Categories
শিক্ষা শিল্প-ও-সাহিত্য

জহির রায়হান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম জেনে নিন

জহির রায়হান

জহির রায়হান

আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ ছিলেন (জহির রায়হান) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক এবং গল্পকার । কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক  মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ও সৈয়দা সুফিয়া খাতুনের সন্তান ছিলেন তিনি । বাংলা সাহিত্য রচনার মধ্য দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হলেও জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অসামান্য অবদান রেখে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রে । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তি সংগ্রাম-সকল বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন তাঁর লেখনি ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ।

  • মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন – ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে, ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ।
  • আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ নাম পরিবর্তন করে জহির রায়হান নামে অভিহিত করেন – কমরেড মণি সিংহ ।
  • বিশিষ্ট এই চলচ্চিত্র পরিচালকের ডাক নাম ছিল – জাফর ।
  • জহির রায়হান যে প্রতিষ্ঠান হতে উচ্চতর ড্রিগ্রি অর্জন করেন – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে (১৯৫৮ সালে) ।
  • তাঁর বৈবাহিক জীবন – ১৯৬১ সালে বিবাহ করেন অভিনেত্রী সুমিতা দেবীকে পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে অভিনেত্রী সুচন্দাকে বিবাহ করেন ।
  • ছাত্র জীবনে জহির রায়হান যে রাজনৈতিক পার্টির মতাদর্শে আকৃষ্ট হন – কমিউনিস্ট পার্টির ।
  • জহির রায়হান প্রথম কবে কারারুদ্ধ হন – সালের ২১ ফেব্রুয়ারী (১৪৪ ধারা ভঙ্গের অপরাধে) ।
  • জহির রায়হানের প্রথম প্রকাশিত গল্প গ্রন্থের নাম – ‘সূর্যগ্রহণ’ (১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় ’প্রবাহ’ নামক পত্রিকায়) ।
  • তাঁর চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ ঘটে – ১৯৫৭ সালে, ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ চলচ্চিত্রটির সহকারী পরিচালক হিসেবে ।
  • বিশিষ্ট সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারের সাথে জহির রায়হানের সম্পর্ক – শহীদুল্লাহ কায়সার তাঁর আপন বড় ভাই ।
  • জহির রায়হানের প্রথম প্রকাশিত ‍উপন্যাস – ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ (১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে বিবেচনা করা হয় – ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটিকে (১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়) ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • আবহমান গ্রাম বাংলার জীবন ও জনপদের এক উজ্জ্বল নিদর্শন ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো – মন্ত, টুনি, মকবুল, আবুল, হিরণ, আম্বিয়া, আমেনা, ফাতেমা প্রভৃতি ।
  • জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি চ্লচ্চিত্রায়িত করেন – তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী কোহিনূর আকতার সুচন্দা (২০০৫ সালে) ।
  • ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটির জন্য জহির রায়হান যে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন – আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪ সালে) ।
  • জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রটির জন্য যে চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন – শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন (মরণোত্তর) ।
  • বাংলাদেশের বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত প্রথম উপন্যাস – জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা চরিত্রগুলো জহির রায়াহানের যে উপন্যাসের – ‘আরেক ফাল্গুন’ ।
  • “আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো” এই উচ্চস্বিত আকাঙ্কার প্রকাশ ঘটেছে – জহির রায়াহানের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসে ।
  • বায়ান্নর অন্যতম ভাষা সৈনিক জহির রায়হানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ মূলক ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৬৮ সালে ।
  • বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ‘তসলিম’ নামক যুবকের পরিবারের মর্মবিদারক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে – জহির রায়হানের ‘সূর্যগ্রহণ’ গল্পে ।
  • বেকার যুবক শওকত, এক বিবাহিতা নারী মার্থার সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে হত্যা-খুরের মত ঘটনা ঘটতে থাকে যা জীবনকে করে বিভীষিকাময় প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ আছে – জহির রায়হানের ‘তৃষ্ণা’ উপন্যাসে ।
  • জহির রায়হানের ‘তৃষ্ণা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় -১৯৬২ সালে ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  •  উপন্যাসগুলোর মধ্যে বৃহত্তম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত – ‘বরফ গলা নদী‘ উপন্যাসটি (১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • নিম্নবিত্ত অসচ্ছল হাসমত আলী ও স্ত্রী সালেহার ৪ সন্তানের বড় পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রামী জীবন যাত্রার কাহিনী ফটে উঠেছে – জহির রায়হানের ‘বরপ গলা নদী’ উপন্যাসে ।
  • জহির রায়হানের ‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে – মাহমুদ, মরিয়ম, হাসিনা, খোকন, ছোট মেয়ে দুলু প্রভৃতি ।
  • তপু নামের একটি যুবকের মৃত্যুকে অবলম্বন করে, যুগে যুগে মানুষের মধ্যে এই হানাহানি, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, বিশ্বব্যাপি মানুষের অশান্তির পূর্ণ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন – জহির রায়হান ‘আর কত দিন’ উপন্যাসের মাধ্যমে । ‍ূ

জহির রায়হান এর জীবনী

  • জহির রায়হান ‘আর কত দিন’ উপন্যাসের মাধ্যমে প্রতীকিভাবে যে যে দেশের নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন – জাপানের হিরোশিমা, জেরুজালেম, আফ্রিকা, ভিয়েতনাম প্রভৃতি স্থানের ।
  • – ১৯৭০ সালে -জহির রায়হানের ‘আর কত দিন’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ।
  • চার সন্তান ও ছেলেদের বউ এবং স্ত্রীকে নিয়ে আহমদ আলীর সংসার, একদা স্বপ্নে তাঁর পূর্ব পুরুষেরা তাকে বলছে ‘তোমাকে নিতে এসেছি’ স্বপ্ন থেকে জাগায় পর তাদের সকলের জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায় কেননা একই ভাবে তাঁর পূর্ব পুরুষগণেরও মৃত্যু হয়েছিল । এক পর্যায়ে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে – জহির রায়হানের ‘কয়েকটি মৃত্যু’ উপন্যাসে ।
  • জহির রায়হানের ‘কয়েকটি মৃত্যু’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৭১ সালে ।
  • বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ এই চলচ্চিত্র পরিচালকের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্রটি হলো – ‘কখনও আসেনি’ ।
  • সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্রের নাম – জহির রায়হানের ‘সংগম’ (১৯৭০ সালে নির্মিত হয়) ।
  • জহির রায়হান তাঁর যে চলচ্চিত্রের জন্য নিগার চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন – ‘কাঁচের দেওয়াল’ ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে নির্মিত প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র – জহির রায়হানের ‘বাহানা’ চলচ্চিত্রটি ।
  • বাংলাদেশের যে চলচ্চিত্রে প্রথম জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় – জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে (ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র) ।
  • ‘Stop genocide ও Let there be light’ জহির রায়হানের যে শ্রেণীর সৃষ্টি কর্ম – পাকহানাদার বাহিনীর গণহত্যার উপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ।
  • ‘একুশের গল্প’ জহির রায়হানের যে শ্রেণির রচনা – ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত গল্প ।
  • ‘তপুকে আবার ফিরে পাবো, একথা ভুলেও ভাবিনি একদিন’ – উক্তিটি জহির রায়হানের যে রচনার – ‘ একুশের গল্প’ নামক ছোট গল্পের ।
  • “দোহারা গড়ন, ছিপছিপে কটি, আপেল রঙ্গের মেয়েটা প্রায়ই ওর সাথে দেখা করতে আসতো” এখানে কার সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে – ‘একুশের গল্প’ নায়িকা রেণু সম্পর্কে ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদ হলে পুলিশ তার লাশ গুম করে এবং চার বছর পর তাঁরই কঙ্কাল মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া সহপাঠিরা চিনতে পারে, উক্ত বিষয়গুলো যে গল্পের – ‘একুশের গল্পে’র ।
  • জহির রায়হানের পরিচালনা, প্রযোজনা ও চিত্রনাট্যে পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য – সোনার কাজল, কাচের দেয়াল, বেহুলা, আনোয়ারা , কুচবরণ কন্যা, জুলেখা, সুয়োরাণী-দুয়োরানী, সংসার, মনের মত বউ, প্রতিশোধ, ধীরে বহে মেঘলা, চিলড্রেন অব বাংলাদেশ প্রভৃতি ।
  • বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক যে যে পদকে ভূষিত হন – বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৭১), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯২) প্রভৃতি ।
  • প্রখ্যাত এই ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্র পরিচালক ও ভাষা সৈনিকের জীবনাবসান ঘটে – ১৯৭১ সালের ৩০ জানুয়ারী টেলিফোনে বার্তার মাধ্যমে জানতে পারে মিরপুরে বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার রয়েছে, তাকে খুঁজতে গিয়ে তিনিও নিখোঁজ হন ।

 

Categories
শিক্ষা শিল্প-ও-সাহিত্য

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

শওকত ওসমানবাংলা সাহিত্যের সর্বত্রই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ঠ প্রবন্ধিক, ঔপন্যাসিক ও আপসহীন কথাসাহিত্যিক শেখ আজিজুর রহমান (শওকত ওসমান)। পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার সবর সিংপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ও গুলজান বেগমের জেষ্ঠ্য সন্তান ছিলেন শওকত ওসমান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতি বিষয়গুলো অত্যন্ত সুনিপণভাবে তাঁর সাহিত্যকর্মে ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • বিশিষ্ট লেখক শেখ আজিজুর রহমান (শওকত ওসমান) জন্মগ্রহন করেন – ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি।
  • যে প্রতিষ্ঠান হতে তিনি শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন – কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে (বাংলাতে এম. এ. সম্পন্ন করেন)।
  • তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস – জননী (১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়)
  • ‘পল্লী জননী দরিয়া বিবি, সন্তানকে মানুষ করার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয় এবং ইয়াকুবের ঔরসে গর্ভে সন্তান এলে ঐ সন্তানকে দরিয়া বিবি সামাজিক কটুকথা সহ্য করেও অসীম মমতায় পালন করে’ উক্ত বিষয়গুলো যে উপন্যাসে লক্ষ্যণীয় – শওকত ওসমানের ‘জননী’ উপন্যাসে।
  • তাঁর রচিত ‘জননী’ উপন্যাসে উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে – দরিয়া বিবি, আজহার, ইয়াকুব, মোনাদি প্রমুখ।
  • যে গন্থ রচনার জন্য শওকত ওসমানকে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয় – ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসের জন্য (১৯৬৬ সালে)।
  • তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয় – ক্রীতদাসের হাসি।
  • ‘ক্রীতদাসের হাসি’ তাঁর যে শ্রেণীর উপন্যাস – প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস (১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়)।
  • বাগদাদের খলিফা হারুন-অর-রশিদের অত্যাচারী শাসনামল এবং ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি প্রভৃতি বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে – ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে।
  • ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে ক্রীতদাস তাতারি ও বাদশা হারুন-অর-রশিদ চরিত্র যে দুটি রূপক অর্থে দেখানো হয়েছে – ক্রীতদাস তাতারির হাসি (বাঙ্গালির স্বাধীনতার প্রতীক) এবং বাদশা হারুন-অর-রশিদ (আইয়ুব খানের শাসনের প্রতীক)।
  • তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে – জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১), দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরন্য (১৯৭৩), এবং জলাঙ্গী (১৯৮৬)।

শওকত ওসমান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ উপন্যাসটি যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – ‘দেশ’ নামক পত্রিকায় (কলকাতা অবস্থানকালে লেখা)।
  • তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে – সমাগম (১৯৬৭), চৌরসন্ধি (১৯৬৮), রাজা উপখ্যান (১৯৭১), পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫), রাজপুরুষ (১৯৯২), রাজসাক্ষী (১৯৮৫) প্রভৃতি।
  • ‘সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই’ শওকত ওসমানের যে শ্রেণীর রচনা – প্রবন্ধ (১৯৮৫)।
  • তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে – মুসলিম মানসের রূপান্তর, হপ্তম পষ্ণম, ভাষা ভাবনা, নষ্ঠতান অষ্ঠভান, তিন মির্জা প্রভৃতি।
  • তাঁর যে গল্প গ্রন্থের জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন – ঈশ্বরের পতিদ্বন্দ্বী (১৯৯১ সালে)।
  • ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থটি তাঁর যে শ্রেণীর রচনা – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক।
  • তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – পিজরা পোল, প্রস্তর ফলক, নেত্রপথ, জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, উভশৃঙ্গ প্রভৃতি।
  • ‘আমলার মামলা’ এবং ‘ তস্কর ও লস্কর’ বিখ্যাত নাটক দুটির রচয়িতা – শওকত ওসমান।
  • তাঁর অন্যান্য নাটকের মধ্যে রয়েছে – কাকরমণি, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, বাগদাদের কবি প্রভৃতি।
  • ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’ তাঁর যে শ্রেণীর রচনা – শিশুতোষ গল্প।
  • মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা, মুজিবনগর, স্বদেশের সন্ধানে, অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ, গ্রন্থগুলো লেখকের যে শ্রেণীর রচনা – স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।
  • তাঁর রচিত ‘ বনি আদম’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – দৈনিক আজাদ পত্রিকায় (১৯৪৬ সালে)।
  • এক ভন্ড পীরের কাহিনী নিয়ে রচিত ‘মোজেজা’ শওকত ওসমানের যে শ্রেণীর রচনা – নকশাধর্মী গল্প।
  • শওকত ওসমানকে ‘অগ্রবর্তী আধুনিক মানুষ’ নামে অবিহিত করেছেন – হুমায়ুন আজাদ।
  • মুক্তিযুদ্ধকালিন এদেশের নর-নারীর উপর পাক বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের করুন বিবরণ স্থান পেয়েছে – শওকত ওসমানের ‘নেকড়ে অরণ্য’ নামক উপন্যাসে।
  • তাঁর রচিত অসমাপ্ত আত্নজীবনী মূলক গ্রন্থের নাম – রাহনামা (পরিসমাপ্তি করতে পারেন নি)।
  • বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি যে যে পুরস্কার লাভ করেন – আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১) প্রভৃতি।
  • বাংলা সাহিত্যের অমর এই কথাসাহিত্যিক পরলোক গমন করেন – ১৯৯৮ সালের ১৪ মে।

 

Categories
শিল্প-ও-সাহিত্য

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

শওকত আলীর বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক প্রথিতযশা শিক্ষক শওকত আলী বর্তমান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ জন্মগ্রহণ করেন। শওকত আলী ছিলেন ডাক্তার পিতা খোরশেদ আলী সরকার ও  সালমা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন প্রভৃতি বিষয়গুলো তুলে এনেছেন তাঁর রচনায়।

  • কথাসাহিত্যিক শওকত আলী জন্মগ্রহণ করেন – ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ সালে।
  • সাহিত্যিক শওকত আলীর শিক্ষা জীবন- রায়গঞ্জ করনেশন ইংলিশ হাই স্কুল এবং সুরন্দ্রনাথ কলেজ থেকে যথাক্রমে এস. এস. সি ও এইচ. এস. সি এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাতে এম.এ. সম্পন্ন করেন।
  • ব্যক্তি জীবনে শওকত আলী যে রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে সম্পক্ত ছিলেন – কমিউনিস্ট পার্টি।
  • তিনি যে পত্রিকায় লেখা-লেখির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন – দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায়।
  • ১৯৫৯ সালে-তিনি ঠাকুরগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন ।

শওকত আলীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • তিনি সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন -১৯৮৯ সালে।
  • তিনি জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকতা করেন – (১৯৬২-৬৭) সাল পর্যন্ত।
  • শওকত আলীর ‘উন্মুল বাসনা’ নামক প্রথম প্রকাশিত ছোট গল্পটি প্রকাশিত হয় – ‘নতুন সাহিত্য’ নামক পত্রিকায় (১৯৬৮) সালে।
  • তাঁর বিরচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসাবে বিবেচনা করা হয় – ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসটিকে।
  • সেন রাজাদের রাজত্বকালে সামন্তগণ বাংলা মানুষের উপর যে শোষণ, অত্যাচার করেছিল এবং তুর্কি আক্রমণের ফলে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিব জীবন ধারায় যে পরিবর্তন ঘটে তাঁর বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে – ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসের মাধ্যমে।
  • তাঁর রচিত ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৮৫ সালে।
  • তাঁর রচিত ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ যে শ্রেণির রচনা – ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস (সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত)।
  • “এই কি মানুষের জীবন? এর শেষ কোথায়? এই জীবন কি যাপন করা যায়?” কথাগুলো শওকত আলীর যে উপন্যাসে বিবৃত হয়েছে – ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসে।
  • ষাটের দশকে মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনায় যে আমূল পরিবর্তন ‍শুরু হয়েছিল তারই ভাবধারায় রচিত- শওকত আলীর ‘দক্ষিণায়নের দিন’ উপন্যাসটি।

শওকত আলীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • ‘দক্ষিণায়নের দিন’ উপন্যাটি প্রকাশিত হয় – ১৯৮৫ সালে।
  • তাঁর রচিত ‘দক্ষিণায়নের দিন’ উপন্যাসটি যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় – সাপ্তাহিক বিচিত্রা নামক পত্রিকায় ১৯৮৫ সালে।
  • মানুষের চিন্তা-চেতনায়, সর্বপরি সামাজিক জীবনব্যবস্থায় পরিবর্তের যে সুর বেজে উঠেছে তার চিত্রয়ণ ঘটেছে – শওকত আলী ‘কুলায় কালস্রোত’ উপন্যাসে।
  • তাঁর রচিত ‘কুলায় কালস্রোত’ উপন্যাটি প্রকাশিত হয় – ১৯৮৬ সালে।
  • সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, মানুষের চাল-চলনে পরিবর্তনের হাওয়া শুরু হওয়ার বিষয়াবলি ফুটে উঠেছে – শওকত আলীর ‘পূর্বরাত্রি পূর্বদিন’ উপন্যাসে।
  • প্রখ্যাত উপন্যাসিক শওকত আলীর যে উপন্যাসগুলোকে একতে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন উপন্যাস তিনটিকে।
  • এয়ী এই উপন্যাসগুলির জন্য শওকত আলী যে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন – ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) সালে।
  • ভবিষ্যৎ বর্তমান হয়, বর্তমান অতীত এ যেমন সত্য, তেমনি এও সত্য যে, অতীত থেকে বর্তমান হযে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয় – জীবন যাপনের এই আত্ন আবিস্কারের কাহিণী নিয়ে রচিত- শওকত আলীর ‘ওয়ারিশ’ উপন্যাসটি।
  • গদ্যশৈলীর অনবদ্য সৃষ্টি শওকত আলীর ‘ওয়ারিশ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়- ১৯৮৯ সালে।

শওকত আলীর জীবনী

  • তাঁর রচিত ‘যাত্রা’ যে শ্রেণির রচনা – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
  • মুক্তিযুদ্ধের জীবন কাহিণী নিয়ে রচিত ‘যাত্রা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় -১৯৭৬ সালে।
  • ‘হায়দার ও মরিয়ম’ শওকত আলীর যে উপন্যাসের নায়ক নায়িকা – ‘উত্তরের খেপ’ উপন্যাসের।
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক শওকত আলীর যে উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে – ‘উত্তরের ‍খেপ’ (পরিচালক – শাহজাহান চৌধুরী)।
  • ‘উত্তরের খেপ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৯১ সালে (চলচ্চিত্রয়িত হয়- ২০০০ সালে)।

শওকত আলীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য – অপেক্ষা (১৯৮৪), সম্বল (১৯৮৬), ভালোবাসা কারে কয় (১৯৮৮), বাসার ও মধুচন্দ্রিমা (১৯৯০), জননী ও জাতিকা (২০০১), স্ববাসে প্রবাসে (২০০১), শেয় বিকেলের রোদ (২০০১), মাদার ডাঙার কথা(২০১১), ত্রিপদী (২০০১), ছবির ওপরে ছাপ (২০০২) প্রভৃতি।
  • লেলিহান সাধ, শুনহে লখিন্দর, দিন গুজরান তাঁর যে শ্রেণীর রচনা – ছোট গল্প।
  • তিন বন্ধু ও প্রচীন রাজবাড়ী, নীল পাহাড়ের গান শিশু সাহিত্যমূলক রচনাগুলোর লেখক – শওকত আলী।
  • বাংলা সাহিত্যে অবদান স্বরূপ তিনি যে পুরস্কার লাভ করেন – বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৯০), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯) প্রভৃতি।
  • বাংলা সাহিত্যের এই কথাসাহিত্যিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন – ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি।

Read More

শওকত ওসমান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

 

 

Categories
শিল্প-ও-সাহিত্য

পাপ

শাওন_মল্লিক

#পাপ #

শাওন_মল্লিক

ও খেলা ভালোবাসা

ও খেলা সর্বনাশা!

জেনে শুনে করেছি পাপ

সে পাপে দহন আছে,

জ্বলে পুড়ে মরছি আজো

মরে গিয়ে বাঁচার মাঝে।

 

 

 

 

Read More

হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা বাদশাহ নামদার পর্ব – ১