রা যদি ছোটদেব মতো কথা বললে দোষ না হয় তাহলে ছোটরা বড়দের মতো কথা বললে দোষ হবে কেন? আমি ঘুমুতে যাচ্ছি ফুপু।রাত এগারোটার দিকে এ বাড়ির সবাই ঘুমুতে গেল। ঘুমুতে যাবার আগে আফজাল সাহেব রূপাকে ডেকে বললেন, রূপা, তুমি আগামীকাল রফিকের সঙ্গে খুলনা চলে যাবে।রূপা বলল, আচ্ছা।ওখানেই থাকবে। পরীক্ষার সময় শুধু এখানে এসে পরীক্ষা দিয়ে যাবে।আচ্ছা।

তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে। এখন কিছুই বলব না। পরে বলব।আচ্ছা।তোমার মাকে বলেছি তোমার জিনিসপত্র সব গুছিয়ে দিতে।ঠিক আছে বাবা।বাইরে ভালো বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাস শো-শো করছে। সবাই ঘুমিয়ে পড়ছে একে একে। সবার শেষে ঘুমুতে গেল মিনু। সেও ঘুমুতে যাবার আগে রূপার সঙ্গে খানিকক্ষণ কথা বলল। এমনভাবে বলল যেন কিছুই হয় নি। সব স্বাভাবিক আছে। আগের মতোই আছে।রূপা, আমাদের সঙ্গে যেতে তোমার আপত্তি নেই তো? আপত্তি হবে কেন? খুলনা আমার খুব যেতে ইচ্ছা করে। আচ্ছা ভাবি, তোমাদের ওখান থেকে সুন্দরবন কী অনেক দূব?

না–কাছেই।আমাকে সুন্দরবন দেখাবে না? অবশ্যই দেখাব।সুন্দরবনে ডাকবাংলা আছে? ডাকবাংলায় থাকতে ইচ্ছা করে ভাবি।ফবেষ্টের ডাকবাংলা আছে। তোমার ভাইকে বলে ব্যবস্থা করে দেব।ঠিক আছে। ভাবি, তুমি ঘুমুতে যাও। খুব রাত অবশ্যি হয় নি। এগারোটা বাজে। তবু কেন জানি মনে হচ্ছে নিশুতি রাত।। তাই না ভাবি? মিনু ঘুমুতে গেল। রূপা নিজের ঘরে ঢুকে সুন্দর করে সাজল। চুল বেণী করল। শাড়ি পাল্টাল। অনেকদিন পব চোখে কাজল পরল।সে অপেক্ষা করছে। জেবার কথ সে বিশ্বাস করছে। এই মেয়েটা কোনো এক বিচিত্ৰ উপায়ে ভবিষ্যতের কথা বলতে পাবে। কাঁপা তার প্ৰমাণ পেয়েছে।

মবিনুর রহমানকে ছেড়ে দিয়েছে রাত এগারোটায়।ওসি সাহেব বললেন, চলুন, আমি আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।

মবিনুর রহমান বললেন, না না, পৌঁছাতে হবে না।ওসি সাহেব বললেন, আপনি আমার ওপর রাগ করবেন না ভাই। ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দেবেন।ঠিক আছে। মানুষ মাত্রেই ভুল করে।বৃষ্টির মধ্যে যাবেন কী করে? একটা ছাতা আর টর্চ লাইট দিয়ে দি।টর্চ লাইট লাগবে না। ছাতা দিতে পারেন।মবিনুর রহমানকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেবার জন্যে জালালুদ্দিন এবং কালিপদ ছিল। তিনি অনেক কষ্টে তাদের বিদেয় করলেন। তার কেন জানি একা একা বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা! করছে। থানার সামনে জড়ো হওয়া মানুষজন কেউই এখন নেই। সবাই ভীড় করেছে নদীর তীরে। নদী ভাঙতে শুরু করেছে। এমনভাবে নদী আগে কখনো ভাঙে নি। নদী ভাঙার দৃশ্য একই সঙ্গে ভয়ঙ্কর এবং সুন্দর।মবিনুর রহমান ভিজতে ভিজতে এগুচ্ছেন। বৃষ্টি ছাতা মানছে না। বাতাসের কারণেই খুব ভিজছেন। নিজে ভিজছেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত না। টেলিস্কোপটা ভিজে যাচ্ছে এই নিয়েই তিনি চিন্তিত।

রূপাদের বাড়ির কাছে আসতেই তার মনে হলো তাকে যে ছেড়ে দেয়া হয়েছেএই খবরটা রূপাদের দিয়ে যাওয়া উচিত। রাত অবশ্যি অনেক হয়েছে, তবু যাওয়া যায় কারণ বাতি জ্বলছে। এখনো কেউ না কেউ জেগে আছে। সম্ভবত রূপাই জেগে আছে। সে অনেক রাত পর্যন্ত জাগে। পড়াশোনা করে।দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হতেই তানভির দবাজা খুলল। টেলিস্কোপ বগলে মবিন্নুর রহমান দাঁড়িয়ে। মবিনুর রহমান অপ্ৰস্তুত গলায় বললেন, ওবা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। আপনারা চিন্তা করবেন। এই ভেবে খবরটা দিতে এলাম। ভালো আছেন?

জি ভালো আছি।তানভির দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার ইচ্ছা নয় মানুষটা ঘরে ঢুকুক। তানভির বলল, রফিক সাহেবের ছোটমেয়েটা অসুস্থ। সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত। এখন ঘুমুচ্ছে। কাউকে ডাকা যাবে না।মবিনুব রহমান বললেন, আপনি খবর দিয়ে দিলেই হবে। বলবেন আমি এসেছিলাম।আমি বলব।কাল সন্ধ্যায় রূপাকে পড়াতে আসব। বেশ কিছুদিন মিস হলো। আর হবে না।কাল আসতে হবে না। রূপা কাল চলে যাচ্ছে।কোথায় যাচ্ছে? খুলনা যাচ্ছে। রফিক সাহেব সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন।এই সময় বেড়াতে যাওয়া কি ঠিক হবে? পরীক্ষার দেরি নেই।সেটা ওদের ব্যাপার। ওরা যা ভালো বুঝে করবে।শুধু ওদের ব্যাপার হবে কেন? আমারও ব্যাপার। আমি ওর শিক্ষক।

কথাবার্তার এই পর্যায়ে রূপা তানভিরের পেছনে এসে দাঁড়াল। শান্ত গলায় তানভিরকে বলল, আপনি স্যারকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না কেন? দেখছেন না উনি ভিজছেন? দরজা ছেড়ে দাঁড়ান।তানভির দরজা ছেড়ে দাঁড়াল। রূপা বলল, স্যার ভেতরে আসুন।এখন আর ভেতরে আসব না। রূপা। তোমাদের খবরটা দিতে এলাম। ওরা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। ভুল করে ধরেছিল। মানুষ মাত্রেই ভুল করে। ওসি সাহেব খুব লজ্জা পেয়েছেন। আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। বিশিষ্ট ভদ্রলোক।স্যার আপনি ভেতরে আসুন। আপনাকে আসতেই হবে।মবিনুর রহমান ভেতরে ঢুকলেন। রূপা বলল, গামছা দিচ্ছি। মাথা মুছে আরাম করে বসুন। আপনি কি রাতে কিছু খেয়েছেন?

হ্যাঁ, ওসি সাহেব তার বাসা থেকে খাবার এনে খাইয়েছেন।আমি চা এনে দিচ্ছি। আদা চা করে দেব? দাও। বাসার আর মানুষজন কোথায়? সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি? জি।তানভির দাঁড়িয়ে আছে। অপলক দেখছে রূপাকে। মেয়েটা আজ এত সুন্দর করে সাজল কেন? সে কি জানত তার স্যার আসবেন? রূপা বলল, তানভিরের দিকে তাকিয়ে আপনি আপনার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ুন। স্যারেব সঙ্গে আমার খুব জরুরি কথা আছে। আমি কাল খুলনায় চলে যাচ্ছি। কথাগুলি স্যারকে বলে যাওয়া দরকার। কথাগুলি সকালে বললে হয় না?

না হয় না। আপনার কাছে হাত জোড় করছি।মবিনুর রহমান বললেন, আমি না হয় সকালে আসব।না। আপনি চুপ কবে বসে থাকুন।তানভির ঘর ছেড়ে বারান্দায় গেল। তার মন বলছে এই দুজনকে এখানে রেখে বাইরে দাড়িয়ে থাকা ঠিক হচ্ছে না। ব্যাপারটা অন্যদের জানানো দরকার। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। সে একজন বাইরের মানুষ। তার কি উচিত অন্যদের জাগানো? তানভির সিগারেট ধরাতে চেষ্টা করছে। বাবান্দায় প্ৰবল বাতাস। দেয়াশলাই ধরানো যাচ্ছে না।

মবিনুর বহমান বিস্মিত মুখে বসে আছেন। রূপার মধ্যে খানিকটা পবিবর্তন তিনি লক্ষ করছেন। কিন্তু পরিবর্তনের ধরনটা ঠিক ধরতে পারছেন না। মেয়েটাকে সুন্দর লাগছে। অবশ্যি সুন্দর মেয়েকে সুন্দর তো লাগবেই।রূপা তার সামনের চেয়ারে বসতে বসতে বলল, স্যার আপনি কি এখন বাড়িতে যাচ্ছেন? হ্যাঁ।নদী নাকি খুব ভাঙছে? আপনার বাড়ি ভেঙে পড়েছে কি-না কে জানে? গিয়ে দেখি।রূপা বলল, আমি কিন্তু স্যার আপনার সঙ্গে যাব।আমার সঙ্গে যাবে মানে? আপনার সঙ্গে আপনার বাড়িতে যাব। আমি এখন থেকে আপনার সঙ্গে থাকব। মবিনুর রহমান দীর্ঘ সময় মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই মেয়েটাকে এখন অচেনা লাগছে। একেবারেই অচেনা। যেন কোনোদিন এর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় নি।আমার সঙ্গে থাকবে কীভাবে?

কীভাবে তা জানি না। আমি থাকব।আমি তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না রূপা।আপনি সব কথা বুঝেন আর আমার সামান্য কথা বুঝেন না? না কিছু বুঝতে পারছি না।আমি এখন আপনার সঙ্গে যাব। গিয়ে যদি দেখি আপনার বাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে তাহলে নৌকায় রাতে থাকব। অবশ্যি এই অবস্থায় নৌকায় থাকা খুব বিপদজনক হবে। তাই না স্যার? মবিনুর রহমান হতভম্ব হয়ে গেলেন। তার মনে হতে লাগল পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নে ঘটছে। মাঝে মাঝে তিনি যেমন অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেন এও তেমন কোনো অদ্ভুত স্বপ্ন।

স্যার।বলো।সবচে ভালো হয় যদি আমরা দুজন এই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই যাতে কেউ আমাদের খুঁজে বের করতে না পারে।মবিনুর রহমান থেমে থেমে বললেন, তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে রূপা। তুমি কী বলছ নিজেও জানো না। তুমি খুলনায় যাও। বাইরে গেলে ভালো লাগবে।স্যার, আপনার ধারণা আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে? কিছু একটা গণ্ডগোল তো অবশ্যই হয়েছে। আমি উঠি, কেমন? বাড়ি যাচ্ছেন? হ্যাঁ।যদি অনেক রাতে একা একা আপনার বাড়িতে উপস্থিত হই আপনি কী কববেন? আমাকে এখানে এনে দিয়ে যাবেন?

অবশ্যই দিয়ে যাব।রূপা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দেখতে দেখতে তার চোখ ভিজে উঠল। মবিন্নুর রহমান উঠে দাড়ালেন। তার ইচ্ছা করছে এই পাগলী মেয়েটার মাথায় হাত দিয়ে দুএকটা সান্ত্বনার কথা বলতে। তা বোধহয় ঠিক হবে না। এ কী ভয়াবহ সমস্যা! সমস্যার ধরন এখনো তার কাছে পরিষ্কার নয়। এই মেয়ে কী চায় তার কাছে? রূপা যাই।

রূপা কিছু বলল না। চেয়ার ছেড়ে উঠেও দাঁড়াল না। মবিনুব বহমান বাবান্দায় এসে দেখেন তানভির দাঁড়িয়ে আছে। তিনি নিচু গলায় বললেন, আমি যাচ্ছি। আপনি রূপার দিকে একটু লক্ষ্য রাখবেন। ও বড় ধরনের কোনো সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বলে আমরা ধারণা। আপনি লক্ষ্য রাখবেন রূপা যেন রাতে বাড়ি থেকে বের না হয়।তানভির কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।মবিনুর রহমান অসহায় বোধ করছেন। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, আপনি বরং রূপার বাবা-মাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলুন। ওদের বলুন মেয়েটার দিকে লক্ষ রাখতে।লক্ষ্য রাখা হবে। আপনি আপনার বাড়িতে যান। রূপাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না।

মবিনুর রহমান বাড়িতে এসে পৌঁছেছেন। নদী আশেপাশের পুরো অঞ্চল ভেঙে দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে–আশ্চর্য তার বাড়িটি ঠিকই আছে। নৌকাও বাধা আছে। তিনি জানতেন কিছু হবে না। প্রকৃতি তাঁকে রক্ষা করবে। তিনি একজন নি। তাঁকে সব রকম সমস্যা থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব প্রকৃতির। তিনি প্রকৃতির প্রিয় সন্তান।ভেবেছিলেন রাতে নৌকায় ঘুমুবেন। নৌক যেভাবে দুলছে তাতে তা সম্ভব না। তিনি নিজের ঘরেই ঘুমুতে এলেন। যাবার সময় দরজা বন্ধ করে তালা দিয়ে গিয়েছিলেন, এখন তালা খোলা। কেউ ঘরে ঢুকেছিল নিশ্চয়ই। ঘরের জিনিসপত্র যেমন ছিল তেমনি আছে। যে এসেছিল সে কোনো কিছুতেই হাত দেয় নি।

 

Read more

নি শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *