কর্নেল উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, না। আমি অন্য কেস-এর সূত্রে সেই হারানো সিল-এর কথা জানতে পেরেছি। যাইহোক, আপনাকে একটা অনুরোধ, আপনি যেন এ বিষয়ে আপনার বেয়াইমশাইকে কোনও কথা জানাবেন না। যথা সময়ে আপনি এবং আপনার বেয়াইমশাই সবই জানতে পারবেন। কিন্তু এখন যদি আপনি তাকে কিছু জানান, তা হলে, আমার সব চেষ্টা একেবারে ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমি… Continue reading রাজবাড়ির চিত্ররহস্য (৪র্থ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
Author: Admin
সুখের দিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
মহারাজ, আমাদের সেইসব সুখের দিন কোথায় গেল?………তখন আকাশে কাঠচাঁপা ফুলের মতো চাঁদ উঠত। জ্যোৎস্নারাতে ছিল আমাদের নদীর ধারে সাদা বালির ওপর চড়ুইভাতি। আকাশ তখন কত নিভৃতে নেমে আসত! ঝাড়বাতির মতো থোপা। থোপা হয়ে আলো দিত গ্রহ-নক্ষত্র। সে কি তুমি মহারাজ, যে রোজ আমাদের ঘুম ভাঙার আগে খুব ভোরে হরেকরকম রঙের। বালতি হাতে ঘুরে-ঘুরে রং করে… Continue reading সুখের দিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
নরহরি দাস – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
যেখানে মাঠের পাশে বন আছে, আর বনের ধারে মস্ত পাহাড় আছে, সেইখানে, একটা গর্তের ভিতরে একটি ছাগলছানা থাকত। সে তখনো বড় হয়নি, তাই গর্তের বাইরে যেতে পেত না। বাইরে যেতে চাইলেই তার মা বলত, ‘যাসনে! ভালুকে ধরবে, বাঘে নিয়ে যাবে, সিংহে খেয়ে ফেলবে!’ তা শুনে তার ভয় হত, আর সে চুপ করে গর্তের ভিতরে বসে… Continue reading নরহরি দাস – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
খেলোয়াড় তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়
ডিসেম্বরের ঊনত্রিশে, শীতটা পড়েছে বেশ জাঁকিয়ে। সন্ধেবেলা তারিণীখুড়ো এলেন গলায় আর মাথায় মাফলার জড়িয়ে। তোরা মাঠে যাচ্ছিস না খেলা দেখতে? তক্তপোষে বসেই প্রশ্ন করলেন খুড়ো, নাকি দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাবার তাল করছিস?……………………………………তার মানে? জিজ্ঞেস করলাম আমি। ওই টেলিভিশন আর কী, বললেন খুড়ো। লোককে ঘরকুনো করার জন্যে অমন জিনিস আর দ্বিতীয় নেই। আমাদের সময়ে খেলা দেখতে… Continue reading খেলোয়াড় তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়
দেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী
একদিন সকালবেলা ঘুম ভাঙতে দেখি চোখের সামনে। দাঁড়িয়ে এক অপরূপ মূর্তি। চেনা চেনা মনে হল অথচ যেন অচেনা। তার হাতের ট্রের দিকে নজর যেতে দেখি সেটা সম্পূর্ণ চেনা। তার উপরকার রুটি, মাখন, মামলেটু, বাসি কাবাবও নিত্যিকার চেহারা নিয়ে উপস্থিত। ধূম দেখলে বহ্নির উপস্থিতি স্বীকার করতেই হয়; সকালবেলা আমার ঘরে এ রকমের ট্রে হাওয়ায় দুলতে পারে… Continue reading দেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী
রাজবাড়ির চিত্ররহস্য (৩য় পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
আতস কাঁচের সাহায্যে টেবিল ল্যাম্পের আলোয় সিলটা পরীক্ষা করে দেখার পর কর্নেল বলেছিলেন,–প্রাচীন লিপি বিষয়ে আমার যতটুকু জ্ঞান, তাতে মনে হচ্ছে, এই লিপিগুলি ব্রাহ্মি। আর উলটো পিঠে যে মূর্তিটা দেখছ, সেটা বৌদ্ধ ধর্মের এক অপদেবতার। তার নাম ‘মার।রহস্যটা ক্রমেই এত জটিল হয়ে উঠল দেখে সে রাতে আমার ভালো ঘুমই হয়নি।সকালে বেড-টি খাওয়ার পর বাথরুমে গিয়েছিলুম,… Continue reading রাজবাড়ির চিত্ররহস্য (৩য় পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
শেঠ গঙ্গারামের ধনদৌলত – সত্যজিৎ রায়
আমার এখন যে চেহারা দেখছিস, বললেন তারিণীখুড়ো, তা থেকে আমার ইয়াং বয়সের চেহারা তোরা কল্পনাই করতে পারবি না।…..কীরকম চেহারা ছিল আপনার, খুড়ো? জিজ্ঞেস করল ন্যাপলা, ধর্মেন্দরের মতো? য্যা য্যাঃ! বললেন খুড়ো, ওরকম নাসপাতিমার্কা চেহারা নয়। টকটকে রং, ব্যায়াম করা পাকানো শরীর, জামা খুললে প্রত্যেকটি মা আঙুল দিয়ে দেখানো যায়–অ্যানাটমির চার্টের দরকার হয় না।–আর ফিল্ম স্টারের… Continue reading শেঠ গঙ্গারামের ধনদৌলত – সত্যজিৎ রায়
রাজবাড়ির চিত্ররহস্য (২য় পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
মধুরবাবু বললেন,–বারিনের পুরো নাম, বারীন্দ্রনাথ সিনহা। ওর সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ যদুগড় রাজ হাইস্কুলে। ওর বাবা ছিলেন রেলের অফিসার। যদুগড়ে বদলি হয়ে আসার পর বারিনকে তিনি ক্লাস সিক্সে ভরতি করে দেন। বারিন ছিল খুব আলাপি ছেলে। আমার সঙ্গে ওর হৃদ্যতা ছিল সবচেয়ে বেশি। তখন আমার বাবা ছিলেন যদুগড় রাজপরিবারের ম্যানেজার। যাইহোক, আমরা দুজনে ওখান থেকে… Continue reading রাজবাড়ির চিত্ররহস্য (২য় পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
রাজবাড়ির চিত্ররহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
প্রাইভেট ডিকেটিভ কে. কে. হালদার–আমাদের প্রিয় হালদারমশাই খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন,–খাইসে!জিগ্যেস করলুন,কী হল হালদারমশাই? হালদারমশাই একটিপ নস্যি নাকে খুঁজে নোংরা রুমালে নাক মুছলেন। তারপর বললেন, জয়ন্তবাবুরে একখান কথা জিগাই।-বলুন হালদারমশাই।গোয়েন্দাপ্রবর বাঁকা হেসে বললেন,–আপনাগো কাগজে আইজ দুইখান মার্ডারের খবর লিখসে।–তাতে কী হয়েছে? কোথাও মার্ডার হয়েছে, তাই খবর লেখা হয়েছে। গোয়েন্দাপ্রবর বললেন,–একখান মার্ডার তেমন… Continue reading রাজবাড়ির চিত্ররহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
গঞ্জের মানুষ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
রাজা ফকিরচাঁদের ঢিবির ওপর দিনটা শেষ হয়ে গেল। একটা একা শিরীষ গাছ সিকি মাইল লম্বা ছায়া ফেলেছিল। সেই ছায়াটাকে গিলে ফেলল আঁধার রাতের বিশাল পাখির ছায়া। ফকিরচাঁদের সাত ঘড়া মোহর আর বিস্তর সোনাদানা, হিরে-জহরত সব ওই ঢিবির ভিতরে পোঁতা আছে। আর আছে ফকিরচাঁদের আস্ত বসতবাড়িটা। ঢিবির ওপাশ দিয়ে রেললাইন, এপাশ দিয়ে রাস্তা। পাথরকুচি ছড়ানো, গাছগাছালির… Continue reading গঞ্জের মানুষ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়