আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

রমিলা বিষন্ন গলায় বলল, তাের চাচা থাকে বৈদেশেতার জন্যে মনটা সব সময় খারাপ থাকেতার যেন বিপদ আপদ না হয় এই জন্যে ছদগা দিলামগত রাইত একটা খারাপ খােয়াবও দেখছিমনটা পেরেশানখােয়াবে দেখলাম তাের চাচা সাদা চাদ্দর গায়ে দিয়া বিছানায় শুইয়া আছেএকটু পরে পরে বলতেছেবৌ, আমারে পানি দেওবড় তিয়াস লাগছেআমি পাগলের মতাে পানি খুঁজতেছিপানি পাইতেছি নাসবই আছে, পানি নাইতখন ঘুম ভাঙ্গছে, সারা রাইত আর ঘুম হয় নাই। 

আসমানী কলপাড়ে বসলরমিলা চাচির সঙ্গে গল্পগুজব করতে তার খুব ভালাে লাগেরমিলা বলল, চুলে তেল দেস না ? চুলে জট পইড়া গেছেসাবান দিয়া ভালােমতাে গােসল দিবিচুলে তেল দিবিরাজরানীর মতাে চেহারা, ময়লা মাইখ্যা ঘুইরা বেড়াসঘরে সাবান আছে

সাবান নিয়া যাইসবিকালে আইস্যা সাবান আর মুরগি নিয়া যাবিআইচ্ছাআসমানী বসে আছেরমিলা কাপড় ধুচ্ছেরমিলার চোখে পানিস্বামীর প্রসঙ্গে কথা বললেই রমিলার চোখে পানি আসেরমিলা বলল, চুপচাপ বইস্যা থাকবি নাএখন সামনে থাইক্যা যানয়া আবুর কিছু লাগলে আমারে খবর দিসআসমানী চলে গেল নাবসে রইলরমিলা চাচি কাঁদছেতাকে ফেলে রেখে চলে যেতে আসমানীর খুব মায়া লাগছে। 

জামদানী হাঁটুগেড়ে পয়সার কাছে বসে আছেতার দুধ খাওয়া শেষ হয়েছেএখন সে হাতপা ছুঁড়ছেমাঝখানে সে একবার কান্না থামিয়েছেজামদানী তার বাবার কাছ থেকে ভিক্ষার গান শিখেছেটেনে টেনে সুর করে ভালােই গায়এই ধরনের গানের বিষয়ে জমির আলীর বক্তব্য হলােফকিরি গানে এক সঙ্গে তিন কাম হয়গান গাইয়া আনন্দ, যে শুনে তার আনন্দ, আর গানের মধ্যে আল্লাহ খােদা নবিজির নাম থাকে বিধায় সােয়াবও হয়। 

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

জামদানী বােনকে ফকিরি গান শুনিয়ে কান্না একবার থামিয়েছেসে মনে হয় আবার কান্না শুরু করবেমুখ বাকাচ্ছেজামদানী গান ধরল— 

দিনের নবি মুস্তফায় রাস্তা দিয়া হাইট্যা যায় 

একটা পাখি বইস্যা ছিল গাছেরও ছেমায় গাে গাছেরও ছেমায়..

আষাঢ় মাসের কড়া রােদ উঠেছেকোথাও ছায়া নেইরােদে শরীর পুড়ে যাচ্ছেরােদ মাথায় নিয়ে জমির আলী খেয়াঘাটে বসে আছেকাছেই বড় ছাতিম গাছ আছেছাতিম গাছের নিচে বসলে ছায়া পাওয়া যায়সেটা করা যাচ্ছে নাযে ভিক্ষুক আরাম করে গাছের ছায়ায় বসে আছে তাকে কেউ ভিক্ষা দেবে নাযে ভিক্ষুক রােদেপুড়ে কষ্ট করছে তার প্রতি মানুষের দয়া হবে। 

রােদে ভাজা ভাজা হয়ে তেমন লাভ হচ্ছে নাএখন পর্যন্ত জমির আলী মানুষের দয়ার কোনাে লক্ষণ দেখছে নামাঝে মাঝে খারাপ দিন আসেসারাদিন বসে থেকেও কিছু পাওয়া যায় নাআজ মনে হচ্ছে সেরকম খারাপ একটা দিনজমির আলী চিন্তিত বােধ করছেআধা কেজি চালের পয়সাটা তাে উঠা দরকারবউ চলে যাওয়ায় একটা সুবিধা হয়েছে চালের খরচ কমেছেএখন আধা কেজি চালে তিনজনের ভালােমতাে হয়ে যায়

সব খারাপ জিনিসের  মধ্যে আল্লাহপাক ভালাে একটা জিনিস ঢুকিয়ে দেন, আবার ভালাের মধ্যে খারাপও ঢুকিয়ে দেনশুধু মন্দ কিংবা ভালাে বলে কিছু তার কাছে নেইরােদের কষ্ট ভােলার জন্যে জমির আলী চিন্তাভাবনার লাইনে যাবার চেষ্টা করলকোনাে চিন্তাভাবনাই পরিষ্কার আসছে নাগরমে সব আউলায়ে যাচ্ছেজমির আলী আকাশের দিকে তাকালআকাশ ঝকঝকে নীলমেঘের চিহ্ন মাত্র নেইছােটখাট একটা মেঘের টুকরা থাকলেও আশায় আশায় রােদে বসে থাকা যেতএই মেঘের টুকরা এক সময় বড় হবে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

রোদের পাছায় লাথি মেরে রােদ দূর করবেসন্ধ্যায় সন্ধ্যায় নামবে ঝুম বৃষ্টি গরম কাটান দিতে গরম লাগেআগুন গরম এক কাপ চা খেলে গরম কাটবেজমির আলী মজিদের চায়ের স্টলের দিকে রওনা হলােএক সময় মজিদ তার বন্ধু মানুষ ছিলএক সঙ্গে মাটি কেটেছেএখন চায়ের স্টল দিয়ে ভদ্রলােক হয়ে গেছেকাপড়চোপড় পরে ভদ্রলােকের মতাে, কথাবার্তাও বলে ভদ্রলােকের মতাে

দোকানে সে একটা সাইনবাের্ডও টানিয়েছে বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন নাতারপরেও জমির আলী তার চায়ের স্টলে চা খেতে গেলে সে পয়সা নেয় নাতবে মুখটা গম্ভীর করে রাখেমজিদ চায়ের কাপ জমির আলীর দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলল, তােমার স্ত্রীর কোনাে সন্ধান পেয়েছ ? চেহারা ছবি ভালাে মেয়ে হারায়ে গেলে খারাপ পাড়ায় দাখিল হয়ঘণ্টায় দশ টেকা হিসাবে ভাড়া খাটে। 

জমির আলীর মনটা খারাপ হয়ে গেলমজিদ তার বন্ধু মানুষবন্ধু মানুষ হয়ে বন্ধুর স্ত্রীকে নিয়ে ধরনের কথা কী করে বলে ? তার কাছে চা খেতে আসাই উচিত নাহাতের চায়ের কাপের গরম চা মজিদের উপর ঢেলেদিলে ভালাে হতােসেটা উচিত হবে নাএকজন মন্দ হলেই যে আরেকজনের মন্দ হতে হবে তা নাজমির আলী চায়ে চুমুদিয়ে বলল, তােমার ভাবির খবর পেয়েছি(সবই মিথ্যা কথামান রাখার জন্যে মিথ্যা বলা) সে সুসং দুর্গাপুরে তার বােনের বাড়িতে আছে

তারা বিরাট বড়লােকবাজারে টিনের ঘর আছে তিনটাতারা তােমার ভাবিকে খুবই পেয়ার করে বলে আসতে দেয় না। মজিদ বিরস গলায় বলল, আসতে না দিলে তােমারই গিয়া নিয়া আসা উচিতবড়লােকের কায়কারবার ভিন্নদেখা গেল তােমার স্ত্রীর সাথে লটর পটর শুরু কইরা দিছেকিছুই বলা যায় না, তারে বিবাহও কইরা ফেলতে পারে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

জমির আলী চা শেষ না করেই উঠে পড়লবসল আগের জায়গায়সকালের দিকে কিছু পাওয়া যায় নিএখন যদি পাওয়া যায়! জমির আলী ঠিক করেছে একটা টাকাও যদি পাওয়া যায় সে টাকাটা দিয়ে আসবে মজিদকেচায়ের দামমজিদকে বলবেফকির জমির আলী দয়ার চা খায় না। সূর্য হেলে পড়তে শুরু করেছেদুপুরের গাড়ি চলে আসার সময় হয়ে এসেছেএখন জমির আলী যাবে রেলস্টেশনেযদি পাওয়া যায় তাহলে কুলির কাজ করবে

যাত্রীদের ব্যাগসুটকেস নামাবেআজকাল যাত্রীরাও চালাক হয়ে গেছেখালি হাতে ঘুরাফিরা করেব্রিফকেস হাতে নিয়ে নেমে যায়দুনিয়াটা চলে যাচ্ছে চালাকের হাতেবিরাট আফসােস! | শুধু যে কুলির কাজের জন্যে জমির আলী স্টেশনে যায় তাও নাতার মনেআশা কোনাে একদিন সে দেখবে আসমানীর মা ট্রেন থেকে নামছেতখন জমির আলী কাছে এগিয়ে যাবে, কিছুই হয় নি এমন ভাব ধরে বলবেকেমন আছ বউ ?

এদিকে খবর সবই মঙ্গলকোনাে চিন্তা করবা নাবউকে নিয়ে বাড়িতে রওনা হবার আগে আগে রেলস্টেশনের টিস্টলে টোস্ট বিস্কিট দিয়ে এক কাপ চা খাওয়াবেএরা চাটা ভালাে বানায়আসমানীর মাসঙ্গে সে অতি ভদ্রলােকের মতাে ব্যবহার করবেকেন সে কাউকে না বলে বাড়ি থেকে চলে গেল, কোথায় গিয়েছিলএইসব কিছুই জিজ্ঞেস করবে নাকী দরকার ? ফিরে এসেছে এই যথেষ্টআল্লাহপাকের দরবারে হাজার শুকুর

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

দুপুরের ট্রেনে কোনাে যাত্রী নামল নাএটা খুবই আশ্চর্য ব্যাপারএকটা এত বড় ট্রেনএলাে, চলে গেলএকজন যাত্রীও নামল না। এরকম ঘটনা কি আগে কখনাে ঘটেছে ? মনে হয় ঘটে নাইস্টেশনমাস্টারকে জিজ্ঞেস করলে হয়তাে জানা যাবেস্টেশনমাস্টারের এইসব হিসাব থাকেজমির আলী এগিয়ে গেলকোনাে যাত্রী ট্রেন থেকে নামে নি এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কিনা তা 

জেনে গেলে মনে একটা খুঁতখুঁত থাকবেজেনে যাওয়াই ভালােস্টেশনমাস্টার ধমক দিয়ে জমির আলীকে বিদায় করলেনগলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে বললেনযা ভাগ, এক থাপ্পর খাবি  জমির আলী বিস্মিত হয়ে বলল, থাপ্পর খাওনের মতাে অপরাধ কী করলাম ? মনের মধ্যে একটা জিজ্ঞাসা ছিল... 

আবার কথা বলে! ভাগজমির আলীর মনটাই খারাপ হয়ে গেলকোনাে কারণ ছাড়াই মানুষ এত খারাপ ব্যবহার কী জন্যে করে ? ভালাে ব্যাবহার করার জন্যে তাে টাকা খরচ করা লাগে নামুখের মিষ্ট কথা নিঃখরচা জিনিসএক লাখ মিষ্ট কথার দাম শূন্যজমির আলীর মন এতই খারাপ হলাে যে মন খারাপ ভাব কাটাবার জন্যে মিষ্ট কথার সন্ধানে বের হলাে

একটা তিক্ত কথা কাটান দিতে একটা মিষ্ট কথা লাগেতিক্ত কথা কাটান না দেয়া পর্যন্ত মনে অশান্তি থাকবেকী দরকার মন অশান্ত রেখে! জমির আলী ইয়াকুব সাহেবের সন্ধানে বের হলােইয়াকুব সাহেব কী একটা এনজিওর কাজ নিয়ে এসেছেনথানা কমপ্লেক্সের পাশে টিনের একচালা ঘর ভাড়া নিয়ে একা থাকেনঅতি বিশিষ্ট ভদ্রলােক। মধুর ব্যবহাররমিজ আলীর ধারণা এই মানুষটা শুধু মধুর ব্যবহারের কারণে বেহেশতে যাবে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

খাওয়াদাওয়ার পর ইয়াকুব সাহেব কিছুক্ষণ ঘুমানজমির আলী ঠিক করে ফেলল সে যদি গিয়ে দেখে ইয়াকুব সাহেব ঘুমিয়ে পড়েছেন তাহলেও চলে আসবে নাঘুম ভাঙার জন্যে অপেক্ষা করবেদুটা মিষ্ট কথা শুনে মনটা ঠিক করবেইয়াকুব সাহেব জেগেই ছিলেনবারান্দায় রাখা টানা বেঞ্চের এক মাথায় বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেনজমির আলীকে দেখে তিনি হাসিমুখে বললেন, ভিক্ষুক সাহেবের খবর কী ? রােজগারপাতি কিছু হয়েছে

জমির আলীর মন ভালাে হয়ে গেল। একে বলে ভদ্রলােকশরিফ খানদানজমির আলী বলল, স্যারের শরীরের অবস্থা কী

অবস্থা ভালােই, তােমার খবর কী ? বউ ফিরেছে ? জেনাকোথায় আছে খোঁজখবর কিছু করেছ

বাপের বাড়িতে যায় নাই, সে খবর পেয়েছিমনে হয় সুসং দুর্গাপুরে আছেতার এক বােনের বিবাহ হয়েছিল সুসং দুর্গাপুরেআমার বিশ্বাস সেইখানেই আছেচলে যাওবউ নিয়ে আসবেকায়দায় পড়ে গেছি স্যারঘরে ছােট আবুকার কাছে রাখি! তােমার বাচ্চাটা আছে কেমন ? কী যেন তার নামপয়সা না

জে স্যার, আপনার দেখি সবই ইয়াদ থাকেজমির আলী, দুপুরের খাওয়া হয়েছে ? না হয়ে থাকলে অল্প কিছু ভাত তরকারি আছেখেয়ে নাওখাবে

জে স্যার। যাওয়ার সময় থালাবাসন ধুয়ে যেও। জে আচ্ছা। জমির আলী মনে মনে বলল, হে আল্লাহপাক! তােমার দরবারে দরখাস্ত করলামইয়াকুব সাহেবরে তুমি বেহেশত নসিব করবেতাকে বেহশত নসিব করলে আমি তােমার বেহেশতে ঢুকব নাএইটা আমার ওয়াদাজমির আলী যে বেহেশতে যাবে বিষয়ে সে নিশ্চিন্তকারণ সে স্বপ্নে একবার নবিজিকে দেখেছেযারা নবিজিকে স্বপ্নে দেখে তাদের বেহেশত নসিব হয়মুনশি মােল্লার কথা

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

খাওয়াদাওয়ার পর রান্নাঘরেই জমির আলী কাত হয়ে শুয়ে পড়লভাত ঘুমের মতাে আরামের ঘুম আল্লাহপাক তৈরি করেন নাইভরপেট খাওয়ার পর বিসমিল্লাহ বলে শুয়ে পড়াপেট যত ভরা থাকবে ঘুম হবে তত আরামেরইয়াকুব আলী যদিও বলেছেনঅল্প ভাত তরকারি আছেঘটনা ভিন্নসব কিছুই পরিমাণ মতাে ছিলডাল টকে গিয়েছিল, এতে স্বাদ বরং বেড়েছে। 

ঘুমের মধ্যে জমির আলী ভালাে একটা স্বপ্ন দেখলআসমানীর মা ফিরে এসেছেট্রেন থেকে নামার সময় সে গলা বাড়িয়ে চিৎকার করছেকুলি! কুলি! এইখানে কুলি আছে ? আমার অনেক মালসামানজমির আলী এগিয়ে গেলআছিয়া তাকে চিনতে পারল নাআলীশান এক ট্রাঙ্ক তার মাথায় তুলে দিলমাথায় ট্রাঙ্ক, এক হাতে স্যুটকেস, এক হাতে বিরাট এক পুটলি নিয়ে জমির আলী যাচ্ছে

পেছনে পেছনে আছিয়া আসছেস্বপ্ন বলেই এতগুলি মাল সামান নিয়ে এত সহজে হাঁটা যাচ্ছেজমির আলী বলল, বউ তােমার খবর কী? অমনি আছিয়া রেগে গিয়ে বলল, ব্যাটা মাডি লাউগরা, তুই আমারে বউ ডাকস কোন সাহসে ? লাথ মাইরা তাের কোমর ভাঙবজমির আলী হাসতে হাসতে বলল, লাথ মার তাে! দেখি তােমার ঠ্যাঙে কত জোর! আছিয়া সত্যি সত্যি লাথ মারার জন্যে এগিয়ে এসে জিভে কামড় দিয়ে বলল, আল্লা! আপনে ?

বিরাট অন্যায় করেছি, মাপ দেনজমির আলী দরাজ গলায় বলল, স্বামী যেমন স্ত্রীর উপর অন্যায় করতে পারে, স্ত্রীও পারেএতে দোষ হয় নাতারপর বউ বলােট্রাঙ্কে কইরা কী আনছ ? আছিয়া বলল, টেকা আনছিট্রাঙ্ক ভরতি টেকাআইজ থাইক্যা আপনের ভিক্ষা বন্ধট্রাঙ্ক খুইল্যা টেকা বাইর করবেন আর খরচ করবেন

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

স্বপ্নের এই পর্যায়ে জমির আলীর ঘুম ভেঙে যায়তার মনটা হয় উদাসস্বপ্নে আছিয়াকে খুবই সুন্দর লাগছিলকানে ছিল স্বর্ণের দুলএই দুল জোড়া আসমানীর অসুখের সময় বিক্রি করতে হয়েছেদুল আর কিনে দেয়া হয় নিবিবাহিত মেয়েদের গায়ে স্বর্ণের ছোঁয়া না থাকলে দোষ লাগেএক আনা সােনা হলেও গায়ে রাখতে হয়সেটা করা সম্ভব হয় নি বলেই আছিয়ার গায়ে দোষ লেগে গেছেসে সংসার ছেড়ে চলে গেছেমেয়েদের যেমন স্বর্ণ পুরুষদের তেমন আকিক পাথরনবিজি নিজে আকিক পাথর পরতেন। 

জমির আলী বাড়ি ফিরল সন্ধ্যার মুখে মুখেবাড়িতে পা দিয়ে মন ভালাে হয়ে গেলসব ঠিকঠাক আছেকলসি ভর্তি পানি আছেউঠান পরিষ্কারচুলার কাছে শুকনা খড়ি সাজানােঅজু করার জন্যে জলচৌকির কাছে বদনা ভর্তি পানিউঠানের খুঁটির সঙ্গে সাদা রঙের একটা মুরগি বাঁধাজমির আলী বিস্মিত গলায় বলল, এই মুরগি কার

আসমানী বলল, আমরার মুরগিছদগা পাইছিবাপজান, তুমি আস্তে কথা বলাে, পয়সা হবে ঘুমাইছে। বাবার সাড়া পেয়ে জামদানী গামছা হাতে বের হয়ে এসেছেসে বাবার হাতে গামছা দিতে দিতে লজ্জিত গলায় বলল, পােলাও দিয়া মুরগির সালুনখাইতে মনে চায় বাপজান। জমির আলী দরাজ গলায় বলল, মনে চাইলে খাবিআইজ রাইতেই খাবিএইটা কোনাে বিষয় না। সত্যই

অবশ্যই সত্যজমির আলী ফকির হইলেও তার কথার দাম রাজাবাদশার কথার দামের সমানপােলাও কোর্মা আইজ রাইতেই হবেপােলাওএর চাউল, ঘি গরম মশল্লা কই পাইবা ?

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৩

এইগুলা নিয়া তাের চিন্তা করনের প্রয়ােজন নাইএইগুলা আমার বিষয়মেয়েছেলে করব সংসার, পুরুষ করব চিন্তাএইটা জগতের নিয়মএখন কথা বাড়াইস নামাগরেবের ওয়াক্ত চইল্যা যাইতেছেমাগরেবের ওয়াক্ত অতি অল্প সময়ের জন্যে থাকেযদি দেখস গায়ের পশম দেখা যাইতেছে না তাহলে বুঝবি ওয়াক্ত শেষ হয়েছে। 

সত্যি সত্যি পােলাওকোরমা রান্না হয়েছেদুই বােন নিঃশব্দে খেয়ে যাচ্ছেজমির আলী পয়সাকে কোলে নিয়ে পাশেই বসে আছেআনন্দিত চোখে মেয়ে দুটির খাওয়া দেখছেসে নিজে খেতে বসে নিপােলাওএর পরিমাণ কমতিনজন খেলে কম পড়বেশুধু দুই বােন যদি খায় আরাম করে খেতে পারবেআসমানী বলল, বাপজান, তুমি খাইবা না ?

Read more

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *