জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ৩৭ হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা ও জননীর গল্প পর্ব – ৩৭

শাহেদ বন্ধুর প্রশ্নের জবাব দেয় নি। যেভাবে তাকিয়েছিল সেভাবেই তাকিয়ে রইল। তার দৃষ্টিতে বিস্ময় আনন্দ কিছুই নেই।নাইমুল ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, দাড়ি গোফ টোফ গজিয়ে তুই তো হানড্রেড পারসেন্ট মাওলানা হয়ে গেছিস। তোকে দেখে মনে হচ্ছে দেওবন্ধ থেকে পাস করা মাওলানা। মাথায় টুপিও আছে। সবসময় টুপি পরে থাকিস?

শোবার ঘর থেকে আগরবাতির গন্ধ আসছে। মেঝেতে জায়নামাজ পাতা। জায়নামাজের পাশে আগরবাতি জুলছে। নাইমুল বলল, ঘটনা কী? আগরবাতি কেন? শাহেদ বলল, একটা খতম পড়ছি! খতমে জালালী। এক লক্ষ পঁচিশ হাজারবার দোয়া ইউনুস।খতম শেষ হয়েছে?

হুঁ। মাগরেবের ওয়াক্তে শেষ হয়েছে। আসমানীদের কোনো খবর পাচ্ছি না, এই জন্যেই খতম।নাইমুল বলল, খতম যখন শেষ করেছিস তখন খবর হয়তো পাবি। কিছুই বলা যায় না। It is a strange world. গরম পানির ব্যবস্থা কর, গোসল করব। তুই খাওয়াদাওয়া কোথায় করিস?

নিজেই রাঁধি।খাবারের ব্যবস্থা কর। প্রচণ্ড ক্ষিধা লেগেছে। কী খাওয়াবি? খিচুড়ি খেতে ইচ্ছা করছে। খিচুড়ি খাওয়াতে পারবি? হুঁ। ঘরে ডিম আছে? আছে।খিচুড়ি আর ডিম কর। আমার খাওয়া কিন্তু বেড়েছে। আগে যা খেতাম তার তিনগুণ খাই। বেশি করে রাধবি। লেবু, কাঁচামরিচ এইসব আছে? না।আচার নিশ্চয়ই আছে। ভাবি তো আচার পছন্দ করত।আচার আছে।গুড। আমার মাথায় খাওয়া ছাড়া কোনো চিন্তা নেই। অতীতে যেসব সুখাদ্য খেয়েছি তার সবগুলির কথা মনে পড়ছে।

শাহেদ রান্না বসিয়েছে। কেরোসিনের চুলায় রান্না হচ্ছে। নাইমুল ঢুকেছে বাথরুমে। বাথরুমের দরজা পুরোপুরি খোলা। শাহেদ যেখান থেকে রান্না করছে। সেখান থেকে বাথরুমের ভেতরটা পুরোপুরি দেখা যায়। শাহেদ সেদিকে তাকাচ্ছে না। কারণ নাইমুল সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গোসল করছে। নাইমুল খুব আনন্দে আছে, এটা শাহেদ বুঝতে পারছে। এই প্রবল দুঃসময়ে একটা মানুষ এত আনন্দে কীভাবে থাকে সে বুঝতে পারছে না।শাহেদ বলল, তুই মুক্তিযুদ্ধে গেছিস–তাই না?

হুঁ।যুদ্ধ কেমন হচ্ছে? ভালো।ঢাকা শহরেও অনেক মুক্তিবাহিনী ঢুকেছে।নাইমুল বলল, তুই যুদ্ধে গেলি না কেন? দাড়ি গজিয়ে দেওবন্ধের মাওলানা হয়ে বসে আছিস।শাহেদ বলল, আসমানীদের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না বলে যেতে পারছিলাম না।খোঁজ পেলে যুদ্ধে যাবি? হুঁ।খিচুড়ি থেকে তো ভালো গন্ধ বের হয়েছে। কী দিয়েছিস?

গরমমসল্লা।

ডিম কয়টা রান্না করছিস?

তিনটা। আমি একটা খাব, তোর দুটা।

চারটা ডিম দে। আমি তিনটা খাব।

আচ্ছা। তুই ঢাকায় যুদ্ধ করার জন্যে ঢুকেছিস?

না। বিশ্রাম নিতে এসেছিলাম। মরির সঙ্গে দেখা করার শখ ছিল। দেখা शला न्ग।

মরিটা কে?

আমার বউ, আদর করে মারি ডাকি। মরিয়মকে শর্ট করে মরি।

শাহেদ বিরক্ত গলায় বলল, তোর সবকিছুই উদ্ভট। আদর করে কেউ কাউকে মরি ডাকে!

একেকজনের আদরের ভঙ্গি একেকরকম। তুই ভাবিকে আদর করে কী ডাকিস?

জেপ ডাকি।

জেপ ডাকিস মানে? জোপের মানে কী?

কোনো মানে নাই।

মানে অবশ্যই আছে, তুই বলতে চাস না। না বললে নাই। ভাবির কাছ থেকে জেনে নেব। দেখা হলে আমি তাকে ডাকব জেপ ভাবি।শাহেদের চোখে সঙ্গে সঙ্গে পানি এসে গেল। নাইমুলের মুখ থেকে জেপ ভাবি শোনার পরপরেই শাহেদের চোখের সামনে সুন্দর একটা ছবি ভেসে উঠেছে। সে, নাইমুল, আসমানী আর রুনি তারা চারজন যেন কোথায় বেড়াতে গেছে।

অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা। দূরে পাহাড় দেখা যাচ্ছে। তাদের সবারই একটু শীত শীত করছে। এর মধ্যে নাইমুল আসমানীকে খুব বিরক্ত করছে। একটু পর পর বলছে–জেপ ভাবি, জেপ ভাবি।নাইমুল বাথরুম থেকে বলল, তোর রান্না কি হয়েছে? একটু বাকি আছে।শেষ হলে আমাকে বলবি, তখন বাথরুম থেকে বের হবে। স্ট্রেইট খেতে বসব। রান্না শেষ না হওয়া পর্যন্ত গায়ে পানি ঢালতেই থাকব।ঠাণ্ডা লাগাবি তো।

আমরা যারা মুক্তিতে আছি তারা ওয়াটারপ্রািফ ঘড়ির মতো ঠাণ্ডাপ্রািফ হয়ে গেছি। রোদবৃষ্টিতে এখন কিছুই হয় না। ভাবির হাতে হাঁসের মাংস খেতে ইচ্ছা! করছে। একবার ভাবি রান্না করেছিল, আমি একাই একটা আস্ত হাঁস খেয়ে ফেলেছিলাম। ভাবি আমার নাম দিয়েছিল হাস রাক্ষস! তোর মনে আছে?

মনে আছে।খেতে বসে নাইমুল খিচুড়ি ছানাছানি করতে লাগল। শাহেদের দিকে তাকিয়ে করুণ গলা করে বলল, ক্ষিধা কেন জানি চলে গেছে। এখন শুধু ঘুম পাচ্ছে। আমার ভাগের খিচুড়ি রেখে দে। ঘুম ভাঙলে খাব।শাহেদ বলল, কিছুই তো মুখে দিলি না।ক্ষিধেটা ঘুমের দিকে টার্ন নিয়ে নিয়েছে। এখন না ঘুমালে মরে যাব।নাইমুল খাওয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, তোর জন্যে একটা উপহার। আমি নিয়ে এসেছি। উপহারটা শুরুতেই দিতে পারতাম। ইচ্ছা করে দেরি করলাম।শাহেদ বিস্মিত হয়ে বলল, কী উপহার?

একটা চিঠি।

কার চিঠি?

কোথায় ঘুমাব সেই জায়গাটা আগে দেখিয়ে দে। ঘুমিয়ে পড়লে খবরদার আমাকে জাগাবি না। তোর বাসায় মিলিটারি ঢুকে পড়লেও না। আমার প্যান্টের পকেটে চিঠিটা আছে। নিয়ে পড়।শাহেদ চিঠি পড়ছে। তার কাছে মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হচ্ছে। বাড়িঘর দুলছে। শা শা। শব্দ হচ্ছে। কানের পাশ দিয়ে গরম বাতাস যাচ্ছে। প্ৰবল আনন্দের সময় এরকম অনুভূতি হয় তার জানা ছিল না। রুলটানা কাগজে ছোট্ট চিঠি–

জেপ গো,

আমি রুনিকে নিয়ে ভালো আছি! শরণার্থী শিবিরে ছিলাম, তোমার বন্ধু নাইমুল সাহেব সেখান থেকে এনে তার এক আত্মীয় বাড়িতে রেখেছেন। সেই বাড়িতে আমরা অতি যত্নে আছি। নিরাপদে আছি।

ইতি–

তোমার জেপ, আসমানী

শাহেদ চিঠি হাতে নাইমুলের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। নাইমুল শিশুদের মতো কুণ্ডলি পাকিয়ে ঘুমাচ্ছে। আরামের গাঢ় ঘুম।দরজা খুলেই ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী আনন্দিত গলায় বললেন, আরো তুমি! কেমন আছ শাহেদ?

নাইমুল স্যারের পা ছুঁয়ে সালাম করতে করতে বলল, স্যার, আমি শাহেদ না, আমি নাইমুল।ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বললেন, নাইমুল নামটাই মাথায় এসেছে। বলার সময় শাহেদ বলে ফেলেছি। তোমার ঐ বন্ধুটা কোথায়?

সে ইন্ডিয়ার দিকে রওনা হয়েছে। তার স্ত্রী-কন্যার অনুসন্ধানে। আজ সকালেই রওনা দিয়েছে।ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী বিস্ময়ে অভিভূত হবার মতো ভঙ্গি করলেন। মুখে বললেন, বিলো কী! আশ্চর্য তো! নাইমুল মনে মনে হাসল। কী অদ্ভুত মানুষ। জগতের কোনো কিছুর সঙ্গে মানুষটার যোগাযোগ নেই, অথচ তা তিনি প্ৰকাশ করতেও অনিচ্ছুক।

স্যার, দুপুরে আপনার সঙ্গে খাব।অবশ্যই খাবে। স্পেশাল ডিশ হবে। তুমি বাজার করে নিয়ে আসো। ঘরে চাল-ডাল ছাড়া কিছুই নেই। ইলিশ মাছ খাওয়া যাক, কী বলো? মাছ কাটিয়ে নিয়ে আসবে। তেলে ভেজে গরম গরম খাব।নাইমুল বলল, মাছ খাওয়া যাবে না স্যার। বাংলাদেশের মানুষ এখন মাছ খায় না।কেন? মাছ খায় না কেন? মিলিটারিরা মানুষ মেরে মেরে নদীতে ফেলে। নদীর মাছ মরা-গলা ডেড বডির মাংস খায়। এই জন্যেই মাছ খাওয়া নিষেধ।

ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী বললেন, ইলিশ মাছ তো নদীর মাছ না। সাগরের মাছ।সাগরের মাছ হলেও এরা ধরা পড়ে নদীতে।সেটাও কথা। তবে মাছ ডেডবডি খাবে কেন? মাছ কি আমিষাশী? লাইব্রেরি ঘরে যাও তো। মাছের উপর কিছু বইপত্র থাকার কথা। পড়ে দেখি মাছ আমিষাশী কি-না। দেখা যাবে মাছ আমিষই খায় না। মাটি শৈবাল এইসব খায়। মাঝখান থেকে আমরা মাছ খাওয়া বন্ধ করে বসে আছি।

নাইমুল লাইব্রেরি ঘরে গেল না। সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকে গেল। তার চায়ের পিপাসা হয়েছে। নাইমুল রান্নাঘর থেকে বলল, স্যার, আপনি চা খাবেন?ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী বিরক্ত গলায় বললেন, তুমি রান্নাঘরে কী করছ? তোমাকে বললাম না, মাছের উপর বই খুঁজে বের করতে? নাইমুল চায়ের পানি বসিয়ে দিয়ে মাছের উপর বই খুঁজতে গেল। স্যারের উপর তার সামান্য রাগ হচ্ছে। ডেডবডি পানিতে ফেলছে বলে মাছ খাওয়া বন্ধ, এই বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বহীন। গুরুত্ব পেয়ে গেছে মাছের খাদ্য কী!

নাইমুল!

জি স্যার।

বই পাওয়া গেছে?

খুঁজছি স্যার। সব বই এলোমেলো করে রাখা।বই তো এলোমেলোই থাকবে। গোছানো থাকবে শাড়ি, জামা-কাপড়। ভালো কথা, তুমি কি বিয়ে করেছ? জি স্যার।ঐ রাতে তো আমি ভালো বিপদে পড়েছিলাম। তুমি ভুল ঠিকানা দিয়ে চলে গেলে। আমি রাত দশটা পর্যন্ত বাড়ি খুঁজলাম। তোমার স্ত্রীর নাম কী?

মরিয়ম।সুন্দর নাম। যিশুর মাতা মরিয়ম। তুমি বৌমাকে নিয়ে অবশ্যই একদিন আসবে। আগে থেকে খবর দিয়ে আসবে যেন সার্ট-পাঞ্জাবি কিছু একটা গায়ে থাকে। খালি গায়ে থাকা হয়েছে। অভ্যাস। মেয়েদের সামনে খালি গায়ে থাকা বিরাট অসভ্যতা।

আমি খবর দিয়েই তাকে আনিব। বই পাওয়া গেছে স্যার।ভেরি গুড। আমার কাছে বই দাও, আর একটা কাগজ-কলম দাও।কাগজ-কলম কী জন্যে? নোট করি। ছাপার অক্ষরের উপর দিয়ে শুধু চোখ বুলিয়ে গেলে তো হবে না। নোট নিতে হবে। কী পড়েছ সেটা ভাবতে হবে।স্যার, আমি কয়েকদিন আপনার সঙ্গে থাকব।থাক।আপনার অসুবিধা হবে না তো?

ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী জবাব দিলেন না। তিনি খাতায় নোট নেয়া শুরু করেছেন।নাইমুল বলল, গতকাল আপনার বাড়ির কথা একেবারেই মনে আসে নি। গতকাল রাতে থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী এই কথার উত্তরেও কিছু বললেন না।চায়ের পানি ফুটছে। নাইমুল চা বানাতে গেল। মৎস্য বিষয়ক জটিলতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঋষিতুল্য এই মানুষটি কোনো কথা বলবেন না–এটা বোঝা যাচ্ছে।

পুণ্যবান মানুষের আশেপাশে থাকলেই পুণ্য হয়। আলাদা করে পুণ্য করতে হয় না। নাইমুল ঠিক করল, কয়েকদিন এই মানুষটার আশেপাশে থেকে সে পুণ্য সঞ্চয় করে নেবে। এই আলাভোলা মানুষ তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, পৈতৃক বাড়িঘর–সবই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে গেছেন। তিনি এখন চলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া পেনসনের টাকায়। মাঝে-মাঝে তার মেয়ে কানাডা থেকে ডলার পাঠায়।

স্যার!

বলো।

একটা প্রশ্ন ছিল, আপনি কি এই বাড়িটাও ইউনিৰ্ভাসিটিকে দিয়ে দিয়েছেন? হুঁ। তবে আমার মৃত্যুর পর।ইউনিৰ্ভাসিটি যদি এখনই বাড়ি চায়, আপনি কী করবেন?ধীরেন্দ্ৰনাথ রায় চৌধুরী রেগে গেলেন। ধমকের স্বরে বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এটা তো খুবই অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমি তো বলে দিয়েছি, মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে এই বাড়িতে থাকতে দিতে হবে। লিখিত কোনো ডিড অবশ্যি হয় নাই, মৌখিক কথা। দেখি টেলিফোনটা দাও তো।

ভাইস চ্যান্সেলর সাহেবের সঙ্গে কথা বলি। হুট করে আমাকে এত বড় ঝামেলায় ফেলা তো ঠিক না।নাইমুল বলল, স্যার, আপনি আপনার কাজ করুন। ইউনিৰ্ভাসিটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি। চা খান স্যার। চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী চায়ে চুমুক দিয়ে খাতায় নোট নিতে লাগলেন

রুই মাছ

বৈজ্ঞানিক নাম : Labeo rohita

খাদ্য : উদ্ভিদ ভুক। মাটিও খায়।

কাতল

বৈজ্ঞানিক নাম : Catila catla

খাদ্য : ফ্লাইটো প্লাঙ্কটন, জুপ্রাঙ্কটন। শ্যাওলা, জলজ উদ্ভিদ, ছোট চিংড়ি ও পোকামাকড়।

মৃগেল মাছ

বৈজ্ঞানিক নাম : Cirrhinus mrigala

খাদ্য : পচা জলজ উদ্ভিদ, পোকামাকড়, মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ, মাটি।

চিতল

বৈজ্ঞানিক নাম : Notopterus chitala

খাদ্য : আমিষাশী

এপর্যন্ত লিখে ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী ঘোষণা দিলেন–মাছ খাওয়া যাবে না; মাছের ডেডবডি খাবার সম্ভাবনা আছে। দুপুরে হবে ডিমের ঝোল।মিলিটারিরা গৌরাঙ্গকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তার পরনে একটা অতি ময়লা কালো রঙের প্যান্ট। খালি গা। অনেকদিন দাত ব্ৰাশ করা হয় নি বলে দাঁত কালচে হয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে দগদগে ঘায়ের মতো হয়েছে। গৌরাঙ্গের কোমরে দড়ি বাধা।

তবে তাকে মোটেই চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না। সে মনের আনন্দে সিগারেট টানছে। এই সিগারেট কিছুক্ষণ আগে এক লেফটেনেন্ট সাহেব দিয়েছেন। তিনি যে শুধু সিগারেট দিয়েছেন তা না। লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরিয়েও দিয়েছেন।মিলিটারিরা বদ্ধ উন্মাদ এই মানুষটাকে নিয়ে খুবই মজা পাচ্ছে। লেফটেনেন্ট সাহেব এক একবার পাগলটার সঙ্গে কথা বলেন এবং আনন্দে প্ৰায় ভেঙে পড়েন।

এই তুমি হিন্দু?

ইয়েস স্যার।

তুমি যে হিন্দু এটা প্রমাণ করো। প্যান্ট খুলে দেখাও।

গৌরাঙ্গ সঙ্গে সঙ্গে প্যান্ট খুলে দেখাল। তার মুখভর্তি হাসি।

তোমহারা বিবি কাহা?

মিলিটারি লে গিয়া।

তোমহারা বাচ্চা?

গুল্লি। খতম।

খতম বলার সময় গৌরাঙ্গ চোখ বন্ধ করে জিভ বের করে মরে যাওয়ার ভঙ্গি করল। মিলিটারি দলটার বড় আনন্দময় সময় যাচ্ছে। গৌরাঙ্গ যাই করছে তাই তাদের পছন্দ হচ্ছে।শেখ মুজিব কে?

Leader our great leader. জয় বাংলা।

তুমি জয় বাংলার লোক?

Yes sir.

জয় বাংলার লোকদের আমরা কী করি জানো?

জানি স্যার। গুল্লি করেন।

তোমাকেও তো গুল্লি করব।

জি আচ্ছা, স্যার।

আরেকটা সিগারেট খাবে?

জি স্যার।

লেফটেনেন্ট সাহেব। আবারো সিগারেট দিলেন, আবারো নিজেই ধরিয়ে দিলেন। তিনি পাগলটাকে আমি মেসে নিয়ে যেতে বলেন। গাছের সঙ্গে বাধা থাকবে। সবাই মজা পাবে। পাগলটা ইংরেজি জানে। এটাও একটা ইন্টারেষ্টিং ব্যাপার।

What is your name?

My name is গৌরাঙ্গ।

What is the meaning of the name?

Fair Skin.

লেফটেনেন্ট সাহেব বললেন, বিলো, পাকিস্তান জিন্দাবাদ।গৌরাঙ্গ লজ্জা লজ্জা গলায় বলল, জয় বাংলা।এতেও লেফটেনেন্ট সাহেব খুব মজা পেলেন। গৌরাঙ্গকে আর্মি মেসে নিয়ে যাওয়া হলো।৩৬ ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল জামশেদের খাস কামরায় জরুরি স্টাফ মিটিং বসেছে। উপস্থিত আছেন ৯৩ ব্রিগেডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার কাদির। ট্যাংকাবাহিনী প্ৰধান কর্নেল ফজলে হামিদ। বিমানবাহিনীর ঢাকা বেস কিমান্ডার এয়ার কমোডর এনাম আহমেদ।

ব্রিগেডিয়ার কাসিম এবং ব্রিগেডিয়ার বশীর। নারায়ণগঞ্জ এলাকার দায়িত্বে নিযুক্ত ব্রিগেডিয়ার মনজ্বর শুধু আসেন নি। তিনি জেনারেল নিয়াজীকে নিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন।জরুরি স্টাফ মিটিং সকাল নটায় শুরু হবার কথা। এখন বাজছে দশটা এগারো, মিটিং শুরু হয় নি। কারণ জেনারেল নিয়াজী এসে পৌঁছান নি। তিনি জানিয়েছেন–পাকিস

্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ গুল হাসানের সঙ্গে তার অতি জরুরি কিছু কথা হবে। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে কথা হচ্ছে না। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।ব্রিগেডিয়ার বশীর বললেন, আমরা নিজেরা কি আলোচনা শুরু করতে পারি না?

জেনারেল জামশেদ প্রশ্নের জবাব দিলেন না। তিনি তার সামনে রাখা টিপট থেকে চায়ের কাপে চা ঢাললেন। ছোট্ট একটা দুর্ঘটনা ঘটল। চায়ের কাপ উল্টে গেল। চা পড়ল। ধবধবে সাদা টেবিলে। গতি স্টাফ মিটিংয়ে একই ব্যাপার ঘটেছে। এর পেছনে কি কোনো ইঙ্গিত আছে? যুদ্ধকালীন সময়ে ছোটখাটো বিষয়েরও অর্থ খোঁজা হয়। লক্ষণ বিচার করা হয়। ডেজার্ট ফক্স ট্যাংক সেনাপতি জেনারেল রোমেলও অভিযান শুরুর আগে নানান লক্ষণ বিচার করতেন।

টেবিলক্লথে পড়া চা মুছে দেবার জন্যে জেনারেল জামশেদের এডিসি রুমাল নিয়ে এগিয়ে এলেন। জামশেদ তাকে হাতের ইশারায় চলে যেতে বললেন। টেবিলক্লথের চা ম্যাপের মতো তৈরি করছে। কে জানে এই ম্যাপেও হয়তো ইশারা আছে। ম্যাপটা দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ডের ম্যাপের মতো।বিগ্রেডিয়ার কাদির হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় বললেন, আমরা কতক্ষণ অপেক্ষা করব?

জেনারেল জামশেদ টেবিলক্লথে তৈরি হওয়া ম্যাপ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ব্রিগেডিয়ার কান্দিরের দিকে তাকালেন।কাদির বললেন, স্যার, আপনি কি জেনারেল নিয়াজীর সঙ্গে আরেকবার কথা বলে দেখবেন? আমরা আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব? আমাকে টঙ্গী যেতে হবে। সেখানে আমার ফিল্ড মিটিং আছে।জেনারেল জামশেদ টেলিফোনের দিকে হাত বাড়ালেন। আর তখনি টেলিফোন বাজল। নিয়াজীর ফুর্তিমাখা গলা শোনা গেল— হ্যালো জামশেদ!

ইয়েস স্যার।

তোমরা মিটিং শুরু করে দাও। আমি আজ আর আসব না।

ঠিক আছে স্যার।

উপস্থিত সবাইকে তাদের অতি বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্যে আমার অভিনন্দন জানাবে।

অবশ্যই জানাব।

তারা সবাই পাকিস্তানের নিবেদিত যোদ্ধা এবং পাকিস্তানের অহঙ্কার।

জি স্যার।

তোমার গলার স্বর বিষণ্ণ কেন? গতরাতে কি তুমি তোমার স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখেছ? স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখলে সৈনিক পুরুষদের মন বিষণ্ণ হয়। হা হা হা। হ্যালো জামশেদ।

ইয়েস স্যার।

মজার একটা জোক শোনো। এই জোকটা তুমি তোমার অফিসারদের সঙ্গে শেয়ার করতে পার। সবাই মজা পাবে। এক পাঞ্জাবি সুবাদার মেজর, নাম মিঠা খান। তার আসল যন্ত্রটার দৈর্ঘ্য ছিল এক ফুট। মন দিয়ে শোন, এক ফুট। সে তার এই বিশেষ যন্ত্র সুরক্ষিত রাখার জন্যে তার স্ত্রীকে একটা উলের মোজার মতো জিনিস বানাতে বলল। জামশেদ, শুনতে পাচ্ছ?

পাচ্ছি।

যন্ত্রটার দৈর্ঘ্য কত মনে আছে তো?

এক ফুট।

রাইট। তোমার স্মৃতিশক্তি অসাধারণ। যাই হোক, মূল গল্প শোনো। মিঠা খানের স্ত্রী উলের মোজার মতো জিনিস তৈরি করল। তারপর… হা হা হা।জেনারেল জামশেদ ধৈর্য ধরে কুৎসিত রসিকতাটা শুনলেন।ভদ্রতার হাসি হাসা উচিত। তার প্রয়োজন নেই। কারণ নিয়াজী নিজেই হোসে টেলিফোন ফাটিয়ে ফেলছেন। অন্য কারো হাসি শোনার প্রয়োজন তার নেই।

জামশেদ, রসিকতাটা কেমন?

ভালো রসিকতা।

এই লাইনের আরেকটা গল্প আছে। মডিফায়েড ভার্সন। তোমাকে আরেকদিন শোনাব। মনে করিয়ে দেবে।

জি। মনে করিয়ে দেব।

আমি যে আনন্দে আছি বুঝতে পারছ?

আপনি সবসময়ই আনন্দে থাকেন।

দ্যাটস রাইট। তবে আজ আনন্দিত হবার মতো ব্যাপার আছে। চাইনিজ আর কামিং।

সে তো অনেকদিন থেকেই শুনছি।

অনেকদিনর শোনা আর আজকের শোনা আলাদা। তারা ঝাঁকে ঝাঁকে নামবে।

নামলে তো ভালোই।

এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটনা ঘটবে। ভালো কথা, চাইনিজদের নিয়ে একটা মজার রসিকতা আছে। শুনবে? বলুন, শুনছি।নিয়াজী চাইনিজদের নিয়ে রসিকতাটা শুরু করেও শেষ করতে পারলেন না। হেড কোয়ার্টার থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে লাইনে থাকতে হলো।

জেনারেল জামশেদ জরুরি মিটিং শুরু করলেন। আজকের এজেন্ডা সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। তিনি সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, আমাদের সৈনিকদের মরাল কী? তার এই প্রশ্নের কেউ উত্তর দিল না। জেনারেল জামশেদ বললেন, সৈনিকদের মরাল সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে বলে আমার ধারণা। এর কারণটা কী? যুদ্ধ শুরুই হয় নি। কিছু মুক্তি এদিক ওদিক ফুটফাট করছে। এতেই এই অবস্থা? কিছু বর্ডার আউটপোস্ট চাপের মধ্যে আছে। কিন্তু এখনো তো কোনো আউটপোস্ট কেউ দখল করে নি। ইন্ডিয়া সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করলে তবেই আমরা খানিকটা চাপে পড়ব।

এয়ার কমোডর এনাম আহমেদ বললেন, খানিকটা চাপে পড়ব? আমরা কি নিজেদের সম্পর্কে অতিরিক্ত আস্থা দেখাচ্ছি না? একজন প্রকৃত সৈনিক কি নিজেকে শক্রর কাছে তুচ্ছ ভাববো? জেনারেল, আপনি কী বলতে চাচ্ছেন? আমি প্রকৃত সৈনিক না? আপনি অকারণে উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? বিমানবাহিনীর প্রধান কাজ উত্তেজিত হওয়া। মূল যুদ্ধ করে স্থল বাহিনী। বাকিরা উত্তেজিত হয়।আপনি কি এই জরুরি মিটিং ব্যক্তিগত কোন্দলের জন্যে ডেকেছেন?

জেনারেল জামশেদ বললেন, আপনি এই মিটিং অপ্রয়োজনীয় মনে করলে চলে যেতে পারেন।কিছুক্ষণের জন্যে সবাই চুপ করে গেল। পরিস্থিতি সামাল দিলেন কর্নেল ফজলে হামিদ। তিনি বললেন, আমাদের সামনের সময়টা ভালো না। সামনের দুঃসময়ের কথা ভেবে আমরা কি আমাদের কথাবার্তায় কিছুটা সংযত হতে পারি না?

জেনারেল জামশেদ বললেন, আমি যে সাময়িক উত্তেজনা দেখিয়েছি, তার জন্যে দুঃখিত। সত্যি কথা আপনাদের বলি, আমি হতাশাগ্ৰস্ত। বড় বড় কথা হতাশাগ্রস্তরা বলে। মুক্তিদের আমরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছি। এদের তুচ্ছ করা কি আর এখন উচিত? এরা শক্তি সঞ্চয় করছে।

এয়ার কমোডর বললেন, এরা এমন কোনো শক্তি সঞ্চয় করে নি যে আপনার মতো একজন শক্ত জেনারেল হতাশাগ্ৰস্ত হবেন।জেনারেল জামশেদ তার রিভলভিং চেয়ার পুরোপুরি এয়ার কমোডরের দিকে ফিরিয়ে বললেন, কাদের সিদ্দিকী নামের সিভিলিয়নকে আপনি চেনেন? চেনেন না?

নামটা পরিচিত বলে মনে হচ্ছে না।নামটা পরিচিত হবার কথা। ছয়ত্রিশতম ব্রিগেডের একটা বড় অংশ আমরা তার পেছনে লাগিয়েছি। আপনাকে আপনার বিমানবাহিনী নিয়ে বেশ কয়বার তাদের আক্রমণ করতে হয়েছে। তার টিকির দেখাও আমরা পাচ্ছি না। তারপরেও আপনি যদি বলেন, তার নাম আপনার পরিচিত মনে হচ্ছে না, তাহলে আমার কিছু বলার নেই।

তার ভয়ে এতটা ভীত হবার কোনো কারণ দেখি না।আপনি দেখছেন না। আমি দেখছি। আমাদের অস্ত্ৰ বোঝাই জাহাজ সে দখল করে নিয়েছে। তাও একটা না। তার হাতে এখন অন্ত্রের অভাব নেই।আমাদের আজকের এই জরুরি মিটিং কি তাকে নিয়ে?

তার মতো আরো তৈরি হবে।হোক, তখন দেখা যাবে। ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে এখনই দুঃস্বপ্ন দেখা কাজের কথা না।বেশ তাহলে কাজের কথা কী আপনি বলুন।সভা আবারো নীরব হয়ে গেল। একসময় ব্রিগেডিয়ার কাসিম বললেন, চাইনিজ সাহায্যের কথা শুনছি। সেই সাহায্য কলে এসে পৌঁছবে?

জেনারেল জামশেদ ক্লান্ত গলায় বললেন, চাইনীজ সাহায্যের আমাদের প্রয়োজন কী? এয়ার কমোডর এনাম আহমেদের মতো দুৰ্যর্ধ মানুষজন থাকতে আমরা কেন বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি? যাই হোক, আজকের মিটিং অসম্পূর্ণ। জেনারেল নিয়াজীর উপস্থিতিতে আমরা অতিসত্ত্বর আবার বসব। গুড ডে।পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল গুল হাসান খানের সঙ্গে জেনারেল নিয়াজীর টেলিফোনের মাধ্যমে কিছু কথাবার্তা হলো।

অস্ত্র এবং বিশটি মাঝারি ধরনের ট্যাংক নিয়ে একটা চীনা জাহাজ চিটাগাং পোর্টে ভিড়েছে। কথাবার্তা হলো মাল খালাস প্রসঙ্গে। গুল হাসান খান বললেন, আপনি অস্ত্ৰ খালাস করবেন। কিন্তু ট্যাংকগুলো পাঠিয়ে দেবেন। পশ্চিম পাকিস্তানে।নিয়াজী বললেন, ট্যাংকগুলোই আমার প্রয়োজন।ট্যাংকগুলো আপনি চিটাগাং থেকে ঢাকা কীভাবে নিয়ে যাবেন? ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ। সড়কপথের সমস্ত ব্রিজ নষ্ট।

ট্যাংকগুলো কীভাবে ঢাকায় নেব তা আমার ব্যাপার।

আপনি কি দয়া করে বলবেন, ট্যাংকগুলি কীভাবে নেবেন?

কীভাবে নেব সেটা আমার ব্যাপার।

আমারও জানার ব্যাপার থাকতে পারে।

অস্ত্র এবং ট্যাংক এসেছে ইস্টার্ন কমান্ডের জন্যে।

মূল প্রসঙ্গে আসুন, ট্যাংকগুলো আপনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কীভাবে নেবেন? আমি তো আগেও বলেছি, সেটা আমার ব্যাপার।শুনুন জেনারেল, সব ট্যাংক আপনি করাচি পোটে পাঠাবেন। এটা হচ্ছে একটি সামরিক আদেশ।গুল হাসান খান টেলিফোন রেখে দিলেন। নিয়াজী সামরিক আদেশ অগ্রাহ্য করলেন। জাহাজের সব কিছুই চিটাগাং পোর্টে খালাস করা হলো।*

টেলিফোনের কথাবার্তায় জেনারেল নিয়াজীর মেজাজ বেশ খারাপ হলো। তবে এই খারাপ মেজাজ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। তিনি সামান্য ভদকা পান করলেন। ভদকা শীতের দেশের পানীয় হলেও বাংলাদেশের গরমেও এটা ভালো লাগে। প্রচুর বরফ এবং প্রচুর লেবু দিয়ে বানানো ভদকার গ্লাসে চুমুক দেয়া মাত্রই তার মনে একধরনের ফুরফুরে ভাব হয়।

মনে হয় সৈনিক জীবনটা তো খারাপ না। বিশাল এক দায়িত্ব নিয়ে তিনি এসেছেন। দায়িত্ব তিনি ভালোমতোই পালন করছেন। এই যুদ্ধ কিছুদিনের মধ্যেই থেমে যাবে। তখন তিনি ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী হয়ে যাবেন। পাঠ্যবই-এ লেখা হবে পাকিস্তানের অতি দুঃসময়ে টাইগার নিয়াজী হাল ধরেছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published.