হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

হুজুরে কেবলা শব্দ করে হাসলেন। হাসি থামিয়ে বললেন, জনাব আমি ভালো আছি। আপনি ইচ্ছা করলে আমার সামনে সিগারেট খেতে পারেন। আমি এমন কোনো ব্যক্তি না যে আমার সামনে সিগারেট খাওয়া যাবে না। যদিও এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

মিসির আলি সামান্য চমকালেন। হুজুরে কেবলা এমন ভঙ্গিতে কথা বলেছেন যাতে মনে হতে পারে তিনি থট রিডিং জানেন। মিসির আলি মনে মনে ঠিক যা ভাবছেন তা বলতে পারছেন।সিগারেট ধরাবার ইচ্ছা মিসির আলির হচ্ছে এটা ঠিক। হুজুরে কেবলার জন্যে সিগারেট ধরাতে সংকোচ হচ্ছে এটাও ঠিক। কিন্তু ব্যাপারটা হুজুরে কেবলার জানার কথা না।

মিসির আলি সিগারেট ধরালেন। হুজুরে কেবল বললেন, আপনাকে সিগারেট ধরাতে বলেছি। এতে আপনি সামান্য চমকেছেন বলে আমার মনে হলো। চমকানোর কিছু নেই। আপনার এশট্রেতে সিগারেট দেখে বুঝেছি আপনি সিগারেট খান। আপনার গা থেকেও সিগারেটের গন্ধ আসছিল। যারা সিগারেট খায় তারা যখন অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়ে তখন তাদের সিগারেট ধরাতে ইচ্ছা! করে। আমার সামনে আপনি বসে আছেন, আপনি আমাকে প্রশ্ন করছেন, আমি জবাব দিচ্ছি না। আপনি পড়েছেন অস্বস্তিকর পরিবেশে। কাজেই আমি ধরে নিয়েছি আপনার সিগারেট ধরাবার ইচ্ছা হচ্ছে।

মিসির আলি এতক্ষণ ভদ্রলোকের দিকে ভালোভাবে তাকান নি। এবার তাকালেন। বয়স অল্প। পাঁচিশ-ছাব্বিশ। টকটকে গৌরবর্ণ। টানাটানা চোখ সুরমা দিয়ে সেই চোখ আরো টানা হয়েছে। ঠোঁট টকটকে গোলাপি। পুরুষদের যে কোনো সৌন্দৰ্য প্রতিযোগিতায় তিনি অবশ্যই ফাস্ট প্রাইজ কিংবা রানার্সআপ প্ৰাইজ নিয়ে নেবেন।মিসির আলি সাহেব! কি।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

আমি বুদ্ধি খাটিয়ে এ রকম দু’একটা কথা বলি। লোকে মনে করে আমার বিরাট আধ্যাত্মিক ক্ষমতা। কেউ চিন্তাও করে না। আমার ক্ষমতাটা আধ্যাত্মিক নাও হতে পারে। আমি যতদূর শুনেছি আপনি একজন মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছু বলতে পারেন। আপনি যখন বলেন তখন কিন্তু আপনার ক্ষমতাকে কেউ আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ভাবে না।

মিসির আলি বললেন, আমি যদি আপনার মতো লম্বা দাড়ি রাখি, চোখে সুরমা দেই, মাথায় পাগড়ি পরি তখন আমার ক্ষমতাকেও লোকে ভাববে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা।হুজুরে কেবলা বললেন, আমি মাঝে মাঝে ভবিষ্যদ্বাণী করি। আমাকে করতে হয়। আমি যাকে যা বলি তাই নাকি সত্যি হয়। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি।মিসির আলি বললেন, আপনি হয়তো নস্ট্রাডেমাস স্টাইলে ভবিষ্যদ্বাণী করেন।সেটা কি?

নস্ট্রাডেমাসের জন্ম ফরাসিতে ১৫০৩ সনে। তিনি অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সারা পৃথিবীতে খুব হৈচৈ হচ্ছে। কারণ সবাই বলছে তিনি যা বলেছেন সব মিলে যাচ্ছে। আসলে কিন্তু তা না। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কবিতার আকারে। সরাসরি কখনো কিছু বলেননি। এই কারণে মনে হয় যা বলা হচ্ছে সবই মিলে যাচ্ছে।

ভদ্রলোকের নাম কি বললেন?

নস্ট্রাডেমাস।

উনি অস্পষ্টভাবে কবিতায় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন?

জি।

উদাহরণ দিতে পারবেন?

উনি বলেছেন

An emperor will be born near Italy.

Who will cost the empire very dearly.

খুবই অস্পষ্ট কথা। এই emperor নেপোলিয়ান হতে পারেন, আবার হিটলারও হতে পারেন। আবার অস্ট্রিয়ার রাজাও হতে পারেন।আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি বুঝেছি। তবে আমি কিন্তু অস্পষ্টভাবে কিছু বলি না। আমি যা বলি স্পষ্টভাবে বলি। আপনার সম্পর্কে একটা ভবিষ্যদ্বাণী করব?

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

মিসির আলি বিস্মিত হয়ে বললেন, করুন।পীর ভাই নির্বিকার ভঙ্গিতে অত্যন্ত স্পষ্ট স্বরে বললেন–আপনি দু’একদিনের মধ্যে বিরাট বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। এমন বিপদ যার কোনো পারাপার নাই।কি ধরনের বিপদ?

জীবন সংশয় হয় এমন বিপদ। এর বেশি কিছু বলব না।পীর ভাই উঠে দাঁড়ালেন। মিসির আলি তাকিয়ে আছেন। পীর ভাই-এর মুখে হাসি। হাসির মধ্যে শিশুর ভঙ্গিমা আছে। শিশুরা কোনো একটা চালাকি করে বড়দের হারিয়ে দিলে এ রকম করে হাসে।

রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন লম্বা এক মানুষ তাঁর ঘরে ঢুকেছে। মানুষটা ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আতরের গন্ধে ঘর ভর্তি হয়ে গেল। স্বপ্নের মধ্যেই মিসির আলি অস্বস্তি বোধ করছেন। স্বপ্ন হবে বর্ণ এবং গন্ধহীন, তাহলে তিনি গন্ধ পাচ্ছেন কেন? লম্বা মানুষটা তার দিকে তাকিয়ে বললেন, আসসালামুআলাইকুম। তার গলা অপূর্ব সুরেলা। স্বপ্নের মধ্যেই মিসির আলি উঠে বসলেন। লম্বা মানুষটা বললেন, আমার ভবিষ্যদ্বাণী কি মিলেছে মিসির আলি সাহেব?

মিসির আলি বললেন, ও আচ্ছ। আপনি।লম্বা মানুষটা বললেন, কথার জবাব দিন, আমার ভবিষ্যদ্বাণী কি মিলেছে? মিসির আলি বললেন, না। আমি কোনো বিপদে পড়িনি। আঁখিতারা বিপদে পড়েছে।আপনি বিপদে পড়েছেন। আপনি বুঝতে পারছেন না।মিসির আলি বললেন, আপনার কথা আমি সত্যি বলে ধরে নিলাম। ধরে নিলাম আমিই বিপদে পড়েছি। এখন বলুন আপনি কি করে বুঝলেন আমি বিপদে পড়ব।

সেটা বলব না।

কেন বলবেন না?

সব কিছু সবাইকে বলতে নেই। সব রহস্য সবাইকে জানতে নেই।মিসির আলি বললেন, রহস্য আগলে রাখা ঠিক না। বিজ্ঞানীরা যখনই কোনো রহস্য ধরে ফেলেন তখনই তাঁরা তা সবাইকে জানান। পৃথিবী যে আজ এত দূর এগিয়েছে এই কারণেই এগিয়েছে। তারা রহস্য আগলে বসে থাকলে আমরা এত দূর আসতে পারতাম না। অন্ধকারে ড়ুবে থাকতাম।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

অন্ধকারে ড়ুবে থাকাই ভালো।

তাই কি?

হ্যাঁ ভাই। আপনি ঘুমুচ্ছেন। ঘুম হলো অন্ধকার। অন্ধকার ভালো না?

মিসির আলি জবাব দিলেন না। গাঢ় ঘুমে তলিয়ে গেলেন।

আঁখিতারার জ্বর এসেছে।

সে চাদর গায়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে। চাদরে শীত মানছে না। একটু পরপর কোপে কেঁপে উঠছে। মিসির আলি তার কপালে হাত রেখে চমকে উঠেছেন। জুরে গা পুড়ে যায় বলে যে বাক্যটি প্রচলিত সেটা পুরোপুরি সত্যি বলে মনে হচ্ছে।আঁখিতারা, শরীর বেশি খারাপ লাগছে?

সে চোখ মেলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার চোখ বন্ধ করে ফেলল। মিসির আলি অস্থির বোধ করলেন। অসুখ-বিসুখের ব্যাপারগুলিতে তিনি অস্থির বোধ করেন। অসহায়ও বোধ করেন। অসুখ-বিসুখের সমস্যা মোকাবিলার মতো শক্তি তার নেই।পানি খাবে? পানি?

আঁখিতারা আবারও চোখ মেলল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে ফেলল।মেয়েটির জ্বর কমানোর ব্যবস্থা করা দরকার। ডাক্তার ডাকা দরকার। মেয়েটি যেভাবে কেঁপে কেঁপে উঠছে তার অবশ্যই শীত লাগছে। তিনি কি এখন তার গায়ে লেপ দিয়ে দেবেন? এতে মেয়েটার শীত ভাব কমবে। অথচ তিনি জানেন জ্বর কমানো কী করে সম্ভব।আঁখিতারা, শরীর বেশি খারাপ লাগছে? না।অনেকক্ষণ পর সে প্রথম একটা শব্দ করল। এক অক্ষরের এই শব্দ করতেও মনে হয় তার খুব কষ্ট হলো।মিসির আলি বললেন, শীত লাগছে? হুঁ।গায়ে লেপ দিয়ে দেব?

হুঁ।মিসির আলি কী করবেন বুঝতে পারছেন না। লেপ দিয়ে কি মেয়েটাকে ঢেকে দেবেন? শরীর তার প্রয়োজনের কথা জানাচ্ছে। এই প্রয়োজন কি মিটানো উচিত নয়? আমাদের যখন ক্ষিদে পায় শরীর সেটা জানান দেয়। তখন খাদ্য গ্ৰহণ করতে হয়। আঁখিতারার শরীর জানাচ্ছে তার শীত লাগছে। কাজেই তার শীত কমানোর ব্যবস্থা করাই তো যুক্তিযুক্ত। যদিও ডাক্তাররা বলেন–এই অবস্থায় গায়ে পানি ঢালতে হবে।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

প্রয়োজনে বরফ-মেশানো পানিতে বাথটাবে গলা পর্যন্ত ড়ুবিয়ে রাখতে হবে। ব্যাপারটা এমনও হতে পারে–জ্বরতপ্ত মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নিউরোন এলোমেলো সিগন্যাল দেয়।দরজার কড়া নড়ছে। কেউ একজন এসেছে। মিসির আলি স্বস্তিবোধ করলেন। যে এসেছে তার সঙ্গে পরামর্শ করা যাবে। বিপদের সময় নিজের বুদ্ধির ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়। সে অন্যের বুদ্ধির দিকে তাকিয়ে থাকে।কড়া নাড়ছিল মনসুর।মিসির আলি দরজা খুলতেই সে বলল, জ্বর কার?

মিসির আলি বললেন, আমার একটা কাজের মেয়ে আছে, নাম আঁখিতারা। তার অসুখ। মিসির আলির একবারও মনে হলো না মনসুরের জানার কথা না জ্বর কার। প্রশ্নটা সে করল কীভাবে?

মনসুর বলল, জ্বর কি বেশি?

অনেক বেশি। কী করা যায় বলো তো?

মনসুর বলল, আপনি অস্থির হবেন না। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।মিসির আলি স্বস্তির সঙ্গে লক্ষ করলেন মনসুর ছেলেটা কাজের। সে অতিদ্রুত মাথায় পানি ঢালার ব্যবস্থা করল। পাঞ্জাবির পকেট থেকে একপাতা প্যারাসিটামল বের করে দুটা টেবলেট খাইয়ে দিল। মিসির আলি বললেন, তুমি অষুধ পকেটে নিয়ে ঘোরো নাকি? মনসুর বলল, আমার মাথাধরা রোগ আছে। যখন-তখন মাথা ধরে। সঙ্গে অষুধ রাখতে হয়। স্যার, আপনার ঘরে কি থার্মোমিটার আছে? না।

জ্বরটা দেখা দরকার। আপনি মাথায় পানি ঢালতে থাকুন, আমি চট করে একটা থার্মোমিটার কিনে নিয়ে আসি।মনসুর ঘর থেকে বের হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই থার্মোমিটার নিয়ে ফিরে এলো। জ্বর মাপা হলো। একশ’ পাঁচ।কারোর জ্বর একশ’ পাঁচ হতে পারে তা মিসির আলির ধারণার মধ্যেও নেই। মেয়েটির মুখ ছাইবৰ্ণ হয়ে গেছে। চোখ লাল টকটক করছে। মিসির আলি বললেন, মনসুর, এখন আমাদের করণীয় কী?

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

মনসুর বলল, আপনার করণীয় হলো চুপচাপ বসে থাকা। আমি বাকিটা দেখছি। সামান্য অসুখে এতটা নাৰ্ভাস হতে আমি কাউকে দেখিনি।একশ’ পাঁচ জ্বর, এটাকে তুমি সামান্য বলছ? ভাইরাসের জ্বর ধুমধাম করে বাড়ে। বাচ্চারা সামাল দিতে পারে। বয়স্ক মানুষের জন্য অসুবিধা হয়। স্যার, আপনি বসার ঘরে চুপচাপ বসে থাকুন। আমি যা করার করছি।তুমি কী করবে?

প্ৰথমে আপনাকে কড়া করে এক কাপ চা বানিয়ে খাওয়াব। তারপর মেয়েটাকে বাথরুমে নিয়ে যাব। মাথায় চার-পাঁচ বালতি পানি ঢালব।আমাকে চা খাওয়াতে হবে না। তুমি একজন ডাক্তার ডেকে আনো।সকালে কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ডাক্তাররা প্ৰাইভেট রোগী দেখতে শুরু করেন বিকেলে। আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। আমি আঁখিতারার জ্বর নামিয়ে দিচ্ছি।

বিকেলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। আপনি সিগারেট টানতে থাকুন। আমি এক ফাঁকে চা বানিয়ে দিয়ে যাব।মিসির আলি বসার ঘরে এসে সিগারেট ধরালেন। মেয়েটাকে বাথরুমে নেওয়া হয়েছে এবং তার মাথায় বালতি বালতি পানি ঢালা হচ্ছে। একেকবার পানি ঢালা হচ্ছে মেয়েটা আর্তনাদের মতো করছে। মিসির আলি চমকে চমকে উঠছেন।

স্যার, চা নিন।পানি ঢালার ফাঁকে ফাঁকে মনসুর চা বানিয়ে ফেলেছে। ছেলেটার কাজ করার ক্ষমতা আছে। মিসির আলি বললেন, জ্বর কি কিছু কমেছে? মনসুর বলল, এখনো থার্মোমিটার দিয়ে মাপি নি। তবে কিছু নিশ্চয়ই কমেছে। চায়ে চিনি-টিনি সব ঠিক আছে কি-না দেখুন।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৬

মিসির আলি চায়ের কাপে চুমুক দিলেন। চিনি ঠিক আছে। যে রকম ঘন লিকার খেয়ে তিনি অভ্যস্ত সেই ঘনত্ব ঠিক আছে। মিসির আলি দ্বিতীয় সিগারেট ধরালেন। বাথরুমে পানি ঢালার শব্দ শুনতে শুনতে তিনি সিগারেট টানছেন। তার মাথায় কিছু প্রশ্ন চলে এসেছে। তিনি চাচ্ছেন না। এই মুহুর্তে প্রশ্নগুলি আসুক। কিন্তু প্রশ্নগুলি আসছে।

১. মনসুরকে তিনি মেয়েটির নাম বলেন নি। কিন্তু সে স্পষ্ট বলেছে আমি আঁখিতারার জ্বর নামিয়ে দিচ্ছি। নামটা সে জানল কীভাবে?

২ থার্মোমিটার আনার জন্য সে ছুটে ঘর থেকে বের হলো। থার্মোমিটার নিয়ে দু’মিনিটের মাথায় ফিরে এলো। আশপাশে কোনো ফার্মেসি নেই।

অষুধ যেমন তার পকেটে ছিল। থার্মোমিটারও কি পকেটে ছিল? অনেকেই অষুধ সঙ্গে নিয়ে ঘোরে। পকেটে থার্মোমিটার নিয়ে ক’জন আর ঘুরে? তারপরেও ধরে নেওয়া যাক মনসুর অল্প কিছু অদ্ভুত মানুষের একজন, যার স্বভাব পকেটে থার্মোমিটার নিয়ে ঘোরা। তাহলেও সমস্যা আছে। কেন সে বলল, থার্মোমিটার কিনে নিয়ে আসি? সে বলতে পারত। আমার সঙ্গে থার্মোমিটার আছে।

স্যার, আরেক কাপ চা খাবেন?

মিসির আলি বললেন, না। মেয়েটার অবস্থা কী?

অবস্থা ভালো না স্যার।

ভালো না মানে?

জ্বর নামে নি। হাসপাতালে ফেলে দিয়ে আসি? মিসির আলি কঠিন গলায় বললেন, হাসপাতালে ফেলে দিয়ে আসি মানে! এটা কেমন কথা? কথার কথা বলেছি। স্যার। শিশু হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেই। আমার জানাশোনা আছে অসুবিধা হবে না। একটা বেবিট্যাক্সি নিয়ে আসি। আপনি কি সঙ্গে যাবেন? অবশ্যই আমি সঙ্গে যাব।আপনি রেস্ট নিন, আমি ভর্তি করিয়ে আপনাকে খবর দিয়ে যাব। কোনো সমস্যা নেই।

আমার রেস্টের চেয়ে মেয়েটির চিকিৎসা অনেক বেশি প্রয়োজন। তুমি সময় নষ্ট না করে ট্যাক্সি, বেবিট্যাক্সি কী আনবে আনো।মনসুর সিগারেট ধরাল। মিসির আলির দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট স্বরে বলল, মেয়েটা বাঁচবে না।মিসির আলি হতভম্ভ হয়ে বললেন, তুমি কী বলতে চাচ্ছ? মনসুর আবেগশূন্য গলায় বলল, মেয়েটা বাঁচবে না।তুমি কী করে বুঝলে?

 

Read more

হরতন ইশকাপন পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.