পাত্রী দেখা- মুহাম্মদ বরকত আলী

পাত্রী দেখা -মুহাম্মদ বরকত আলী

গতকাল থেকে বাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান শুরু হয়েছে৷ ঘরের। দেওয়াল আর মেঝে গোবর আর মাটি দিয়ে নেপা পোছা করা হয়েছে৷ যাকে আমরা গ্রামের ভাষায় ছাইজ দেওয়া বলি৷ এ কাজটা করেছে আমার দুই বোন মিলে। ঘর দোরের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা৷ কাথাকাপড় কেঁচে (ধোয়া) পরিস্কার  করা শেষ। আমি শুধু উঠানের ময়লাগুলো পরিস্কার করেছি৷

বড় বোনকে আজ দেখতে আসবে৷ পছন্দ হলে বিয়ে হবে৷ বিয়ে মানেই আনন্দ। কিন্তু বিয়ে হয় না৷ এর আগে  বেশ কয়েকবার দেখানো হয়েছে । কেউ পছন্দ করেনি৷ পছন্দ করেনি বলা ভুল হবে৷ প্রতিবেশী কেউ ভেঙ্গে দিয়েছে। উল্টাপাল্টা বলে বিয়ে হতে দেয় না। তাই আজ আব্বা বলেছেন, লোক এলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে। পাহারা দিতে হবে৷ গ্রামের কারো সাথে যেন কথা বলার সুযোগ না পায়৷ সোজা আসবে আর চলে যাবে৷

দুপুর থেকে অপেক্ষা করছি কখন লোক আসবে৷ আছরের আজান শেষে ওনারা এলেন৷ এসেছেন তিনজন৷ ছেলে, ছেলের বন্ধু ও দুলাভাই৷

আমি রাস্তায় পাহার দিচ্ছি৷ আশে পাশে কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলছি, না না, দেখতে আসেনি। আমাদের আত্মীয় এসেছে। অপেক্ষা করছি কখন যাবে৷ চলে গেলেই বাচি৷ লোকের খুব হিংসা৷ শুধু বিয়ে ভেঙ্গে দেয়৷ এটা হবে, এটা হবে করে কোনোটায় হয় না৷

ওনারা চলে যাওয়ার সময় আমি পিছু পিছু গিয়েছিলাম। রাস্তায় কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করে কিনা দেখতে৷ না, কেউ কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি৷ ওনাদের গাড়িতে তুলে দিয়ে তবেই বাড়ি এসেছি৷ 

চিনা মাটির প্রিচে লাভলী চানাচুর আর গ্লোকোজ বিস্কুটের অল্প কিছু অংশ পড়ে আছে৷ আমি সানন্দে তা খেতে শুরু করলাম।

কিছুদিন পর ঘটক এসে বললেন, না বাপু, এটাও হলো না। কেউ ছেলের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের নামে বদনাম করছে।

আপাতত এটাই হলো না৷ অপেক্ষায় আছি কবে বিয়ে হবে৷ বিয়ের অনুষ্ঠানে রঙ মাখা। আনন্দ করা৷ সে আনন্দর অপেক্ষায় আছি৷

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *