Categories
বিবিধ

সদ্যেজাত ৫ শিশুর কেউই বেঁচে নেই

শনিবার ১৫ আগষ্ট রাতে চাঁদপুরের কচুয়ায়, কচুয়া টাওয়ার নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ঘটেছে এক বিষ্ময়কর ঘটনা।শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মারুফা বেগম (২৫) এক প্রসূতি ।

সদ্যেজাত শিশুর

৫ শিশুর কেউই বেঁচে নেই

প্রসূতির বর্ণনা শুনে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন। প্রসব ব্যথা তীব্র হতে থাকলে মারুফা বেগমকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে স্বাভাবিক ভাবে পরস্পর পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন মারুফা বেগম । চারটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি । 

তবে অপরিণত সময়ে জন্ম হওয়ায় প্রসবের পরস্পরই একে একে মারা যায় শিশুগুলো । প্রসবের পরপর মারা যায় তিন শিশু । বাকি দুই শিশু জীবিত নিয়েই রাতে হাসপাতাল ত্যাগ করেন ওই প্রসূতি মা । রোববার ( ১৬ আগষ্ট ) সকালে একে একে তারাও মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে । 

৫ শিশুর কেউই বেঁচে নেই

কচুয়া টাওয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক সিনথিয়া সাহা জানান, মূলত অপরিণত হয়ে জন্ম হওয়ায় পাঁচ শিশুই মারা যায় । 

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকড়ই গ্রামের কৃষক মোঃ ইউনুসের স্ত্রী মারুফা বেগম । তবে প্রসব ব্যাথার আগে মারুফা তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন ।

 

Read More

একসাথে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন মা

Categories
বিবিধ

সুনামগঞ্জের দর্শনীয়স্থান হাসন রাজার জাদুঘর ও টাঙ্গুয়ার হওররের নান্দনিক সৌন্দর্য সম্পর্কে আসুন জানে নেই

সুনামগঞ্জের ইতিহাস অতি প্রাচীন। অসংখ্য কিংবদন্তী এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও তথ্যাবলীতে সমৃদ্ধ।’ সুনামদি ‘ নামক জনৈক মোগল সিপাহীর নামানুসারে সুনামগঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।পাহাড়, নদী ও হাওয়রের জন্য প্রসিদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলাটি।এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয়,স্থানগুলো হলো: হাসহ রাজার জাদুঘর, ট্যাগুয়ার হাওর জাদুকাটা নদী, নীলাদ্রি লেক, বারিক্কা টিলা ইত্যাদ। 

নিম্নে হাসন রাজার জাদুঘর ও টাঙ্গুয়ার হাওয়ের সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হলো –

হাসন রাজার জাদুঘর:

হাসন রাজার জাদুঘর

বাংলাদেশের একজন বাউল শিল্পী ও মরমী কবি হচ্ছেন দেওয়ান হাসন রাজা।আর হাসন রাজার জন্ম এই সুনামগঞ্জে জেলার সুরমা নদীর তীরে তেঘরিয়া গ্রামে। হাসন রাজার পিতা ছিলেন একজন প্রতাপশালী জমিদার। হাসন রাজার পূর্বপুরুষেরা হিন্দু ধর্মালম্বী ছিলেন।তাদেরই একজন বীরেন্দ্রচন্দ্র সিংহদেব মতান্তরে বাবু রায় চৌধুরী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।হাসন রাজা ছিলেন স্বশিক্ষিত।  তার প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তিনি আঞ্চলিক ভাষা অনেক অনেক গান রচনা করেন।তিনি সংগীত রচনা শিরু করেন কৈশর থেকে। যৌবনে তিনি অত্যন্ত ভোগ বিলাসী ও সৌখিন ছিলেন।তিনি অতি অত্যাচারী রাজা হিসাবেই খ্যাত ছিলেন।হাসন রাজার মন মানসিকতার পরিচয় মিলে তার গানে। হাসন রাজা গভীর অনুভূতির মধ্য দিয়ে নিজের ব্যক্তিসত্তাকে তাঁর গানে প্রকাশ ও প্রচার করেছেন। তাঁর গানের ভাষারীতি সহজ সরল।বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং হাসন রাজার গানেরবপ্রশংসা করেছেন।

  তিনি মোট কতটি গান রচনা করেছেন তার সঠিক হিসাব মিলেনি। তাঁর গানের সঙ্গে বাঙ্গলার লোকায়ত জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।   

সুনামগঞ্জ শহরে হাসন রাজার স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিই হাসন রাজা জাদুঘর হিসাবে দর্শনাথীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।এই জাদুঘরে রয়েছে হাসন রাজার ব্যবহৃত  টেবিল, চেয়ার, তলোয়ার, পানি পরিশোধন পাত্র, রঙ্গির আলখাল্লা, জমিদারী কাজে ব্যবহৃত ক্যাশবাক্স পানদানিহাসন রাজার ব্যবহৃত লাঠি ও খড়ম,  মোমদানি, বাদ্যযন্ত্রের মধ্য ঢোল, করতাল,মন্দিরা ইত্যাদি। 

জাদুঘরটিতে হাসন রাজার একটি মাত্র আলোচিত্র রয়েছে। এটিও সংগ্রহ করা হয়েছে কলকাতা স্টুডিও থেকে ছবিটি সংগ্রহ করা হয়।জাদুঘরটি হাসন রাজার স্মৃতিজরিত বিভিন্ন জিনিসপত্র জীবন্ত হয়ে আছে। 

টাঙ্গুয়ার হাওর:

সুনামগঞ্জ জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাশয় হলো টাঙ্গুয়ার হাওর।টাঙ্গুয়ার হাওর পাখি,মাছ, অন্যান্য জলজ প্রাণীর অভয়াশ্রম।এই হাওরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়।বিশাল এলাকা জুরে রয়েছে এই হাওরটি।বর্ষাকালে এর আয়তন বেড়ে দাড়ায় ২০০০০ একরে।বিশাল জলরাশির তীর ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে উঁচু উঁচু পাহাড়।

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওরের পানি এতটাই স্বচ্ছ যে পানির তলদেশ দেখা যায়।মেঘালয়ের খাসিয়া ও জৈন্তা পাহাড়ের ছোট বড় ঝরনা হচ্ছে এই বিশাল জলরাশির উৎস।এতে দেখা যায় নানা প্রজাতির গাছ,  পাখি, সরীসৃপ প্রাণী যা এই হাওরের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়। আরও রয়েছে বিশাল নলখাগড়ার বন।এই সবকিছু ও শীতকালে অতিথি পাখির আগমন ও চারদিকের সবুজ প্রকৃতি এই হাওরটিকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তুলে যা সত্যি চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মত। 

 

বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার পূর্বে নাম ছিল বনগাঁও।১৮৭৭ সালে সুনামগঞ্জ মহুকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। খুবই মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সুনামগঞ্জ জেলা।বর্ষাকালে একানকার প্রকৃতিক দৃশ্য তার যৌবণ ফিরে পায়। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ যাবার সারাসরি বাসও আছে এবং পথও বেশ ভালো।তাই এই জেলার প্রকৃতিক সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখার জন্য একবার সুনামগঞ্জ ঘুরে আসা যায়।  

 

লিখেছেন – ত্রোপা চক্রবর্তী

 

Categories
বিবিধ

আসুন জেনে নেই, মুন্সিগঞ্জের ২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের জন্মস্থান সম্পর্কে 

মুন্সিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা হলো শ্রীনগর উপজেলা।পদ্মার তীর ঘেঁষা এই উপজেলাটি বেশ সুন্দর। ঢাকার খুব কাছে এই উপজেলাটি ।এই জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও দারুন। অনেক জ্ঞানী ও গুনী মানুষের জন্ম এই শ্রীনগরে।

জগদীশ চন্দ্র বসু

বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু:

বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু এর মধ্যে অন্যতম।শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল গ্রামে বিজ্ঞানীর পৈত্রিক নিবাস। বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এবং উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে এটা উনারই আবিস্কার। 

 

তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরম বন্ধু ছিলেন।  জগদীশচন্দ্র বসুর পৈত্রিক নিবাসটি ৩০ একর জায়গা জুড়ে।উনি উনার জীবন দশায় তার সম্পত্তি দান করে গেছেন।সেখানে ১৯২১ সালে সুরুজ বালা সাহা বিদ্যালয় ও পরে ১৯৯১ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশন ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

২০১১ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে, যা চলে জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশনের উদ্যোগে। কমপ্লেক্সে নির্মিত হয়েছে জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি জাদুঘর, পশু-পাখির , কৃত্রিম পাহাড়-ঝরনা ও সিঁড়ি বাধানো পুকুর ঘাট। জাদুঘরে জগদীশ চন্দ্র বসুর পোট্রেট, গবেষণাপত্র, হাতে লেখা পান্ডুলিপি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তিতে তাকে লেখা চিঠি ও রবীন্দ্রনাথের বসুকে লেখা চিঠি, তেল রং দিয়ে অাঁকা ১৭টি দুর্লভ ছবি, রয়্যাল সোসাইটিতে দেওয়া বক্তৃতার কপি এবং নানা দুর্লভ জিনিস রয়েছে। 

 

সবুজে ঘেরা জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ির পরিবেশ বড়ই মনোরম ।প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসে পিকনিক করতে। 

 

বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারক অতীশ দীপঙ্কর:

অতীশ দীপঙ্কর

শ্রীনগরের আরেক উল্লেখযোগ্য কৃতি সন্তান হচ্ছেন বোদ্ধ ধর্ম প্রচারক অতীশ দীপঙ্ক। ইতিহাসে উনার নাম স্বর্নাক্ষরে লিখা আছে।তিনি ৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।এই  গ্রামটি শ্রীনগর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত।এটি “নাস্তিক পন্ডিত”  এর ভিটা নামে পরিচিত।

 

 গৌড়ীয় রাজা কল্যাণশ্রী ও প্রভাবতির সন্তান তিনি।নেপালের রাজার আমন্ত্রণে প্রথমে নেপাল পরে ঔখান থেকে তিব্বত যান, যার বর্তমান নাম চীন। তিব্বতের রাজা রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়ে  উনাকে  থোলিং বিহারে নিয়ে জান।সেখানেই তিনি “বোধিপথপ্রদীপ ” রচনা করেন।তিনি তিব্বতের বিভিন্ন অংশে ঘুরেন আর বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন এবং বিশুদ্ধ ‘মহাযান’মতবাদের রচনা করেন।বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা গ্রহনের পর তাঁর নাম হায় ” দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞন “।

 

তিববতের ধর্ম ও সংস্কৃতিতে দীপঙ্করের প্রভাব আজও বিদ্যমান। তিব্বতের রাজা উনাকে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেন।প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি তিব্বতের একটি নদীতে বাঁধ দিয়ে বন্যা প্রতিরোধের মাধ্যমে জনহিতকর কাজেও অংশগ্রহণ করেন।প্রাচীন তিব্বতের আলোচনা উনাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ।  তিব্বতিয় ভাষায় তিনি বৌদ্ধশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা এবং কারিগরি বিদ্যা সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচনা করেন বলে তিব্বতিরা তাঁকে ‘অতীশ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

 

তিনি সেখানে অনেক জনহীতকর কাজ করেছেন।তিনি তিব্বতেই মরা জান। আর তার সমাধিক্ষেএ তাদের কাছে তীর্থ ক্ষেএ। ১৯৭৮ সালের ২৮শে জুন দীপঙ্করের পবিত্র চিতাভস্ম চীন থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকায় আনা হয় এবং তা বর্তমানে ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে সংরক্ষিত আছে।এমন একজন জ্ঞানী লোকের জন্মস্থান  অবশ্যই দর্শনীয় বলেই আমার মনে হয়।

 

শ্রীনগর উপজেলাটি ঢাকা থেকে অনেক কাছেই।সকালে গিয়ে সারাদিন ঘুরে বিকালেই ফেরত আসা যায়। আর যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ ভাল আর যাত্রা পথের প্রাকৃতিক দৃশ্যও বেশ মনোরম। তাছাড়ও শ্রীনগরে আর অনেক কিছুই দেখার আছে যেমন – পদ্মার পাড় আর খানারের মধ্যে ঘোল, ছানার সন্দেশ। তাই সময় করে এই দর্শনীয় এই স্থানগুলো ঘুড়ে আসা যা। 

 

By

ত্রোপা চক্রবর্তী। 

 

Categories
বিবিধ

কক্সবাজার ভ্রমণের সংক্ষিপ্ত গাইড জেনে নিন

 কক্সবাজার

সারি সারি ঝাউবন, বালুর নরম বিছানা, সামনে বিশাল সমুদ্র। কক্সবাজার গেলে সকালে-বিকেলে সমুদ্রতীরে বেড়াতে মন চাইবে। নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। যারা সপরিবারে বেড়াতে চান তাদের জন্যই এই প্রতিবেদন। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন।

এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়অ ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার উপরে। সমুদ্রে নামার আগে সতর্কতা ও অন্যান্য তথ্য:সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। এ সম্পর্কিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসলে নামা নিরাপদ। এ সময় তাই জোয়ারের সময় নির্দেশিত থাকে, পাশাপাশি সবুজ পতাকা ওড়ানো হয়।

ভাটার সময়ে সমুদ্রে স্নান বিপজ্জনক ভাটার টানে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ।তাই এ সময় বিচ এলাকায় ভাটার সময় লেখাসহ লাল পতাকা ওড়ানো থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকুন। কোনোভাবেই দূরে যাবেন না। প্রয়োজেন পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের সহায়তা নিন। ওদের জানিয়ে বিচে নামুন।

বিচ ফটোগ্রাফি:

কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমে শ দুয়েক বিচ ফটোগ্রাফার পর্যটকদের ছবি তুলে থাকে। প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই এসব ছবি প্রিন্ট করে নেগেটিভসহ পর্যটকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে। লাল পোশাক পরা এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে আইডি কার্ড।বেশ কয়েকটি স্টুডিও এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সরকারি রেট অনুযায়ী ফোরআর সাইজের ছবি ৩০টাকা । এ সম্পর্কিত সাইনবোর্ড মেইন বিচে দেখতে পাওয়া যায়। এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ছবি তোলার আগে আইডি কার্ড দেখে নেওয়া ভালো।

স্পিডবোট:

বিচে বেশ কয়েকটি স্পিডবোট চলে। মেইন বিচ থেকে এগুলো চলাচল করে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত। ভাড়া এক রাউন্ড ১০০টাকা। এছাড়া খোলা স্পিডবোটের সাহায্যে চলে লাইফ বোট জনপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা।বিচ বাইক: তিন চাকার বেশ কয়েকটি বিচে চলার উপযোগী বাইক কক্সবাজার সাগর সৈকতে চলাচল করে। প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে এসব বাইক রাউন্ড প্রতি পঞ্চাশ টাকা করে পর্যটকদের প্রদান করতে হয়।

হিমছড়ি ও ইনানী বিচ ভ্রমনঃ

কক্সবাজারের ১২ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। একটি হলো হিমছড়ি এবং অন্যটি হলো ইনানী। কক্সবাজার সমুদ্র থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত ইনানী সমুদ্র সৈকত। আর এই সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে মাত্র ১২ কিলোমিটার গেলেই পাওয়া যাবে আরেক দর্শনীয় পর্যটন স্থান হিমছড়ি। কলাতলী থেকে জিপে চড়ে যেতে পারেন এ জায়গা দুটিতে। খুব সকালে গেলে জায়গা দুটি ঘুরে আবার দুপুরের মধ্যেই ফিরতে পারবেন কক্সবাজার শহরে। কক্সবাজার থেকে জিপে যেতে পারবেন এখানে। রিজার্ভ নিলে খরচ পড়বে দেড় থেকে আড়াইহাজার টাকা। আর লোকাল জিপে গেলে এ জায়গা দুটি ঘুরে আসতে জনপ্রতি খরচ হবে দুই আড়াইশ টাকা।

যাতায়াত ও ভাড়া :

যারা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে চান তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার অথবা সরাসির বাসে কক্সবাজারে যেতে পারে। ঢাকার ফকিরাপুল, আরামবাগ, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়।এসি ও নন এসি, ডিলাক্স ও সাধারণ এসব সরাসরি বাস পরিবহনের ভাড়া পড়বে ৪০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। সোহাগ, গ্রীন লাইন ছাড়াও ঈগল ও অন্যান্য পরিবহনের বাস চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম এবং পরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রতিদিন ট্রেন বা বাস ছেড়ে যায়। তবে টিকেট বুকিং আগেভাগেই করে রাখা ভালো।

কক্সবাজারের আবাসিক ব্যবস্থা:

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও দর্শনীয় বিচ কক্সবাজারে রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের বেশ কয়েকটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। এছাড়া সরকারি ও ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় বিভিন্ন মানের অনেক রিসোর্ট, হোটেল ও বোর্ডিং হাউস। সর্বনিম্ন ২০০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকায় কক্সবাজারে যাতযাপন করা যায়। হোটেল সিগালের ভাড়া ২,২০০-৭,০০০ টাকা। হোটেল শৈবালের ভাড়া ১,০০০-৩,০০০ টাকা। হোটেল লাবণীর ভাড়া ৬০০-৩,০০০ টাকা। উপলের ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা। সি ক্রাউনের ভাড়া ২০০-৩,০০০ টাকা। জিয়া গেস্ট হল ৩০০-২,০০০ টাকা।ভাড়া অন্যান্য হোটেল রেস্টহাউসের ভাড়া প্রায়ই নির্ধারিত। তবে কক্সবাজার ভ্রমণের পূর্বে ফোনে যোগাযোগ করে বুকিংমানিং পাঠিয়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ভালো। সরাসরি গিয়েও কথা বলে রুম ভাড়া নেওয়া যায়।

খাওয়াদাওয়া ও রেস্টুরেন্ট:

প্রায় প্রতিটি আবাসিক হোটেল বা হোটেলের সন্নিকটে রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেল রয়েছে। কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ থাকে সাগরের বিভিন্ন মাছের মেন্যুর প্রতি।বিশেষ করে চিংড়ি, রূপচাঁদা, লাইট্যা, ছুরি মাছসহ মজাদার শুটকি মাছের ভর্তার প্রতিই পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি থাকে। খাবারের মেন্যু অনুযায়ী একে রেস্টুরেন্টে একেক ধরনের মূল্য তালিকা দেখা যায়। তবে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত কিছু কিছু তালিকা ভোজন রসিকদের আশ্বস্ত করেছে। মোটামুটি ১০-৫০০ টাকার মধ্যে সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী মজাদার খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। তবে খাবার গ্রহণের পূর্বে খাবারের নাম, মূল্য এবং তৈরির সময় সম্পর্কে জেনে নিন। প্রয়োজনে খাদ্যের তালিকা ও মূল্য টুকে রাখুন। তালিকা সঙ্গে মিলিয়ে বিল প্রদান করুন।

সেন্টমার্টিন ভ্রমনের প্রয়োজনীয় তথ্য:

আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার, তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ এটি বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য বর্ণনার ক্ষুদ্র প্রয়াস।বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে জ্ঞান আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য অনুপম অবকাশ কেন্দ্র সেন্টমার্টিন। স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল বিশ্ব রহস্যের জীবন্ত পাঠশালায় পরিণত করেছে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার।

টেকনাফ থেকে ট্রলারে লঞ্চে কিংবা জাহাজে যেতে লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। এর জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। নারিকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ধান এই দ্বীপের প্রধান কৃষিজাত পণ্য। আর অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। তবে ইদানীং পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

সেন্টমার্টিন যেভাবে যাবেন :

বাংলাদেশের যে কোনও স্থান থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে প্রথমে জিপে চড়ে টেকনাফ, টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ কিংবা ট্রলারে চড়ে পৌঁছাবেন সেন্টমার্টিনে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার বেশ কিছু গাড়ি। বাসে ভাড়া লাগবে এসি ৮০০ – ১২০০ এবং নন-এসি ৪০০-৭০০ টাকা। কক্সবাজার তো গেলেন তারপর বাসে ৩০-৫০ টাকা, ট্যাক্সিতে ৪০-৬০ টাকা অথবা রিজার্ভ মাইক্রোবাসে টেকনাফ যেতে ভাড়া লাগবে ৫০০-১০০০ টাকা (৮-১০ সিট)।

প্রতিদিন সকাল থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল করে এসব গাড়ি। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সকাল থেকে আসা-যাওয়া করে সি-ট্রাক, কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং নাফসি হাজাজ। চমৎকার এসব জাহাজের পাশাপাশি ট্রলার ও চলাচল করে এই সমুদ্র রুটে। পছন্দসই বাহনে যেতে পারেন। তবে নিরাপদ জলযান হিসেবে কেয়ারি সিন্দাবাদ ও নাফসি জাহাজই নির্ভরযোগ্য। এসব জাহাজে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। অন্যদিকে প্রতিদিনই বিকাল ৩টায় এসব সাহাজ সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসে। শীত মৌসুমে সমুদ্র শান্ত থাকে এবং গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকে, তখন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ।

কোথায় খাবেন :

যারা স্বল্প সময়ের জন্য সেন্টমার্টিনে যেতে চান অর্থাৎ সন্ধ্যার আগে ফিরতে চান তাদের অবশ্যই ৩টার আগে ফিরতি জাহাজে আরোহণ করতে হবে। ছোট এই দ্বীপ এলাকা ঘুরে দেখতে ৩ ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। তবে প্রধান দ্বীপ ও ছেড়া দ্বীপে যারা যেতে চান তাদের হাতে বেশ খানিকটা সময় থাকা উচিত। পর্যটকদের খাবারের জন্য রয়েছে এখানে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ। তার কয়েকটি হল কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, । হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ। এছাড়া আসাম হোটেল, সি বিচ, সেন্টমার্টিন, কুমিল্লা রেস্টুরেন্ট, রিয়েল রেস্তোরাঁ, হাজী সেলিম পার্ক, সেন্টমার্টিন টুরিস্ট পার্ক, হোটেল সাদেক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

থাকবেন কোথায় :

সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। ১৬টি হোটেলসহ বেশ ক’টি কটেজে প্রতিরাতে কমপক্ষে পাচশ জন পর্যটক থাকতে পারেন। অনেক বাড়িতেও আছে পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। ভাড়া পড়বে ২০০-২৫০ টাকা, শীত মৌসুমে চাপ বেশি বিধায় ইচ্ছামতো ভাড়া নেয় মালিকরা।

এবার জেনে নিন কয়েকটি হোটেল-মোটেলের নাম ও হোটেলের ঠিকানা :

সীমানা পেরিয়ে : ১০টি রুমের প্রতি রুমে ৪ জন থাকার ব্যবস্থা আছে। ভাড়া রুম প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা, তাঁবুতে ৪ জন করে ৩০০ টাকা। খাবার খরচ জনপ্রতি ৫০-৭০ টাকা। যোগাযোগ জাহাঙ্গীর । প্রিন্স হেভেন :রুম সংখ্যা ১৮টি, ডাবল রুমের ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা। একসঙ্গে ৪ জনের থাকার ব্যবস্থা। সিঙ্গেল রুমে থাকার ব্যবস্থা দু’জনের ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগ : ০১৮৯৩০৮০৫৮। ব্ল–মেরিন রিসোর্ট-৩৪টি অতিথি রুমসহ ১৮টি ডাবল বেডরুম। ট্রিপল রেডরুম ১৩, ছয়জনের বেডরুম ৫টি এবং কটেজ ২টি। ভাড়া ডাবল ১০০০ টাকা, ট্রিপল ১২০০ টাকা, ৬ বেড ১৫০০ টাকা, ৫ বেডের কটেজ ২৫০০ টাকা।

সমুদ্র বিলাস (লেখক হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি) :

৪ রুমের এই বাড়িতে প্রতি রুমের ভাড়া ৫০০-১০০০ টাকা।আরও আছে বিচ ক্যাম্প ; হোটেল সাগর পাড় এবং রিয়াদ গেস্ট হাউজ । আছে হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরিন পার্ক। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতি বাড়িতে আবাসিক সুবিধা পাওয়া যায়। সরাসরি এসব বাড়িতে গিয়ে আলাপ করে থাকা যায়

বি দ্রঃ ভাড়ার কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
Categories
বিবিধ

মেহেরপুর জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যবলী ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

মেহেরপুর জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যবলী

মেহেরপুর জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল । মেহেরপুর জেলা ২৩.৪৪/ থেকে ২৩.৫৯/ ডিগ্রী অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩৪/ থেকে ৮৮.৫৩/ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত । এটি বাংলাদেশের পশ্চিমাংশের সীমান্তবর্তী জেলা । এ জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত), দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবনগর, দামুড়হুদা থানা ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত), পূর্বে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ । মেহেরপুরের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত প্রায় ৬০ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে ।

মেহেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • মেহেরপুর পৌরসভা
  • পৌর ঈদগাহ
  • মেহেরপুর পৌর হল
  • মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ
  • আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন
  • সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির
  • জোড়পুকুরিয়অ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাহারবাটি গাংনী
  • আমঝুপি নীলকুঠি
  • ভাটপাড়ার নীলকুঠি, সাহারবাটি
  • ভবানন্দপুর মন্দির
  • মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
  • মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, মেহেরপুর

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছিল মেহেরপুর জেলার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথ তলার আমবাগানে । পরবর্তীকালে এ এলাকাটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর । ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রির এখান থেকেই অস্থায়ী সরকারের ঘোষণা এবং ১৭ এপ্রিল শপথবাক্য পাঠ করানো হয় । স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ডেকোয়ার্টার্সও স্থাপিত হয়েছিল এ মুজিবনগরে । তাই এ স্থানটি বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করেই এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় ।

১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল এটি উদ্বোধন করা হয় । স্মৃতিসৌধটি ৩৮ একর জমির ওপর নির্মিত । মূল স্মৃতিসৌধটি ২৩ কংক্রিটের ত্রিকোণ স্তম্ভ সমন্বয়ে উদীয়মান সূর্যের প্রতিকৃতিতে নির্মিত । স্মৃতিসৌধ ছাড়াও এখানে একটি বিডিআরের সীমান্তফাঁড়ি ও একটি ডাকবাংলো নির্মাণ করা হয়েছে । মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ স্থাপত হচ্ছেন তানভীর করিম ।

এই যে ২৩টি সফেদ দেয়াল । ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরের সংগ্রামী ঐতিহ্যের প্রতীক মুজিবনগরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধু তোরণ । বঙ্গবন্ধু তোরণ দিয়ে ঢুকেই সাইনবোর্ডে লেখা, বা দিকে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানচিত্র আর সোজা স্মৃতিসৌধ । এই স্মৃতিসৌধ উদিয়মান সূর্যের প্রতিকৃতিতে নির্মিত । ১৬০ ফুট ব্যাসের গোলাকার স্তম্ভের ওপর মূল বেদিকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে আছে ২০ ইঞ্চি পুরু ২৩টি দেয়াল । সমকোণী ত্রিভুজাকৃতির দেয়ালগুলোর উচ্চতা ৯ থেকে ৪২ ফুট । এগুলো দিয়ে বোঝানো হয়েছে উদীয়মান সূর্যরশ্মি ।

স্মৃতিসৌধে একটি স্থান সিরামিক ইট দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে । এখানেই শপথ গ্রহণ করেছিল বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ । স্মৃতিসৌধের মূল বেদি থেকে বের হওয়ার জন্য রয়েছে ৯টি সিঁড়ি । ৯টি সিঁড়ি ৯ মাস স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতীক । পর্যটক দেখলে সুভাষ মল্লিক এভাবেই মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের কথা জানিয়ে থাকনে । স্মৃতিসৌধের কাছেই তাঁর বাড়ি । বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের এখনো জীবন্ত সাক্ষী ।

বাঁ দিকের পথে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ মানচিত্র । এই পথেই রয়েছে অত্যাধুনিক একটি মোটেল, আধুনিক মসজিদ, সরকারি শিশুপল্লী, শপিং মল, পোস্ট অফিস, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ । এ ছাড়া আছে প্রশাসনিক ভবন, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র, প্রাথমিক বিদ্যালয়, । আনসার ও ভিডিপি অফিস, রেস্ট হাউস ও ব্যারাক, পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড, অফিস ভবন, বাস টার্মিনাল, হেলিপ্যাড, পিকনিক স্পট, গাটি পাকিং, পাবলিক টয়লেট, লন টেনিস কোর্ট । আরো আছে ছয় দফার ভিত্তিতে ছয় ধরনের ছয়টি বিশাল বাহারি গোলাপ বাগান । সবকিছু দেখে মনে হবে মুজিবনগর কমপ্লেক্স ছোট একটি সাজানো গোছানো আধুনিক শহর । এভাবেই পিচঢালা পথে হাঁটতে হাঁটতে গোলাপ বাগানের পাশে পাবেন কয়েকটি চায়ের দোকান ।

তার পাশেই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানচিত্র । সেক্টর ভিত্তিক গড়ে তোলা হয়েছে এই মানচিত্র । ২০০১ সালে ৪৫ কোট ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকার প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পায় । প্রায় ৬৬ একর জায়গায় পুরো কমপ্লেক্সটি ।

মানচিত্রের চারপাশে গ্যালারি । গ্যালারির ওপর দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে হয় । মুক্তিযুদ্ধভিতিক ১১টি সেক্টর ভাগ করা ছাড়াও আছে ঐতিহাসিক ঘটনাচিত্র, মানচিত্রে যুদ্ধকালে দেশের চারটি পথ দিয়ে শরণার্থী গমন, হার্ডিঞ্জ ব্র্রিজ ধ্বংস, আ স ম আবদুর রবের পতাকা উত্তেলন, শাজাহান সিরাজের ইশতেহার পাঠ, শালদাহ নদীতে যুদ্ধ, কাদেরিয়া বাহিনীর জাহাজ দখল ও যুদ্ধ, শুভপুর ব্রিজে সম্মুখযুদ্ধ, কামালপুর ও কুষ্টিয়ার মিরপুরের যুদ্ধ, চালনা ও চট্টগ্রাম বন্দর ধ্বংস, পাহাড়তলী ও রাজশাহীর হত্যাযজ্ঞ, জাতীয় শহীদ মিনার ধ্বংস, সচিবালয়ে আক্রমণ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের ভাস্কার্য ।

মানচিত্রের চারপাশে আছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের কালরাত্রি, অগ্নিসংযোগ, পাকিস্তানি বাহিনীর নারী নির্যাতন, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান, ১২ আনসার কর্তৃক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার এবং সেক্টর বন্টনসহ অরোরা নিয়াজি ও এ কে খন্দকারের উপস্থিতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ভাস্কর্য ।

মুজিবনগর কমপ্লেক্সকে আরো সুন্দর করে তুলতে ১৯৯৯ সালে বন মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেয় । ছয় দফাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয় ছয়টি গোলাপ বাগান । এক কোটি ৫৫ লাখ টাকায় আনা হয় ছয় প্রজাতির দুর্লভ জাতের জাপানি গোলাপগাছ । এক নম্বর বাগানে লাগানো হয় শোভাবর্ধনকারী হরেক দেশীয় ফুলগাছ । সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী দুই হাজার ৩০০ গোলাপের গাছ দিয়ে বাগোনটি তৈরি হয় ।

শরণখোলা, বাগেরহাট

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের পর্যটন শিল্পের জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে । সুষ্ঠু ব্যবস্থপনা ও সদিচ্ছার অভাব এবং সরকারি হতে পারছে না । সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্চের কিছু অভয়াশ্রম হয়ে উঠতে পারে এক আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবনে ৩৩৪ প্রজাতির বৃক্ষ, ১৬৫ প্রজাতির সাগর শৈবাল, ১৩ প্রজাতির পরাশ্রয়ী আকির্ড রয়েছে । সুন্দরী এ বনের প্রধান বৃক্ষ । মোট বনাঞ্চলের ৭৩ ভাগ জুড়েই রয়েছে সুন্দরী । এছাড়া কেওড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দল, কাঁকড়া, বাইন, গরাণ, হেঁতাল ও গোলপাতা উল্লেখযোগ্য । ২৬৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ১৮৬ প্রজাতির পাখি ও ২১০ প্রজাতির মাছ রয়েছে এই রেঞ্জের বনে । বন্যপ্রাণীর মধ্যে, বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী চিত্রল হরিণ, ভয়ঙ্কর কুমীর, বানর, শূকর ও গুইসাপ উল্লেখযোগ্য । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও সমুদ্রের বিশাল জলরাশির কারণে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরনখোলা রেঞ্জের অন্তর্গত । সমগ্র সুন্দরবনের সর্বাপেক্ষা আকর্ষনীয় অঞ্চল কটকা ও কচিখালী রয়েছে এই অংশেই । কটকা কচিখালী ছাড়াও শরনখোলা রেঞ্জের সুপতি, বাদামতলা, জামতলা, তিনকোণা আইল্যান্ড ও জেলে পল্লী দুবাল পর্যটকদের কাছে সমাদৃত ।

সাগর তীরে কটকা অভয়ারণ্য । এখানকার মনোরম পরিবেশ দেশী বিদেশী পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ  । ঘন বনানীর ছায়ায় নির্মিত বিশ্রামাগারের বারান্দায় বসে চোখের সামনে উত্তাল সমুদ্রের আছাড়ে পড়া ঢেউ পর্যটকদের উচ্ছত্মসিত করে তোলে । কোলাহল আর সকালে নদীর পাড়ে কুমীরের রোদ পোহানোর দৃশ্য অপূর্ব । এখানে বিশ্রামাগ্রর প্রান্তিক এ ৪ শয্যাবিশিষ্ট ২টি কক্ষ রয়েছে ।

পূর্ব অভয়ারণ্যের দক্ষিণ পূর্বপ্রান্তে সাগর তীরে গড়ে উঠেছে কচিখালী । সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য এখানে গড়ে উঠেছে একটি বড় ধরনের বিশ্রামাগার । এক শয্যাবিশিষ্ট তিনটি ও দুই শয্যবিশিষ্ট একটি বেডরুম, ড্রইংরুম ও ডাইনিং রুমের সমন্বয়ে এ বিশ্রামাগারটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ।

প্রতি শীতমৌসুম অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস এখানে কৌতুহলী পর্যটকদের ভীড় থাকে । তারা এখানকার সাগরপাড় আর ছনক্ষেতে খুঁজে ফেরে বহু প্রত্যাশিত রয়েল বেঙ্গর টাইগার । ঝাঁক বাধা চিত্রাল হরিণ ছুটে বেড়িয়ে বন্ধুদের জানিয়ে দেয় পর্যটকদের আগামন বার্তা । তাই শুনে মুচকি হাসে গাছে গাছে বানরের ঝাঁক । নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ আবার হঠাৎ করে চেনা অচেনা পাখ পাখালির কলকাকলী শিহরণ । কটকা কেন্দ্রের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান জামতলা । জামতলায় রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার । যেখান থেকে বিস্তীর্ণ ছনক্ষেতে হাজার হাজার হরিণের ছোটাছুটি আবার কখনও রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেতে পারে ।

কচিখালী আর কটকার ঠিক মধ্যবর্তী স্থানের নাম বাদামতলা । বাদামতলা অত্যন্ত নির্জন এক সমুদ্র সৈকত ।

সেখানে আছড়ে পড়া সামুদ্রিক ঢেউ পর্যটকদের মন কাড়বে । শীতকালে বাদামতলার সৈকতে অজস্ত্র বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায় । কচিখালী ও জামতলা থেকে পায়ে হেটে বাদামতলা পৌছানো সম্ভব ।

সাগরদ্বীপ দুবলাসহ সন্নিবেশিত ১০টি মৎস্য মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মৎস্যজীবী ভীড় জমায় । অক্টোবরে এরা আসা শুরু করলে ও নবেম্বরে রাসমেলা নামক এক ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে তাদের বছরের কাজ শুরু হয় । দু’শ বছরের ঐতিহ্যলালিত এ রাসমেলাতেও দেশী বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থী ভীড় জমায় । শরণখোলা রেঞ্জে যোগাযোগ ও যাতায়াতের জন্য এ রেঞ্জ বিশেষ উপযোগী ।

ঢাকা, চট্টতগ্রাম, খুলনা ও বাগেরহাট থেকে বাসযোগে শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে আসতে হবে । এখানে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিভিন্ন ধরনের লঞ্চ ও ট্রলার ভাড়া পাওয়া যায় ।

শরণখোলা রেঞ্জ এর মাধ্যমে পূর্ব বনবিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে শরণখোলা থেকে কচিখালী ও কটকায় যেতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লাগে । শরণখোলা থেকে এর দূরত্ব যথাক্রমে ৩০ ৪০ কিলোমিটার । শরণখোলা রেঞ্জের কটকাও কাচিখালীতে আরামপ্রদ বিশ্রামাগারে পর্যটকরা যেমন রাত্রিযাপন করতে পারে, তেমনি ইচ্ছে করলে একদিনের মধ্যে সমগ্র এলাকা ঘুরে ফিরে আসতে পারে ।

তবে এজন্য কিছু কাজ করা দরকার । শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে পর্যটকদের বনে প্রবেশের রাজস্ব গ্রহণ ও অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থ করতে হবে । শরণখোলা রেঞ্জ ভিত্তিক পর্যটকদের জন্য সরকারি ও বেসরকারী উদ্যোগে নিরাপদ জলযানের ব্যবস্থ করতে হবে ।

প্রস্তাবিত সাইনবোর্ড শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে । বনদস্যু ও জলদস্যুদের কবল থেকে পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে হবে । নিরাপদ রুটে নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করতে হবে । সুন্দরবনের আকর্ষণীয় জায়গা চিহ্নিত করে পরিবেশ উপযোগী অবকাঠামো ও চিত্তবিনোদনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । সুপতি ষ্টেশনে এবং কচিখালী থেকে জামতলা পর্যন্ত উডেন ট্রেইল তৈরি করে গভীর বনে পর্যটকদের নিরাপদ পথ চলার ব্যবস্থ করতে হবে । শরনখোলা রেঞ্জ অফিস বা তেরাবেকা টহল ফাড়ি সংলগ্ন এলাকায় মংলা করমজলের মত টুরিষ্ট স্পট স্থাপন করতে হবে ।

 

 

 

 

 

 

 

Categories
বিবিধ

ঢাকা জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী ও দর্শনীয় স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

ঢাকা জেলা

ঢাকা জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল । বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর এই জেলায় অবস্থিত । আয়তন : ১৬৮৩.২৭ বর্গ কিঃ মিঃ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারণ করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে । ১৬১০ খ্রিষ্টিাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর । প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায় । নদীপথের পাশে অবস্থানের কারণে ঢাকা প্রাক মোঘল যুগেই স্থানীয় বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল । এখানে উচ্চমান সম্পন্ন সূতিবস্ত্র উৎপাদিত হত যা মসলিন নামে পরিচিত  । ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২,১৯৬৬,১৯৭০ সংগ্রামের ফসল হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং পরিচিতি লাভ করে । একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্টের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক কার্যাকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে । ঢাকা বিভাগের মোট ১৭টি জেলা রয়েছে । যেমন-

ঢাকা

ফরিদপুর

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

জামালপুর

কিশোরগঞ্জ

মাদারীপুর

মুন্সিগঞ্জ

ময়মনসিংহ

নারায়ণগঞ্জ

নরসিংদী

নেত্রকোনা

রাজবাড়ী

শরিয়তপুর

শেরপুর

টাঙ্গাইল

পরবর্তীতে ঢাকা বিভাগের জেলাওয়ারী দর্শনীয় স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হচ্ছে ।

ঢাকা জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

ঐতিহাসিক স্থানসমূহ :

ঢাকেশ্বরী মন্দির, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হোসেনী দালান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (লেক, জাবি বোটানিক্যাল গার্ডেন, সংশপ্তক), কার্জন হল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভবন (পুরাতন ঢাকা বিশ্যাবিদ্যালয় কলা ভবন), সাত গম্বুজ মসজিদ, তারা মসজিদ, ঢাকা গেইট, পরীবিবির মাজার পার্ক ।

বিনোদন ও প্রাকৃতিক স্থান :

রমনা পার্ক, সোহরওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঢাকা শিশু পার্ক, বুড়িগঙ্গা নদী, ঢাকা চিড়িয়াখানা, বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, নন্দন পার্ক, ফ্যান্টাসী কিংডম ।

স্মৃতিসৌধ ও স্মারক :

 জাতীয় শহীদ মিনার, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (রায়ের বাজার), শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (মিরপুর), অপরাজেয় বাংলা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আসাদ গেইট, জাতীয় স্মতিসৌধ (সাভার), তিন নেতার মাজার (টিএসসি, ঢাকা) গুরুদুয়ারা নানকশাহী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ।

আধুনিক স্থাপত্য :

 জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলদেশ ব্যাংক ভবন, ভাসানী নভো থিয়েটার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক ।

ঢাকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বেড়ানোর জায়গা

রাজধানী শহর ঢাকা । এখানে একদিকে রয়েছে যান্ত্রিক জীবনের চিরাচরিত ঝক্কি আর ঝামেলা । অপরদিকে রয়েছে মন শান্ত করার মতো উদার প্রাকৃতিক পরিবেশ । খোলা চোখে দেখলে মনে হবে ঢাকা শহরে বেড়ানোর তেমন কোন জায়গা নেই । কিন্তু একটু খুঁজে দেখুন, আপনার মনের প্রশান্তি মিলতে পারে এরকম জায়গা অনেক । তেমনই কিছু জায়গা নিয়ে এবারের আয়োজন ।

রমনা পার্ক

নগরের যান্ত্রিক জীবনের রকমারি ব্যস্ততার মধ্যে গাঢ় সবুজের হাতছানি । পাখির কলকাকলিতে মুখরিত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে হলে চলে যান রমনা পার্কে । একসময় এর নাম ছিল রমনা গ্রীন পার্ক । ঢাকার শাহবাগের একেবারে গা ঘেঁষে রমনা পার্কের সীমানা শুরু । এর একদিকে মৎস্য ভবন অপরদিকে কাকরাইল মসজিদ এবং হোটেল শেরাটন । সবুজ শ্যামলীমায় ঘেরা এই পার্কে যাতায়াতের জন্য বাড়তি কোন বাহুল্য নেই । বাসে করে ঢাকার যে কোন প্রান্ত থেকে শাহবাগে নেমে বাকি পথটুকু হেটেই চলে যেতে পারবেন পরিবারের সদস্যদের সহ ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সুবিশাল একটি নগর উদ্যান হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান । আগে এ উদ্যানটি ‘রমনা রেস কোর্স ময়দান’ নামে পরিচিত ছিল । ব্রিটিশ আমলে এখানে প্রতি রবিবার ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো । ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা এ দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হয় । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে উদ্যানটির নাম রাখা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান । এ উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষাণ দিয়েছিলেন । এখানেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরাজিত হয়ে আত্মসমর্প করেছিল ।

বলধা গার্ডেন

ষড়ঋতুর এ দেশে বিভিন্ন সময় গড়ে উঠেছে পার্ক, উদ্যান আর স্থাপত্যসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান । বলধা গার্ডেন তাদেরই একটি । বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে (১৯০৫ সালে) সাহিত্যমোদী ভাওয়াল জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী আপন সৌন্দর্যে গড়ে তোলেন এ উদ্যান ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি নানা রকম ফুল, উদ্ভিদ আর গাছ-গাছড়া এনে রোপণ করেন এ গার্ডেনে । বলধা গার্ডেনকে অভিহিত করা হয় ফুল ও উদ্ভিদের মিউজিয়াম বা যাদুঘর হিসেবে । তবে এখানে গার্ডেন নির্মাণের পূর্বে একটি সত্যিকারের মিউজিয়াম ছিল । তাতে কয়েকটি ধাতব মূর্তিও ছির । উনিশ শতকের শেষের দিকে (বর্তমান) বলধা গার্ডেন ছিল উচ্চবিত্তদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র । সেখানে প্রতিদিনই গান-বাজনার আসর বসত ।

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ

বৈচিত্র্য পিয়াসী মানুষ কর্মক্লান্ত জীবনের কোনো মুহূর্তে মনের অজান্তেই খুঁজে বেড়ায় কোলাহলমুক্ত একটি পরিবেশ । যেখানে সে অতি সহজেই খুঁজে পাবে একটু আলাদা অনুভূতি এবং এই অনুভূতি ক্ষণিকের জন্য হলেও নিয়ে যাবে অন্য কোনো ভুবনে । তেমিন একটি প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত ও নগরীর কোলাহলমুক্ত দর্শনীয় স্থানের নাম ‘সাভার জতীয় সৃতিসৌধ’ । ঢাকা আরিচা হাইওয়ের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় নবীনগর নামক স্থানে গাড়ি থেকে হাতের বাম দিকে তাকালে সহজেই নজরে পড়ে লাল সিরামিক ইটের বিশাল চত্বর । সবুজ গাছপালা, সুন্দর ফুলের বাগান, পানিতে পরিপূর্ণ লেক ও ফোয়ারা সব মিলিয়ে আকষর্ণ করে দৃষ্টিকে ।

হাতিরঝিল, ঢাকা

২০০৭ সালে গ্রহণ করা প্রায় ১৮শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর । হাতিরঝিলের লেকে ঢাকাবাসী পালতোলা নৌকায় ভেসে বেড়াতে পারবে । মনোরম লেকের এপার ওপারে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে ব্রিজ । মাত্র কয়েক মিনিটেই রামপুরা কারওয়ানবাজার থেকে অল্প সময়ে পৌছে যাওয়া যায় গুলশান হয়ে বাড্ডা । একদিকে মানুষের যেমন বিনোদনের জায়গা হয়েছে তেমনি কমেছে যানজট থেকে মুক্তি মিলেছে । এ প্রকল্পের জন্য জন্য সরকার ৩০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করেছে । এর মধ্যে রয়েছে সাতটি সেতু, ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১৬ কিলোমিটার সড়ক, দুটি ওভারপাস ।

হোসনি দালান, পুরান ঢাকা

হোসনি দালান পুরান ঢাকায় অবস্থিত ইসলাম ধর্মাবলম্বী শিয়া সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয় এবং কবরস্থান । প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো এ স্থাপনা মোগল আমলের ঐতিহ্যের নিদর্শন । ১৭ শ শতকে এই দালানটি নির্মিত হয় । মুসলমানদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর পৌত্র হোসেন (রা) এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন । ইমাম হোসেন (রা) এর স্মৃতির স্মরণে হোসেনি দালান নির্মাণ করা হয়েছে । দালানটির নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে । তবে সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত মত হলো, শাহ সুজার সুবেদারির সময় তাঁর এক নৌ সেনাপতি মীর মুরাদ এটি হিজরি ১০৫২ সনে নির্মাণ করেন । বলা হয়ে থাকে, তিনিই ভবনটির নাম দেন ‘হোসনি দালান’ । একটি উঁচু মঞ্চের ওপর ভবনটি নির্মিত ।

জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপতি লুই আই কান (এস্তেনীয় বংশোদ্ভত মার্কিন নাগরিক) জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজের ব্যয় হয়েছিল ১৯৭ কোটি টাকা । ২০৮ একর জমির ওপর নির্মিত এই সংসদ ভবনটি তিনতলাবিশিষ্ট । এর উচ্চতা হচ্ছে ১৫৫ ফুট ৮ ইঞ্চি । বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন উদ্বোধন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২ সালে ।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার এর উদ্বোধন করেন । বাংলাদেশের আইন সাভার নাম হচ্ছে জাতীয় সংসদ । জাতীয় সংসদের ইংরেজি নাম ‘হাউস অব দ্য নেশন অব বাংলাদেশ’, জাতীয় সংসদ ভবনের প্রতীক হচ্ছে শাপলাফুল । এটি এক কক্ষবিশিষ্ট । বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা হচ্ছে ৩৫০টি ।

জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত দেশের প্রধান জাদুঘর । এখানে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বিশ্বসভ্যতার নানা বিষয়াবলি সংরক্ষিত আছে । ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ তৎকালীন সচিবালয়ে (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল) জাদুঘররের কার্যক্রম শুরু হয় । বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল তৎকালীন সচিবালয়ের একটি কক্ষে ঢাকা জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন । ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ আগস্ট ঢাকা জাদুঘরের যাত্র শুরু হয় । ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় । ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর শাহবাগে । ঢাকা জাদুঘরকে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দিয়ে অত্যাধুনিক বৃহদায়তনের বর্তমান ভবনের উদ্বোধন করা হয় । আট একর জমির ওপর নির্মিত চারতলা ভবনটির তিনটি তলাজুড়ে রয়েছে ৪৩টি গ্যালারি । যেখানে বিভিন্ন প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

লালবাগের কেল্লা

লালবাগের কেল্লা

তিন শতকের পুরান ঐতিহাসিক স্থান লালবাগের কেল্লা, যাকে দুর্গও বলা হয় । মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা আজম ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে এই কেল্লা নির্মাণ শুরু করেন । তবে বছর না ঘুরতেই তাঁকে রাজধানী দিল্লিতে তলব করায় কেল্লার কাজ অসমাপ্ত থেকে যায় । এরপর সুবাদার হিসাবে শায়েস্তা খাঁন এখানে এসে পুনরায় কেল্লার নির্মাণ কজে হাত দেন । তবে পরবর্তীতে দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মোঘল সম্রাটগণ সাম্রাজ্যের উন্নয়নমূলক অনেক কাজই বন্ধ করে দিলে এই কেল্লার নির্মাণ কাজও অসমাপ্ত থেকে যায় বলে অনেক ইতিহাসবিদ উল্লিখ করেছেন । তবুও এ কেল্লা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে ।

কেল্লার অভ্যন্তরে তিনটি পুরাকীর্তি রয়েছে । একটি হল পরী বিবির মাজার, একটি দরবার হল ও হাম্মাম এবং তৃতীয়টি হল তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ । এ কেল্লার চারটি ফটকের মধ্যে প্রধান ফটক, যেটি একশ’ টাকার নোট মুদ্রিত, সেটি এখন বন্ধ । তার বিপরীত দিকের চারটি ফটকের মাঝখানের ইট এখন প্রধান ফটক হিসাবে স্বীকৃত । এ ফটকটির দর্শনার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হয় ।

আহসান মঞ্জিল

বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল এক ঐতিহাসিক ভবন । এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের স্মৃতি । আহসান মঞ্জিল এক সময় ব্রিটিশ ভারতীয় উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাবদের বাসগৃহ ছিল । অষ্টাদশ শতাব্দঅর মাঝামাঝি নাগাদ জালালপুর পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর বরিশাল) জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থানে রঙমহল নামে একটি প্রমোদ ভবন নির্মাণ করেন । তাঁর মৃত্যুর পর রঙমহলটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় । ফরাবিরা এখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে । পরবর্তীতে নবাব আবদুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ ১৮৩৫ সালে ফরাসিদের কাছ থেকে এই বাণিজ্য কুঠির কিনে নেন । তিনি এই কুঠিকে সংস্কার করে বাসভবনে রূপান্তরিত করেন । নবাব আবদুল গনি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি পুনর্নিমাণ করেন । নবাব আবদুল গণি তাঁর আদরের পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘আহসান মঞ্জিল’

ভাষাণী নভোথিয়েটার

ঢাকার বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘরের পাশেই তৈরি হয়েছে এই নভোথিয়েটার । শো শুরু হওয়ার এক ঘন্টা আগে থেকে টিকিট পাওয়া যায় টিকিট কাউন্টারে । টিকিটের দাম তুলনামূলক অনেক কম । একজন একসঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি টিকিট নিতে পারবেন । প্রতিদিন শো হয় চারটা । বেলা ১১টায়, দুপুর ১টায়, বিকাল ৩টায় ও ৫টায় । শুক্রবার রুটিন খানিকটা বদলায় । সকাল ১০টায় শো হবে একটা । এরপর বিকাল ৩টা, ৫টা ও ৭টায় । বুধবার বন্ধ ।

বিজ্ঞান জাদুঘর

দেশের একমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক জাদুঘরের যাত্র শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে । ছিল অল্প কিছু সংগ্রহ । কিন্তু আজ আগারগাঁওয়ের জাতীয় ও প্রযুক্তি জাদুঘরে রয়েছে বেশ সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা । তবে তা বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের তৃষ্ণার কাছে নগণ্য । ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করতে শেরেবাংলা নগরে স্থাপিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ যাদুঘর “বিজ্ঞান যাদুঘর” । এই যাদুঘর বিজ্ঞানের জানা অজানা বিষয় সম্পর্কে আগ্রহী দর্শকদের মনের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে সদা প্রস্তুত ।

শিশু পার্ক

ঢাকার শাহবাগে শিশু পার্ক অবস্থিত । শিশু পার্ক প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে । রবিবার বন্ধ । উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার শুধু ছিন্নমূল শিশুদের জন্য খোলা রাখা হয় ।

শ্যামলী শিশুমেলা

এটি ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত । বেসরকারী সংস্থা পরিচালিত শিশুদের পার্ক । প্রতিদিন সকাল ৩ টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে । সাপ্তাহিক কোনো বন্ধ নেই । যেকোন স্থান থেকে এসে শ্যামলীতে নেমে রাস্তার পাশেই দেখতে পাবেন শ্যামলী শিশুমেলা । শিশুদের জন্য এখানে বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর আইটেম আছে ।

সাতগম্বুজ মসজিদ, মোহাম্মাদপুর

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কিছুটা পশ্চিমেই রয়েছে মুঘল আমলের সাতগম্বুজ মসজিদ । ১৭শ শতকের শেষ দিকে নির্মিত এ মসজিদে শায়েস্তা খাঁর আমলের স্থাপত্যিক নিদর্শন সুষ্পষ্ট । মসজিদের চারকোণে চারটি এবং মাঝখানের তিনটি গম্বুজসহ এ মসজিদে মোট সাতটি গম্বুজ রয়েছে । এর বৈশিষ্ট হলো, চারকোণে চারটি দ্বিতল অষ্টভুজ মিনার, সে সবের ওপর ছোট আকারের গম্বুজ । এ মিনারগুলো প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র কাঠামোর ওপর নির্মিত । এক সময় মসজিদের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যেত বুড়িগঙ্গা নদী । আদিতে জায়গাটির নাম ছিল জাফরাবাদ । এখন স্থানটি মোহাম্মদপুর নামে পরিচিত । কারুকার্য মন্ডিত তিনটি প্রবিশপথ রয়েছে মসজিদটিতে । মাঝখানের প্রবেশপথটি দুইপাশের প্রবেশপথ থেকে কিছুটা বড় । এ মসজিদের নামে ধানমন্ডির সর্ববহৎ প্রধান সড়ক সাত মসজিদ সড়কের নামকরণ হয়েছে ।

 

Categories
বিবিধ

রাঙ্গামাটি সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী ও দর্শনীয় স্থানসমূহ এবং কিভাবে যাবেন জেনে নিন

রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটি জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী

রাঙ্গামাটি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল । বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এখানে অবস্থিত । রাঙ্গামাটি মোট আয়তন ৬১১৬.৩ বর্গ কি.মি । এ জেলা উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে বান্দরবান জেলা পূর্বে ভারতের মিজোরাম প্রদেশ এবং মায়ানমারের চীন প্রদেশ ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রাম জেলা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত । রাঙ্গামাটি পৌরসভা ৯ টি ওয়ার্ড ও ৩৫ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত । শহরের মোট আয়তন ৬৪.৭৫ বর্গ কি.মি । ১৯৮৩ সালে রাঙ্গামাটি একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে ঘোষিত হয় । এ জেলায় ১০ টি উপজেলা, ৫০ টি ইউনিয়ন পরিয়দ, ১৬২ টি মৌযা ও ১৩৪৭ টি গ্রাম আছে । বিভাগের

রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, তবলছড়ী ডিয়ার পার্ক, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি ।
  • পেদা টিং টিং, কাপ্তিই হ্রদ
  • নৌ বাহিনীর পিকনিক স্পট, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, কাউখালী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • আর্যপুর ধর্মোজ্জল বনবিহার, আর্যপুর, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • ন-কাবা ছড়া ঝর্ণা, ন-কাবা ছড়া, বিলাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুল, ১নং বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদ, কাউখালী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • উপজাতীয় যাদুঘর, রাঙ্গামাটি সদর
  • উপজাতীয় টেকমটাইল মার্কেট, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • ফুরমোন পাহাড়, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্স, বড়ইছড়ি, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর সমাধিস্থল, বুড়িঘাট, নানিয়ারচর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্সেনায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ভাস্কর্য, সাপছড়ি, সদর, রাঙ্গামাটি ।
  • বুদ্ধদের প্যাগোডা,
  • যমচুক, বন্দুক ভাংগা ইউনিয়ন

 

  • ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ি, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • ওয়াগগা চা এস্টেট, ওয়াগগাছড়া, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস, ১নং বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড ডাকবাংলো, চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কের পাশে ।
  • রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সেতু, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • রাজা হরিশ চন্দ্র রায়ের আবাসস্থলের ধ্বংসাবশেষ
  • রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক, রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই এর মাঝে ।
  • সুবলং ঝর্ণা, শুভলং, বরকল উপজেলা ।
  • রাইংখ্যং পুকুর, বড়থলি ৯নং ওয়ার্ড, ফারুয়া ইউপি, বিলাইছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু, নারামূখ মারমা পাড়া, রাজস্থলী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • রাজবন বিহার, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • শ্রদ্ধেয় বনভান্তের জন্ম স্থান মোরঘোনায় স্মৃতি স্তম্ভ ও স্মতি মন্দির (নির্মাণাধীণ) । রাঙ্গামাটি সদর উপজেলাধীন ২ নং মগবান ইউনিয়নের বড়াদম নামক জায়গায় অবস্থিত ।
  • রাজা জং বসাক খানের দীঘি ও মসজিদ
  • কাট্টলী বিল, কাট্টলী বিল, লংগদু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে, কাপ্তাই
  • কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, কাপ্তাই উপজেলা ।
  • কর্ণফুলী পেপার মিলস্ লিমিটেড, চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • কর্ণফুলী হ্রদ, কাপ্তাই উপজেলা
  • টুকটুক ইকো ভিলেজ, জেলা সদরের বালুখালী ইউনিয়নের কিল্ল্যামুড়া এলাকা
  • কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • সাজেক ভ্যালী, সাজেক, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • নির্বানপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, কুতুকছড়ি, সদর, রাঙ্গামাটি ।
  • ডলুছড়ি জেতবন বিহার, জেতবন, লংগদু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।
  • তিনটিলা বনবিহার, লংগদু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।

কর্ণফুলী হ্রদ

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে কর্ণফুলী হ্রদরে সৃষ্টি হয় । কৃত্রিম এই হ্রদের আয়তন ২৯২ বর্গমাইল (বর্গ কিলোমিটারে পরিণত করতে হবে) । এই হ্রদের সাথে কর্ণফুলী, কাচালং আর মাইনী নদীর রয়েছে নিবিড় সংযোগ । কাচালং নদীর উজানে লংগদুর মাইনীমুখে এসে হ্রদের বিস্তার দেখে যুগপৎ বিষ্মিত হতে হয় । এখানে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি নির্দ্বিধায় আকাশের সাথে মিশে গেছে । রাঙ্গামাটি শহরে এলেই চোখে পড়ে হ্রদ-পাহাড়ের অকৃত্রিম সহাবস্থান যা দেশের আর কোথাও দেখা মেলেনা । এ হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য পর্যটকদের আপন মহিমায় । প্রকৃতি এখানে কতটা অকৃপণ হাতে তার রূপ-সুধা ঢেলে দিয়েছে তা দূর থেকে কখনই অনুধাবন করা সম্ভব না ।

যাতায়াত :

নৌ-ভ্র্রমণের জন্য রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি ও পর্যটন ঘাটে ভাড়ায় স্পীড বোট ও নৌযান পাওয়া যায় । যার ভাড়ার পরিমাণ ঘণ্ট প্রতি স্পীড বোট ঘন্টায় ১২০০-১৫০০/- এবং দেশীয় নৌযান ৪০০-৮০০/- টাকা ।

পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু

রাঙ্গামাটি শহরের শেষপ্রান্তে কর্ণফুলী হ্রদের কোল ঘেঁষে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে গড়ে উঠেছে ‘পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স’ । এখানে রয়েছে মনোরম ‘পর্যটন মোটেল’ । পর্যটন মোটেল এলাকা ’ডিয়ার পার্ক’ নামেই সমাধিক পরিচিত । মোটেল এলাকা থেকে দৃশ্যমান হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর দূরের নীল উঁচু-নীচু পাহাড়ের সারি এখানে তৈরি করেছে এক নৈসর্গিক আবহ । এখানেই রয়েছে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ মনোহরা ঝুলন্ত সেতু – যা এই এলাকার গুরুত্ব ও আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে । এই সেতু ইতোমধ্যে ’সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ হিসেবে পরিচিত পেয়েছে । এছাড়া এখানে রয়েছে অডিটোরিয়াম, পার্ক, পিকনিক স্পট, স্পীড বোট ও দেশীয় নৌ-যান ।

যাতায়াত :

রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি হয়ে সড়ক পথে সরাসরি ‘পর্যটন কমপ্লেক্সে’ যাওয়া যায় । এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে । যারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সার্ভিস বাসে করে আসবেন তাদের তবলছড়িতে নেমে অটোরিক্সাযোগে রিজার্ভ করে (ভাড়ার পরিমাণ আনুমানিক ৮০-১০০/-) যেতে হবে । দূরালাপনী : ০৩৫১-৬২১২৬, ৬১০৪৬

উপজাতীয় যাদুঘর

রাঙ্গামাটি শহরের প্রবেশ দ্বারে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে যে স্থাপত্যটি সেটিই উপজাতীয় যাদুঘর । ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনটিটিউট প্রতিষ্ঠালগ্নে এতদঞ্চলের বিভিন্ন জাতিসত্তার নৃতাত্ত্বিক নিদর্শন সামগ্রী নিয়ে সীমিত পরিসরে এ যাদুঘরের যাত্রা শুরু হয় । ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে নতুন ভবন নির্মিত হলে তা আরো সমৃদ্ধ হয় । এ যাদুঘরের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য তৈজষপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ, পুঁতিপত্র,  তৈলচিত্র ও উপজাতীয় জীবনধারার বিভিন্ন আলোকচিত্র রয়েছে । এসব সংগ্রহ দেখে জাতিসত্তাসমূহের জীবনাচার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা যায় ।

যাতায়াত :

যাদুঘরটি সকলের জন্য উম্মুক্ত ।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান

তের হাজার একর এলাকা নিয়ে কর্ণফুরী নদীর কোল ঘেঁষে কাপ্তাই উপজেলায় গড়ে উঠেছে ‘কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান’ । সারি সারি পাহাড় আর প্রকৃতির অপর্ব সমন্বয় ঘটেছে এখানে । এ বনভুমি বিচিত্র বন্যপ্রাণী ও পাখ-পাখালির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র । বর্ষাকালে মেঘ পাহাড়ের মিতালি আর শীতে কুয়াশার লুকোচুরি – প্রকৃতির এমন কারুকাজ বেশ রোমাঞ্চকর বৈকি ।

বনের ভেতর সারি সারি সেগুন, জারুল, গামার আর কড়ই গাছের মাঝ বরাবর পায়ে হেটে চলা পর্যটকদের অফুরন্তু আনন্দের খোরাক । কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বন বিভাগে দু’টি বিশ্রামাগার । বিশ্রামাগারের চারপাশে নদী, পাহাড় আর সবুজের সহাবস্থান অপূর্ব সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করছে । মূলত জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণ ও ‍উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ইকো-ট্যুরিজমের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে । রাঙ্গামাটি জেলা সদর হতে এর দূরত্ব আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার ।

যাতায়াত :  

উদ্যানে যেতে হলে চট্টগ্রাম হতে সরাসরি কাপ্তাই যেতে হবে ।

সুবলং ঝর্ণা

রাঙ্গামাটির সুবলং-এর পাহাড়ি ঝর্ণা ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে । এসব ঝর্ণার নিমর্ল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে । বরকল উপজেলায় ছোট-বড় ৮টি ঝর্ণা রয়েছে । তার মধ্যে ভরা বর্ষা মৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে নীচে আচড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মুর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে । এ অপরূপ দৃশ্য সচক্ষে না দেখলে কল্পনায় সে ছবি আঁকা কী সম্ভব? বর্তমানে এ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে । রাঙ্গামাটি সদর হতে সুবলং এর দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার ।

যাতায়াত : রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট ও রাঙ্গামাটি বিভিন্ন স্থান থেকে স্পীড বোট ও নৌ-যানে করে সহজেই সুবলং যাওয়া যায় । যার ভাড়ার পরিমাণ স্পীড বোট ঘন্টায় ১২০০-১৫০০/- এবং দেশীয় নৌৗযান ৪০০-৮০০/- টাকা ।

জেলা প্রশাসক বাংলো

রাঙ্গামাটি শহরের জিরো পয়েন্টে কর্ণফুলী হ্রদের গা ঘেঁষে জেলা প্রশাসক বাংলো অবস্থিত । ‍শুধু সংযোগ সড়ক ছাড়া বাংলোর তিনদিকেই ঘিরে রেখেছে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি । জেলা সদর দপ্তর চন্দ্রঘোনা থেকে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তরের পর এটি ১৮৬৮ খ্র্রিস্টাব্দে নিমার্ণ করা হয় । সম্প্রতি ব্যাপক আঙ্গিকে পরিবর্তন ও উন্নয়নের ফলে বাংলো এলাকাটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে । বাংলো পাশে ছোট টিলার উপরে রয়েছে একটি বাতিঘর ও কোচপানা নামক ছাউনী – যা একটি সুদৃশ্য সেতু দ্বারা বাংলো এলাকার সাথে সংযুক্ত । সেতু এবং ছাউনী থেকে পর্যটকরা ও দর্শনার্থীরা অকাতরে হ্রদের রূপ-সুধা অবগাহণ করতে পারে ।

যাতায়াত :

 রাঙ্গামাটি শহরের যে কোন স্থান হতে অটোরিক্সা যোগে যাওয়া যায় । তবে বাংলো এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি নিতে হবে । ভাড়ার পরিমাণ ১০০-১৫০/- টাকা । দূরালাপনী :  ০৩৫১-৬২৩০৪ (এনডিসি) ।

রোদ-বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে

রাঙ্গামাটির বুকজুড়ে শিরা-উপশিরার মতো বয়ে চলছে কাপ্তাই হ্রদ । স্থলপথে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব না হলেও, রাঙ্গামাটিতে হেন কোনো জায়গা নেই যেখানে জলপথে যাওয়া যায় না । শুভলং, বরকল আর কাপ্তাইজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই কৃত্রিম জলাধারে বছরের এই সময়ে পানি বেড়ে যায় । কর্ণফুলী থেকে শুরু করে পাহাড়ি প্রতিটি নদী আর ঝর্ণা যেন ফুলেফেঁপে ওঠে এ সময়টায় । ঝর্ণা কিংবা হ্রদ দেখতে চাইলে বর্ষা আর শরতকালই সবচেয়ে ভালো সময় ।

মেঘে-পাহাড়ে মাখামাখি

চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটিতে যাওয়ার সময় পাহাড় কেটে তৈরি করা উঁচু-নিচু পথে ওঠার সময় চোখ চলে যায় রাস্তার কিনার ঘেঁষা গভীর খাদ আর পাশের উঁচু পাহাড়গুলোতে । যারা প্রথমবার রাঙ্গামাটি যাবেন- তাদের কাছে যা দেখবেন তা-ই ভাল লাগবে । হঠাৎ দেখবেন, পাহাড়ের গায়ে ধোঁয়া আর ধোঁয়া । মনে হলো যেন আগুন লেগেছে । অবশ্য একটু খেয়াল করে তাকাতেই বোঝা যাবে ওগুলো ধোঁয়া নয়, মেঘ । পেঁজা তুলার মতো সাদা সাদা মেঘ ছড়িয়ে আছে গাছের ফাঁকে ফাঁকে । একই রকম দৃশ্য চোখে পড়বে পরদিন সকালেও । যেমন আমরা তখন কাপ্তাই হ্রদের বুকে এমভি শামীমে । প্রায় ৮০ জন লোকের ধারণক্ষমতার সেই লঞ্চটিতে আমরা মাত্র সাতজন । হ্রদের দুই পাড়ে গাছগাছালিতে ভরা পাহাড় । গাছের সবুজের যে এত রকম থাকতে পারে তা না দেখলে বোঝার উপায় নেই । দূর থেকে কলা আর সেগুন গাছগুলোই কেবল চিনতে পারলাম । পাহাড়ের গা বেয়ে চাষ করা হচ্ছে জুম ।

পেদা টিং টিং

চাকমা ভাষার পেদা টিং টিং-এর অর্থ করলে দাঁড়ায়-বেশি বেশি খাওয়া । হ্রদের বুকে দ্বীপের মতো পেদা টিং টিং আসলেই খাবারের জায়গা, থাকারও । বেসরকারি এই ট্যুরিস্ট ভিলেজে রাত কাটানোর জন্য আছে সুব্যবস্থা । এ রকম আরও একটি ট্যুরিস্ট ভিলেজ টুকটুক-এ গিয়ে মনটাই খারাপ হয়ে গেল । কেন যে শহরে মোটেলে উঠেছি । এত সুন্দর থাকার ব্যবস্থা ! তাও বলতে গেলে জঙ্গলের ভেতরই । এ দুটো ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দ্বীপে আছে থাকা-খাওয়ার সুবিধা ।

রাঙামাটি যাতায়াত

ঢাকা থেকে সরাসরি রাঙামাটি যাওয়ার বাস আছে । এ ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে রাঙামাটি যেতে পারেন ।

ঢাকার শ্যামলী, কলাবাগান, ফকিরাপুলসহ কয়েকটি জায়গা থেকে সরাসরি রাঙামাটির বাস পাওয়া যাবে । ট্রেনে অথবা বাসে যাওয়া যায় চট্টগ্রাম পর্যন্ত । সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে আবার বাসে করে রাঙামাটি পৌঁছাতে হবে । থাকার জায়াগা অনেক । পর্যটন মোটেল থেকে শুরু করে শহরে আছে বেশকিছু বেসরকারে মোটেল । থাকতে পারেন ট্যুরিস্ট ভিলেজেও । লঞ্চে করে কাপ্তাই ঘুরতে চাইলে চলে যান রাঙামাাটি বাজারে । ঘাটেই পেয়ে যাবেন লঞ্চ ।

রাঙামাটির টিপস

  • যদি শরতকালে যান তাহলে এই বৃষ্টি এই রোদ । সঙ্গে ছাতা রাখুন । আবার রোদের জন্য সানস্কিন লোশন , রোদচশমা সঙ্গে নিতে পারেন ।
  • ঝর্ণায় ভেজার ইচ্ছে থাকলে নিয়ে যান একাধিক কাপড় । না হলে ভেজা কাপড়েই থাকতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা ।
  • সঙ্গে করে অবশ্যই খাবার পানি নিয়ে যাবেন ।
  • বৃষ্টি হলে পাহাড়ে না ওঠাই ভালো । পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ।
  • পাহাড়ে উঠলেও বেশি ভেতরে যাবেন না । পাহাড়ী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এখনো কোথাও কোথাও অস্থিরতা চলে ।

রাঙামাটিতে থাকার ব্যবস্থা

সার্কিট হাউজ

ভেদাভেদী, আমানতবাগ এলাকায় অবস্থিত । এটি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান । কক্ষ সংখ্যা : ০৬; শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত : ০৪টি, সাধারণ কক্ষ : ০২টি ।

ভাড়ার পরিমাণ:  সরকারী কর্মকর্তা : ১০০/- টাকা, বেসরকারী কর্মকর্তা : ৩০০/- টাকা (পরিবর্তন যোগ্য) ।

যোগাযোগ :  নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা । ফোন  :    ০৩৫১-৬২৩০৪ (অফিস),   ৬২৩০৮  (বাসা),   মোবাইল :   ০১৮২০-৩০৮৮৬৯ ।

বন বিভাগ রেস্ট হাউজ

বনরূপায় এলাকায় অবস্থিত । এটি জুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ।

কক্ষ সংখ্যা :  ০৩;  শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত : ০১টি,  সাধারণ কক্ষ : ০২টি ।

ভাড়ার পরিমাণ :  সরকারী কর্মকর্তা : ১০০/-টাকা (পরিবর্তন যোগ্য) ।

যোগাযোগ : বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ঝুম নিয়ন্ত্রন বন বিভাগ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা । ফোন : ০৩৫১-৬৩৩৫১ (অফিস),  ৬৩৩৫২ (বাসা) ।

 

 

 

 

 

Categories
বিবিধ

সিলেট জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী ও দর্শনীয় স্থানসমূহ এবং কিভাবে যাবেন

সিলেট জেলা

সিলেট উত্তর পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রধান শহর, একই সাথে এই শহরটি সিলেট বিভাগের বিভাগীয় শহর । এটি সিলেট জেলার অন্তর্গত । সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাই মূলত সিলেট শহর হিসাবে পরিচিত । সিলেট ২০০৯ সালের মার্চ মাসে একটি মেট্রোপলিটন শহরের মর্যাদা লাভ করে । সুরমা নদীর তীরবর্তী এই শহরটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাত্নিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত । জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলং এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তুপ পর্যটকদের টেনে আনে বার বার । এ শহরের বিশাল সংখ্যক লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে । সিলেটের পাথর, বালুর গুণগতমান দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ । এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস সারা দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে । স্বাধীনতা যুদ্ধে এ জেলার ভূমিকা অপরিসীম । জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী এ জেলারই কৃতী সন্তান । হযরত শাহজালাল (রাঃ) ও হযরত শাহ পরান (রাঃ) এর পবিত্র মাজার শরীফ এ জেলায় অবস্থিত । প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ লোক মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগমন করে । আসে বিপুল সংখ্যক পর্যটক । সিলেট এর স্থানীয় ভাষা “নাগরী ভাষা”র একটি বিশেষত্ব রয়েছে যা অন্য অঞ্চল থেকে পৃথক । শীত মৌসুমে সিলেটের হাওর বাওর গুলো ভরে উঠে অতিথি পাখির কলরবে ।

ইতিহাসবিদেরা বলেন বহুযুগ ধরে সিলেট একটি বাণিজ্যিক শহর হিসেবে প্রচলিত আছে । ধারণা করা হয়ে থাকে যে ‘হরিকেলা রাজত্তের’ মূল ভুখন্ড ছিলো এই সিলেট । ১৪‘শ শতকের দিকে এই অঞ্চলে ইসলামী প্রভাব দেখা যায় সূফী দার্শনিকদের আগমনের মাধ্যমে । ১৩০৩ সালে কালৈতিহাসিক মুসলিম সাধু হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর আবির্ভাব ঘটে এই সময়ে । তিনি মক্কা থেকে দিল্লি ও ঢাকা হয়ে এই এলাকায় আসেন । তার আধ্যাতিক ক্ষমতার প্রভাবে ও তার অনুসারী ৩৬০ জনের মাধ্যমে আরো অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে । পরবর্তীতে তা দেশের অন্যত্র ও ছড়িয়ে পড়ে । তার দরগাহ সিলেটের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় । এছাড়া হযরত শাহ পরান ও শাহ কামাল কাহাফানের সান্নিধ্যে এসেও অনেকে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেল । ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি এর শাসনামলে ইন্ডিয়ান লস্করেরা এই এলাকায় তাবেদারী শাসন চালাতো । ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসে কে সিলেটের দায়ভার দেয়া হয় । তবে তখনকার স্থানীয় সিলেটিরা তাকে ভালোভাবে নেয় নি । ১৭৮১ সালে এই এলাকায় একটি বড় ধরনের বন্যা হয়েছিলো । এতে অসংখ্য ফসল ও পাখি মারা যায় । স্থানীয়রা এজন্য ব্রিটিশ দের দায়ী করে । এই আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহাদী (পীরজাদা নামে পরিচিত) । লিন্ডসের সাথে তখন তাদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে প্রচুর ভারতীয় তস্কর অংশ নেয় । ফলশ্রুতিতে অনেকেই সিলেট ছেড়ে লন্ডনে চলে যায় ও বসতি গড়ে তোলে । ব্রিটিশ শাসনের সময় আসাম ও সিলেট একত্রিত হয়ে আসামের অংশ ছিল । পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা দেশ গঠনের সময় আসাম ও সিলেট আলাদা হয়ে যায় । ১৯৭১-এর যুদ্ধে জয়লাভের পর এটি পূর্ব পাকিস্তান তথ্য বাংলাদেশ-এর ভূখন্ডে পড়ে ।

সিলেট বিভাগের মোট ৪টি জেলা রয়েছে । যেমন-

  • হবিগঞ্জ
  • মৌলভীবাজার
  • সুনামগঞ্জ
  • সিলেট।

পরবর্তীতে সিলেট বিভাগের জেলাওয়ারী দর্শনীয় স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হচ্ছে ।

সিলেট জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • হযরত শাহজালাল (রাঃ) ও হযরত শাহ পরান (রাঃ) এর পবিত্র মাজার শরীফ এ জেলায় অবস্থিত । প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ লোক মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগমন করে । আসে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ।
  • শীত মৌসুমে সিলেটের হাওর-বাওরগুলো ভরে উঠে অতিথি পাখির কলরবে ।
  • আলী আমজাদের ঘড়িঘর
  • এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড
  • এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ
  • ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর
  • ওসমানী শিশু পার্ক
  • ক্বীন ব্রীজ
  • কানাইঘাটের লোভো-মূলাগুল
  • গাজী বুরহান উদ্দীনের মাজার
  • জাকারিয়া ‍সিটি
  • জাফলং
  • জিতু মিয়ার বাড়ী
  • টাংগুয়ার হাওর
  • ড্রিমল্যান্ড পার্ক
  • তামাবিল
  • পর্যটন মোটেল
  • পরীকুন্ড ঝর্ণা
  • পাংতুমাই
  • বিছনা কান্দি গুয়াইনঘাট
  • ভোলাগঞ্জ
  • মনিপুরী মিউজিয়াম
  • মনিপুরী রাজবাড়ি
  • মহাপ্রভু শ্রী চৈত্যনো দেবের বাড়ী
  • মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
  • মালনী ছড়া চা বাগান
  • রাতারগুল
  • রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
  • লাক্কাতুরা চা বাগান
  • লালাখাল
  • লোভাছড়া
  • শাহ পরাণের মাজার
  • শাহজালাল বিঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • শাহী ঈদগাহ
  • সাতছড়ি উদ্যান
  • সিলেটী নাগরী লিপি
  • সৈয়দপুর গ্রাম
  • সৈয়দবাড়ী টুলটিকর
  • হাকালুকি হাওপ
  • হাছন রাজার মিউজিয়াম
  • হাম হাম জলপ্রপাত
  • হারং হুরং

   

সিলেট বেড়ানো সম্পকির্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী

সিলেটের সবগুলো জায়গা মনের মতো করে দেখার জন্য আপনার কমপক্ষে ৭দিন সময় ব্যয় করতে হবে । নাগরিক ব্যস্ত জীবনে এতটা সময় দেয়া আমাদের অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না । আবার বেড়াতে গিয়ে এটা দেখা হলো না ওটা দেখা হলো না  এমন আফসোস নিয়ে ঘরে ফেরাও অস্বস্তিকর । বিশেষ করে পরিবারের ছোটরা বেড়াতে গেলে সবকিছু দেখতে চায় । এ কারণে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল বেড়ানোর একটি ছোট মানের প্যাকেজ ট্যুর তৈরি করে দেয়া হলো আপনাদের জন্য । দেখুন পছন্দ হয় কিনা ।

  • কোন ছাইয়া পাবলিকদের দলে ভিড়াবেন না, মনে রাখবেন, একজন স্বার্থপর ট্যুর মেম্বার আপনার স্বাধের ট্যুরের ১২টা বাজায় ফেলতে পারে ।
  • ট্যুরে যাবেন তো হালকা ড্রেস পরার চেষ্টা করুন । ভারি ড্রেসে আপনি সহজে মুভ করতে পারবেন না ।
  • খুব কড়া মেকআপ নিবেন না, অনেক উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে অতিরিক্ত মেকআপ আপনার চেহারাটারকে অপ্রীতির বানিয়ে তুলতে পারে ।
  • অনুমতি না নেওয়া থাকলে চা বাগানের বেশি ভিতরে ঢোকা উচিত না ।
  • সিলেটের স্থানীয় লোকজন অতিথিপরায়ণ কিন্তু তাদের সাথে কারণে বা অকারণে তর্কাতর্কি না করাটা উত্তম ।
  • উগ্র বা অশালীন ড্রেস পরা উচিত না সিলেটে, মনে রাখবেন আপনি যাচ্ছেন ‘বার আওলিয়ার মাজারের শহরে’ । তাই সবসময় ভদ্রতা বজায় রাখুন ।
  • মাজারে যাবেন কিন্তু লক্ষ রাখবেন আপনার সব ভক্তি যেন আল্লাহর প্রতিই থাকে । সব আল্লাহর ইচ্ছায় হয়, মাজারে গিয়ে মাথা ঠেকানো উচিত নয় ।
  • জাফলং দেখার আগে মাধবকুন্ড দেখা উচিত বলে আমি মনে করি । জাফলং দেখবেন শেষ দিন, যখন ফিরবেন তখন যেন চোখে জাফলং ভেসে থাকে ।
  • জাফলং যান আর মাধবকুন্ড যেখানেই যান, পানিতে নামার প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন । কারণ, ওখানকার পরিবেশ আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে পানিতে নামার জন্য । এছাড়াও ভিজে যাবার সম্ভাবনা আছে পানিতে । তাই কাপড় চোপড় সাথে রাখবেন ।
  • সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি না যাওয়াই উত্তম । (তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট) ।

 ঢাকা-সিলেট যাতায়াত

ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৪৪কি.মি. ভাড়া এসি ৮০০, নন এসি ৪২০ টাকা । মনে রাখতে হবে, এই ভাড়া পরিবর্তনযোগ্য । প্রয়োজনে ফোন করে বর্তমানের ভাড়া সম্পর্কে জেনে নিন ।

ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, কল্যানপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দিনে রাতে বিভিন্ন পরিবহনের অসংখ্য বাস এই রুটে চলাচল করে । এই রুটে এসি ও নন এসি দুই ধরনের বাসই রয়েছে । এসি বাসগুলোর মধ্যে রয়েয়ে গ্রীণ লাইন, আল মোবারাকা সোহাগ, সৌদিয়া ও এস.আলম । আর নন এসি বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, মামুন, ইউনিক পরিবহন । বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্টারসিটি ট্রেন আছে ৮টি । কালানি এক্সপ্রেস (বিকেল ৩টা),  পারাবত এক্সপ্রেস (সকাল ৬টা ৪০মি),  উপবন এক্সপ্রেস (রাত ৯টা ৫০মি),  জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (দুপুর ১২টা) । এর মধ্যে পারাবত মঙ্গলবার এবং উপবন বুধআর বন্ধ থাকে । অন্য দুইটি সপ্তাহে ৭দিনই চলে । এ ছাড়াও একটি মেইল ট্রেন আছে সুরমা মেইল নামের । তবে যাবার আগে অবশ্যই ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জেনে নিন রেলওয়ে এনকোয়ারি থেকে । কারণ, রেলের সময়সূচী মাঝে মাঝেই বদল করা হয়ে থাকে । ট্রেনে গেলে রাত ৯.৫০ এর উপবন এক্সপ্রেসে জাওয়াটাই সব থেকে ভালো কারণ আপনার যেতে সকাল হয়ে যাবে আর আপনি যদি রাতে ট্রেনে ঘুমিয়ে নিন তাহলে সকালে ট্রেন থেকে নেমেই আপনার ভ্রমণ শুরু করতে পারেন আর সময় লাগবে ৭-৮ ঘন্টা ।

ট্রেন এর টিকেট এর দাম (অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য) :

 এসি বার্থ্ ৬৯৮ টাকা,  এসি সিট ৪৬০ টাকা,  ফাস্ট ক্লাস বার্থ ৪২৫ টাকা,  ফাস্ট ক্লাস সিট ২৭০ টাকা,  ‍স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা,  শোভন চেয়ার ১৮০ টাকা,  শোভন ১৫০ টাকা,  সুলভ ৯৫ টাকা । এই ট্রেন ভাড়াও পরিবর্তন যোগ্য । বর্তমানের ভাড়া ফোন করে জেনে নিন ।

Categories
বিবিধ

চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যবলী ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

চট্টগ্রাম জেলা

চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যবলী

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল চট্টগ্রাম জেলা। পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যকা, বন বনানীর কারণে চট্টগ্রামের মতো ভৌগোলিক বৈচিত্র বাংলাদেশের আর কোন জেলার নেই। ভৌগোলিক সীমানা : চট্টগ্রাম জেলার উত্তরে ফেনী জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্ব দিকে বান্দরবান, রাঙামাটি, ও খাগড়াছড়ি জেলা, এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া দ্বীপাঞ্চল সন্দীপ চট্টগ্রামের অংশ।

চট্টগ্রাম জেলার আয়তন ৫,২৮২.৯৮ বর্গ কি.মি.। উত্তরে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্বে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি, পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও বঙ্গোপসাগর। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, অরণ্য, উপত্যকা প্রভূতি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জন্যে এ জেলা থেকে স্বতন্ত্র। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ৩৩.৮সে. এবং সর্বনিম্ন ১৪.৫সে.। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩.১৯৪ মিমি। প্রধান নদীঃ কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু।

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১টি জেলা রয়েছে। যেমন-

  • চট্টগ্রাম
  • বান্দরবান
  • ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  • চাঁদপুর
  • কুমিল্লা
  • কক্সবাজার
  • ফেনী
  • খাগড়াছড়ি
  • লক্ষ্মীপুর
  • নোয়াখালী
  • রাঙামাটি

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাওয়ারী দর্শনীয় স্থানগুলো সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • সীতার পাহাড়, সীতাকুন্ড।
  • বাড়বকুন্ড
  • পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
  • নেভাল এরিয়া
  • শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর।
  • ফয়্স লেক
  • চেরাগি পাহাড় মোড় (স্মৃতি মিনার)
  • জে এম সেন হল
  • নজরুল স্কয়ার (ডি. সি. হিল)
  • লালদীঘি
  • কালুরঘাট
  • পার্কির চর (আনয়ারা)।
  • বৌদ্ধ তীর্থ স্থান চক্রশালা পটিয়া
  • বাটালী হিল
  • আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ
  • বাঁশখালী ইকোপার্ক।
  • খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী।
  • খিরাম সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ফটিকছড়ি।
  • লোহাগড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
  • মহামুনি বৌদ্ধ বিহার, রাউজান।
  • চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান, পুকুরিয়া, বাঁশখালী।
  • ভুজপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ভূজপুর, ফটিকছড়ি।
  • মহামায়া সেচ প্রকল্প, মীরসরাই।

               গিরি-সৈকতের সীতাকুন্ড

বান্দরনগরী চট্টগ্রামের শিলাঞ্চল খ্যাত উপজেলা সীতাকুন্ড। দেশের একমত্র শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও ছোট বড় অসেকগুলো শিল্পকারখানা নিয়ে সারাক্ষণই জমজমাট। এতকিছুর মাঝেও প্রকৃতি এখানে উদার। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, অন্যদিকে সুবিশাল সমুদ্র, গিরি-সৈকতের এমন নিবিড় ঘনিষ্টতা সাধারণত দেশের অন্য কোথাও দেখা যায় না। দেশের অন্যতম বোটানিক্যাল গার্ডেন সীতাকুন্ড ইকো-পার্কের কথা না হয় বাদই দিলাম। এরপরেও এখানকার বেশ কিছু পর্যটন এলাকা দেশের বিভিন্ন স্থানের দর্শণার্থীদের কাছে উঠেছে যথেষ্ঠ জনপ্রিয়। এখানে প্রতিনিয়ত দেশের নানা স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা ছুটে আসছে প্রকৃতির স্বাদ পেতে। কিন্তু সারকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তেমন আন্তরিক নয়। সরকারের আন্তরিকতা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে শুধু দেশেই নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবেও বিখ্যাত হয়ে উঠতে পারে এমন কিছু সম্ভাবনাময়ী পর্যটন এলাকা নিয়ে পরবর্তীতে আলোকপাত করা হলো।

               চন্দ্রনাথ পাহাড়

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত চন্দ্রনাথ পাহাড়। সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচু এ পাহাড়টিকে অনেকে আখ্যায়িত করেন বাংলাদেশের হিমালয় হিসেবে। এ পাহাড় এবং পাহাড়কে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকা দেশবাসীর কাছে পর্যটন কেন্দ্রের মর্যাদা পাচ্ছে। এর আরেক পরিচয় ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসাবে। প্রতি বছর চৈত্র মাসে শিব চতুর্দশী মেলা উপলক্ষে এখানে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাসহ সারাদেশ থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন কলেজ, ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং ভ্রমণ পিপাসু সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে সবসময়। চলচিত্র নির্মাতারা আসেন ছবি নির্মাণের জন্য। এর পাহাড়, ঝরণা ও আশেপাশের দৃশ্যের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় সাধারণ মানুষ। পাহাড়ে আরোহন করে পশ্চিমে তাকালে দেখা যায় বিশাল সমুদ্র আর পূর্বে পাহাড়ের পর পাহাড়। আশেপাশের জনপদগুলোকে মনে হয় পটে আঁকা ছবি।

বাশঁবাড়ীয়া সমুদ্র-সৈকত

চট্টগ্রাম শহর থেকে ত্রিশ কিলোমিটার উত্তরে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত। দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ সমুদ্রর সীমাহীন জলরাশি আর সবুজ মাঠ, এমন দৃশ্যে হঠাৎ করেই মন কেমন হয়ে উঠে। অনেকের মাঝে থেকেও নিজেকে তখন একা মনে হয়। মনে হয় তার মত সুখী পৃথিবীতে আর কেউ নেই। এক অফুরন্ত ভাল লাগার স্থান বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকতের প্রতি স্থানীয় ও আশেপাশের মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখানে সপরিবারে বেড়াতে এসে আলাড় হলো বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ বণিকের সাথে। আলোচনা প্রসঙ্গে জানান, এটি তার প্রিয় জায়গা। তিনি আরো মনে করেন বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র-সৈকতকে সরকার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে রাজস্ব আয় বাড়বে তেমনি মানুষের বিনোদনের সুবিধাও বাড়বে।

ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে ডুলাহাজরা নামক স্থানে ইকোপার্ক অবস্থিত। বনের জীবজন্তু, পশুপাখি আর দুষ্প্রাপ্য সব গাছের সংগ্রহ রয়েছে এই সাফারি পার্কে। বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাস্থর উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ইকো টুরিজম ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই পার্ক ১৯৮০-৮১ সালে সর্বপ্রথম হরিণ প্রজনন কেন্দ্র নামে স্থাপন করা হয়। এই পার্কের আয়তন ৯০০ হেক্টর। পর্যটকদের জন্য এই পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য উপভোগ করার পাশাপাশি তথ্য শিক্ষা কেন্দ্র, ন্যাচারাল হিস্ট্রি, মিউজিয়াম পর্যবেক্ষণ, টাওয়ার পাখিশালা বেষ্টনী ও বিশ্রামাগার রয়েছে।

বন-পাহাড়ের মাঝে রাস্তা যেন বৃষ্টির পরশের মতো শীতলতা এনে দেয়। বিশাল বিশাল গর্জন গাছের সারি চকরিয়ায় আমাদের স্বাগত জানায়। চকরিয়ায় গাড়ি কিছুটা চলার পর পূর্বনির্ধারিত গন্তব্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের সামনে উপস্থিত হওয়ার পর কেমন যেন আশ্চর্য অনুভূতি সৃষ্টি হয় পর্যটকদের মধ্যে।

নগরজীবনে যাপিত আমরা প্রতিনিয়ত হাঁসফাঁস করি প্রকৃতি ও নিসর্গের ছোঁয়া পেতে।যান্ত্রিক দানব, বিদ্যুতের খুঁটি, গগনচুম্বী দালান আর রাস্তায় অগণিত মানুষের ঢল দম বন্ধ করে দেয়। একটু স্নিগ্ধতা, একটু প্রকৃতির নরম পরশ পেতে সপরিবারে জাগতিক অনেক ঝুটঝামেলা এড়িয়ে বেরিয়ে পড়া যায় কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ডুলাহাজারা এলাকার সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে। ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক আফ্রিকা আ কেনিয়ার সাফারি পার্কের মতো আয়তনে বড় না হলেও এখানে বন-বনানীতে ঘেরা মুক্ত ও সাযুজ্যপূর্ণ পরিবেশে পশুপাখির সন্ধান মিলবে। ঢাকা থেকে গাড়ি পথে ফেনী, চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগড়া পেরিয়ে ডুলা হাজরা সাফারী পার্ক। ঢাকা থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।

একসময় গণনচুম্বী গর্জন, বৈলাম, তেলসুর, চাপালিশ, চাম্পাফুল, বিবিধ লতাগুল ও ঔষধিসহ কক্সবাজারের চিরসবুজ বনাঞ্চল ছিল হাতি, চিতাবাঘ, হরিণ, ভালুক, বন্যশুকর, বানর, উড়ন্ত কাঠবিড়ালি বিভিন্ন জাতের সরীসৃপ, ধনেশ, মাছরাঙা ইত্যাদির আবাসভূমি ছিল এ অঞ্চল। রয়েল বেঙ্গল টাইগার কক্সবাজার বনাঞ্চল থেকে ষাটের দশকেই বিলুপ্ত।

১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বন সমিতির একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। ফলে ১৯৯৮-৯৯ সালে এই পার্ক প্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও বন গবেষণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাফারি পার্ক গড়ে তোলার কাজ ২০০০-২০০১ সালে শেষ হয়। ৬০০ হেক্টর ভূমি নিয়ে এ পার্ক স্থাপিত হয়।

কুমিরা সমুদ্র-সৈকত

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ছাব্বিশ-সাতাশ কিলোমিটার উত্তরে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে কুমিরা সমুদ্র-সৈকত। শুধুমাত্র কক্সবাজার ছাড়া দেশের অন্য কোথাও সমুদ্রকে এত ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ মেলে না । একদিকে দিগন্ত জলরাশি অন্য দিকে সবুজের সমারোহ, এ অবস্থায় যে কোন মানুষের মনই হঠাৎ করে অন্যরকম ভালো হয়ে যায়। কান পাতলে শোনা যায় সমুদ্রের গর্জন, থেমে গেলে সুনশান নীরবতা। আলাপ হলো মোস্তফা হাকিম কলেজের ছাত্র জিতু’র সাথে, বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে এসেছে। আলাপ করতেই জানালো, সে আরো একবার এসেছিল। এ জায়গাটি তার খুব ভাল লাগে। সে আরো জানায়, সরকার কুমিরা সমুদ্র-সৈকতের বিরাজমান সমস্যা সমাধান করে এটিকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিলে দেশের সুনাম বয়ে আনা সম্ভব।

কুতুবদিয়া বাতিঘর

রাতের বেলা জাহাজের নাবিকদের পথের সংকেত প্রদর্শনের জন্য সমুদ্র উপকূলে উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করে তার ওপরে আলো জ্বেলে রাখা হয়। আর সংকেত প্রদানকারী এই টাওয়ারটিই হলো বাতিঘর। বাংলাদেশের এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাতিঘর হলো কুতুবদিয়া বাতিঘর। রাতের বেলা বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী জাহাজকে সংকেত প্রদর্শনের জন্য এই বাতিঘরটি নিমার্ণ করা হয়। কর্ণফুলী মোহনার ৪০ মাইল দূরে কুতুবদিয়া দ্বীপে এটি নির্মিত হয়। ক্যাপ্টেন হেয়ারের পরিচালনা ও ইঞ্জিনিয়ার জে এইচ টুগুডের নির্দেশনায় এই বাতিঘর নির্মাণ করা হয়। পাথরের ভিত্তির ওপর বসানো এই বাতিঘরের উচ্চতা ১২১ ফুট। ১৮৪৬ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

বাতিঘরটি নির্মাণে সেই সময়ে ব্যয় হয় চার হাজার ৪২৮ টাকা। পাকিস্তান আমলে লোহা দিয়ে একটি টাওয়ার বানিয়ে তার ওপর আধুনিক বাতিঘর স্থাপন করে প্রাচীন বাতিঘরটি বাতিল করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও ক্রমাগত ভাঙনের ফলে পরিত্যক্ত বাতিঘর ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকায় মোট পাঁচটি বাতিঘর আছে।

বিএমএ লেক

শহরের সিটি গেইট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার উত্তরে, ভাটিয়ারী বাজার থেকে মা্ত্র আধা কিলোমিটার পূর্বে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি (বিএমএ) সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সুদৃশ্য লেক ও আশেপাশের ছোট-বড় অনেকগুলো পাহাড়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সম্ভাবনাময়ী একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে। ভাটিয়ারী বিএমএ গেইট থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সীমানা পর্যন্ত প্রায় দশ-এগার কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে মসৃণ রাস্তা। কখনো উঁচু, কখনো নিচু। মাঝে মধ্যে পরিচিত অপরিচিত পাখির ডাক। ভাগ্য ভালো হলো সামনে পড়বে চিত্রা হরিণ, বানর, খরগোশ জাতীয় ছোট প্রাণী। উঁচু নিচু পাহাড়ের গা চিরে বয়ে যাওয়া রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় কল্পনাও করা যায় না যে আশেপাশে কোথাও নগরের কোলাহল আছে।

চারপাশে শুধু সবুজের সমারোহ। কাউকে চোখ বন্ধ করে এখানে এনে যদি চোখ খুলে দেয়া হয় তাহলে সে বুঝতেই পারবে না সে কী চট্টগ্রাম আছে নাকি দার্জিলিং এ আছে। বিএমএ লেক সংলগ্ন এই এলাকাটি ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানের দর্শনাথীদের মনোযোগ আকর্ষনে সক্ষম হয়েছে। স্ত্রী কে নিয়ে বেড়াতে আসা জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, ‘ভাই, এমন জায়গা থাকতে কী নেপাল দার্জিলিং যেতে হয়? সরকারের উচিত একে জাতীয় পর্যটন কেন্দ্রের মর্যাদা দেয়া।’

দারোগাহাট সহস্রধারা

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত দারোগাহাট সহস্রধারা। সুবিশাল পাহাড়ের উঁচু শৃঙ্গ আর আকাশের এমন ঘনিষ্ঠতা অনেক ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকায়ও দেখা যায় না। মনে হয় পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে উঠলেই বুঝি হাত দিয়ে আকাশ ছোঁয়া যাবে। পাহাড়ের গা চিরে ভীষণ বেগে বয়ে চলেছে ঝর্ণা, যা পরিচিত ‘সহস্রধারা’ নামে। এখানে এসে মন ভালো হবে যে কারো। প্রতিনিয়ই বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা আসছে। কলেক-ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রির সংখ্যা এর মধ্যে বেশি। বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফৌজিয়া জানালো, এখানে এসে তার খুব ভালো লাগছে। রাঙামাটি গিয়েও সে এতো মজা পায়নি। অন্যান্য দর্শনার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সরকার যদি এর উন্নতিতে মন দেয় তাহলে অচিরেই এটি বিখ্যাত দর্শনীয় স্পটে পরিণত হবে।

ফয়’স লেক

চট্টগ্রাম শহরের কোলাহলের ভেতরেই ফয়’স লেকের এক প্রান্ত থেকে আপনি যখন বোটে চড়ে রিজর্টের দিকে রওনা হবেন, ১০ মিনিটের সেই নৌভ্রমণের এক মিনিটও না যেতেই বিস্ময় আর আনন্দের শিহরণ শুরু হবে ।

সংরক্ষিত সবুজ পাহাড়ের অলিগলি দিয়ে ইঞ্জিনবোটের ধক-ধক শব্দে এগিয়ে যাওয়ার সময় আপনার মনে হবে যেন রহস্য উন্মোচনে রওনা করেছেন । ৭-৮ মিনিটের মধ্যে দূর থেকে যখন রিজর্টের খানিকটা দেখা যাবে তখন আপনি নিশ্চয়ই অনুভব করবেন আবিস্কারের অনাবিল আনন্দ । তারপর ২-৩ মিনিটে পুরো রিজর্ট যখন রূপকথার ওয়ান্ডারল্যান্ডের মতো আপনার দৃষ্টির গোচরে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে, আপনার তখন বাধ না মানা বিস্ময় যেন এক স্বপ্নপুরী, দৃষ্টিনন্দন ছবির মতো এবং ছবি তোলার মতো ।

বিশাল ব্যস্ত শহরের মধ্যেই অথচ নগরের কোলাহলের লেশমাত্র নেই । বাংলাদেশে সৃষ্টিকর্তার অপরূপ উপঢৌকন, বিশ্বসেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অবশ্যই । আবার রাতের ঘন অন্ধকারে বোট যখন লেকের পানি চিড়ে সাপের মতো চলে দু’ধারে পাহাড়-জঙ্গল রূপকথার দৈত্য-দানবের কথা মনে করিয়ে ভয়ও সৃষ্টি করে না এটাও বুকে হাত দিয়ে বলা সম্ভব নয়। সৃষ্টির সেরা দানে গড়ে তোলা ফয়’স লেক অনেক বছর এমনি এমনি অবহেলায় থাকার পর কনকর্ড গ্রুপের রুচি ও সৃজনশীলতার উদ্যোগী সমন্বয়ে এখন আমাদের হাতছানি দেয় আনন্দ আবাহনে, ঘুরে আসুন, মন জুড়িয়ে আসুন । আরাম করুন, আয়েশ করুন । আবিস্কার করুন এক অজানা বাংলাদেশ।

আমাদের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলন অনেক উপন্যাস লিখতে শুনেছি দেশ-বিদেশের নানা জায়গায় কয়েকদিনের একাকীত্ববাসে যান, ফয়’স লেক রিজর্টও হতে পাবে তাদের পরবর্তী গন্তব্য।

এই রিজর্টের অভিনবত্ব হচ্ছে সেখানে আপনি একাকী গেলেও যেমন ভালো থাকবেন, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা গেলেও উপভোগ করবেন অসামান্য, নবদম্পতিদেরে মধুচন্দ্রিমার জন্য স্থানটি আদর্শ, আবার সেখানেই হতে পারে আপনার শুভ বিবাহের সাড়ম্বর আয়োজন । কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তাদের নিবিঢ় সান্নিধ্য ও শান্তিময় একাগ্রচিত্তে গভীর মনোযোগে ব্যবসায়িক শলাপরামর্শ বা সম্মেলন করার জন্যও সেখানে রয়েছে সকল সুব্যবস্থা।

ফয়’স লেক রিজর্টে থাকা-খাওয়ার মান খুব ভালো। বিনোদনের জন্য রয়েছে বিস্তৃত ব্যবস্থা-ড্রাইপার্ক, ওয়াটারপার্ক, (পাশেই) চিড়িয়াখান, বারবিকিউ নাইটস্, বোট রাইডস্ এবং মাঝে মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এমনকি সেরা শিল্পীদের কনসার্টও।

এত কাছে থেকেও যেন অনেক দূরে হারিয়ে যাওয়ার আনন্দ, শিহরণ আপনি আর কোথায় পাবেন ! খরচও সাধ্যের মধ্যেই । খোঁজ নিয়ে দেখুন, ঘুরে আসুন শিগগিরই।

বর্ষা, শীত কিংবা গ্রীষ্মে, ষড়ঋতুর যেকোনো দিনই আপনি উপভোগ করবেন নিশ্চিত । আর একটি কথা উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে যে রিজর্টের কর্মীরা খুবই অতিথিপরায়ণ ও বিশেষ করে শিশুবান্ধব।

আমরা জানি কনকর্ড গ্রুপ বাংলাদেশের বিনোদনে বেশ কিছু বিশ্বমানের সুবিধা তৈরি করেছে, যেমন ঢাকার ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম, হেরিটেজ পার্ক । আমরা নিশ্চয় আশা করতে পারি, বাংলাদেশে তারা আরো অনেক নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বেশি বেশি উপভোগ্য করে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রাখবে ।

শহীদ জিয়া জাদুঘর   

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের বিপরীত দিকে একটি শিশুপার্ক । শিশুপার্ক ছাড়িয়ে লালখান বাজার যাওয়ার পথ ধরে সামান্য হাঁটলেই রাস্তার ডানদিকে শহীদ জিয়া জাদুঘর । টিকিট কেটে জাদুঘরে ঢুকতে হয় । সাকির্ট হাউসের যে ঘরটিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন । সেই ঘরের স্মৃতিচিহ্নসহ জিয়াউর রহমান ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র এবং তার বেশকিছু দুর্লভ ছবি রয়েছে এখানে । রয়েছে চট্টগ্রাম কালুরঘাটে খালকাটা কর্মসূচিতে নেতৃত্বদানরত অবস্থায় শহীদ জিয়ার একটি ভাস্কর্য ।

বাটালি পাহাড়

টাইগার পাস এবং লালখান বাজারের মাঝামাঝি অবস্থান বাটালি পাহাড়ের । বোদ্ধ ব্যক্তিরা বলে থাকেন, চট্টগ্রামের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অবশ্যই টাইগার পাস আসতে হবে এবং বাটালি পাহাড়ে উঠতে হবে । বাটালি পাহাড়ে রয়েছে হরেক রকম গাছপালা । এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য পাহাড় কেটে সুবিন্যস্তভাবে তৈরি করা সিঁড়ি বাটালি পাহাড় থেকে পুরো চট্টগ্রাম দেখা যায় । মনে হবে, পাহাড়ের কোলে গা ঘেঁষে ঘুমাচ্ছে চট্টগ্রাম ।

চেরাগী পাহাড়

চেরাগী পাহাড় পত্রিকাপাড়া নামেও পরিচিত । এখানে প্রায় সব জাতীয় পত্রিকা টিভি চ্যানেল, রেডিও চ্যানেল, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের অফিস রয়েছে । রয়েছে স্থানীয় পত্রিকার অফিসও । চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং প্রাচীন পত্রিকা প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর অফিস এখানেই । তারপরই আন্দরকিল্লায় রয়েছে শাহী মসজিদ, জেএম সেন হলে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধাপুরুষ মাস্টারদা সূর্যসেনের অবক্ষমূর্তি ।

এর একটু দুরেই চকবাজার । যেখানে দুটি দর্শনীয় স্থান হচ্ছে সুপ্রাচীন অলি খাঁ মসজিদ ও নানক গুরুদুয়ার ।

পারকি সমুদ্রসৈকত

চট্টগ্রাম শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরেই এটির অবস্থান । আনোয়ারা থানায় গড়ে ওঠা এ নয়নজুড়ানো সমুদ্রসৈকত তেমন একটা পরিচিতি পায়নি । সৈকতের পাড় ঘেঁষে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ঝাউবন । জায়গাটা সবসময় চিকচিক বালিতে ভরে থাকে বলে আকর্ষণে অনেকেই ছুটে যান পারকিতে । সৈকতে সামুদ্রিক কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ নির্মল আনন্দদান করে । রয়েছে নোঙ্গর করা জাহাজ সারি ।

লালদীঘি

লালদীঘি ময়দান নানা কারণে মানুষের কাছে বহুল পরিচিত । চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ স্থল এটি । বিভিন্ন সভা সমাবেশে যে পরিমাণ মানুষ জমায়েত হয় তা বিস্ময়কর । এছাড়া সংগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম, প্রধানতম বললেও ভুল হবে না সূতিকাগার এটি । ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা এখানেই হয় ।

ওয়ার সিমেট্ট

নগরীর প্রবর্তক মোড় পেরিয়ে বাদশা মিয়া রোডে এর অবস্থান । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের একাংশ এখানে সমাহিত করা হয়েছে । ফুলের বাগান বেষ্টিত মনোরম এ স্থান স্মরণ করিয়ে দেয় সেইসব সৈন্যদের শৌর্যবীর্য ও বীরত্বগাথা । ছোট ছোট সমাধিফলক সারিবদ্ধভাবে সাজানো ।

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

মাতৃভক্তি এবং ধর্মীয় কারণে স্মরণীয় হয়ে আছেন বায়েজিদ বোস্তামী । মাজার পুকুর রয়েছে দানবাকৃতির অনেকগুলো কাছিম । জনশ্রুতি আছে, কাছিমগুলোর বয়স কয়েক শত বছর । এছাড়াও স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজউদ্দৌলা রোডের চন্দনপুরা হামিদিয়া তাজ মসজিদ । প্রায় তিনশ’ বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটির সৌন্দর্য এখনও মানুষকে বিমোহিত করে ।

সন্দীপ

অনেকেই ভুল করে সন্দীপকে নোয়াখালী জেলার অংশ ভাবেন । আসলে এটা চট্টগ্রামেরই একটি থানা । যদিও ভাষা কৃষ্টি সংস্কৃতি অনেকটা নোয়াখালীর মতোই । জলবেষ্টিত এ সুন্দর দ্বীপের আয়তন খুব একটা বেশি নয়, তুলনামূলক জনসংখ্যাও কম । দুইভাবেই সন্দীপ যাওয়া যায় ।

চট্টগ্রাম যাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি

আকাশপথে : 

ঢাকা বিমান বন্দর হতে বাংলাদেশ বিমান, জি.এম.জি, ইউনাইটেড এয়ার সহ আরও কয়েকটি অপারেটর বিমানপথ পরিচালনা করে থাকে ।

সড়কপথে:  

গ্রীন লাইন, সাউদিয়া এস আলম, হানিফ এন্টারপ্রাইজসহ অনেক এসি/নন এসি বাস যাতায়াত করে থাকে । আরামবাগ, সায়েদাবাদ হতে চট্টগ্রামগামী বাস পাওয়া যায় ।

রেলপথে:  ঢাকা হতে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম হতে ঢাকার মাঝে বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনসমূহ

  • মহানগর প্রভাতী
  • তূর্ণা নিশীথা
  • মহানগর গোধুলী এক্সপ্রেস
  • সুবর্ণ এক্সপ্রেস

যোগাযোগ

কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন

ফোন নম্বর:  ৯৩৫৮৬৩৪, ৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২

মোবাইল নম্বর: ০১৭১১-৬৯১৬১২

বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন

ফোন নম্বর: ৮৯২৪২৩৯

ওয়েবসাইট:  www.railway.gbv.bd

 

ষ্টেশন ম্যানেজার, চট্টগ্রাম – ০১৭১১-৬৯১৫৫০

অনুসন্ধান, চট্টগ্রাম – ০৩১-৬৩৫১৬২

এস আর পি, (রেল পুলিশ), চট্টগ্রাম – ০১৭১১-৬৯২৮৪৩

ও সি / জি আর পি, চট্টগ্রাম – ০৩১-৬১৬২৫৪

বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্ত, চট্টগ্রাম – ০১৭১১-৬৯১৬২৬

ষ্টেশন ম্যানেজার, চট্টগ্রাম – ০১৭১১-৬৯১৬১২

অনুসন্ধন, ঢাকা – ০২-৯৩৫৮৬৩৪, ০২-৮৩১৫৮৫৭

বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, ঢাকা – ০১৭১১-৬৯১৬৪৩

 

 

 

 

 

Categories
বিবিধ

সুন্দরবন সর্ম্পকে বিস্তারিত জেনে নিন  

                   সুন্দরবন

সুন্দরবন সর্ম্পকে বিস্তারিত জেনে নিন  

যে কোনো পর্যটক সুন্দরবনের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবেন। বনের ভেতরে প্রবেশ করার পর চারদিকে দেখা যাবে সবুজ আর সবুজ। বিধাতা যেন অপরূপ সাজে সজ্জিত করে রেখেছে। কী অপরূপ সৃষ্টি, তা সুন্দরবন দেখলেই বোঝা যায়। এই সুন্দরবনে বিশ্ববিখ্যাত রয়েল  বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, বানর, শূকর, গুঁইসাপ, অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ এবং নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে।

এখানকার নদ-নদীতে লোনা পানির কুমির, হাঙ্গর, চিংড়িসহ ২১০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের চেয়ে সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সন্দরবনে ৩৩৪ প্রজাতির গাছ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল এবং ১৩ প্রজাতির অকির্ড আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বা বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

সুন্দরবন পর্যটকদের অন্যতম স্থান হিসেবে সরকার শত শত কোটি টাকা উপার্জন করতে সক্ষম। অথচ সুন্দরবন সংলগ্ন তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করে একে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। সুন্দরবনের এই বিশাল বৃক্ষরাজির জন্যই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ তাই চিন্তিত। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ সুন্দরবন ধ্বংস হবে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বিলীন হবে সুন্দরবনের অতীত ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবনের গাছগাছালি। ভূগর্ভস্থ পানির অতিমাত্রায় ব্যবহার চারপাশের জমির উপরিভাগে মরুময়তা সৃষ্টি করবে। নির্গত কার্বন মানুষের মধ্যে দুরারোগ্য ক্যান্সার সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কা অনেকের।

এখানকার প্রধান গাছ ‍সুন্দরী ও বন্যপ্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে। বায়ুমন্ডলের সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন যৌগগুলো থেকে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস বনের জন্য অতি মারাত্ক ক্ষতিকর এসিড বৃষ্টি ঘটাতে পারে। সন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে বিভিন্ন মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অথচ এই সুন্দরবনকে নিয়ে সরকারের নেই কোনো মাস্টারপ্ল্যান। পর্যটন শিল্প বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক খাত হলেও সরকার পরিকল্পনায় আনতে পারেনি।

সুন্দরবনকে বিশ্বের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।

একে অবশ্য উত্তম মৎস্য চারণক্ষেত্রও বলা হয়। এমনিতেই পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এখাকার নদী-খাল শুকিয়ে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। সুন্দরবনকে নানাভাবে বিষিযে তুলছে অসাধু গোষ্ঠী। উপরন্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় তো বড় হুমকি। যেভাবে বন ধ্বংস হচ্ছে তাতে অচিরেই এলাকাগুলো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের বড় ধরনের শিকারে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ। বিপন্ন হবে জাতীয় অর্থনীতি। দেশের মোট আয়তনের ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং সমগ্র বনভূমির প্রায় ৪৪ শতাংশ।

সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গ কিলোমিটার সমগ্র সুন্দরবনের (৬৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ) এবং জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ বর্গ কি.মি. সমগ্র সুন্দরবনের (৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ)। বনে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, বাইন, পশুর, কাঁকড়া, গরান, গোলপাতা, হেতাল, ঝানা, অমুর, সিংড়া, খলসীসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাস জন্মে।

জানা যায়, ১৮২৮ সালে ব্রিটিশ সরকার সুন্দরবনের স্বত্বাধিকার অর্জন করে। এলটি হজেয ১৮২৯ সালে সুন্দরবনে প্রথম জরিপ চালান। ১৮৭৬ সাল পূর্ব পর্যন্ত তৎকালীন জমিদারের অধীনে ছিল সুন্দরবন। ১৮৭৮ সালে সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সালে সুন্দরবনের দায়িত্ব বন বিভাগের হতে তুলে দেওয়া হয়।

সমগ্র সুন্দরবন চারটি ফরেস্ট রেঞ্জ এলাকায় বিভক্ত।

এগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, চাঁদপাই এবং শরণখোলা ফরেস্ট রেঞ্জ। সুন্দরবনে প্রায় ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল আছে। এই নদী এবং খালগুলো সমগ্র সুন্দরবনে জালের মতো ছড়িয়ে আছে। পশুর, শৌলা, শিবসা, ভদ্রা, যমুনা, রায়মঙ্গল, ভোলা, মরজাত, আড়ুয়া শিবসা, বল এখানকার প্রধান নদী। উল্লেখযোগ্য খালগুলো হলো   :  শাপলা, মরাভোলা, কটকা, বাদামতলা, মৃগামারি, করমজল, জোংড়া, হরিণটানা, মরাপশুর, নন্দবালা, ধানসাগর, নিশাজখালী প্রভৃতি।

খুলনা কিংবা মংলা থেকে নৌপথে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে প্রবেশ করা যায়। মংলার অদুরেই ঢাইনমারীতে রয়েছে বন বিভাগের কার্যালয়। সেখান থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের আনুষাঙ্গিকতা সারতে হয়। পর্যটকদের জনপ্রতি ৫০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৭০০ টাকা এবং ছোট ও বড় লঞ্চের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। পর্যটকদের সঙ্গে ভিডিও ক্যামেরা থাকলে অতিরিক্ত একশ’ টাকা বন বিভাগকে দিতে হয়। প্যাকেজ ট্যুরে গেলে এসব ঝামেলা পর্যটকদের পোহাতে হয় না। ট্যুরিজম লিমিটেডের লোকজনই আনুষাঙ্গিকতা সেরে নেয়। ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষকে শুধু নির্ধারিত তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করলেই তিন রাত দু’দিন সুন্দরবনে ভ্রমণ ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে তারা। আর সরকারিভাবে যেতে চিইলে আছে কটকা ও কচিখালী গেস্ট হাউস। কটকার রেস্ট হাউসে ৮ জনের বেশি থাকা যায় না । কচিখালী গেস্ট হাউসে থাকা যায় ৬ জন। এসব রেস্ট হাউসের ভাড়া ৩ হাজার টাকা করে (কম-বেশি হতে পারে)। গেস্ট হাউস দেখাশোনার জন্য একজন বনকর্মী রয়েছেন। এসব গেস্ট হাউস ভাড়া নিতে হয় বাগেরহাটের ডিএফওর কাছ থেকে।