হুমায়ুন আজাদ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম্য

হুমায়ুন আজাদ এর জীবনী

হুমায়ুন কবীর (আজাদ) একজন প্রথাবিরোধী সাহিত্যিক ছিলেন । বিক্রমপুরের বিশিষ্ট স্কুল শিক্ষক পিতা আবদুর রাশেদ ও মাতা জোবেদা খাতুনের প্রথম সন্তান ছিলেন তিনি । বিখ্যাত এই উপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও নারীবাদী সাহিত্যিক গাতানুগতিক চিন্তাধারা সচেতনভাবেই তাঁর লেখনিতে পরিহার করতেন । যার ফলে জনপ্রিয় লেখক হওয়ার পরও তিনি অনেকের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন ।

  • বিশিষ্ট এই লেখক ও অধ্যাপক জন্ম গ্রহণ করেন – ১৪ বৈশাখ, ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ/২৮ এপ্রিল, ১৯৪৭ খ্রি: মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের কামাড়গাঁও গ্রামে নানা বাড়িতে (পৈত্রিক নিবাস রাঢ়িখাল গ্রাম) ।
  • হুমায়ূন আজাদের শিক্ষা জীবন – স্যার জে সি বোস ইন্সটিটিউশন থেকে এসএসসি (১৯৬২), ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৬৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ হতে অনার্সসহ মাস্টার্স (১৯৬৮) ।
  • তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন – স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় হতে (ভাষাবিজ্ঞানে ১৯৭৬ সালে) ।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি ব্যাকরণের যে তত্ত্বটি সৃষ্টি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন – ‘সৃষ্টিশীল রুপান্তরমূলক ব্যাকরণ’ তত্ত্বটি ।
  • ড. হুমায়ুন আজাদের কর্মজীবন – চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ।
  • তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম – ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে ।
  • হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – জ্বালা চিতাবাঘ, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যতোই গভীরে যাই মধু, যতই উপরে যাই নীল, আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে, কাফন মোড়া অশ্রুবিন্দু, পেরোনোর কিছু নেই প্রভৃতি ।
  • হুমায়ুন আজাদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস – ছাপ্পানো হাজার বর্গমাইল (১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • ‘ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল’ যে শ্রেণির উপন্যাস – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ।
  • ‘মানুষ হিসেবে আমরা অপরাধসমূহ’ ‍উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৯৬ সালে (আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস) ।

হুমায়ুন আজাদ এর জীবনী

  • হুমায়ুন আজাদের অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে – সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে, নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু, ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ, শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা, পাক সার জমিন সাদ বাদ, একটি খুনের গল্প প্রভৃতি ।
  • তিনি যে প্রবন্ধ রচনার জন্য মৌলবাদীদের তীব্র রোষানলে পড়েন – ‘নারী’ প্রবন্ধের জন্য (এটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • ‘আমার কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম’ হুমায়ুন আজাদের যে শ্রেণির রচনা – সমালোচনামূলক গ্রন্থ (২০০৩ সালে প্রকাশিত) ।
  • ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ তাঁর যে জাতীয় রচনা অনূদিত গ্রন্থ (সিমন বেভোয়ারের ‘দ্য সেকেন্ডসেক্স’ অবলম্বনে) ।
  • ’১০,০০০ এবং আরও একটি ধর্ষণ’ হুমায়ুন আজাদের যে শ্রেণির রচনা – উপন্যাস (২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • ‘আব্বুকে মনে পড়ে’ কিশোর উপন্যাসটির মূল বিষয় – চার বছরের একটি শিশুর মনে ভেসে উঠা স্মৃতি যে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বাবাকে হারিয়েছে ।
  • বাংলা সাহিত্যিকদের জীবনী ও সাহিত্য আলোচনামূলক ‘লাল নীল দীপাবলি’ গ্রন্থটির রচয়িতা – ড. হুমায়ুন আজাদ (গ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন চরিত সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ কোন গ্রন্থটি রচনা করেন – ‘যাদুকরের মৃত্যু’ নামক গ্রন্থটি ।
  • প্রকাশিত মোট গ্রন্থের সংখ্যা – কাব্যগ্রন্থ ১০টি, উপন্যাস ১৩টি, সমালোচনা গ্রন্থ ২২টি, ভাষা বিজ্ঞানবিষয়ক ৭টি, কিশোরসাহিত্য ৮টি প্রভৃতি ।

Humayun Azad-হুমায়ুন আজাদ এর জীবনী

  • হুমায়ুন আজাদের যে যে গ্রন্থ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয় – নারী, দ্বিতীয় লিঙ্গ ও পাক সার জমীন সাদ বাদ ।
  • তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, বুক পকেটে জোনাকিপোকা, অন্ধকারে গন্ধরাজ, কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু, কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ প্রভৃতি ।
  • হুমায়ুন আজাদ যে যে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন – বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (২০১২ মরণোত্তর) প্রভৃতি ।
  • ‘আততায়ীর সাথে কথোপকথন’ গ্রন্থটির রচয়িতা – হুমায়ুন আজাদ (প্রকাশ-১৯৯৫ সাল) ।
  • রবীন্দ্র প্রবন্ধ, রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তা এবং শামসুর রাহমান নিঃসঙ্গ শেরপা, গ্রন্থ দুটি হুমায়ুন আজাদের যে শ্রেণির রচনা – সমালোচনামূলক গ্রন্থ ।
  • বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন – ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট (কবি জার্মানিতে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করেন । উল্লেখ্য ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বই মেলা থেকে টিচার্স কোয়াটারে ফেরার পথে জেএমবি কর্তৃক মারাত্মকভাবে জখম হন) ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *