দ্বৈরথ পর্ব:২ হুমায়ূন আহমেদ

দ্বৈরথ পর্ব:২ এক মাসের জন্যে এসেছিলেন এখন দশ বছর হয়েছে। এক তলার অর্ধেকটা ছদরুদ্দিন সাহেবের দখলে। এখনো তিনি টুটকা ফাটকা ব্যবসা করেন। এবংসারাক্ষণই আক্ষেপ করেন যে, ক্যাপিটালের অভাবে কিছু করতে পারছেন না। বছর দুই ধরে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর মুখ দেখাদেখি বন্ধ—শুধু ছোট ভাই নয়, ছোট ভাইয়ের পরিবারের কারোর সঙ্গেই তিনি কথা বলেন না। কয়েক… Continue reading দ্বৈরথ পর্ব:২ হুমায়ূন আহমেদ

দ্বৈরথ পর্ব:১ হুমায়ূন আহমেদ

দ্বৈরথ পর্ব:১ বাথরুমের দরজা খোলা। লোকটা অনেকক্ষণ ধরে বাথরুমে। বিশ্রী রকমের একটা আওয়াজ আসছে। গঁরল-গঁল-গঁরল। একজন মানুষ এমন কুৎসিত শব্দে গার্গল করে কিভাবে? সুন্দর শোভন কিছুই কি মানুষটার নেই? সোমা হাই তুলল। মাত্ৰ নটা বাজে। এর মধ্যে হাই ওঠার কথা না। কিন্তু এই মানুষটি আশেপাশে থাকলে তার হাই ওঠে। লোকটি অবশ্য বুঝতে পারে না। তাই… Continue reading দ্বৈরথ পর্ব:১ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

তাহলে মুখ এমন গোমড়া করে রাখবেন না। আজহারের প্রেমে পড়েছিলাম কেন জানেন? ঐ লোকটা মুখ গোমড়া করতে পারত না। ভয়ঙ্কর কঠিন সময়েও হেসে ফেলত। আর এমন সুন্দর করে হাসতো যে তার সব অপরাধ ক্ষমা করে দিতাম। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে ইচ্ছে করত—ফিরি ফিরি নিতি তব চরণে আসিব।জহির অবাক হয়ে লক্ষ করল, অরুর চোখে পানি… Continue reading দিনের শেষে শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৬ হুমায়ূন আহমেদ

আমি পড়াচ্ছিলাম সম্রাট অশোক এবং সম্রাট প্রিয়দর্শিনী। দুজন কি আসলে এক, না ভিন্ন? কে সম্রাট অশোেক, কে প্রিয়দর্শিনী? আমি ক্লাসে নানান ধরনের ড্রামা করতে পছন্দ করি। কিছু প্রাচীন ভারতীয় ভাষা জানি-গম্ভীর গলায় সেসব বলে একটা পুরানো আবহাওয়া তৈরি করি এইসব দেখে এই মেয়ে অন্য রকম হয়ে গেল। অল্পবয়েসী মেয়েদের মনে যখন প্ৰেম আসে তখন তা… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:৬ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৫ হুমায়ূন আহমেদ

আসমানী চোখ বন্ধ করে রাখল। যেন সত্যি-সত্যি ঘুমুচ্ছে। সে কাউকে জানতে দিতে চায় না যে সে সারারাত ঘুমুয় নি। সারারাত জেগে কাটিয়েছে। বিদেশে থাকা ঐ ছেলেটির সঙ্গে তার যেদিন বিয়ে হল সেদিন রাতেও এই অবস্থা। সারারাত সে জেগে, এক ফোঁটা ঘুম নেই। অবশ্য ঐ রাতে সে একা না বাড়ির সবাই জেগে ছিল। সবাই নানা রকম… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:৫ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৪ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৪ জহিরের হয়ত আরো অনেক কথা বলার ছিল। বলা হল না। করিম সাহেব সময় দিতে পারলেন না। তাঁর হাতে অনেক কাজ। জহিরের শার্টের পকেটে আসমানীর একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি। তার খুব ইচ্ছা স্যারকে ছবিটা দেখায়। সেই সুযোগ হল না। করিম সাহেব বললেন, দেখ তো জহির ইদ্রিস এসেছে কি-না? ওকে ক্যালকুলেটারের ব্যাটারি আনতে পাঠালাম।… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:৪ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৩ হুমায়ূন আহমেদ

অরু এখন ঢাকাতেই আছে। তার ডাক্তারী পড়া বন্ধ। সে একটা কিন্ডারগার্টেনে মাস্টারি করে এবং আজাহার হোসেনের সঙ্গে জীবনযাপন করে। সেই জীবন কেমন এ বাড়ির কেউ জানে না। অরুর সঙ্গে এদের কোনো যোগাযোগ নেই। এ বাড়িতে অরুর ব্যবহারী প্রতিটি জিনিস নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। শাহানাকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনার ছেলেমেয়ে কি? তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেন,… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:৩ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:২ হুমায়ূন আহমেদ

আদরে-আদরে মীরুর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে বলে তরুর ধারণা। মীরু অসম্ভব জেদী এবং রাগী হয়েছে। একবার রাগ করে দুদিন ভাত না খেয়ে ছিল। তারচেয়েও সমস্যার কথা ইদানীং তার বোধহয় কোনো একটা ছেলের সঙ্গে ভাব হয়েছে। সেই ছেলের লেখা একটা কাঁচা প্রেমপত্র তরু উদ্ধার করেছিল। মাকে তা দেখাতেই তিনি বললেন, ওর দোষ কী বল? জোর করে… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:২ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:১ হুমায়ূন আহমেদ

জহির লাজুক মুখে বলল, স্যার আজ একটু সকাল-সকাল বাড়ি যাব, একটা জরুরি কাজ।বলতে গিয়ে কথা জড়িয়ে গেল, গলার স্বর অন্যরকম শোনাল। কথার মাঝখানে খুখুক করে কয়েকবার কাশল, নাকের ডগা ঈষৎ লালচে হয়ে গেল। হেডক্যাশিয়ার করিম সাহেব অবাক হয়ে তাকালেন, ব্যাপারটা কি? জহির মাথা নিচু করে। অস্পষ্ট গলায় দ্বিতীয়বার বলল, একটা জরুরি কাজ।করিম সাহেবের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:১ হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই শেষ : পর্ব আমি পড়াশোনা করব। আজ সারারাত পড়ব। দিনে বেড়াতে গিয়ে যে সময়টা নষ্ট করেছি, সেটা কাভার করব।ভোরে উঠে পড়াশোনা করা ভালো। রাতের ঘুমের পর ব্রেইন রেষ্টে থাকে। সকালবেলার পড়াটা মনে থাকে। আমি সারাজীবন এইভাবে পড়েছি।রুনু বিরক্ত গলায় বলল, তুমি সারাজীবন এইভাবে পড়ে তেমন কিছু করতে পার নি বাবা। মেট্রিকে সেকেন্ড… Continue reading এই শুভ্র এই শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ