হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৭

সেখানে। কিটকির যে এত বন্ধু আছে, তা  জানতাম না। হেসে হেসে সবার সঙ্গেই সে কথা বলল। কিটকিকে মনে হচ্ছিল একটি সবুজ পরী। সবুজ শাড়ি, সবুজ জুতাে, সবুজ ফিতে–এমন কি কাঁধের মস্ত ব্যাগটাও সবুজ।।   রাবেয়াকে বললাম, ‘কিটকিকে কী সুন্দর মানিয়েছে, দেখেছিস? তুই এমন মিল করে সাজ করিস না কেন?  ‘সাজ দেখে যদি তাের মতাে কোনাে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৭

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৬

রাবেয়া রেগে গিয়ে বলত, মারব থাপ্পড়। বাবাকে জোকার বলছে! দেখছ বাবা–মেয়ের কেমন ফিচলে বুদ্ধি হয়েছে?   বাবা বলতেন, ‘ঝুনুর আমার এই এতটা বুদ্ধি। যাও তাে রুনু–ঝুনু, একটু নাচ দেখাও।   কিটকির কাছে শেখা আনাড়ি নাচ নাচত দু‘ জনে। মা মুখে মুখে তবলার বােল দিতেন। বাবা বলতেন, ‘বাহা রে বেটি, বাহা। কী সুন্দর শিখেছে, বাহ্ বাহ! এবার মন্টু… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৬

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৫

মা আসতেন আরাে কিছু পরে। খুব কম সময় থাকতেন। আমরা বেরিয়ে আসতাম সবাই। একসময় দেখতাম মুখ কালাে করে মামা উঠে যেতেন। মা শুয়ে শুয়ে কাঁদতেন সারা দুপুর। আমরা মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়াতাম। কিছুই ভালাে। লাগত না। সেই অল্পবয়সেই মাকে কি গভীর ভালােই না বেসেছিলাম! অথচ তিনি ছিলেন খুবই নিরাসক্ত ধরনের। কথাবার্তা বলতেন কম। নিঃশব্দে হাঁটতেন।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৫

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৪

শোঁ শোঁ আওয়াজ দিচ্ছে। মন্টু বলল, ‘বাবা, গল্প বলেন।  ‘কিসের গল্প, ভূতের? নিনু বলল, ‘না, আমি ভয় পাচ্ছি, হাসির গল্প বলেন। বাবা বললেন, ‘রাবেয়া, তুই একটা হাসির গল্প বল।   রাবেয়ার হাসির গল্পটা তেমন জমল না। বাবা অবশ্যি অনেকক্ষণ ধরে হাসলেন।  রুনু বলল, ‘মনে পড়ে আপা, মা এক দিন এক কানা সাহেবের গল্প বলেছিল? সেদিনও… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৪

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৩

তাে?  তখন চারদিকে খুব ছেলেধরার কথা শােনা যেত। ছেলেধরারা নাকি ছেলে মেয়ে ধরে নিয়ে হােটেলে বিক্রি করে দেয়। সেখানে মানুষের মাংস রান্না হয়। বে অবির মাংস খেতে গিয়ে একটি বাচ্চা মেয়ের কড়ে আঙুল পেয়েছে। এই জাতীয় গল্প । রাহেলার কথা শুনে ভয় পেলেও হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেছি, ছেলেধরা এমন হয়   বুঝি? ভদ্রলােক গাড়ির দরজা… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৩

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১২

এসে দেখি তালাবন্ধ। তালার সঙ্গের চিঠিখানা পড়ে দেয়াশলাই কিনতে গিয়েছি, আর তুমি এসেছ।‘ | ‘আপনাকে বসাই কোথায়––আসেন, চা খান এক কাপ।  না। আমার ডায়াবেটিস, চা থাক। তুমি এই মেয়েটিকে এই চকোলেটগুলি দিয়ে দিও, আচ্ছা? ভদ্রলােক কালাে ব্যাগ খুলে চকোলেট বের করতে লাগলেন।  ‘বিদেশে থাকাকালীন প্রায়ই মনে হত, মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায় নি তাে? হলে কোথায় হল… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১২

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১১

কিটকির হাত ধরে হল থেকে বেরিয়ে এলাম। আলােয় এসেই লজ্জা পেয়ে গেল সে। তুই একটা পাগল। বলেছে আপনাকে! আর একটা বাচ্চা খুকি। আর আপনি একটা বুড়াে।  ‘তুই ভারি ভালাে মেয়ে কিটকি। তাের কান্না দেখে আমার এত ভালাে লেগেছে।  ‘ভালাে হবে না বলছি। ‘আইসক্রীম খাবি কিটকি ?  –না। ‘না–না, খেতেই হবে। আয়, তুই সিনেমা দেখালি––আমি আইসক্রীম… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১১

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১০

শিরিন সুলতানা নামের উনিশ বছরের একটি মেয়ে সূর্য ওঠার আগে ছাদে বসে হারমােনিয়ামে গলা সাধত ঘড়ির কাঁটার মতাে নিয়মে। সাতটার দিকে গানের মাষ্টার শৈলেন পােদ্দার আসতেন গান শেখাতে। তিনি আধঘন্টা থাকতেন। এই সমস্ত সময়টা আজহার হােসেন নামের একটা গরিব আশ্রিত ছেলে কান পেতে অপেক্ষা করত। ছাদের চিলেকোঠার ঘরটায়, সেখানেই সে থাকত। এক দিন মেয়েটি কী… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১০

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৯

খুশি খুশি গলায় বলেন, ‘তুই বড়াে লেটরাইজার। স্বাস্থ্য খারাপ হয় এতে। দেখ না আমার স্বাস্থ্য আর তাের স্বাস্থ্য মিলিয়ে।  সত্যি চমৎকার স্বাস্থ্য বাবার। রিটায়ার করার পর আরাে ওজন বেড়েছে। আমি সপ্রশংস চোখে তাকাই বাবার দিকে। বাবা হেসে হেসে বলেন, ‘এত রােগা তুই! কলেজের ছেলেরা তাের কথা শােনে?”   ‘তা শােনে। রাবেয়া রান্নাঘর থেকে চাচায়, না… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৯

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৮

 আর আমাদের আশ্চর্য ফর্সা, ভীষণ রােগা মা হাইফোরসেপ ডেলিভারিতে অপারেশন টেবিলে চুপচাপ মারা গেছেন।  তেইশ বছর আগে মা এসেছিলেন আমাদের ঘরে। তেইশ বছরে একটি বারের জন্যও নিজের বাবার প্রকাণ্ড বাড়িতে যান নি। কতই–বা দূর, বাসে চার আনার বেশি লাগে    এত কাছাকাছি থেকেও যেন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরের গৃহে তেইশ বছর কাটিয়ে দিলেন।  হাসপাতালে মার চারপাশে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৮