সুন্দরী অপেরার একটা পালা দেখে মন উদাস হয়েছিল। যে মেয়েটা নায়িকার বােন করেছিল সে ছিল সাক্ষাৎ বিউটি। তার নাম হেনা। মাঝে মাঝে আমার মন যদি উদাস হয় তখন খবর দিয়া যাত্রার দল নিজের কাছে নিয়া আসি। হেনারে বলি, পাট গাইয়া শােনাও। সে পাট গায় । সার্কাস কিনতে চাচ্ছেন কেন ? সার্কাসের কাউকে মনে ধরেছে ?
দড়ির খেলা যে দেখায়েছে এদের প্রত্যেকটারে মনে ধরেছে। বিশেষ করে ছােটটারে। আচ্ছা ছােট মেয়েটার নাম নাকি পয়সা, এটা কি সত্য ? হা সত্য। পয়সা যার নাম সে তাে থাকবে আমার সাথে । টাকা পয়সা বশির মােল্লার কাছে না থাকলে কার কাছে থাকবে বলেন?
স্যার, আজ আমি উঠি। উঠতে চাইলে উঠেন। আপনের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি এই জন্যে সামান্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে। বশির মােল্লা বালিশের নিচে থেকে একশ টাকার একটা বান্ডিল বের করল। এমনভাবে বের করল যেন পিস্তলটা দেখা যায়।
তৈয়ব শুকনা গলায় বলল, আমাকে কিছু দিতে হবে না। বশির মােল্লা বিরক্ত গলায় বলল, আমারে ‘না’ কথাটা বলবেন না। না’ শুনতে আমার ভালাে লাগে না। এইখানে দশ হাজার টাকা আছে। টাকাটা রাখেন। সন্ধ্যাকালে আবার আপনার সাথে দেখা হবে। আবার দেখা হবে কেন ?
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
পয়সা মেয়েটারে মেডেল দিব ডিক্লেয়ার দিয়েছি। মেডেল দিব না ? স্বর্ণকারের দোকানে লােক চলে গেছে। দুই ভরি ওজনের মেডেল। মেডেলের সাথে টাকার পরিমাণ আগে বলেছিলাম এক হাজার, এখন এটারে বাড়ায়ে করেছি দশ হাজার। এক হাজার টাকা দিলে বশির মােল্লার মান থাকে না। আপনের নামটা ভুলে গেছি। আপনার কী যেন নাম ? তৈয়ব। পাখির ক্যাচক্যাচানি শুনতেছেন ? কীসের ক্যাচক্যাচানি ?
পাখির । জি শুনতেছি। ক্যাচক্যাচ শব্দটা এক্কেবারে মাথার ভিতরে ঢুকে। এরা এমন ত্যক্ত করে। ঐ, পাখির ক্যাচক্যাচানি থামাও। বশির মােল্লার কথা শেষ হবার আগেই লঞ্চের ছাদ থেকে দোনলা বন্দুকের আওয়াজ হলাে। তৈয়ব বুঝতে পারছে বন্দুকের শব্দ পাখিদের শুনানাের জন্যে না। তাকে শুনানাের জন্যে।
হারুন সরকার হাসপাতালের বিছানায় পা গুটিয়ে বসে আছে। তার মাথা ঘুরছে, শরীর এলােমেলাে লাগছে। মনে হচ্ছে যে–কোনাে মুহূর্তে সে মাথা ঘুরে বিছানায় পড়ে যাবে। সেই পড়াই হবে শেষ পড়া। আর উঠা যাবে না। মৃত্যু হবে নিতান্তই অপরিচিত ফিনাইলের গন্ধ মাখা বিছানায়। তারপরও হারুন সরকার চেষ্টা করছে মুখ হাসি হাসি রাখার।
ভাবটা এরকম যেন সে ভালাে আছে। বেশ ভালাে। এরকম ভাব দেখানাে প্রয়ােজন হয়ে পড়েছে, কারণ সে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেয়ার চেষ্টায় আছে। সারাদিন ফিনাইলের গন্ধের মধ্যে পড়ে থাকতে হবে। সন্ধ্যার পর জিনের বােতল নিয়ে বসা যাবে না— এটা ভেবেই তার শরীরে ছটফটানি চলে আসছে। তার মন বলছে বেশি করে তেঁতুল দিয়ে দু’গ্লাস জিন খেলেই শরীরে চনমনে ভাব চলে আসবে।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
ডাক্তারের সঙ্গে সকালবেলা হারুন সরকার রিলিজ নিয়ে কথা বলেছে। ডাক্তার হতভম্ব মুখ করে বলেছে— আপনি রিলিজ নিতে চান ? আপনি জানেন আপনার প্রেসার কত? পালস রেট কত ? চোখ গাঢ় হলুদ হয়ে আছে। আমার ধারণা আপনার খারাপ ধরনের জন্ডিস হয়েছে। হারুন সরকার মিনমিন করে বলেছে, হাসপাতালে থাকলে শরীর আরাে বেশি খারাপ করবে। কেন ?
হারুন সরকার চুপ করে গেল। ডাক্তার এবং পুলিশ এই দুই জাতির কাছে তারা যা বলে সেটাই শুদ্ধ। এদের সঙ্গে তর্কে যাওয়া বৃথা। এখন এক মাত্র ভরসা তৈয়ব। একমাত্র সে–ই পারবে তাকে এই জেলখানা থেকে বের করে নিয়ে যেতে।বসে আছেন কেন ?
শুয়ে থাকুন। রেস্ট নিন। হারুন সরকার ডাক্তারের কথা শুনল না। বসে রইল। রাগে মুখের ভেতর ফেনা জমে যাচ্ছে। ফেনার স্বাদ তিক্ত। লক্ষণ ভালাে না। মৃত্যুর আগে আগে মুখের ভেতরে তিতা ভাব চলে আসে। রসগােল্লা খেলেও মনে হয় রসে ডুবানাে তিতা করলা খাওয়া হচ্ছে। তৈয়বের উপর প্রচণ্ড রাগ লাগছে। ছাগলটা কখন আসবে ? হারুন সরকারের মৃত্যুর পরে আসবে জানাজা পড়াতে। এইসব অকর্মণ্য ছাগলগুলিকে লাথি মেরে বার্মা পাঠিয়ে দেয়া দরকার।
মিলিটারিদের গুতা খেয়ে মরুক। হারুন সরকার মনে মনে ঠিক করে ফেলল তৈয়ব যদি দুপুরের খাওয়ার আগে না আসে তাহলে স্বাধীন বাংলা সার্কাসের চাকরি তার শেষ । প্রয়ােজনে হারুন সরকার হাট থেকে একটা বুড়া ভেড়া কিনে আনবে। ভেড়াকে ম্যানেজারের চাকরি দেবে কিন্তু তৈয়বকে রাখবে না। তৈয়বের দিন শেষ।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
দুপুরের খাওয়ার সময় শেষ হলাে, তৈয়ব এলাে না। হারুন সরকার সময় আরেকটু বাড়াল— আছর ওয়াক্তে এলেও চাকরি থাকবে। তৈয়ব এলাে আছর পার করে । হারুন সরকার বলল, এতক্ষণ ...‘ ছিড়ছিলা ? থাপপড় দিয়ে তােমার দাঁত যদি না ফেলি। তৈয়ব শান্ত গলায় বলল, আপনার শরীর তাে খারাপ । জ্বর বেড়েছে। হারুন সরকার তুই তুকারিতে চলে গেল। চাপা গলায় ক্রুদ্ধ গর্জন করল, খবর্দার, গায়ে হাত দিবি না।
শুয়ে থাকেন। বসে আছেন কেন ? আবার কথা বলে। এই রকম করতেছেন কেন? সন্ধ্যার আগে আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করার ব্যবস্থা কর। আচ্ছা করতেছি। আপনি শান্ত হন। হারুন সরকারের রাগ সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেল। এতক্ষণ তিনি যে রাগারাগি করছিলেন তার জন্যে খানিকটা লজ্জাও লাগল। হুট করে এতটা রাগ করা ঠিক হয় নি। তৈয়ব ছেলে ভালাে। তৈয়ব! জি। আমারে বের করার ব্যবস্থা কর। জি করতেছি।
আজ রাতটা এখানে থাকলে আমি মারা যাব। অবশ্য এখানে না থাকলেও মারা যাব। তখন মরব নিজের বিছানায়। আপনার শরীর কিন্তু বেশি খারাপ। শরীর খারাপ হােক বা ভালাে হােক, তুমি তেঁতুলের জোগাড় দেখ। কী বললেন?‘ প্রশ্ন করবা না। যা বলব মাথা হেট করে শুনবা এবং সেই মতে কাজ করবা। খাম্বার মতাে দাঁড়ায়ে আছ কেন ? আমার রিলিজের কী ব্যবস্থা করলা ? করতেছি।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
হারুন সরকার ক্ষুব্ধ গলায় বলল, আমি সকাল থেকে ছটফট করতেছি, তুমি আসলা সন্ধ্যা পার করে। আমি যে একটা মানুষ এই বােধটা তাে তােমাদের মধ্যে নাই। কেউ তাে আমারে দেখতেও আসল না । আর কেউ আসুক না আসুক জামদানীর তাে আসা উচিত ছিল। এই মেয়েটাকে আমি অত্যাধিক স্নেহ করি।আমি সবাইকে আসতে নিষেধ করেছি। কেন ? আসলেই আপনি কথা বলবেন। আপনার বিশ্রাম হবে না। আমার দিকে তােমার দেখি বড়ই দরদ। শােন তৈয়ব, মায়ের চেয়ে যদি অন্য কারাের প্রতি বেশি দরদ হয় তারে বলে ভান। ভান কি জানাে ?
ভান হলাে শয়তান। তুমি অবশ্যই শয়তান। জি আচ্ছা। দেখি আপনের রিলিজের ব্যবস্থা করি। তেঁতুল লাগবে। আজ কিন্তু তেঁতুল ছাড়া হবে না। আরেকটা কথা— জামদানীরে নিষেধ করবা সে যেন আগামী সাতদিন আমার সামনে না আসে। আমি তার উপর বেজার হয়েছি। তাদের তিন বােনুরেই এই কথা বলবা । তাদের তিনজনের উপরই আমি বেজার হয়েছি। এদেরকে আমি অত্যাধিক স্নেহ করতাম। এখন অত্যাধিক ঘৃণা করি।
আমার সবই বেশি বেশি। আমার স্নেহ যেমন বেশি, ঘৃণাও বেশি। আমার মধ্যে মাঝামাঝি বলে কিছু নাই। অমাবস্যা পূর্ণিমায় জন্ম নিলে এই জিনিস হয়। তাদের মাঝামাঝি কিছু থাকে না। আমার জন্ম পূর্ণিমার রাতে। তারিখটা এখন মনে পড়তেছে না। পেটে মাল পড়লে মনে পড়বে। তখন তােমারে বলব।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
জি আচ্ছা। তৈয়বের সঙ্গে কথা বলে হারুন সরকার হাপিয়ে গিয়েছে। বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে। কিন্তু তার শরীরটা এখন আগের চেয়ে ভালাে লাগছে। মাথা ঘুরানাে বন্ধ হয়েছে। তলপেট থেকে ধাক্কার মতাে কী যেন উপরের দিকে আসত। সেটাও বন্ধ। শুধু বুক ধুকপুক করছে। শব্দ করে করছে। মনে হচ্ছে কেউ তার জামার
নিচে বসে ডুগডুগি তবলা বাজাচ্ছে। যে বাজাচ্ছে সে প্লেয়ার ভালাে। বিশ্রাম নেয়ার জন্যে এক মুহূর্তের জন্যও থামছে না। বাজিয়েই যাচ্ছে। তেরে কেটে তাক তাক। তেরে কেটে তাক তাক।
আসমানীরা তিন বােন স্পিড বােটে বসে আছে। নি পাের্টার স্পিড বােট চালাচ্ছে। তিন বােনই খুব মজা পাচ্ছে। বাঁক নেবার সময় স্পিড বােট কাত হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে এই বুঝি উল্টে পড়ল পানিতে। মজাটা তখন খুব বাড়ছে। আসমানী এবং জামদানী প্রথমে বিদেশী সাহেবের কাছে কিছুতেই আসতে রাজি হয় নি। কিন্তু পয়সা যাবেই।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
তার একটাই কথা— তাকে চা খাবার দাওয়াত করা হয়েছে। সে বলেছে যাবে। এখন আর কিছুতেই না বলা সম্ভব না। এটা সে করতে পারবে না। জামদানী বলল, করতে পারবে না কেন? পয়সা কঠিন মুখ করে বলল, কারণ আমি বলেছি যাব। আসমানী বলল এটা তাে কোনাে কঠিন প্রতিজ্ঞা না, যে যাব বললে যেতেই হবে।পয়সা বলল, আমার জন্যে এটা কঠিন প্রতিজ্ঞা।
আসমানী বলল, তাের জন্যে কঠিন প্রতিজ্ঞা হবে কেন ? তুই কি ঐ লালমুখা বান্দরের প্রেমে পড়েছিস ?
পয়সা বলল, হ্যা আমি প্রেমে পড়েছি। আমি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। তার চাদমুখ না দেখতে পেলে আমি মরে যাব। তামাশা করছিস কেন ?
আমি তামাশা করছি না। তােমরা তামাশা করছ। আমাকে আটকে রাখছ। আমি দশ মিনিটের জন্যে যাব। এক কাপ চা খেয়ে চলে আসব। ঠিক আছে তাহলে আমরাও যাব। পয়সা বলল, বেড়াতে যাবার জন্যে যদি যেতে চাও তাহলে অবশ্যই যাবে। কিন্তু আমাকে পাহারা দেবার জন্যে যেতে পারবে না। আসমানী বলল, তুই কি পাহারার উর্ধ্বে ?
পয়সা বলল, হঁ্যা। জামদানী বলল, তুই কিন্তু তাের জন্যে বিরাট বিপদ ডেকে আনছিস। খাল কেটে বিদেশী কুমীর আনছিস। পয়সা ঘাড় বাঁকিয়ে বলল, ভালাে করছি। আসমানী এবং জামদানী মেজাজ খারাপ করে বােনের সঙ্গে গেল। যাবার পথে দু’জনের কেউই একটা কথাও বলল না।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
নি পাের্টারের তাঁবুর ভেতর ঢােকার দশ মিনিটের মাথায় তিনজনেরই মেজাজ ভালাে হয়ে গেল। কারণ নি পাের্টার তাদের জন্যে ভালাে চমকের ব্যবস্থা রেখেছিল। সে তার ভিডিও ক্যামেরায় দড়ির উপর তিন বােনের ছােটাছুটির পুরােটাই ভিডিও করে রেখেছিল । লং শট, ক্লোজআপ সবই আছে। দর্শকদের রিএকশান আছে। পয়সা যে মাঝে মধ্যেই পড়ে যাবার ভঙ্গি করছে। আবার দড়ি থেকে লাফিয়ে উঠে নিজেকে ঠিক করছে তাও আছে।
ভিডিও দেখে তিনবােনই অবাক। তাদের নিজেদের খেলাটা যে এত সুন্দর এত মজার তা তারা কল্পনাও করে নি। পয়সা বলল, আমি আবার দেখব। নি পাের্টার হাসি মুখে বলল, অবশ্যই। পুরােটা আবার দেখা হলাে। দ্বিতীয়বার দেখার সময় তিন বােনের আরাে মজা লাগল। পয়সার আরাে একবার দেখতে ইচ্ছা করছে কিন্তু লজ্জায় মুখ ফুটে বলতে পারছে না।
তিন বােনের জন্য গিফট র্যাপে মােড়া তিন প্যাকেট চকলেট ছিল। আর তিনটা সেন্টের শিশি। শিশির রঙ গাঢ় নীল। আর শিশিটা এমন অদ্ভুত সুন্দর । দেখে মনে হয় নীল রঙের তিন মেয়ে কোমর বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পয়সার চোখে পানি এসে যাচ্ছিল— তারা তিন বােন পুরস্কার হিসেবে সােনা–রুপার মেডেল পেয়েছে, টাকা পেয়েছে; কিন্তু এত সুন্দর উপহার তাদেরকে কেউ দেয় নি।
স্পিড বােট নিয়ে ঘােরার সময়ও মজা কম হলাে না। এক সময় সাহেব বলল, তােমরা কেউ স্পিড বােট চালাবে ? হাল ধরে থাকলেই হবে। আর কিছু করতে হবে না। পয়সা বলল, আমি চালাব। আসমানী বলল, না না, তুই উল্টে ফেলবি। উল্টে ফেললে ফেলব কিন্তু আমি চালাবই। পয়সা কোনাে রকম সমস্যা ছাড়াই স্পিড বােট চালাল। তখন জামদানী বলল, আমিও চালাব। আসমানীও বাদ রইল না।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৯
পয়সার শরীর ঝনঝন করছে। কিছুতেই সে বুঝে উঠতে পারছে না তার এত আনন্দ হচ্ছে কেন ? খুব বেশি আনন্দ হলে তার শরীর টলমল করতে থাকে । তখন খুব সমস্যা হয়। দড়ির উপর ঠিকঠাক পা পড়ে না। ব্যালেন্সে খুব অসুবিধা হয়। আজ অবশ্যই অসুবিধা হবে। এবং আরেকটা ব্যাপারও হবে— রাতে এক ফোটা ঘুম হবে না। পয়সার এই ব্যাপারটা মাঝে মাঝেই হয়। সারারাত এক ফোটা ঘুম আসে না।
হারুন সরকারের মনে হচ্ছে তার শরীর পুরােপুরি সেরে গেছে। দুর্বল ভাবটা আছে, বুকের ধুকধুকানিও আছে। তার পরেও শরীর যে পুরােপুরি সেরেছে এই বিষয়ে সে নিশ্চিত। কারণ সিগারেটে টান দিতে ভালাে লাগছে। জিনের গ্লাসে চুমুক দিতেও ভালাে লাগছে। বমি আসছে না। শরীর সেরেছে কী সারে নি তার আসল পরীক্ষা সিগারেটে । শরীর খারাপ থাকলে সিগারেটে টান দেয়া যায় না।
সে তাে ভালােই টানছে। হারুন সরকার তেঁতুল মিশানাে জিনের গ্লাসে লম্বা টান দিয়ে গাঢ় স্বরে ডাকল, তৈয়ব! তৈয়ব বলল, জি। কাছে আছ তাে ? জি, কাছে আছি। শাে শুরু করে দিয়ে আবার চলে আসবে। জি চলে আসব। কিন্তু আপনে একটু ধীরে খান। আপনার শরীর ঠিক হয়। নাই।। শরীর ঠিক আছে। আমার শরীর আমি বুঝব না, তুমি বুঝবে ? শরীর নিয়া কোনাে কথা বলব না। টিকিট বিক্রির অবস্থা কী ?
আজও সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। হারুন সরকার তৃপ্তি নিয়ে বলল, হাতির বাচ্চাটার জন্মের পর থেকে আমাদের ভাগ্য ফিরে গেছে। হতে পারে । হতে পারে টারে কিছু না। ঘটনা এটাই। হাতির বাচ্চারে একটা রূপার ঘণ্টা বানায়ে দিবে। ঘণ্টা গলায় ঝুলবে।
Read more
