হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৭

জন্যে মনে মনে অপেক্ষা করি।  মন্টু এক দৈনিক পত্রিকা–অফিসের সহ–সম্পাদক হয়েছে। বেশ ভালাে বেতন। বি. এ. টাও পাশ করে নি, কিন্তু বেশ গুছিয়ে ফেলেছে। অবাক হওয়ারই কথা। তার দ্বিতীয় বই ‘শুধু ভালােবাসা’ সাহিত্যপুরস্কার পেয়েছে। মন্টু এখন নামী ব্যক্তি। অনেকেই তার কাছে আসে। মন্টু তাে বাসাতে থাকে কমই, বাবা গিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। এ ব্যাপারে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৭

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৬

হয়েছে?  ‘দাদাকে যদি মেরে ফেলে, সেও তাে প্রফেসর।‘  শুনে আমি হেসে বাঁচি না। ওর যত টান দাদার জন্যে।  হতাশা আর বিষন্নতায় যখন সম্পূর্ণ ডুবেছি, তখনি কিটকির চিঠি পেলাম। ‘দেশে ফিরছি কবে বলতে পারছি না। প্লেনের টিকিট পেলেই।   বদলে গেছিস কিটকি। ‘লম্বা হয়েছি, না? ‘হু, আর রােগাও হয়েছিস। ‘আপনিও বদলেছেন, কি বিশ্রী গোঁফ রেখেছেন। ‘বিশ্রী… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৬

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৫

সবাই বাইরে এসে দাঁড়ালাম। সে রাতে–খুব জোছনা হয়েছিল। জামগাছের পাতা চিকচিক করছিল জোছনায়। উঠোনে চমৎকার সব নকশা হয়েছিল গাছের পাতার ছায়ায়। রুনু ফিসফিস করে বলল, ‘বাবা, কাল রাতে আমি মাকে দেখেছি। মা আমার মাথার পাশে এসে বসেছিলেন। আমি কি মারা যাচ্ছি বাবা?  ‘না মা, ছিঃ ! মারা যাবে কেন?  তােমরা কি রাগ করেছ আমার ওপর?… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৫

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৪

‘আচ্ছা আচ্ছা, প্যান্টের পকেটে হাত দে, মানি ব্যাগ পেয়েছিস? খােল। নে একটা নােট, নিয়ে যা। আরে আরে, দশ টাকারটাই নিলি ? ডাকাত একেবারে।‘ রুনু খিলখিল হেসে পালিয়ে যায় দ্রুত।   সেই রুনু এমন বদলে গেল। আমরা কেউ বুঝতেই পারলাম না। পরীক্ষার রেজাল্ট শুনে তার কোনােই ভাবান্তর নেই। সেদিন শুনি জানালা দিয়ে মুখ বের করে ওভারশীয়ার… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৪

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৩

‘খুব মনে আছে। আমি চুপচাপ বসে আছি ছাদে। তােমরা তাে কেউ ছাদে খুঁজতে আস নি। সারা দিন একা একা বসেছিলাম। রাত হতেই ভূতের ভয়ে নেমে  এসেছি।‘   ‘তারপর কী হল বল তাে রুনু?   ‘আরেকটা চড় খেলাম। ‘চড়টা কে দিয়েছিল মনে আছে? ‘হ্যাঁ, তুমি। সশব্দে দু‘ জনে হেসে উঠলাম।  ‘কে? কে হাসছে ? তাকিয়ে দেখি রাবেয়া… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২২

বারােই আশ্বিন ঝুনুর সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল মনসুরের।  বাবা আর রাবেয়ার প্রবল মতের সামনে টিকতে পারলাম না। বনু বেশ অবাক হয়েছিল। তাকে কিছু বলা হয় নি, তবে সে যে আচ করতে পেরেছে–––তা বােঝা যাচ্ছিল। ঝুনু যতটা আপত্তি করবে মনে করেছিলাম, ততটা করে নি দেখে কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। আত্মীয়স্বজনরা কী বুঝল কে জানে, বিশেষ উচ্চবাচ্য করল… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২১

এই চিঠিটা পড়েন একটু।  গােটা গােটা অক্ষরে লেখা। আধপাতার একটা চিঠি। সবুজ নামে একটি ছেলেকে লেখা। সবুজের সঙ্গে সে সিনেমায় যেতে পারবে না। বাসার সবাই সন্দেহ করবে। রুনুই লিখেছে মাস তিনেক আগে। স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।   ‘কই পেয়েছ এই চিঠি?‘ ‘সবুজ কাল রাতে আমাকে দিয়ে গিয়েছে।  কথা বলতে আমার সময় লাগল। আর বলবই–বা কী? শুকনাে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২১

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২০

আয় যাই।  বেশ কেটে যাচ্ছে দিন। কিটকির চিঠি হঠাৎ মাঝে মাঝে এসে পড়ে। কেমন আছেন ভালাে আছি গােছের। একঘেয়ে জীবনের মধ্যে এইটুকুই যেন ব্যতিক্রম। হঠাৎ করে এক দিন সবার একঘেয়েমী কেটে গেল। মনসুরের বাবা এক সন্ধ্যায় বেড়াতে এসে অনেক ভণিতার পর বাবাকে বললেন, ‘আপনার মেয়ে রুনুকে যদি দেন আমাদের কাছে, বড়াে খুশি হই। মনসুরের নিজের… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২০

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৯

‘আহ্ বাবা, কি বলেন, লজ্জা লাগে।‘ ‘তাহলে থাক। মনে মনে তাের গুণ গাই।‘ ‘বাবা চুপ করেন।‘  সবচেয়ে ছােট যে নিনু সেও দেখতে দেখতে বড়াে হয়ে গেল। মার চেয়েও রূপসী হয়েছে সে। পাতলা ঠোট, একটু থ্যাবড়া নাক, বড়াে বড়াে ভাসা চোখ সব সময় ছলছল করছে। ঐ তাে সেদিন হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াত। থ থ থ বলে আপন… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৯

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৮

‘বল।‘ | ‘বিয়ে–টিয়ে করতে আমার একটুও ইচ্ছে হয় না। ওটা একটা বাজে ব্যাপার। অজানা–অচেনা একটা ছেলের সঙ্গে শুয়ে থাকা, ছিঃ।  রিক্সা দ্রুত চলছে। রাবেয়া চুপ করে বসে। রােদের লালচে আঁচে রাবেয়ার মুখটাও লালচে হয়ে উঠেছে। কী ভাবছে সে কে বলবে।  রুনু টেবিল–ল্যাম্প জ্বালিয়ে কী যেন একটা লিখছিল। আমাকে দেখেই হকচকিয়ে উঠে দাঁড়াল। লেখা কাগজটা সন্তর্পণে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৮