সাতকাহন পর্ব-(২০)-সমরেশ মজুমদার

সাতকাহন

আর এই শমিত সারাজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত সমস্ত জ্ঞান, অহঙ্কার, আকাঙক্ষা হারিয়ে কি অসহায় হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু এভাবে কাউকে ফেলে রাখা যায় 

 একজন ডাক্তারকে ডেকে আনা দরকার। তিরি ফিরে এলে তাকে শমিতের ওপর নজর রাখতে বলে সে তৈরী হয়ে অফিস ঘরে চলে গেল। 

হরিপদবাবু নেই। বাবুদের মধ্যে মাত্র একজনই এসেছেন। তিনি এত সামন্য কাজ করেন যে দীপাবলীর প্রয়ােজন পড়ে না কথা বলার। তাঁকেই ডাকতে হল। লােকটির যথেষ্ট বয়স হয়েছে। প্রথমদিন দেখেই মনে হয়েছিল বয়স ভাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে । দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, ‘সতীশবাবুর কোন খবর পেয়েছেন? 

‘না। দ্রুত মাথা নাড়লেন ভদ্রলােক, ‘দুপুরে আগে কি করে ফিরে আসবে। সকালের আগে তাে বডি শানে নিয়ে যেতে পারবে না।’ 

এত স্বাভাবিক গলায় কথাগুলাে বললেন ভদ্রলােক যে দীপা অবাক হয়ে তাকাল । তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘সবাই গেল আপনি গেলেন না কেন ? | ‘আমি আর কি করতাম ওখানে। জিপে জায়গা বেশী হত না। তাছাড়া আমি সি এল নষ্ট করতে চাই না এখন। 

‘সি এল ? ‘হ্যাঁ ম্যাডাম। ক্যাজুয়াল লিভ। আপনি তাে ওদের ছুটি কাটবেন। আমি বছরের শেষে ওই সি এলগুলাে নিয়ে দেশের বাড়িতে যাই। আমি তাে আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযােগ পাই না তাই আপনি জানেন না। 

সাতকাহন পর্ব-(২০)

‘ছ! আচ্ছা বলুন তাে, এখানে ভাল ডাক্তার কী কেউ আছেন? ‘ডাক্তার ? না। কেউ নেই। থাকলে সতীশবাবুর বউ মারা যায় ? ‘কেউ নেই ? ‘আছে। তিন ক্রোশ দূরে মতি হালদার। ব্যাটা চামার। ‘আপনি একটা কাজ করুন। এখন অফিসে কাজ করতে হবে না। ওরা যখন নেই তখন কি কাজই বা আপনি করবেন। আপনি দয়া করে ওই মতি হালদারকে আমার নাম করে ডেকে আনুন। 

‘ডেকে আনব ? কিন্তু সতীশবাবুর তাে মারা গিয়েছেন? ‘আপনাকে যা বললাম তাই করুন। “ঠিক আছে, যাচ্ছি। কিন্তু কে অসুস্থ জিজ্ঞাসা করলে কি বলব ? 

‘আমার বাড়িতে একজন আত্মীয় এসেছেন তিনি অসুস্থ। এই নিন দুটো টাকা, আপনাদের বাস ভাড়া। 

টাকাটা নিয়ে ভদ্রলােক আর দাঁড়ালেন না। দীপাবলী একটু স্বস্তি পেল। এই লােকটির সঙ্গে সে আগে কথা না বলে ভালই করেছে । মতি হালদার যত চামারই হােন ডাক্তার তাে বটে। এইসময় তিরি চা নিয়ে এল। 

দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, “হ্যাঁরে, তােদের এখানে কারাে অসুখ হলে কি করিস? ‘শুয়ে থাকি। ‘শুয়ে থাকলে অসুখ সেরে যায় ? 

সেরে যায়, কেউ কেউ মরে যায়। ‘চিকিৎসা হয় না ? মাথা নেড়ে না বলল তিরি। দীপাবলী বলল, মতি হালদার নামে একজন ডাক্তার আছেন, তাঁকে ডাকতে পাঠালাম। ‘তুমি পাগলাবাবাকে খবর দেবে ? ‘পাগলা বাবা ? ‘ওই শিবমন্দিরে থাকে । শেকড় পাতা দিয়ে অসুখ সারায়। 

সাতকাহন পর্ব-(২০)

চায়ে চুমুক দিল দীপাবলী । কথা ঘােরাবার জন্য বলল, বাবু কি একই রকম ভাবে শুয়ে আছে ? 

শরীরের রক্ত যতক্ষণ ফুটবে ততক্ষণ স থাকবে না। 

দশটা নাগাদ মতি হালদারকে নিয়ে ভদ্রলোেক ফিরে এলেন। মতি হালদার মধ্যবয়সী। পােশাক এবং চেহারায় দুর্দশার ছাপ স্পষ্ট। হাতের ব্যাগটি জরাজীর্ণ। তিনি এসেই ঝুঁকে নমস্কার করলেন দীপাবলীকে, ‘অনেক আগেই এসে আলাপ করা উচিত ছিল কিন্তু ওর নিষেধ থাকায় পারিনি। মার্জনা করবেন। 

‘গুরুর নিষেধ ? ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। গুরু বলেছিলেন বিনা কলে কারও বাড়িতে যাবে না। সেই থেকে আমি যাই না। আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতেও না । কার অসুধ ? কি অসুখ ? 

 ‘আপনি ভেতরে আসুন। দীপাবলীর বলার ধরন দেখে বৃদ্ধ কর্মচারি আফিস ঘরে ফিরে গেলেন। মতি হালদারকে নিয়ে সে শােওয়ার ঘরে চলে এল। খাটের ওপর পা তুলে বসে মতি হালদার মিনিট তিনেক শমিতকে পরীক্ষা করলেন। তারপর বাক্স খুলে দুটো বড়ি বের করে বললেন, ‘একটা এখন খাইয়ে দিন। ঘন্টায় ঘন্টায় মাথা ধােয়াবেন। জ্বর না কমলে চার ঘণ্টা বাদে দ্বিতীয় বড়ি। তাতেও না কমলে হাসপাতালে। চিকিৎসার কিছু থাকবে ।’ 

সাতকাহন পর্ব-(২০)

কি হয়েছে ? সমস্ত শরীর, ভেতরে বাইরে উত্তপ্ত। কেস খুব সিরিয়াস। ‘আপনি কী এখনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছেন? ‘দুটো বড়ি ফেল করলে। ‘আপনার ফি কত ? 

‘পাঁচ টাকা, বড়ির দাম আট আনা। টাকা এবং পুরাে পকেটে পুরে দরজা পর্যন্ত গিয়ে মতি হালদার ঘুরে দাঁড়ালেন, ‘ইনি কে ? 

‘আমার আত্মীয়। ‘মুখে এখনও মদের গন্ধ। লিভার থেকেও হতে পারে। চলি। 

মতি হালদার চলে যাওয়ার পর দীপাবলী ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ল। তার এতক্ষণ মনে হচ্ছিল শমিত তাকে ইচ্ছে করে বিপদে ফেলার জন্যে এখানে এসেছে। এখন মনে হল, শমিত কি আত্মহত্যা করতে এসেছিল, একটা জলজ্যান্ত মানুষ তার কাছে এসে যদি দুম করে মারা যায়। সে কেঁপে উঠল। মুখ ফিরিয়ে দেখল তিরি পরম যত্নে শমিতের মুখ তুলে বড়ি খাওয়াচ্ছে। সে চুপচাপ শমিতের মুখে গ্লাসের জলের ধারা পড়তে দেখল। 

দুপুর নাগাদ দীপাবলী বুঝতে পারল অবস্থা খুব গােলমেলে। 

সকালের ডাক্তারের ওষুধে কোন কাজ দিচ্ছে না, দ্বিতীয় ট্যাবলেট খাইয়ে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন মানে হয় না। এখন চেষ্টা চরিত্র করলে শমিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার একটা ব্যবস্থা হতে পারে। শেকড় বাকড়, তিরি যেসব কথা বলছে, মাথায় ঢোকাতেই চাইল না সে।

সাতকাহন পর্ব-(২০)

এর মধ্যে অন্তত চারবার শমিতের মাথা ধােওয়নাে হয়েছে । দশটার পর অফিস বন্ধ করে ভেতরে এসে দীপাবলী দেখেছিল শমিতের পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে তিরি ভেজা গামছা ওর বুকে গলায় ঝুলিয়ে তাপ কমাবার চেষ্টা করছে।

 দৃশ্যটি একদম পছন্দ হয়নি দীপাবলীর । একথা ঠিক, শমিতের চোখ বন্ধ, চেতনা স্পষ্ট নয়, তার শরীরের পাশে কে বসে কি করছে তা উপলব্ধি করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু কাউকে সেবা করতে হলে শরীরের অত কাছে যেতে হবে কেন ? এমন কি তাকে দৈখেও সরে বসার চেষ্টা করল না তিরি। কাতর গলায় বলল, “কি হবে দিদি ! শবীর তাে একটুও ঠাণ্ডা হচ্ছে না । কাল সারাদিন বােধহয় সূর্য শরীরে ঢুকেছে।’ 

‘আমি দেখছি, তুই রান্নাঘরে যা।’ একটু কড়া গলায় বলল দীপাবলী । ‘তুমি বুক আর পেট ভাল করে মুছিয়ে দিতে পারবে ? তিরি যেন উঠতে চাইছে না। ‘আঃ, কি করতে হবে আমি বুঝব। দুপুরে খেতে হবে না ?’ দীপাবলীর গলা অতটা না উঠলে বােধ হয় তিরি ধড়মড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে আসত না।

সাতকাহন পর্ব-(২০)

এমনিতে তিরি এর বিছানায় কখনই উঠে বসেনি এর আগে। যতই হােক কিছু দূরত্ব রাখতেই হয়, রাখা উচিত মনে করে দীপাবলী। শমিতকে এই বিছানায় নিয়ে আসার পর তিরিকে বেশ কয়েকবার বিছানায় উঠতে হয়েছিল, তখন চোখ সেটা ঠাওর করে দ্যাখেনি, এখন দেখল। 

শমিতের পাশে বসে ভেজা গামছা তুলে নিতেই সে বুঝতে পারল সেটাও গরম হয়ে গিয়েছে। খাটের নিচে বালতিতে রাখা জলে সেটা ডুবিয়ে নেওয়া হয়েছে এতক্ষণ। তাই অনুসরণ করল সে। গামছাটা শমিতের বুকে গলায় ঝুলিয়ে দিতে দিতে উত্তাপ টের পেল। একটা কিছু ব্যবস্থা করা এখনই দরকার। এখানে হাঁটতলা বলে একটা জায়গা আছে।

বাস রাস্তার ধারে। মাঝে মাঝে কিছু ভাড়ার গাড়ি যাতায়াতের পথে সেখানে দাঁড়ায়। তার একটাকে ডেকে আনলে হয়। কিন্তু অত দূরে তিরিকে পাঠানাে চলবে না। দীপাবলী শমিরে মুখের দিকে তাকাল। মাঝে মাঝে এক একটা নার্ভ দপদপ করছে। সে ডাকল, ‘শমিত, এই শমিত, শুনতে পাচ্ছ ? 

সাতকাহন পর্ব-(২০)

যেন শব্দের প্রতিক্রিয়াতেই শমিতের চোখ ঈষৎ খুলেই আবার বন্ধ হয়ে গেল। তার ফাকে বােঝা গেল সে দুটো টকটকে লাল। এই মুহূর্তে নিজের শরীরের ওপর তার কোন বশ নেই। অসুস্থতার এই পর্যায় এবং মৃত্যুর পর মানুষ সমস্ত সংস্কারমুক্ত হয়ে যায় শরীর সম্পর্কে। শমিত যদি সুস্থ থাকত অথবা তার চেতনা যদি লুপ্ত না হত তাহলে সে কিছুতেই এইভাবে বুকে গলায় হাত বুলিয়ে দিতে পারত না।

হঠাৎ নিজের ভাবনার জন্যে লজ্জাবোেধ করল সে। একজন রুগী আর সুস্থ শমিতের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের আচরণ নিয়ে কোন প্রশ্ন তােলাই নিচু মনের প্রকাশ। তিরিকে শমিতের পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসতে দেখে অত্যন্ত নিচুতাব লক্ষণ। কারণ শমিত নয়, তিরি একজন অসুস্থকে সেবা করছিল। বিছানা থেকে নেমে তিরিকে ডাক- দীপাবলী । ভেতরের দরজায় সে এসে দাঁড়ানাে মাত্র বলল, “তুই এই ঘরে থাক, আমি আসছি। 

‘কোথায় যাচ্ছ ? ‘হাটতলায় যাচ্ছি গাড়ি ডেকে আনতে। ‘কেন ? ‘ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার। ‘না। দ্রুত মাথা নাড়ল তিরি । 

না মানে ?’ দীপাবলীর মনে হল না শব্দটির উচ্চারণ এবং ঘাড় নাড়ার মধ্যে তিরি যেন বিদ্রোহ করতে চাইছে। 

হাসপাতালে গেলে বাবু বাঁচবে না।’ তিরি কেঁদে ফেলল। দীপাবলী ধমকে উঠল, “কি হচ্ছে কি ? ‘ওই তাে, বড়বাবু বউকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল, বাঁচাতে পারল ? তুমি বাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যেও না।’ কাতর গলায় বলল মেয়েটা। ‘তুই বাইরে দরজাটা বন্ধ করে দে। টেবিলের ওপর রাখা ছাতাটা তুলে হাহন করে বেরিয়ে এল দীপাবলী ।

সাতকাহন পর্ব-(২০)

ছাতা খুলতেই বুঝল লক্ষ নাগিনীর নিঃশ্বাস বােধহয় এর চেয়ে ঠাণ্ডা। আজ লু বইছে। ছাতা আড়াল করলেও বাঁচা মুশকিল। যতটা সম্ভব জোরে সে ছুটতে লাগল। * হাটতলায় একটা লরি দাঁড়িয়েছিল। ড্রাইফ্লার নিশ্চয়ই আশেপাশে ঝাঁপ নামিয়ে রাখা কোন দোকানে বসে আছে । দীপাবলী আর পারছিল না। সমস্ত শরীর জ্বলছে।

এইসময় বাস চলাচল অনিয়মিত। ফলে লােকজনও দেখা যাচ্ছে না। লরির ওপর একটা কিছু টাঙিয়ে ছাউনি করে তার তলায় শমিতকে শুইয়ে নিয়ে যেতে হবে। সে সামনের চাযের দোকান, যার ঝাঁপ নামাননা, এগিয়ে যেতেই পেছনে গাড়ির শব্দ শুনতে পেল।

একটা জিপ ছুটে আসছে। দূর থেকে কড়া রােদে যেন তাকে ঘিরে ঠিকরে ওঠা আলাে কাঁপছে বিদ্যুতের মত। জিপ যদি খালি আসে তাহলে পদাধিকার বলে সে একটা অনুরােধ করতে পারে। ভাবনাটা অফিস বন্ধ হবার আগে মাথায় এলে ওদের দিয়েই গাড়ি ডাকানাে যেত। 

বেশ শব্দ তুলে ব্রেক কষল জিপটা দীপাবলী হাত তুলতেই। আর ঝপ করে যে লােকটা ‘ ড্রাইভিং সিট থেকে নামল তার মুখ দেখা যাচ্ছে না, আরব বেদুইনদের মত মাথা মুখ ঢাকা 

দীপাবলী হকচকিয়ে গেল। | ‘কি ব্যাপার ম্যাডাম ? আপনি এইসময় এখানে দাঁড়িয়ে ?’ কথাগুলাে যে অর্জুন বলছে তা বুঝতে দীপাবলীর যেটুকু সময় লাগল তাতেই দ্বিতীয়বার প্রশ্ন শুনল, ‘আপনি আমাকে বােধহয় চিনতে পারছেন না, না ? 

ছাতার আড়ালে দীপাবলীর মুখ রােদের তাপ এবং আকস্মিকতার ঘােরেই আরও লাল হয়ে উঠেছিল। সে কোনরকমে বলতে পারল, বুঝতে পারিনি। 

সাতকাহন পর্ব-(২০)

‘খুব স্বাভাবিক। এখানকার লােক অবশ্য জিপ দেখলেই বুঝতে পারে। এই গরমে মুখের চামড়া নরম রাখতে ঢেকেঢুকে রাখতে হয় ম্যাডাম। শক্ত চামড়া তাে কেউ পছন্দ করে না। অদ্ভুত শব্দ করে হাসল অর্জুন। 

 ঠোঁট কামড়ালে দীপাবলী। খুবই অশ্লীল ঠেকল কথাগুলাে। কিন্তু তাকে কিছু বলার সুযােগ না দিয়ে অর্জুন আবার জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু আপনি এখানে ? 

গম্ভীর হতে চেয়েও পারল না দীপাবলী। বলল, আমার একটা গাড়ির দরকার ছিল। এই লরির ড্রাইভারটাকে খুঁজছিলাম। 

‘ও তাই বলুন। অর্জুন মাথা ঘুরিয়ে চারপাশে তাকাল। তারপর গলা তুলে চোস্ত হিন্দীতে কাউকে ধমকাল। বন্ধ দোকানগুলােয় সেই আওয়াজ পৌঁছাতেই একটি ঝপ নড়ে উঠল। তারপর রােগা মতন একটি মানুষ মাথা মুখ গামছায় মুড়ে নিতান্ত অনিচ্ছায় বেরিয়ে এল বাইরে। অর্জুন তাকে একগাদা কথা শােনাল। ম্যাডাম বাইরে দাঁড়িয়ে রােদে পুড়ছেন আর তুমি ছায়ায় সুখ করছ ? ম্যাডামকে তুমি চেন ? এই এলাকায় ওঁর কথাই শেষ কথা। কোন গড়বড় করবে না, উনি যা বলবেন তাই শুনবে। 

বাধ্য হয়ে দীপাবলী বলল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তারপর ড্রাইভারটির দিকে ঘুরে দাঁড়াল, ‘আপনাকে একটু লরি নিয়ে আমার সঙ্গে যেতে হবে।’ 

‘এখন, এই রােদে ? ড্রাইভার সরু গলায় জিজ্ঞাসা করল। ‘হ্যাঁ, উপায় নেই। ‘কোথায় যাবেন ? ‘শহরে।’ জবাবটা দিয়েই দীপাবলী অর্জুনের দিকে ফিরে বলল, “আচ্ছা, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, নমস্কার ! 

সাতকাহন পর্ব-(২০)

নমস্কার, নমস্কার । কিন্তু শহরে যাচ্ছেন লরিতে চেপে ? অবশ্য এটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, আমার কথা বলা সাজে না। ও হ্যাঁ, কাল সতীশবাবুর জন্যে জিপ পাঠিয়েছিলাম, ওঁরা এখনও ফিরে আসেনি, না ? 

‘না।’ ‘ভেরি স্যাড ব্যাপার । এই বয়সে ভদ্রলােকের বউ মারা গেল। ‘অর্জুনবাবু, এই রােদে দাঁড়িয়ে আর কথা বলা যাচ্ছে না।’ ‘ওহাে, তাই তাে চলি। অর্জুন নিজের জিপে গিয়ে বসল। শব্দ করে জিপটা বেরিয়ে গেল শহরের দিকে। দীপাবলী এবার অবাক হল।

সে ভেবেছিল শহরে যাওয়ার কথা এবং সে লরি খুঁজছে জানামাত্র অর্জুন তাকে নিজের জিপ অফার করবে। কিন্তু সে ওসব দিকে গেলই না! অথচ এই লােক তাকে হাতে রাখতে ওই তােষামােদটুকু করবে এটাই স্বাভাবিক।

 

Read more

সাতকাহন পর্ব-(২১)-সমরেশ মজুমদার

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *