• Wednesday , 25 November 2020

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

খাদার আর গদাইয়ের যেমনি নামের ছিরি, স্বভাবটিও তেমনি। আমাদের এই কলকাতার উপকণ্ঠে একটা পুরনাে পাড়ার আদি বাসিন্দাদের দুই বংশধর। এ গল্প চোখে পড়লে পাছে তারা অসন্তুষ্ট হন, তাই আর রাস্তাটার নাম বললাম না। সেখানকার সব নালা গিয়ে গঙ্গায় পড়েছে, সব মােড়ে একটা করে মােটরের কারখানা। আর পথঘাটের কথাই যদি বল, সব ভাঙা, সব পথে বাস আর প্রাইভেট গাড়িতে পায়ে চলা দায়। বড়দাদামশাই নাক সিটকে বলেন, ‘যেমন দুই গুণধর, তারি উপযুক্ত পটভূমিকাও হবে তাে। আসলে ওরা মামাতাে পিসতুতাে ভাই। খাদার বাবা এ জন্মে কোন চাকরি রাখতে পারেননি আর গদার বাবা তার শ্বশুরমশাইয়ের ওপর সব দায় চাপিয়ে সয়ে গেছেন। শশুরবাড়ির কেউ তাঁর নামও করে না। না করে করে এখন প্রায় ভুলেও গেছে।

নিজের বাড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে, কোন কালে তিনি তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে উঠেছিলেন এবং পত্রপাঠ সয়েও গেছিলেন।ওর মামাতাে ভাই খাঁদার দিব্যি টিকলাে নাক ছিল। যখন জন্মেছিল তখন নাকি ঐ নাকের জায়গাটা সাংগু ভ্যালির মত চ্যাপ্টা ছিল, উঁচু-নিচুর বালাই ছিল না। তখন ঐ দিদিমাই নাকি দুবেলা বিশুদ্ধ ঘানির তেল দিয়ে যেখানে নাক থাকা উচিত, তার দু পাশ দিয়ে চেপে চেপে ঠেলে ঠেলে মালিশ করে এমন বাঁশির মত টিকলাে নাক করে দিয়েছে। অথচ ছেলের কি তার জন্য এতটুকু কৃতজ্ঞতা দেখা যাচ্ছে? মােট কথা ওদের মারা সুদ্ধ বাড়ির সকলেই ওদের মুখ দেখলে বেগে উঠতেন। আবার সারাদিন বাইরে থেকে সন্ধ্যেবেলা বাড়িতে ঢুকলেও কি নিস্তার ছিল? 

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

বড়দাদামশাই রেগে ওদের ভাত বন্ধ করে দিলেন। বললেন তার খরচায়  কেউ টো-টো কোম্পানী খুলতে পারে না। এতে দুই মা কিঞ্চিত ঘাবড়ে গেছিলেন। কিন্তু গদাই বনল, আরে তােমরা ভাবছ কেন? আমরা মােটর গ্যারেজে মজুরি খাটি। বেশ ভাল খাইদাই। গ্রেট বেঙ্গল মােটর ওয়ার্কসের পেছনে একটা ঘরও পেয়েছি। সেখানেই থাকব ভাবছি। মানে ইয়ে ~~ আমাদের আত্মসম্মান বলে একটা জিনিস আছে তাে। খাঁদা ওর এক বছরের ছােট এবং বেজায় ভক্ত। সেও বলল, আছেই তাে। 

দুই মা তাই শুনে কাষ্ঠ হেসে বললেন, তাই নাকি? তাহলে তাই করিস। আরেকটু মাইনে বাড়লে, আমাদেরও কিছু দিস। 

এই তাে ব্যাপার। এমন ব্যবহার পেলে কার না রাগ হয়? হাজার হােক দুজনেই…. হতে পারে টেনেটুনে মাধ্যমিক পাস করেছে তাে৷ কেন, গ্যারেজের কাজটা খারাপ হল কিসে? তার চেয়ে পশ্চিমাদের আপিসে কলম পেশার কাজের কি খুব বেশী সম্মান ? তােদের ঐ লজঝড়ে গাড়ি বিগড়ােলে তাে নিজেরা কিছুই করতে পারিস না, পয়সা দিয়ে তােক ডাকতে হয়। আমরা কিন্তু দরকার হলে অনেক কলম পেশার কাজও করতে পারি। 

অবিশ্যি এ সব হল রাগের কথা। সত্যি কি আর বড়দাদামশাইকে তুই তােকারি করে অমন বেয়াড়া কথা ওদের বলা সম্ভব হত? ওরা এগার ক্লাস থেকে পালাতে পারে, তাই বলে অভদ্র তাে আর নয়। খাদা আরাে বলল, শুনেছি তাের ঠাকুরদারা বনেদী বড়লােক ছিলেন। 

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার

এ কথা শুনে খুব আশ্চর্য হয়ে গদাই বলল, তুই কি করে জানলি? কারখানার পেছনে দড়ির খাটিয়াতে বসে একটা প্যাকিং কেসের ওপর খুদে একটা পুরনাে জনতা স্টোভে খদা চার পেয়ালা জল আর দু-চামচ গুড়াে দুধের সঙ্গে এক চা-চামচ চা-পাতি আর তিন চা-চামচ চিনি মিশিয়ে ফুটোচ্ছিল। চা-পাতি একটা ছেড়া রুমালে বেঁধে নিয়েছিল বলে ছাকনিটাকনির দরকার ছিল না।

ক্যান্টিনের পরিত্যক্ত দুটি হাতলবিহীন মগে ঢেলে খাওয়া হবে। সোঁদা সোঁদা গন্ধওয়ালা এক রকম মিষ্টি পাউরুটির সঙ্গে। এক টাকায় চারটে মাঝারি মাপের পাওয়া যায়।খাদা বলল, মা বলছিল পিসিকে, তাদের চিঠি লিখে আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিতে। তাই শুনে মহা রেগে গদাই তােলামি করতে লাগল, ক-কেন? আমরা কক ভিকিরি না কি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত? তুই দুটো কড়া কথা শুনিয়ে দিলি কেন? 

খাদা বলল, না, মানে ভিকিরি বনবি কেন? তাের পৈত্রিক সম্পত্তিতে তাের ন্যায্য অধিকারই আছে।কথাটা মন্দ বলেনি খাদা, তবে একটা অসুবিধেও আছে। ঠাকুরদার নামধাম কিছুই জানে না, তা খবর করবে কোথায়? একথা বলতেই, খাঁদা পকেট থেকে একটা আধময়লা কাগজের টুকরাে বের করে বলল, মা পিসিকে ঐসবই জিজ্ঞাসা করলে পিসি বলেছিল তাের বাবার নাম অসিতবরণ আচার্য, ঠাকুরদার নাম অধিকারণ আচার্য। ওঁদের জমিদারি ছিল জলপাইগুড়ির কাছে নীলাম্বুনিধি বলে একটা বড় পরগণায়। তার অনেকটা জঙ্গলে ঢাকা ছিল।

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার

আমি নামগুলাে টুকে রেখেছিলাম।গাই খানিক ভেবে বলল, না রে, মন চাইছে না।বাবাকে তারা তাড়িয়ে | দিয়েছিল। ওদের সাহায্য নিতে অপমান লাগে।খাদা বলল, তাড়ায়নি মােটেও। বন্ধুর জাহাজ কোম্পানীর শেয়ার কেনবার জন্য বাপের কাছে পিসেমশাই এক লাখ টাকা চেয়েছিলেন। বাপ দেননি। বলেছিলেন আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবরে কি দরকার র্যা। তাতে রেগেমেগে চলে এসে তাের মায়ের গয়নাগাটি বেছে, শেয়ার কিনে, ছেলে হয়ে, শশুরবাড়িতে এসে উঠে পিসেমশাই দেহ রাখলেন। .. খাঁদার জ্ঞানের প্রসার দেখে অবাক হয়ে গদাই বলল, হুট করে কিছু বলতে পারছিনা।

একটু ভাবা দরকার।খাদা বলল, অবিশ্যি তা না করে, এখানে, কিম্বা এই রকম আরেকটা কোথাও, এইভাবে জীবন কাটানােও যায়। এই বলে ভাঙ মগে চা ঢালতে লাগল। | বেশি ভাববার সময় পায়নি গদাই, কারণ ঠিক সেই সময়ে, একটা বাংলা খবরের কাগজ হাতে নিয়ে কারখানার মালিক পার্বতী, গ্যারেজের দিকের টিনের দরজাটা ক্যাচ করে খুলে ঘরে ঢুকলেন। গদাই তাকে অত খাটিয়াতে বসতে দিয়ে বলল, এ চা আপনি খেতে পারবেন না, দাদা। |

পাৰতীবাবু বললেন, ব্যস্ত হবার কিছু নেই। আমি চা খাই না, জলখাবার খেয়ে এসেছি। কাগজে কি লিখেছে শােন জলপাইগুড়ি জেলার নীলান্থনিধির কাঠ ব্যবসায়ী অম্বিকাচরণ আচার্যের দ্বিতীয় পুত্র অসিতবরণ, কি তিনি গত হয়ে থাকলে তার উত্তরাধিকারী কেউ যদি থাকে, তিনি পত্রপাঠ নিলিখিত ঠিকানায় উল্লিখিত ব্যক্তির সঙ্গে যােগাযােগ করলে লাভজনক কোন সংবাদ পেতে পারেন।

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

নিজের পরিচয়ের প্রমাণস্বরূপ কিছু কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। গদাই, তােমাদের কাজ দেবার আগে তােমার মামার বাড়ি থেকে যা জেনে  এসেছিলাম, তাতে মনে হচ্ছে অসিতবরণ আচার্যের একমাত্র সন্তান অলােকশরণ তুমি, তাই ঠাকুরদার সম্পত্তির কিছুটা পাবে। ঐ যে নাম ঠিকানা দেওয়া আছে, ওঁরা তাঁদের উকিল। গিয়ে একবার খবর করলে ভাল হয়। কারণ কারখানায় আমার জামাইকে একটা চাকরি না দিলেই নয়। অর্থাৎ ওদের চাকরিটা গেল।এরপর আর কথা নয়। বড়াদাদামশাই নিজেই নােক পাঠিয়ে দুজনকে ধরিয়ে নিয়ে গেলেন। 

কি হে, বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিড়েছে মনে হচ্ছে। দুজনে গিয়ে একবার দেখেই এসাে না। তবে খুব বেশি আশা কর না। অনেকগুলাে, ওয়ারিশ। জঙ্গল কেটে কেটে কাঠের ব্যবসা করত বুড়াে। তার কি আর খুব বেশি বাকি আছে। তৰে মস্ত বাড়ি, মন্দির, অতিথিশালা, দেদার গুদামঘর দেখেছিলাম। 

গেল দুজনে প্যাসেঞ্জার গাড়িতে, সেকেন্ড ক্লাসে, কারণ থার্ড ক্লাস তাে কবে উঠে গেছে। কি ভাগ্যে বড়দাদামশাই দুজনার জন্যে দুটো করে মােটা নীল পেন্টেলুন আর লম্বা হাতা গরম সােয়েটার কিনে দিয়েছিলেন। স্টেশন থেকে অর্ধেক পথ বাস যায়। সন্ধ্যাবেলায় একটা বনের ধারে ওদের নামিয়ে দিয়ে ড্রাইভার বলল, বনের মধ্যে দিয়ে দশ কিলােমিটার পথ হাঁটতে হবে। টর্চ আছে আশা করি, কারণ বুনাে জানােয়ার যে একেবারে নেই তা নয়। ওদিকটা বুড়াে কেটে সাফ করেছিল, সব জন্তু একদিকে জড়াে হয়েছে। চোরাকারবারিদের পােয়া বারাে। 

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

বাস চলে গেলে চারদিকটা যেন বড় বেশি অন্ধকার বলে মনে হতে লাগল। ক্রমে সেটা চোখ সওয়া হয়ে গেল, তারার আলােয় ওরা পথটা স্পষ্ট দেখতে পেল। টর্কের ব্যাটারি খরচ করতে হল না। হয়তাে ঘন্টা দুই হেঁটেছে, নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে কখন থেমেও গেছে। তারি মধ্যে কানে এল কামার মত একটা শব্দ। কেউ কষ্ট পাচ্ছে, এ ওরা সইতে পারত না। তাড়াতাড়ি হাঁটা পথ ছেড়ে টর্চ জেলে বনের মধ্যে ঢুকে, একটু এগােতেই একটা আশ্চর্য দৃশ্য চোখে পড়ল। গাছতলায় কে একটা ছােট জানােয়াৰ ধবার দাঁতকল পেতে গেছে আর তাতে অদ্ভুত ফিকে প্রায় রুপােলী রঙের শেয়ালের একটা পা ধরা পড়েছে।

সে করুণভাবে চারিদিকে চাইছে আর মানুষের ছেলের মত কাদছে। তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে ছাই রঙের শার্ট প্যান্ট পরা, সাদা দাড়িওয়ালা একজন বুড়াে মানুষ কাতরভাবে তাকিয়ে আছে। মনে হল বােধহয় পঙ্গু, তাই নিজে কিছু করতে পারছে না।ওদের কিছু বলতে হল না। ছুটে গিয়ে দের দাঁত খুলে শেয়ালটাকে ছেড়ে দিতে ওদের দুমিনিটও লাগল না। আশ্চর্যের বিষয়, সঙ্গে সঙ্গে সে ছুটে পালাল

পােষা কুকুরের মত ওদের গা ঘেঁসে, মুখ চেটে দিল। ওরা উঠে পড়লে তবে বনে ঢুকে পড়ল।গদাই, খাঁদা বুড়াে মানুষটির দিকে চাইল। তিনি একটু একটু হাসছিলেন। তারপর বললেন, তুমি আজ একটা ভাল কাজ করলে, তােমার নাম অলােকশরণ, অসিতবরণের একমাত্র সন্তান তুমি। অসিত ভাল ব্যবহার করেনি, মনের দুঃখে তার মা অকালে মারা যান। উইলে তােমাকে সব চাইতে পুরনাে বড় গুদোম ছাড়া কিছু দেওয়া হয়নি। অপমান বােধ করে সেটি নিতে অস্বীকার কর না। ওর মধ্যে যা আছে তার মূল্য তােমরাই বুঝবে। সুখী হয়াে দুজনে।। 

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

এই বলে বুড়াে এমনি হঠাৎ বনের অন্ধকারে ঢুকে গেলেন যে মনে হল বুঝি | বাতাসে মিলিয়ে গেলেন। ওরা এ-ওর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে, আবার হাঁটা ধরল। ভােরের আগে পাহাড়ের কোল ঘেঁসা নীলাখুনিধির কুঠিবাড়িতে ওরা পৌছেছিল।ওদের আগেই কলকাতার উকিলমশাইও সেখানে পৌঁছেছিলেন। বাড়ির সকলেই গদাইয়ের নিকট আত্মীয় হলেও, ওকে পেয়ে খুব একটা আহলাদ প্রকাশ করেনি। বরং একটু তাচ্ছিল্যের ভাব দেখা গেল। কলকাতায় ওরা উকিলের সঙ্গে দেখা করে সব কথা জানিয়েছিলেন। তিনিও প্রয়ােজন মত অনুসন্ধান করে, গদাইয়ের পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়, তবে তাকে এখানে আসতে বলেছিলেন। 

বড় বাড়িতে কেউ তাদের যায়নি, প্রায় পােড়ােবাড়ির মত অবস্থার অতিথিশালায় উঠে হাত মুখ ধুয়ে ওরা উকিলবাবুর সঙ্গে গুদোম ঘরটার দখল নিতে চলল। তিনি হেসে বললেন, এ ঘরটিতে যত রাজ্যের পুরনাে ভাঙাচোরা মােটর গাড়িতে ঠাসা। বুডাের ঐ এক শখ ছিল, যাকে বলে মােটরগাড়ি পাগল। ঐ ঘর আর তার মধ্যে যা কিছু ভাঙাচোরা ধনসম্পদ আছে, সবটার মালিক এখন তুমি। 

এই বলে হাসতে হাসতে গুদোমের মস্ত লােহার দরজা খুলে দিলেন। আগে || এটাই যে প্রকান্ড গ্যারেজ ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। শুধু ঠাকুরদা কেন, গদাইরাও গাড়ি পাগল, খদাও। 

দরজাটাকে হাট করে খুলে দিতেই ঘরটা সকালের আলােয় ভরে গেল। আর গদাই খাদা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে দেখল যে প্রথম দিককার ছাদখােলা ফোর্ড গাড়ি থেকে আরম্ভ করে দশ বারােটা বিখ্যাত বিদেশী গাড়ির কোনটা কম কোনটা বেশি ভাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। আর সবার পেছনে চাটাইচাপা যেটা ছিল, সেটার ওপরকার চাটাই সরাতেই একটা হয়তাে ১৯১০ সালের বােলস রয়েস অক্ষত দেহে ঝকমক করতে লাগল। 

ওয়ারিশ-লীলা মজুমদার 

তাই দেখে দুজনার মাথা ঘুরে গেল। তারা টলতে টলতে দুটো গাড়ির ধুলােয় ঢাকা ফুটবাের্ডে পাধপ বসে পড়ল। এর জন্য উকিলবাবুও প্রস্তুত ছিলেন না। বুড়াে নাকি এদিকে কাউকেই আসতে দিতেন না। নিজের লােক দিয়ে গাড়ির কাজ করাতেন। 

উকিল বললেন, বাবা, আমি খুব খুশি হয়েছি। এবার তােমাদের দুঃখ ঘুচবে। তােমার বাবা আমার ছােটবেলার বন্ধু ছিলেন। 

গুমদামে আরেকটা জিনিস ছিল। দেয়ালের দিকে মুখ করা একটা বড় রঙীন ফটো। সেটা ঘুরাতেই দেখা গেল বনে দেখা সেই বুড়াে মানুষ আর তার কোলে বসা সেই সাদা শেয়াল। উকিল বললেন, ইনি তােমার ঠাকুরদা। সাদা শেয়ালটাকে বনে কুড়িয়ে পেয়ে পুষেছিলেন। 

এদেশে সাদা শেয়াল হয়না, ওটা অ্যালবিনাে নয়, তবু ফিকে রং। ভােমার ঠাকুরদা যেদিন মারা গেলেন, শেয়ালটা বনে পালিয়ে গেল। যাই হােক এই গুদামে লাখ লাখ টাকার জিনিস আছে। কাজে লাগিও। 

খাঁদাও মন দিয়ে সব কথা শুনছিল, কিন্তু গদাই শেষটা কেন মুচ্ছাে গেছিল, অ উকিলবাবু বুঝে উঠতে পারেননি। খাদা পেরেছিল। 

 

Read more

তান্ত্রিক–ধীরেন্দ্রলাল ধর 

Related Posts

Leave A Comment