পয়সার খুব ইচ্ছা করছে পেছনে তাকিয়ে দেখতে তার দুই বােন কী করছে, কিন্তু সে তাকাচ্ছে না। সে ঠিক করে ফেলেছে নৌকা ভাড়া পাওয়া গেলে মাঝ নদী পর্যন্ত যাবে। তার দুই বােন ভয়ে আধমরা হয়ে যাবে। মােটামুটি মজার একটা ব্যাপার। তারা তিন বােন দড়ির উপর ভয়ঙ্কর খেলা দেখায়। তখন তাদের খুব
সাহসী মনে হয়। আসলে তারা তিনজনই খুব ভীতু। এক খাট ছাড়া তিনজন ঘুমােতে পারে না। সেই ঘুম নিয়েও সমস্যা— মাঝখানে কে শােবে ? যারা দুই পাশে শােয় তাদের সারাক্ষণ ভূতের ভয় করে । এই বুঝি খাটের নিচ থেকে মরা মানুষের হাত ছুঁয়ে দিল।
তিনজনের কেউই সাঁতার জানে না, কাজেই পানিকেও খুব ভয়। নৌকায় উঠলেই তাদের মনে হয় এই বুঝি বড় একটা ঢেউ এসে নৌকা কাত করে দিল। সেখানে একা একা মাঝ নদী পর্যন্ত যাওয়াটা খুব সাহসী কাজ। অনেকদিন থেকেই পয়সার ইচ্ছা সে সাহসী কোনাে কাজ করে । সুযােগটা পাওয়া গেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
পাড় থেকে মাঝ নদী পর্যন্ত যাবার নৌকা পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়াও বেশি না। রিজার্ভ নৌকায় গেলে বিশ টাকা ভাড়া। দলের সঙ্গে গেলে দু’ টাকা। খেয়াপারানি নৌকাও আছে। তার ভাড়া এক টাকা। এপাড় থেকে ওপাড়ে গেলে মাঝনদীতে ব্রিজ বানানাের কর্মকাণ্ড দেখা যায়।
একটা সমস্যা অবশ্যি আছে। মাঝে মাঝে স্পিডবােট অতি দ্রুত আসা যাওয়া করছে। তখন বিরাট ঢেউ উঠছে। ছােট ছােট নৌকাগুলি এমনভাবে দুলছে দেখে মনে হয় এই বুঝি ডুবে গেল ।দেশী নৌকার ঘাট ছেড়ে পয়সা এখন এগােচ্ছে স্পিডবােটগুলির দিকে। কাছ থেকে দেখবে এই তার পরিকল্পনা। পয়সা ঠিক করে রেখেছে স্পিডবােটগুলির কাছে গিয়ে সে একবার পেছন দিকে তাকাবে।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
হ্যালাে মিস! পয়সা ভয়ঙ্কর চমকে গেল। বিদেশী এক সাহেব পেছনে দাঁড়িয়ে আছে । তার চোখ এত নীল যে মনে হচ্ছে নীল রঙ চোখ থেকে গড়িয়ে এখনি নিচে পড়ে যাবে।সাহেব পরিষ্কার বাংলায় বলল, সার্কাসে আপনার দড়ির খেলা মনােহর হয়েছে।আশ্চর্য, বােরকা পরা অবস্থায় এই সাহেব তাকে চিনল কীভাবে? সাহেবও কি হাতির মতাে? পয়সা বােরকার পর্দা সরিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল— আপনি কী করে আমাকে চিনলেন ? তিনটা বােরকা পরা মেয়ে হাঁটে। দূর থেকে দেখে চিনেছি। আপনি এত সুন্দর বাংলা কার কাছে শিখেছেন ?
আমি তিন বছর এই দেশে আছি। আমি সবার সঙ্গে খুব বেশি কথা বলি। এই জন্যে সুন্দর বাংলা বলি। আমি গ্রাম্য বাংলাও বলতে পারি। বলুন তাে শুনি। ভাত খাইচুইন— এর অর্থ ভাত খেয়েছেন? ময়মনসিংহের ভাষা। আপনি এখানে কী করেন ? আমি নদী শাসন করি। নদী কি দুষ্ট ছেলে যে নদী শাসন করবেন ? নদী দুষ্ট ছেলে না। নদী দুষ্ট মেয়ে। বড়ই খেয়ালি। তাকে সব সময় শাসনে রাখতে হয়। কীভাবে শাসন করেন। বেত দিয়ে মারেন ? না-কি ধমক দেন ?
সাহেব হাসছে। হাসির শব্দ এতই জোরালাে যে অনেক দূরের লােকজনও মাথা ঘুরিয়ে তাকাচ্ছে। পয়সা খুবই মজা পাচ্ছে। একজন সাহেবের সঙ্গে কথা বলছে– মজাটা এই জন্যে না, মজা লাগছে এই কারণে যে তার দুই বােন দূর থেকে দৃশ্যটা দেখে নিশ্চয়ই চমকাচ্ছে। ভয়ে অস্থির হচ্ছে। তারা আরাে বেশি ঘাবড়ে যাবে যদি সে এই সাহেবের সঙ্গে স্পিডবােটে করে একটা চক্কর দিয়ে আসে।
আমার নাম নি পাের্টার। | বলেই সাহেব হাত বাড়াল। হাত যে হ্যান্ডশেক করার জন্যে বাড়ানাে হয়েছে এটা বুঝতে পয়সার কিছুক্ষণ সময় লাগল। ছেলেরা ছেলেরা হ্যান্ডশেক করে কিন্তু ছেলে এবং মেয়েও কি হ্যান্ডশেক করে ? পয়সা খুবই অস্বস্তি এবং লজ্জার সঙ্গে হাত বাড়াল। অস্বস্তির সঙ্গে মজার ভাবটাও তার মধ্যে আছে। দেখুক তার দুই বােন। দেখে আক্কেলগুড়ুম হয়ে যাক।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
তােমার নাম কী ? আমার নাম পয়সা। পয়সা মানে কী ? আপনি এত সুন্দর বাংলা জানেন, পয়সার অর্থ জানেন না ? না। জানলে অন্যকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবেন, আমি বলব না। আচ্ছা আমি জেনে নেব । তুমি কি নদীর মাঝখানে যে পাইলিং হচ্ছে সেটা দেখতে যাবে ? স্পিডবােটে করে একটা চক্কর দিয়ে আনব ?
হ্যা যাব । তােমার দুই বােনও কি যাবে ? আমার ধারণা স্পিডবােটে করে গেলে ওরাও খুব মজা পাবে। ওরা যাবে কি-না জানি না। গেলেও অন্যদিন যাবে। আজ আমি একা যাব। নি পাের্টার খুশি খুশি গলায় বলল, এ দেশের মেয়েরা অপরিচিত পুরুষ মানুষের সঙ্গে এত কথা বলে না। তুমি যে বলছাে তাতে আমি অবাক হয়েছি। পয়সা বলল, আমি সার্কাসের মেয়ে। সার্কাসের মেয়েরা অনেক কিছু পারে যা অন্যরা পারে না।
আসমানী এবং জামদানী অবাক হয়ে দেখল তাদের সবচে’ ছােট বােন লালমুখ এক বিদেশীর সঙ্গে গটগট করে স্পিডবােটে গিয়ে উঠল। স্পিডবােট চলে যাচ্ছে মাঝনদীতে। লাল মুখটাই স্পিডবােট চালাচ্ছে। সে নানান রকম কায়দা-কানুন করছে। স্পিডবােটকে ঘুরপাক খাওয়াচ্ছে। ডানে নিচ্ছে বায়ে নিচ্ছে। জামদানী ফিসফিস করে বলল, এইসব কী হচ্ছে ?
আসমানী জবাব দিল না। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এক্ষুণি ফেরা দরকার। মাগরেবের পরে পরেই শাে শুরু হবে। শাে শুরু হবার আগেই যদি তিন বােন উপস্থিত না থাকে তাহলে হুলস্থূল হয়ে যাবে। স্বাধীন বাংলা সার্কাস পার্টির জন্যে আজ মহা শুভ দিন। সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। লাইনে এখনাে অনেকে আছে। এদের ঢুকাতে হলে আলাদা করে চাটাই বিছাতে হবে। বিশিষ্ট দ্রলােকেরাও এসেছেন।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
এসডিও সাহেবের ছেলেমেয়েরা এসেছে। সিও রেভি তাঁর স্ত্রী এবং দুই শালিকে নিয়ে এসেছেন। থানার ওসি সাহেবের স্ত্রী তার কয়েকজন বান্ধবী নিয়ে এসেছেন। এরা সবাই পাস নিয়ে সার্কাস দেখবেন। সবচে’ ভাললা চেয়ারগুলিতে বসবেন। খেলার মাঝখানে তাদের ঠাণ্ডা কোক-ফান্টা খাওয়াতে হবে। তারপরেও এই ধরনের মানুষ যত আসে তত ভালাে, সার্কাসের নাম ফাটে।
শাে শুরুর টাইম হয়ে গেছে। তুমুল শব্দে বাদ্য বাজনা বাজছে। বাজনার শব্দ সরাসরি হারুন সরকারের মাথার ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। তার শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। তার কাছে মনে হচ্ছে মাথা ছিড়ে পড়ে যাবে। কিছুক্ষণ আগে ডাক্তার দেখে গেছেন। ডাক্তার শুকনা গলায় বলেছেন হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার। মনে হয় রেসপিরেটরি ট্রাকে ইনফেকশন। সােজা বাংলায় নিউমােনিয়া।
হারুন সরকার ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, আমি হাসপাতালে যাব না। ওষুধপত্র যা দেওয়ার দেন। গলায় প্রচণ্ড ব্যথা । গলার ব্যথাটা কমান। গলায় ব্যথা সকালে ছিল না। সকালে গলার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিকালের পর থেকে গলায় আওয়াজ ফিরে এসেছে। কিন্তু ব্যথা প্রচণ্ড। হারুন সরকারের ধারণা মাথার যন্ত্রণাটাই নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। এখন এসেছে গলায় গলা থেকে নামবে বুকে। বুক থেকে পেটে।
ডাক্তার সাহেব বললেন, নিউ জেনারেশন অ্যান্টিবায়ােটিক দিয়ে দিলাম । ইনশাল্লাহ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ফল পাবেন। হারুন সরকার বলল, আমি চব্বিশ ঘণ্টা বাঁচব না। তার আগেই ঘটনা ঘটে যাবে। এটা হারুন সরকারের কথার কথা না। সন্ধ্যার পর থেকে তার এরকম মনে হচ্ছে। শাে শুরু হয়ে গেছে। হারুন সরকার একা শুয়ে আছে। শাে-র সময় সবাইকে শাে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। রােগীর পাশে বসে থাকার মতাে বাড়তি কেউ তখন থাকে না।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
হারুন সরকারের খুবই একা লাগছে এবং ভয় ভয় করছে। ভয়ের কারণ অতি বিচিত্র। তার কাছে মনে হচ্ছে খাটের নিচে কেউ একজন হামাগুড়ি দিয়ে বসে আছে। যে বসে আছে সে মানুষের মতাে হলেও মানুষ না। তার গা-ভর্তি ললাম। হাতের আঙুল পাঁচটা না । শুয়ােপােকার পায়ের মতাে অসংখ্য আঙুল । শুয়ােপােকার পা যেমন কিলবিল করে, তার আঙুলগুলিও কিলবিল করছে।
লােকটা ঘাপটি মেরে বসে আছে সুযােগের অপেক্ষায়। সে হারুন সরকারকে তার কিলবিল আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেবে। কাজটা সে কখন করবে তা-ও হারুন সরকার জানে, যখন ঘরে কেউ থাকবে না এবং যখন হারুন সরকার চোখ বন্ধ করে থাকবে। এই ভয়েই হারুন সরকার চোখ বন্ধ করতে পারছে না। যদিও তাকিয়ে থাকতে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। হারুন সরকার হতাশ গলায় ডাকল, তৈয়ব, তৈয়ব!
তৈয়ব স্টেজের মাঝখানে। সে তার ঘােড়া নিয়ে নানাবিদ রসিকতা করছে। দর্শকরা হেসে এ ওর গায়ে গড়াগড়ি করছে। তৈয়ব আজ নতুন একটা আইটেম চেষ্টা করছে। ঘােড়ার ঠোটে লিপস্টিক দেয়া। ঘােড়ার ভেজা ঠোঁটে লিপস্টিক বসছে না এটাই সমস্যা। লিপস্টিক বসলে আরাে মজা হতাে। তৈয়ব ঘােড়ার গলা জড়িয়ে ধরে গাঢ় স্বরে বলছে— ওগাে রাগ করে থেকো না গাে! তােমার জন্যে ছুনু এনেছি, পাউডার এনেছি, লিপস্টিক এনেছি। আমার দিকে তাকায়ে একটু হাস। লক্ষ্মী সােনামনি।
ঘােড়া ঘােৎ করে একটা শব্দ করল। তাঁবুর সমস্ত লােক একসঙ্গে হেসে উঠল । পয়সা সাজঘরে কাপড় বদলাচ্ছে। তাদের ডাক আসতে এখনাে অনেক। দেরি। এত আগে কাপড় পরে বসে থাকতে তার ভালাে লাগে না। আজ বাধ্য হয়ে পরছে। নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা। কারণ নদীর ঘাট থেকে ফেরার পর তার দুই বােন তার সঙ্গে কথা বলছে না। কোনাে কথাই বলছে না। কথা না বলার মতাে বড় কোনাে অপরাধ তাে সে করে নি। একজন বিদেশীর সঙ্গে স্পিডবােটে করে নদীতে কয়েকটা চক্কর দিয়েছে।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
পয়সা পায়ে ফেট্টি বাঁধতে বাঁধতে বলল, তৈয়ব চাচাকে দেখে মনেই হয় তিনি এত মজা করতে পারেন। কী গম্ভীর মানুষ! দেখলেই ভয় লাগে। তাই জাম বুবু ?
জামদানী উত্তর দিল না। খানিকটা ঘুরেও বসল, যেন পয়সা তার চোখে চোখ না রাখতে পারে। পয়সা বলল, তােমরা কেন আমার উপর রাগ করেছ আমি কি জানতে পারি ?
আসমানী এবং জামদানী এই প্রশ্নের জবাব দিল না। আসমানী বিরক্ত চোখে তাকাল। পয়সা বলল, তােমরা আমার সঙ্গে কথা না বললে আমার কিছু যায় আসে না।। আসমানী বলল, কেন যায় আসে না ? তুই কি কথা বলার লােক খুঁজে পেয়েছিস ?
পয়সা বলল, হ্যা পেয়েছি। আসমানী বলল, লালমুখ বান্দরটাকে পেয়েছিস ?
পয়সা বলল, হ্যা আমি সার্কাসের মেয়ে। আমার জন্যে বান্দরই ভালাে। আমি আগামীকাল আবার তাঁর সঙ্গে গল্প করতে যাব। জামদানী বলল, তােকে দাওয়াত দিয়েছে ? হা। কোথায়, তাঁবুতে ?
হ্যা, তঁবুতে। উনার সঙ্গে চা খাব। কফি খাব । উনি যদি হাত ধরতে চান— হাত ধরাধরি করব। জামদানী বলল, হাত ধরাধরি করবি ? হা করব। আসমানী শান্ত ভঙ্গিতে বােনের কাছে উঠে এলাে। প্রচণ্ড শব্দে বােনের গালে চড় বসিয়ে দিল। বাবা হাসছে আর তার ভুঁড়ি কাঁপছে। এমন ভুঁড়ি কাঁপানি হাসি এর আগে দেখেছ?
জামদানী হেসে ফেলল। হাসি ছোঁয়াচে রােগ। জামদানীর সঙ্গে সঙ্গে আসমানীও হাসছে। ইবাদত নগরে এসে তিনি ভয়ঙ্কর বিরক্ত হয়েছিলেন। সার্কাস দেখার পর বিরক্তি পুরােপুরি চলে গেছে। সার্কাসের তিনটি মেয়েকেই তার পছন্দ হয়েছে । সবচে’ বেশি পছন্দ হয়েছে ছােটটিকে। মেয়েটির বিষয়ে কী করা যায় সেটা ঠিক করার জন্যে তিনি সার্কাস কোম্পানির ম্যানেজারকে খবর পাঠিয়েছেন। ম্যানেজার সঙ্গে সঙ্গে এসেছে। এটা ভালাে লক্ষণ। বশির মােল্লা মােটামুটি নিশ্চিত যে ধানাই-পানাই করে বেশি সময় নষ্ট করতে হবে না। অল্প সময়েই কার্যোদ্ধার হবে। তিনি জীবনে নানান ধরনের মেয়ের সঙ্গে ফুর্তি-ফার্তা করেছেন।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
সার্কাসের কোনাে মেয়ের সঙ্গে করা হয় নাই। দড়ির উপর যে মেয়ে নাচানাচি করে সে আর দশটা মেয়ের মতাে হবে না এটা নিশ্চিত। ফুর্তির নতুন বিষয় মাথায় আসার পর থেকে বশির মােল্লার ভালাে লাগছে। পাখির ক্যাচক্যাচানিও এখন আর তত খারাপ লাগছে না। সার্কাস বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের একটা চিন্তা তাঁর মাথায় চলে এসেছে। তিনি তাঁর শরীরে উত্তেজনা অনুভব করছেন। আপনে সার্কাসের ম্যানেজার ? জি। ঘােড়া নিয়া রঙ তামাশা আপনে করেন ? জি।
সত্য সত্যই কি ঘােড়াকে বিবাহ করেছেন? আপনার শরীর থেকে ঘােড়ার গন্ধ আসতেছে। রাগ করেছেন না-কি ? আমিও একটু রঙ তামাশা করলাম। আপনি আমাকে কী জন্যে খবর দিয়ে এনেছেন বললে ভালাে হয়। বলব, এত ব্যস্ত কেন ? আমার মালিক অসুস্থ, উনারে দেখতে যাব। আপনি তাে ডাক্তার না। আপনার দেখা না-দেখা সমান । আপনার নাম কী ? তৈয়ব আলী। ও আচ্ছা, আপনি মুসলমান ? আপনার হিন্দু হিন্দু চেহারা। আপনি মনে হয় গাে-মাংস খান না। যারা গাে-মাংস খায় না তাদের চেহারার মধ্যে হিন্দু হিন্দু ভাব চলে আসে। আপনি গাে-মাংস খান ?
খাই। আরাে বেশি করে খাবেন। মদ্যপান করেন ? জি-না। মদ্যপান করেন না কী জন্যে ? ধর্মীয় কারণে? অভ্যাস নাই। অভ্যাস না থাকলে অভ্যাস করতে হয়। জন্ম থেকে কেউ অভ্যাস নিয়া আসে না। মেয়েছেলের সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস আমাদের থাকে না। পরে অভ্যাস হয়। তাদের বিছানায় নিয়ে যাই। আমার কাছে বিদেশী হুইস্কি আছে। নেন, আধা গ্লাস খান। মদ যারা খায় তাদের মধ্যে দ্রুত ভাব ভালােবাসা হয়। আপনের সঙ্গে দ্রুত ভাব ভালােবাসা হওয়া দরকার। কেন ?
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৮
আপনার সার্কাসটা আমি কিনে নিতে চাই। নগদ টাকায় কিনব। আমার যৌবনের সামান্য অভাব আছে, টাকার অভাব নাই। ভাটি অঞ্চলে আমার সাতটা জলমহাল আছে। সিজনে দৈনিক মাছ বিক্রি বাবদ লাখ টাকা মুনাফা থাকে।
সার্কাস আমার না। আমার মালিকের। সার্কাস কিনতে চাইলে মালিকের সাথে কথা বলবেন। ব্যবসা নিয়া আমি বেশি লােকের সঙ্গে কথা বলি না। এক দুইজনের সঙ্গে কথা বলি। আপনের সঙ্গে বললাম আপনি আপনার মালিকের সঙ্গে কথা বলবেন। কী কথা বলব ?
আরে যন্ত্রণা, এতক্ষণ ভেরভের করে কী বললাম ? আমি সার্কাস কিনে নিব । আপনি দালালি করবেন। দালালির টাকা পাবেন। আমার মালিক সার্কাস বেচবে না ।অবশ্যই বেচবে। কেন বেচবে না ? ভালাে দাম দিলেই বেচবে। ধরেন আপনার একটা শার্ট আছে। শার্টের দাম ২০০ টাকা। আমি যদি বলি আমি দুই হাজার টাকা দিব, আপনার পুরনাে শার্ট আমার কাছে বেচে দেন। আপনি বেচবেন না ?
আমার শখের শার্ট হলে আমি বেচব না। তখন আমি বলব আমি বিশ হাজার টাকা দিব। দুইশ টাকা দামের শার্ট, আমি দিব বিশ হাজার টাকা। এখন তাে বেচবেন? ব্যবসা বাণিজ্যের লাইনে কথা বলেন। ভাবের লাইনে না। ব্যবসা বাণিজ্যে ভাব চলে না। সার্কাসের দল দিয়ে আপনি কী করবেন ?
কী করব সেটা আমার বিবেচনা । আমার নিজের একটা যাত্রার দল আছে। নাম সুন্দরী অপেরা। তারা নিজের মনে সারা দেশে পাট গায়। কী টাকা পায়, কী না পায় এটা নিয়ে আমি ভাবি না। যাত্রা দল আমি যেভাবে কিনেছি সার্কাসও সেইভাবে কিনব। যাত্রার দল কেন কিনেছিলাম বলব ?
বলুন।
Read more
