‘যান আপা, আপনি তো ভারি ইয়ে…মা ডাকলেন তাই। বেশ বেশ, তা এমন গলদা চিংড়ির মতাে লাল হয়ে গেছ যে! গরমে না হৃদয়ের উত্তাপে? ‘যান আপা, ভাল্লাগে না। ‘নিন, নিন, ভিটকি বেগম––চা নিন। ‘কি সব সময় ভিটকি ডাকেন, জঘন্য লাগে।‘ ‘কিটকির কি কোনাে মানে আছে? তাই ভিটকি ডাকি। ‘যেন ভিটকির কত মানে আছে। ‘আছেই ভাে।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৭
Author: Admin
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৬
মা কোনাে কথা বললেন না। বাবা বললেন, ‘দেরি হয়ে যাচ্ছে, খােকা তুই নেমে যা। ‘আমিও সঙ্গে যাই বাবা?‘ ‘না–না, তুই থাক। বাসায় ওরা একা। নেমে যা, নেমে যা। মাসি গলা বাড়িয়ে বললেন, ‘পানের কৌটা ফেলে এসেছি, কেউ আসে তাে সঙ্গে দিয়ে দিও।‘ গাড়ি ছেড়ে দিল। মন্টু গাড়ির পেছনে পেছনে বড়াে রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে ফোঁপাতে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৬
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৫
‘তাের মাকে মনে হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভালাে। ‘কেন? হঠাৎ করে? ‘না, মানে সুহাসিনী বলল। এখন বয়স হয়েছে কিনা। তা ছাড়া––– ‘তা ছাড়া কী?‘ | ‘না, মানে কিছু নয়। আমার কেন যেন খারাপ লাগছে স্বপ্নটা দেখার পর। দেখলাম যেন আমি একটা ঘরে…‘। ‘একটা ঘরে কী? না না, রাতের বেলায় স্বপ্ন বলে নাকি কেউ। বাবা… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৫
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৪
তবে কলেজে যাবে না কেন? এমনি।‘ ‘না, এমনি না। বল তােমার কী হয়েছে? রাবেয়া হঠাৎ ফুপিয়ে কেঁদে উঠে বলল, “মা, ছেলেরা আমাকে মা কালী বলে ডাকে। আমাদের ভেতর রাবেয়াই শুধু মার রং পায় নি। যতটুকু কালাে হলে মায়েরা মেয়েদের শ্যামলা বলেন, রাবেয়া তার চেয়েও কালাে। কিন্তু ছেলেরা শুধু গায়ের রংটাই দেখল? ও ছেলে। |… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৪
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৩
বাসায় ফিরে দেখি বাবা এসে গেছেন। ওভারশীয়ার কাকুর বউ এসেছেন, ধাই সুহাসিনীও এসেছে। রান্নাঘরে বাতি জ্বলছে। রাবেয়া ব্যস্ত হয়ে এঘর–ওঘর করছে। বাবা ভেতরের বারান্দায় ইজিচেয়ারে শুয়ে ঘন ঘন সিগারেট খাচ্ছেন। আমাকে দেখে যেন একটু জোর পেলেন। তাের ছােটখালাকে খবর দিয়েছিস খােকা? ‘জ্বি দিয়েছি। আপনি কখন এসেছেন? ‘আমার একটু দেরি হয়ে গেল। তাের আজিজ খাকে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-৩
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২
এখান থেকে মায়ের অস্পষ্ট কান্না শােনা যাচ্ছে। কিছু কিছু কান্না আছে, যা শুনলেই কষ্টটা সম্বন্ধে শুধু যে একটা ধারণাই হয় তাই নয়, ঠিক সেই পরিমাণ কষ্ট নিজেরও হতে থাকে। আমার সেই ধরনের কষ্ট হতে থাকল। রাবেয়া এসে রুনুর ঘরের তালা খুলে দিল। রাবেয়া বেচারি ভীষণ ভয় পেয়েছে। ‘তুই এত দেরি করলি খােকা, এখন কী… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-২
হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১
বাস থেকে নেমে হকচকিয়ে গেলাম। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সব। রাস্তায় পানির ধারাস্রোত। লােকজন চলাচল করছে না, লাইটপােস্টের বাতি নিভে আছে। অথচ দশ মিনিট আগেও যেখানে ছিলাম, সেখানে বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। শুকনাে খটখট করছে চারদিক। কেমন অবাক লাগে ভাবতে, বৃষ্টি এসেছে, ঝুপ ঝুপ করে একটা ছােট্ট জায়গা ভিজিয়ে চলে গেছে। আর এতেই আশৈশব পরিচিত এ অঞ্চল… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র শেষ খণ্ড
সেই বছর হঠাৎ আমাদের গ্রামে শুধু নয়, এলাকা জুড়ে সিঁদ কেটে চুরি শুরু হল। দাদুর মতে, এ কক্ষনও পাঁচুর কাজ নয়। পাঁচু যা ভিতু সিঁদকাঠি দিয়ে ঘরের দেয়াল ফুটো করতে গেলে যেটুকু শব্দ হবে, তাতেই সে ভয়ে দিশেহারা হয়ে পালিয়ে যাবে। পাঁচু রাতবিরেতে এতটুকু শব্দ হলেই ভয় পায়। একদিন বাবা বাইরে থেকে এসে বললেন,-সিঁদেল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র শেষ খণ্ড
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৬
পুজোর ছুটিতে স্কুল বন্ধ। প্রতি বছর পুজোর সময় বড়মামা আমাদের বাড়িতে আসতেন। সেদিনই বিকেলে তিনি এসেছেন। বড়মামা ছিলেন ভবঘুরে ধরনের মানুষ। দেশবিদেশে ঘুরে বেড়ানাের বাতিক ছিল তার। পুজোর সময় এসে ভাগনে-ভাগনিদের সেই ভ্রমণ-বৃত্তান্ত শােনাতেন। তা যেমন অদ্ভুত, তেমনই রােমাঞ্চকর। এসেই তিনি ঘােষণা করতেন কোন-কোন দেশে গিয়েছিলেন। তারপর সন্ধেবেলায় তার গল্পের আসর বসত। এবার এসে বড়মামা… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৬
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৫
আমরা তিনজনে দৌড়চ্ছি। পেছনে কবির করুণ আর্তনাদ কানে আসছে, অত ভালাে পদ্যখানা শুনে গেল না! আমার যে আবার মরতে ইচ্ছে করছে গাে! ও হাে হাে হাে… ছােটমামা রাস্তার কাছে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,—ওহে রিকশওয়ালা। ওরা সব নেই তাে? রিকশওয়ালা হাসল। নাহ! ঘুমিয়ে পড়েছে। ভেস-ভেঁস করে ঘুমােচ্ছে। শুনতে পাচ্ছেন না? ছােটমামা কান ধরে শুনে বললে,… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৫