সাইফ খাঁ বললেন, সম্রাট তো একা না । তাঁর পরামর্শদাতারা আছেন । আমীররা আছেন, অতি বিচক্ষণ সেনাপতি বৈরাম খাঁ আছেন । এঁদের সবার চোখ আমরা কীভাবে এড়াব ?
শের খাঁ অসহিষ্ণু গলায় বললেন, সম্রাট চোখ বুজলে তাঁর অনুসারীদেরও চোখ বুজতে হয় এটাই নিয়ম । সম্রাট এবং তাঁর অনুসারীদের বিভ্রান্ত করার জন্যে আমি কিছু কূটকৌশলের ব্যবস্থাও করেছি ।
কী রকম ?
আমি অতি দূর্বল একদল যোদ্ধাকে পাঠাব সম্রাটকে আক্রমণ করার জন্যে । তারা পরাজিত হবে । সম্রাটের ধারণা হবে শের খাঁ’র বাহিনী দুর্বল ।
শের খাঁ’র প্রধান সেনাপতি ওসমান বললেন, কৌশলটা ভালো । সম্রাটের কাছে আমি একটা পত্র পাঠাচ্ছি । এই পত্রেও আমার দুর্বলতা প্রকাশ পাবে ।
জালাল খাঁ বললেন, কী পত্র পাঠাচ্ছেন আমরা কি শুনতে পারি ?
হ্যাঁ । পত্র আমি পড়ে শোনাচ্ছি ।
হিন্দুস্থানের মালিক,
মহাপরাক্রমশালী সিংহহৃদয় জ্ঞানতাপস মহান
মোঘল সম্রাট বাদশাহ নামদার হুমায়ূন ।
অধীন শের খাঁ’র বিনম্র সালাম গ্রহণ করুন । আসসালামু আলায়কুম ।
নিবেদন এই যে, বাদশাহর সম্মানে আমি দু’টি
সামান্য উপহার পাঠালাম ।
দুই শুঁড়বিশিষ্ট একটি হস্তীশাবক, নাম
হরিমতি । এইসঙ্গে জাদুবিদ্যার একটি প্রাচীন অপ্রচলিত ভাষায় রচিত গ্রন্থ । জাদুবিদ্যার প্রতি আপনার আগ্রহের কথা জেনেই এমন ক্ষুদ্র উপহার ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩
পাঠানোর সাহস করছি ।
এখন আপনার প্রতি আমার সামান্য নিবেদন ।
অধীনের এই নিবেদন আপনি গুরুত্বের সঙ্গে
বিবেচনা করবেন কি না তা আপনার বিবেচনা ।
মাঝে মাঝে বৃহৎবপু হস্তীকেও সামান্য মুষিকের
কথা শ্রবণ করা জরুরি হয়ে পড়ে ।
চুনার দুর্গের পতনের পর আমার দুই বীরপুত্র
জালাল খাঁ এবং সাইফ খাঁ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ।
তারা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর । যে-কোনোদিন
আমার এই দুই পুত্র আপনার সেনাবাহিনীর উপর
ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে । এর ফলাফল শুভ না হওয়ার
কথা । আমার এই দুই পুত্র অসীম সাহসী ।
প্রতিশোধ গ্রহণের উত্তেজনায় এই সাহস বহুগুণে
বর্ধিত হয়েছে ।
আমার পুত্রদের কাছে মোঘল বাহিনীর পরাজয়
হলে হিন্দুস্থানের মালিক সম্রাট হুমায়ূনের জন্যে তা
বিরাট কলঙ্ক । আমি সম্রাটকে এই কলঙ্কের বোঝা
নিয়ে দিল্লী প্রস্থানের কথা চিন্তাও করি না । সম্রাটের
কলঙ্ক তাঁর দীন সেবক শের খাঁ’র কলঙ্ক ।
এখন আমার অনুরোধ (এবং উপদেশ),
আপনি অতি দ্রুত দিল্লীর দিকে যাত্রা করুন । আমি
আমার ধৃষ্টতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ।
আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, পুত্রদের উপর
আমার তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই । আপনি নিজে একজন
মহাবীর, আপনি ভালোই জানেন বীররা নিয়ন্ত্রণ
পছন্দ করে না ।
বিনীত
সম্রাটের পদধূলিসম
শের খাঁ
শের খাঁ পত্র পাঠ শেষ করে দুই পুত্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের কিছু বলার আছে ?
জালাল খাঁ বললেন, আমরা দুই ভাইয়ের যে-কোনো একজন মোঘলদের সঙ্গে নকল যুদ্ধ করতে যাব এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পরাজিত হব ?
হ্যাঁ ।
স্বেচ্ছা-পরাজয়ের ফলাফল হলো মোঘলদের হাতে বন্দি হওয়া । সে সম্ভাবনা অবশ্যই আছে ।
মোঘলদের হতে বন্দি হওয়া মানে হাতির পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে মৃত্যূবরণ ।
এই কথাও ঠিক । বড় মঙ্গলের স্বার্থে ক্ষুদ্র অমঙ্গল গ্রহণ করতে হয় ।
সাইফ খাঁ বললেন, কবে যুদ্ধে যাব ?
সম্রাট যেদিন এই পত্র পাবেন তার সাত দিন পর ।
প্রধান সেনাপতি ওসমান বললেন, আপনার দুই পুত্রের কাউকেই পাঠানোর প্রয়োজন নেই ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩
আপনার সেনাপতিদের একজন যাবে । শের খাঁ বললেন, তাতে আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না । তবে সাইফ খাঁ’র ভয়ের কোনো কারণ নেই । সে যদি ধরাও পড়ে তার পরিচয় পাওয়ার পর হুমায়ূন তাকে আমার কাছে সসম্মানে ফেরত পাঠাবেন । সম্রাট হুমায়ূনের চরিত্রের সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে তাঁর করুণা এবং ক্ষমা । আমরা তাঁর এই দুর্বলতা ব্যবহার করব ।
শের খাঁ’র উপহার পেয়ে সম্রাট হুমায়ূন উত্তেজিত । জাদুর প্রাচীন বইটিকে স্বর্ণখনি বলে মনে হচ্ছে । তিনি ভাষা পড়তে পারছেন না, তবে বইয়ে অনেক ছবি । ছবিগুলি বইটির বিশেষত্ব বলে দিচ্ছে । একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা মানুষের মুণ্ডু ধড় থেকে আলাদা করা । তার পরের ছবিতে মুণ্ডু শরীরের সঙ্গে লাগানো । একটা ছবিতে মানুষের শরীরের সঙ্গে বিড়ালের মাথা লাগানো ।
সম্রাট হিন্দুস্থানের বিভিন্ন ভাষার পণ্ডিতদের জড়ো করার নির্দেশ জারি করেছেন । তাদের কেউ-না কেউ গ্রন্থের পাঠোদ্ধার করতে পারবে ।
দুই শুঁড়ের হস্তীশাবক দেখেও তিনি উত্তেজিত । প্রকৃতির বিশেষ খেয়ালে এরকম একটি হস্তীশাবকের জন্ম হয়েছে, নাকি এটি বিশেষ কোনো প্রজাতির ? বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন ।
হরিমতি এখন আছে আকিকা বেগমের তত্ত্বাবধানে । আকিকা বেগম এবং তার বান্ধবী অম্বা হরিমতিকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। আকিকা বেগম হস্তীশাবকের হিন্দু নাম বদলে মুসলমান নাম রাখতে চাচ্ছে । অনেকগুলি নাম সে তাঁর কোরানপাঠ শিক্ষক ওস্তাদের সাহায্যে আলাদা করেছে ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩
কোনোটিই পছন্দ হচ্ছে না । যেমন-
নাম অর্থ
শাহানা রানী
লাবীবা জ্ঞানী
আনিসা কুমারী
সাইয়ারা রাজকুমারী
সাইয়ারা নাম তার কিছুটা পছন্দ হচ্ছে । কিন্তু সে চাচ্ছে তার নামের প্রথম অক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখতে । আনিসা নাম সেই অর্থে ঠিক আছে । ‘আ’ দিয়ে শুরু । কিন্তু । নামের অর্থ (কুমারী) পছন্দ হচ্ছে না । হরিমতি নিশ্চয়ই সারা জীবন কুমারী থাকবে না।
হরিমতিকে নিয়ে সম্রাটের অন্য পরিকল্পনা আছে । তিনি এই অদ্ভুত হস্তীশাবক পারস্য-সম্রাট শাহ তামাস্পকে উপহার হিসেবে দিতে চান । পারস্য-সম্রাটের জীবজন্তুর প্রতি প্রবল আগ্রহ । তাঁর চিড়িয়াখানা সারা পৃথিবী থেকে খুঁজে আনা জীবজন্তুতে পরিপূর্ণ। শাহ এই অদ্ভুত উপহার পেয়ে অবশ্যই আনন্দে আত্মহারা হবেন । পারস্যের সঙ্গে তখন সুসম্পর্ক হবে । এর ফলাফল হবে শুভ।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ করে সম্রাট বিশ্রামে গেছেন । কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তিনি দুপুরের খাবার খাবেন । ঘুমে সম্রাটের চোখ লেগে আসছে, তখনই তাঁকে ডেকে তোলা হলো । তাঁকে দুঃসংবাদ দেওয়া হলো । শের খাঁ’র পুত্র সাইফ খাঁ প্রায় এক হাজার অশ্বারোহী নিয়ে মোঘল শিবির আক্রমণ করেছে । যুদ্ধের জন্যে মোঘলদের প্রস্তুতি ছিল না বলে অল্পকিছু মোঘল সৈন্য নিহত হয়েছে । সাইফ খাঁ সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়েছে । তাকে বন্দি করা হয়েছে । সাইফ খাঁ’র সঙ্গের সৈন্যদের প্রায় সবাই নিহত হয়েছে ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩
সাইফ খাঁ-কে সম্রাটের সামনে আনা হলো । সম্রাট দেখলেন নিতান্তই অল্পবয়সী অতি সুপুরুষ এক যুবক ।
সম্রাট বললেন, অতি অল্পকিছু সৈন্য নিয়ে তুমি বিশার মোঘলবাহিনীকে আক্রমণ করেছে । এটা কি তোমার নির্বুদ্ধিতা নাকি কোনো কৌশল ?
সাইফ খাঁ মাটির দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি বিশাল বাহিনী নিয়েই এসেছিলাম । বেশিরভাগই ছিল ভাড়াটে সৈন্য । যুদ্ধ শুরু হওয়ামাত্র তারা পালিয়ে গেছে ।
বন্দি শক্রকে হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট করে মারার রেওয়াজ মোঘলদের আছে, এই তথ্য তুমি জানো ?
জানি ।
তুমি কি আমার কাছে প্রাণভিক্ষা চাও ?
সাইফ খাঁ বললেন, আপনার করুণা এবং দয়ার কথা আমি জানি ।
আপনি যে আমার প্রাণ ভিক্ষা দেবেন সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত ।
আমি এখন দুপুরের খাবার খাব । তুমি আমার সঙ্গে খেতে বসো । খাওয়ার পর তোমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব । আচ্ছা তুমি যেন শান্তিমতো খেতে পার আমি সেই ব্যবস্থা করছি । তোমাকে ক্ষমা করা হলো । তুমি শের খাঁ’র কাছে ফিরে যাবে এবং তাঁকে বলবে তাঁর পাঠানো উপহার আমার পছন্দ হয়েছে ।
আমি বাবাকে এই সংবাদ দেব ।
সম্রাট বললেন, আমি তোমার পিতার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে দিল্লী ফিরে যাব । এই খবরও বাবাকে জানাব । তিনি খুশি হবেন ।
সম্রাট হুমায়ূন সাইফ খাঁ-কে ডানপাশে বসালেন । অতি সম্মানিতজনকেই এমন সম্মান দেখানো হয় ।
জায়গাটার নাম চৌসা । গঙ্গা এবং কীর্তিনাশা নদীর সঙ্গমস্থলে ছোট একটা গ্রাম । চৌসার দক্ষিণে হুমায়ূনের বিশাল বাহিনী আস্তানা গেড়েছে । নদীর একদিকে মোঘল বাহিনী, অন্যদিকে শের খাঁ’র আফগান বাহিনী । মাঝখানে খরস্রোতা কীর্তিনাশা নদী । আফগান বাহিনী নদী পার হয়ে মোঘল বাহিনীকে আক্রমণ করবে সেই সম্ভাবনা শূন্য । নদীতে নড়বড়ে কাঠের পুল আছে । সেই পুলে বিশাল বাহিনী পার হতে পারবে না । পুলের উপর কামান গাড়ি তোলার প্রশ্নই আসে না ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩
হুমায়ূনের গুপ্তচর খবর এনেছে শের খাঁ পর্যুদস্ত অবস্থায় আছেন । ঝাড়খণ্ডের চেরুহ দলপতির বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন । তার দেখা না পেয়ে ফিরে আসেন । শের খাঁ যে সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন তাতে বিশাল মোঘল বাহিনীর উপর আক্রমণ চালানোর প্রশ্নই ওঠে না । শের খাঁ চাইবেন যে-কোনো মূল্যে মোঘলদের সঙ্গে সন্ধি ।
মোঘল সম্রাট নিশ্চিত মনে সময় কাটাচ্ছেন । জাদুবিদ্যার বইটির পাঠোদ্ধারের ব্যবস্থা হয়েছে । বইটি প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় লেখা। সেই ভাষার একজন পণ্ডিত বইটি ফার্সি ভাষায় অনুবাদ শুরু করে দিয়েছেন । পণ্ডিত হিন্দু ব্রাক্ষণ, নাম আচার্য হরিশঙ্কর বিদ্যাবাচম্পতি । তিনি প্রতি পৃষ্ঠা অনুবাদ করার জন্যে পাচ্ছেন একটি করে রৌপ্যমুদ্রা ।
সম্রাট নতুন এক খেয়ালেও কিছু সময় দিচ্ছেন । তিনি হিন্দুস্থানি রান্নার একটি কোষগ্রন্থ তৈরি করতে চাচ্ছেন। বিশাল হিন্দুস্থানের নানান অঞ্চলে কত ধরনের রান্নাই-না হয় । সব একত্রিত থাকলে গবেষকদের জন্যে সুবিধা । হিন্দু বিধবারা (যারা নানান কারণে সতীদাহরে হাত থেকে বেঁচে গেছে) মাছ-মাংস খেতে পারে না । তাদের জন্যে বিচিত্র সব নিরামিষ রান্না হয় । বিচিত্র নিরামিষের একটি খেয়ে সম্রাট আনন্দ পেয়েছেন । কাঁঠাল নামের একটি কাঁচা ফল থেকে এই নিরামিষ তৈরি হয় । খেতে মাংসের মতো লাগে। সম্রাট শুরুতে ধরতেই পারেন নি তিনি নিরামিষ খাচ্ছেন, মাংস না । হিন্দুস্থানি রান্নার আকরগ্রন্থ তৈরির বাসনার মূলে আছে কাঁঠালের নিরামিষ ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –১৩
সম্রাট ঠিক করেছেন, জাদুবিদ্যার বইটির অনুবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি চৌসাতে থাকবেন । শের খাঁ’র সঙ্গে সন্ধি করে দিল্লী ফিরে যাবেন । পেছনে শক্র রাখা কোনো কাজের কথা না ।
সন্ধির শর্ত নিয়ে আলোচনার জন্যে সম্রাটের দূত শায়েখ খলিলকে শের খাঁ’র কাছে পাঠানো হলো । শর্তগুলো নিম্নরুপ-
প্রথম শর্ত
শের খাঁতার অবস্থান থেকে পেছনে সরে যাবেন,
যাতে ইচ্ছা করলেই মোঘল বাহিনী কীর্তিনাশা নদী
পার হতে পারে ।
দ্বিতীয় শর্ত
শের খাঁ তার পুরোনো জায়গির বাংলা ও বিহার
ফিরে পাবেন ঠিকই, তবে তাঁকে নিয়মিত কর
পরিশোধ করতে হবে । তিনি খুৎবা পড়বেন সম্রাট
হুমায়ূনের নামে । টাঁকশালের মুদ্রাও মোঘল
সম্রাটের সম্রাটের নামে তৈরি হবে ।
তৃতীয় শর্ত
শের খাঁ’র এক পুত্রকে (সম্রাটের পছন্দ সাইফ খাঁ)
থাকতে হবে দিল্লী দরবারে, সম্রাটের নজরদারিতে ।
চতুর্থ শর্ত
শের খাঁ স্বয়ং হুমায়ূনের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর
কর্মকাণ্ডের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন । তিনি
আফগান এবং মোঘল সুসম্পর্কের জন্যে ভূমিকা
রাখবেন ।
শের খাঁ প্রতিটি শর্ত মেনে নিলেন । নিজের অবস্থান থেকে কুড়ি মাইল পেছনে সরে গেলেন । হুমায়ূনের কীর্তিনাশা নদী অতিক্রমে কোনো বাধা রইল না ।
সম্রাট তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে নদী অতিক্রম করলেন না, তবে তিনি সপ্তাহে একদিন নদীর তীরে স্বয়ং উপস্থিত হতে লাগলেন । ওই বিশেষ দিনে দুই শুঁড়ের হস্তীশাবককে গোসল করানো হয় । গোসলের সময় সে তার দুই শুঁড় দিয়ে একসঙ্গে আকাশে পানি ছুঁড়ে মারে । সেই পানি বৃষ্টির মতো তার গায়ে নেমে আসে । অদ্ভুত দৃশ্য ।
সঙ্গলবার দ্বিপ্রহর । সম্রাট কীর্তিনাশা নদীর তীরে হস্তীশাবকের স্নানদৃশ্য দেখছেন । সম্রাটের সঙ্গে আছেন বৈরাম খাঁ । বৈরাম খাঁকে চিন্তিত এবং বিষণ্ন দেখাচ্ছে । হস্তীশাবকের জলকেলি দেখে তিনি তেমন আনন্দ পাচ্ছেন না । সম্রাট বললেন, বৈরাম খাঁ, আপনাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন ?
বৈরাম খাঁ বললেন, আমি চিন্তিত বলেই মনে হয় চিন্তিত দেখাচ্ছে ।
চিন্তিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা কি ঘটেছে ?
আমি শের খাঁকে নিয়ে চিন্তিত । সে সাপের মতো ধূর্ত ।
সম্রাট হাসতে হাসতে বললেন, সাপ ধূর্ত না, ভীতু প্রাণী ।
Read more
