সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৪

ছােটমামা খাপ্পা হয়ে বললেন, না। জানি না। আমরা মানুষ। আমরা তােমার মতাে রাত-বিরেতে গাছে কাটাই না। -হি হি হি! প্রথম-প্রথম এই ভুলটা হয়। —কী ভুল হয়?   মানুষ-মানুষ ভুল। -কী অদ্ভুত।  —অদ্ভুত তাে বটেই। অদটুকু বাদ যেতে কয়েকটা দিন দেরি, এই যা। তা তােমরা কি ডেরা খুঁজে বেড়াচ্ছ? বােকা আর কাকে বলে? ভুতাের রিকশতে চেপে হি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৪

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৩

গাছের ভেতর থেকে খ্যানখেনে গলায় কেউ বলল,—ঘুমােব কী রে বাবা! পেট আইঢাই। এত দেরি করলি কেনরে?  —প্যাসেঞ্জার পেলে তাে আসব। এই নিন হজমিগুলি। —এনেছিস? কই দে-দে। শিগগিরি দে।   রিকশওয়ালা তাকে হজমিগুলি দিয়ে এসে সিটে উঠল। প্যাডেলে চাপ দিল। রিকশর চাকা গড়াল। ছােটমামা বললে,—ব্যাপার কী হে রিকশওয়ালা? তােমার চক্কোত্তিমশাই কি গাছে থাকেন নাকি?  রাতের মানুষ … Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩৩

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩২

পেতনি আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। ডন যথারীতি বালিশের পাশে শিশি রেখে ঘুমােচ্ছিল। শিশিটা চুপিচুপি তুলে নিয়ে জানালার গ্রিলের ফঁাকে রেখে ছিপি খুলে দিলুম।   তারপর যা দেখলুম, ভয়ে বুকটা ধড়াস করে উঠল। জ্যোৎস্নায় একটা সাদা কাপড়পরা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে।  সাহস করে টর্চ বের করলুম। টর্চ জ্বালাতেই মূর্তিটা আর দেখতে পেলুম না। চুপিচুপি দরজা খুলে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩২

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩১

সেই সময় দেখলুম, একটু দূরে বাঁশবনের ভেতর গুড়ি মেরে মােনা বাঘের মতাে চুপিচুপি হাঁটছে। তারপর সে লাফ দিয়ে যেন কিছু ধরল। তারপর চেঁচিয়ে উঠল,এবার? এবার বাছাধন যাবে কোথায়? খােকাবাবু! ছােটবাবু! চলে আসুন।   সাড়া দিয়ে বললুম,—এই যে এখানে আছি।  মােনা আমাকে দেখতে পেয়ে অদ্ভুত শব্দে হাসতে-হাসতে চলে এল। ছিপি আঁটা শিশিটা আমাকে দিয়ে বলল,-এবার কিন্তু… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩১

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩০

বস্তু, তর্কে বহুদূর। কাজেই যারা ওকে বিশ্বাস করে, তারা বলে মােনা-ওঝা এবং যারা করে না, তারা বলে মােনা বুজরুক। তবে লােকটাকে যত ভয়ঙ্কর দেখাক, ওপর পার্টির দুটো দাঁত নেই বলে যখনই হাসে, তাকে ভালােমানুষ মনে হয়। কিন্তু মােনা বুজরুক ডনকে ঠকাবে এবং ডন একটা ছােট ছেলে। এতেই মােনার ওপর খাপ্পা হয়েছিলুম। বড়রা বােকামি করে ঠকে।… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-৩০

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৯

সেইসব ভূত শুধু ঠাকুমার মুখ গম্ভীর। কেন গম্ভীর, তা সকালবেলায় জানতে পারলাম। বাগানের কোণায় একটা বেলগাছ ছিল, সেই গাছে থাকত এক বেম্মদত্যি। সকালে দেখি, ঠাকমা বেলতলায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। দৃষ্টি ঝিলের দিকে।   ঠাকুমার কাছে গেছি, সেই সময় মােনা-ওঝা ঝিলের দিক থেকে হন্তদন্ত এসে ধপাস করে বসে পড়ল। ঠাকুমা বললেন,-খুঁজে পেলি?   মােনা-ওঝা ফেঁাস করে শ্বাস… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৯

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৮

সেই সব ভূত আর জঙ্গলের কন্ধকাটার ঝগড়ার কথা শুনেছিলাম। বলেছিলেন,—মােনা-ওঝাকে ডাকতে হবে। মােনা ছাড়া এর বিহিত হবে না।  মােনা-ওঝা পরদিন এসেছিল। ঠাকুমার মুখে সব শুনে সে বলল, বড় সমিস্যে দিদিঠাকরুন। ওদের ঝগড়াঝাটির কথা আমার অজানা নয়। অনেক চেষ্টা করেও মিটমাট করাতে পারিনি। আসলে শাঁকচুন্নিটা আলাে ছাড়া এক পা হাঁটতে পারে না। মেয়েটা রাতকানা। ওদিকে কন্ধকাটার চোখে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৮

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৭

মাতব্বররাও বলে উঠলেন, হ্যা। প্রমাণ চাই। সাক্ষী চাই, সিঙ্গিমশাই, কই আপনার সাক্ষীদের ডাকুন।  সাক্ষী পাওয়া গেল না। আমাদের গাঁয়ের লােকেরা বলল,ভূতগুলাে বাড়াবাড়ি করলে বরং মােনা-ওঝাই এসে বুঝিয়ে–সুঝিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। কাজেই মােনা তাদের আস্কারা দেয় বলা চলে না। তা ছাড়া আজ অব্দি মােনা-ওঝা কারুর পেছনে ভূতকে লেলিয়ে দিয়েছে বলেও জানা নেই।    ‘পঞ্চগেরামি’ বিচারসভায় মােনা-ওঝা… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৭

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৬

জ্বালাতন! বলে ঠাকুমা উঠে গিয়ে ওদিকের জানালাটা বন্ধ করে দিতেন। তারপর বলতেন,এর একটা বিহিত করা দরকার। কালই মােনা-ওঝাকে ডেকে পাঠাতে হবে। | মােনা ছিল ভূতের ওঝা। ভূতগুলাের সঙ্গে নাকি বেজায় ভাব। তারা তাকে খুব সমীহ করে। একবার হল কী, সিঙ্গিমশাই রাত নটার বাসে শহর থেকে ফিরছেন। হাতে ছিল একভড় রসমালাই। ঠাকরুনতলার বটগাছের কাছে যেই এসেছেন,… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৬

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৫

তর্কাতর্কি বেধে গেল। অন্যেরা চুপ! চুপ! বলে থামানাের চেষ্টা করলেন। কিন্তু সিঙ্গিমশাইকে থামানাে শক্ত। শেষপর্যন্ত ফকিরবাবাকে ষষ্ঠীতলায় ফিরতে দেখে তর্কাতর্কি থেমে গেল। ফকিরবাবার কঁাধের তাপ্লিমারা রংবেরঙের ঝুলিটি এখন প্রায় পুঁটুলি হয়ে উঠেছে। সামনে এসে তিনি বললেন,-চললাম এবার পদ্মাপারে। ফিরে এসে আবার ফলার খাব।   মুখে ঝলমলে হাসি। প্রকাণ্ড পুঁটুলি হয়ে ওঠা ঝুলিটি খুব নড়ছিল। মিছিল… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ভৌতিক গল্পসমগ্র খণ্ড-২৫