অমানুষ পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

অমানুষ পর্ব – ৭

জামশেদ সারা দুপুর একটা বই পড়তে চেষ্টা করছে, দি ইয়েলো নাই! পড়া মোটেও আগাচ্ছে না। অভ্যেস না থাকলে যা হয়। বইটির কভারে লেখা আছে এই সত্যি ভূতের গল্প কেউ যেন রাতে না পড়ে। যাদের ব্লাডপ্রেশার বা হার্টের অসুখ আছে তারা যেন ভুলেও এ-বই না পড়ে। জামশেদ বহু কষ্টে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে এবং যতই এগুচ্ছে ততই তার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। এমন সব আজগুবি জিনিসও লেখা হয় এবং লোকজন কিনে এনে পড়ে।

একটি একুশ বছরের মেয়ের সঙ্গে প্রতিরাতে একটি পিশাচ এসে ঘুমায়। গাঁজাখুরিরও সীমা থাকা দরকার। জামশেদ বই বন্ধ করে বিরক্তমুখে বারান্দায় চলে এল। তার প্রচণ্ড তৃষ্ণা বোধ হচ্ছে। এমন তৃষ্ণা যা সময়-অসময় মানে না, হঠাৎ জেগে উঠে চেতনা আচ্ছন্ন করে ফেলে। কিন্তু এখন যদি দরজা বন্ধ করে বোতল খুলে বসে তা হলে আর নিজেকে সামলানো যাবে না।

জামশেদ প্রাণপণে তৃষ্ণা ভুলে থাকতে চেষ্টা করল। ব্যস্ত থাকলে কাজ হবে হয়তো। সে নিচে নেমে এল। লনের এক প্রান্তে অ্যানি বসে ছিল। তার বসায় ভঙ্গিটি অদ্ভুত–যেন কঁদছে। এবং কান্না লুকানোর চেষ্টা করছে। জামশেদ একবার ভাবল তাকে ডাকবে না। তবু ডাকল এবং আশ্চর্য, ডাকল খুব নরম স্বরে, কী করছ, অ্যানি?

কিছু করছি না।

কাঁদছিলে নাকি?

অ্যানি তার জবাব না দিয়ে বলল, তুমি কি কাল আমার স্পোর্টস দেখবে, না গাড়িতে বসে থাকবে? লোকজনের ভিড় আমার পছন্দ হয় না। আমি গাড়িতে থাকব।জামশেদের কথা শেষ হবার আগেই অ্যানি প্রায় ছুটে চলে গেল। সারা বিকেল এবং সারা সন্ধ্যা তার আর দেখা পাওয়া গেল না।রাত দশটায় জামশেদ রান্নাঘরে উঁকি দিল। মারিয়ার বিস্ময়ের সীমা রইল না। জামশেদকে কখনো এখানে আসতে দেখা যায় না। সে অবাক হয়ে বলল, কী, কফি খাবে? কফির জন্যে এসেছ?

অমানুষ পর্ব – ৭

না। অ্যানি কোথায়?

ঘুমুতে গেছে।

ঘুমিয়ে পড়েছে?

না, এখনও ঘুমায়নি। আমি দুধ নিয়ে যাব। দুধ খেয়ে শোবে।

জেগে আছে তা হলে?

হ্যাঁ। কী ব্যাপার? কিছু বলবে অ্যানিকে?

তুমি অ্যানিকে বলবে যে আমি ওর স্পোর্টস দেখতে যাব।মারিয়া বলল, আমি এক্ষুনি ওকে বলছি।এক্ষুনি বলার দরকার নেই।মারিয়া বলল, আমি খুব খুশি হয়েছি যে তুমি যাচ্ছ। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। অ্যানি মেয়েটি খুব নিঃসঙ্গ।জামশেদ জবাব দিল না, গম্ভীরমূর্খ উপরে উঠে এল।

একশো মিটার দৌড় হচ্ছে তিন নম্বর ইভেন্ট। অ্যানি খুব নার্ভাস হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রতিযোগী পাঁচজন। এদের মধ্যে নিন্তি নামের মেয়েটি হরিণের মতো দৌড়ায়।মাঠে নামবার আগে জামশেদ বলল, যখন দৌড়াতে শুরু করবে তখন একটি জিনিসই শুধু খেয়াল রাখবে। সামনের লাল ফিতা। ঠিক আছে?

ঠিক আছে।

ভয় লাগছে?

হ্যাঁ। মনে হচ্ছে আমি হেরে যাব।

কাউকে তে হারতেই হবে।

আমার হারতে ভালো লাগে না।

স্টার্টিং ফায়ার হতেই অ্যানি বিদ্যুতের মতো ছুটল। জামশেদ হাসল,–চমৎকার স্টাটিং! অপূর্ব!! অ্যানি নিমেষের মধ্যে প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে দিল। কিন্তু অঘটন ঘটল–অ্যানি হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। একটা হাহাকার উঠল দর্শকদের প্যাভিলিয়ন থেকে। অ্যানির আশাহত চোখের সামনে প্রতিযোগীরা ছুটে বেরিয়ে গেল। লাফিয়ে উঠল জামশেদ–উঠে দাঁড়াও, দৌড়াও বোকা মেয়ে, দৌড়াও।

অ্যানি উঠে দাঁড়িয়েছে।

জামশেদ তৃতীয়বার চেঁচাল, দৌড়াও।

অ্যানি ছুটতে শুরু করল। পৌঁছাল সবার শেষে।

অ্যানি কাঁদতে কাঁদতে দর্শকদের প্যাভিলিয়নের দিকে আসছে। জামশেদ এগিয়ে গেল। একটি ছোট্ট শিশুর মতো অ্যানি জমিশেদকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠল।বাড়ি ফেরার পথে জামশেদ বলল, আমি খুব খুশি হয়েছি যে পড়ে যাবার পরও তুমি উঠে দাঁড়িয়েছ এবং দৌড়াতে শুরু করেছ।

অমানুষ পর্ব – ৭

তাতে কিছুই যায় আসে না।

তাতে অনেক কিছুই যায় আসে, অ্যানি।

অ্যানি ফ্রকের হাতায় চোখ মুছল। জামশেদ বলল, পৃথিবীতে বেশির ভাগ মানুষই হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়। খুব অল্প কিছু মানুষ উঠে দাঁড়াতে পারে।অ্যানি চাপাস্বরে বলল, ওরা এসে পৌঁছায় সবার শেষে।আপাতদৃষ্টিতে এরকম মনে হয়। সত্যিকার অর্থে ওরাই কিন্তু জয়ী।অ্যানি জবাব দিল না।জামশেদ বলল, সমুদ্রের দিকে যেতে চাও, অ্যানি? ওখানে বালির উপর বসে আইসক্রিম খাওয়া যেতে পারে। কী, চাও যেতে?

চাই।এসো, আজকের দিনটি আমরা খুব ফুর্তি করে কাটাই। মিউজিয়ামে গেলে কেমন হয়? মিউজিয়াম আমার ভালো লাগে না।তা হলে চলো চিড়িয়াখানায় যাওয়া যাক। চিড়িয়াখানা ভালো লাগে? লাগে।যাবে? অ্যানি তাকিয়ে দেখল, বুড়ো ভালুকের পাথরের মতো চোখ দুটি কোন এক আশ্চর্য উপায়ে তরল হয়ে যেতে শুরু করেছে।

ভিকি পরপর দুরাত ঘুমাতে পারেনি। এক সপ্তাহের মধ্যেই একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হবে। সিল্কের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তু। তিন-পুরুষের একটা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেয়া যায় না। এর জন্যে অনিদ্রায় কাতর হতে হয়।রুন দেখল, ভিকি রাত নটার দিকে ড্রাইভারকে গাড়ি বের করে আনতে বলছে।

কোথায় যাচ্ছ?

একটা কাজে যাচ্ছি।

টাকার জোগাড় করতে?

না। ওটা আর জোগাড় হবে না।

আশা ছেড়ে দিয়েছ মনে হচ্ছে?

ভিকি জবাব দিল না। রুন বলল, একটা কাজ করলে কেমন হয়? আমাকে ভালো একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাও-না! ভিকি নিঃশব্দে টাইয়ের নট বাঁধতে লাগল।কী, কথায় জবাব দিচ্ছ না যে? চলো-না সমুদ্রের ধারে যে একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট আছে সেখানে গিয়ে লবস্টার খেয়ে আসি।

অমানুষ পর্ব – ৭

ভিকি ক্লান্ত স্বরে বলল, রুন, তুমি বুঝতে পারছ না আমি একটা দারুণ সমস্যার মধ্যে আছি। এমন হতে পারে যে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে লবস্টার আর কোনোদিনই আমরা খেতে পাব না।রুন হাসিমুখে বলল, কিন্তু এমন তো হতে পারে যে হঠাৎ করে তোমার সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

আমার বেলা হঠাৎ করে কিছু হয় না।

একেবারে আশা ছেড়ে দেয়া ঠিক না।

চলো যাই। রুন ভিকির হাত ধরল।

প্লিজ, রুন! আমাকে বিরক্ত কোরো না। খুব খারাপ সময় যাচ্ছে।সময় ভালোও তো হয়ে যেতে পারে। কথা শোনো আমার।ভিকি কোনো কথা শুনল না। বিরক্তমুখে নিচে নেমে গেল। তার বেশ মাথা ধরেছে। রুনের ন্যাকামি শুনতে এতটুকুও ভালো লাগছে না।এতরা চোখ কপালে তুলে বলল, এ কী চেহারা হয়েছে তোমার?

ভিকির চেহারা সত্যি সত্যি খারাপ হয়েছে। বুড়োটে দেখাচ্ছে। চোয়াল ঝুলে পড়েছে। চোখের দৃষ্টিও নিষ্প্রভ। এতরা সরু গলায় বলল, একেবারে ভেঙে পড়েছ মনে হচ্ছে? তা ভেঙেছি। সেটাই স্বাভাবিক নয় কি?

না। তোমার যা ইচ্ছে তা খুব অস্বাভাবিক। তুমি কোনো সমাধানের দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে তাকাচ্ছ।সমাধান কিছু নেই।এতরা মিটিমিটি হাসল। হাসিমুখেই বলল, চমৎকার একটা ডিনারের অর্ডার দাও। সেইসঙ্গে জার্মান কিছু হোয়াইট ওয়াইন আনতে বলো। তোমাকে সমাধান দিচ্ছি।

ভিকির কোনো ভাবান্তর হল না। সে সিগারেট ধরিয়ে ভাবলেশহীন চোখে তাকিয়ে রইল। এতরা খানিকটা ঝুঁকে এসে বলল, প্রথম শ্রেণীর সমাধান আছে আমার কাছে, ঠাণ্ডা মাথায় শুনতে হবে।বলো, শুনি।বলছি। তার আগে নার্ভগুলি ঠাণ্ডা করাবার জন্যে এক পশলা মার্টিনি হোক। মার্টিনি উইথ অলিভ।এতরা হাতের ইশারায় ওয়েট্রেসকে ডাকল।কী তোমার সমাধান?

অমানুষ পর্ব – ৭

বলছি। শর্ত হচ্ছে সবটা বলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। প্রথমে কোনো সাড়াশব্দ না করে শুনবে ঠিক আছে? ঠিক আছে।তা হলে শুরু করছি।এতরা লম্বা একটা চুমুক দিল মার্টিনিতে। নিচুস্বরে বলতে শুরু করল, তুমি নিশ্চয়ই জান, ইংল্যান্ডের একটা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি অদ্ভুত অদ্ভুত সব ইনস্যুরেন্স পলিসি বিক্রি করে। জান তো?

জানি।ওরা ইদানীং একটা নতুন ইনস্যুরেন্স পলিসি বিক্রি করতে শুরু করেছে। ধনী বাবা-মারা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ইনস্যুরেন্স করছেন।তা-ই নাকি? জানতাম না তো! ইনস্যুরেন্স করার পর যদি ইনস্যুর-করা ছেলেমেয়েরা কিডন্যাপ হয় তা হলে কিডন্যাপারদের দাবি অনুযায়ী সব টাকা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দিয়ে দেয়। বুঝতে পারছ?

পারছি।এতরা আরেকটি ভবল মার্টিনির অর্ডার দিয়ে বলল, এতক্ষণ যা বললাম তা হচ্ছে তোমার সমস্যার সমাধান।তার মানে? ব্যস্ত হয়ো না। বুঝিয়ে দিচ্ছি।ভিকি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এতরা সহজ ভঙ্গিতে বলতে লাগল, তুমি অ্যানির জন্যে ঐ একটি পলিসি কিনবে। এক মিলিয়ন ডলারের একটি পলিসি। তারপর কিছু দুষ্টলোক অ্যানিকে চুরি করে এক মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি করবে। ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এক মিলিয়ন ডলার দেবে তা তো বুঝতেই পারছ। সেখান থেকে পাঁচ লাখ ডলার পাবে তুমি, আর বাকিটা যাবে কিডন্যাপের ব্যবস্থা যারা করবে তাদের হাতে।

ভিকি নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।এতরা হাসিমুখে বলল, পরিকল্পনা দায়িত্বে যারা থাকবে তারা সবাই খুব বিশ্বাসী। আমার নিজের লোক বলতে পার।ভিকি কোনো জবাব দিল না।অবিশ্যি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কিছু বিধিনিষেধ আছে। যেমন পলিসি বিক্রি করবার আগে ওদের দেখাতে হবে যে তুমি তোমার মেয়ের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা করেছ। যেমন, ওর জন্যে চব্বিশ ঘণ্টার বডিগার্ড আছে। বাড়িতে পাহারাদার কুকুর আছে। বুঝতে পারছ?

অমানুষ পর্ব – ৭

ভিকি কিছু বলল না, চুপচাপ বসে রইল।এতরা বলল, ডিনারের অর্ডার দেয়া যাক, কী বল? এমন মনমরা হয়ে গেলে কেন? তোমার সমাধানটি আমার পছন্দ হয়নি।ভালো। পছন্দ যে হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। আমরা নতুন সমাধানের কথা চিন্তা করব। তবে ভিকি, এতক্ষণ আমরা যে-কথাবার্তা বললাম তা যেন তৃতীয় কোনো প্রাণী জানতে না পারে।

জানবে না।

রুনকেও বলবে না।

এতরা, আমি আমার নিজস্ব ব্যাপারগুলোর কথা ঘরে বলে বেড়াই না।গুড। আর শোনো, যদি তোমার মনে হয় আমার পরিকল্পনাটি প্রথম শ্রেণীর তা হলে বিনা দ্বিধায় আমাকে জানাবে। বুঝতে পারছি অ্যানির নিরাপত্তার বিষয়েই তুমি বেশি চিন্তিত। অ্যানিকে আমি আমার নিজের মেয়ের মতোই দেখি, ওর নিরাপত্তার যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলাই বাহুল্য।

ভিকি গম্ভীরমুখে ডিনারের অর্ডার দিল। ডিনার ছিল সাদামাটা কিন্তু ডিলারশেষে প্রচুর ড্রিংকসের ব্যবস্থা হল। এবং একসময় ভিকি বলল, তুমি যে-পরিকল্পনার কথা বলহু তার পেছনে তোমার কী স্বার্থ? আমার দুটি স্বার্থ। বন্ধুর উপকার হবে। তা ছাড়া, আমিও কিছু টাকা পাব। দশ হাজার ডলার। বিরাট কিছু নয়, তবে মন্দ নয়।

ভিকি হঠাৎ বলল, আমি রাজি আছি।

ভালো। আমি জানতাম তুমি রাজি হবে।

ভিকি উত্তর দিল না।

কোনোরকম ঝামেলা ছাড়া এতবড় একটা দান একমাত্র জুয়ার টেবিলেই পাওয়া সম্ভব। এতরা টেনে টেনে হাসতে লাগল। আরেক রাউন্ড হবে? ভিকি জবাব দিল না।আরেক রাউন্ড হোক। ভিকি, তোমাকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছে। ফুর্তির জন্যে কোথাও যেতে চাও? দুটি স্প্যানিশ মেয়ে আছে, আমার পরিচিত। অপূর্ব! এবং বিশেষ পারদর্শী।ফুর্তির জন্যে আমি কখনো বাইরে যাই না।

অমানুষ পর্ব – ৭

ঠিক ঠিক। খুবই ঠিক।এতরা হাতের ইশারায় ওয়েট্রেসকে ডাকল। সে মনে হল কিঞ্চিৎ নেশাগ্রস্ত।জামশেদের ঘরে মৃদু নক হল। অন্ধকার কাটেনি এখনও। এত ভোরে কে আসবে? জামশেদ ঘড়ি দেখল, ছটা বাজতে এখনও দশ মিনিট বাকি।

কে?

আমি। আমি অ্যানি।

কী ব্যাপার?

আমি তোমাকে শুভ জন্মদিন জানাতে এসেছি।কিসের শুভ জন্মদিন? জামশেদ বিরক্তমুখে গায়ে রোব জড়াল। দরজা খুলল অপ্রসন্ন মুখে।অ্যানি হাসিমুখে একটা প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সে ক্ষীণস্বরে বলল, ভেতরে আসব? না।অ্যানি ইতস্তত করতে লাগল। জামশেদ ভারীস্বরে বল, আমার জন্মদিন কবে তা আমি কেন আমার বাবা-মাও জানেন না।

কিন্তু আমি যে তোমার কাগজপত্রে দেখলাম ৪ঠা জুলাই তোমার জন্মদিন।একটা-কিছু লিখতে হয় সেজন্যেই লেখা। বুঝতে পারছ? পারছি।হাতে ওটা কী, জন্মদিনের উপহার? হুঁ ঠিক আছে, দাও।অ্যানি মৃদুস্বরে বলল, তোমার জন্মদিন কবে তা কেউ জানে না কেন?

অনেকগুলি ভাইবোন আমরা–কার কবে জন্ম এসব নিয়ে মাথা ঘামার সময় আমার মা’র ছিল না।কজন ভাইবোন? জামশেদের ভ্রূ কুঞ্চিত হল। সে একবার ভাবল জবাব দেবে না। কিন্তু জবাব দিল।

ন’জন। দুটি বোন।

তুমি কনম্বন?

চার। আরকিছু জিজ্ঞেস করবে?

অ্যানি হালকা স্বরে বলল, জন্মদিনে এমন রাগি গলায় কথা বলছ কেন?

তোমাকে তো বলেছি আজ আমার জন্মদিন নয়।

তুমি তো জান না কবে সেটা। এমন তো হতে পারে আজই সেই দিন।

তাতে কিছু আসে যায় না।

অ্যানি অস্পষ্টভাবে হাসল।

কী এনেছি তোমার জন্যে খুলে দেখবে না?

অমানুষ পর্ব – ৭

জামশেদ পাকেট খুলে ফেলল।এটা একটা ভিডিও গেম। তুমি তো একা একা থাকতে পছন্দ কর, সেজন্যে কিনেছি। একা একা খেলতে পারবে। কী করে খেলতে হয় আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব।ঠিক আছে।

তুমি হাতমুখ ধুয়ে আসো, আমি তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। আজকে আমি তোমার সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করব।জামশেদ কিছু বলল না।অ্যানি হাসিমুখে বলল, আমাদের দুজনের ব্রেকফাস্ট আজ এখানে দিয়ে যাবে। এবং তোমার জন্মদিন উপলক্ষে আজ খুব চমৎকার ব্রেকফাস্ট তৈরি হচ্ছে।

 

Read more

অমানুষ পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.