ত্রিশূলে রক্তের দাগ –পর্ব -১- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সম্প্রতি চিৎপুর এলাকায় আন্তর্জাতিক চোরাচালানীচক্রের কার্যকলাপ ফাঁস হাওয়ার ঘটনা সব কাগজে বেরিয়েছিল। দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকার পক্ষ থেকে এর একটা ফলোআপ সংগ্রহের জন্যে বেরিয়ে ট্রাফিক জ্যামে আটকে গেলাম। ঘিঞ্জি রাস্তা। বেলাও পড়ে এসেছিল। তার ওপর ঠিক এই সময়টাতেই লোডশেডিং। বিরক্ত হয়ে গাড়িতে বসে সিগারেট টানতে টানতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখছিলাম, আর এই অব্যবস্থার জন্যে ট্রাফিক পুলিশদেরই দায়ী… Continue reading ত্রিশূলে রক্তের দাগ –পর্ব -১- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বৃহন্নলা-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

মনে হচ্ছে নিশুতি রাত। আমি কোলে করে একটা মৃতা বালিকা নিয়ে এসেছি, অথচ আমার মােটও ভয় করছে না। আমি মেয়েটিকে ঘাড়ের উপর শুইয়ে রেখেই তালা খুলে ঘরে ঢুকলাম। তখন কেন জানি বুকটা কেঁপে উঠল। হাত–পা ঠাণ্ডা  হয়ে এল। আমি ভাবলাম ঘর অন্ধকার বলেই এ–রকম হচ্ছে, আলাে জ্বাললেই ভয় কেটে যাবে। মেয়েটাকে আমি বিছানায় শুইয়ে দিলাম।… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

তখন মনে হল রাস্তায় একটা পাগলা কুকুর বের হয়েছে, ভয়টা বােধহয় ঐ কুকুরের কারণে। আমি একটা লাঠি হাতে নিলাম।  ‘শুক্লপক্ষের রাত। ফকফকা জ্যোৎস্না, তবু পরিষ্কার সবকিছু দেখা যাচ্ছে না। কারণ কুয়াশা। কার্তিক মাসের শেষে এদিকে বেশ কুয়াশা হয়। ‘  ‘নদীর কাছাকাছি আসতেই কুকুরটাকে দেখলাম। গাছের নিচে শুয়ে ছিল। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াল এবং পিছনে–পিছনে আসতে… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

সুধাকান্তবাবু বললেন, ঐ মেয়েটার কথা শুনবেন?  ‘হ্যা, শােনা যেতে পারে। তবে আমি নিজে অবিশ্বাসী ধরনের মানুষ, কাজেই গল্পের মাঝখানে যদি হেসে ফেলি কিছু মনে করবেন না।  এই গল্পটা কাউকে বলতে ভালাে লাগে না। অবশ্যি অনেককে বলেছি। এখানকার সবাই জানে।  ‘আপনার গল্প এখানকার সবাই বিশ্বাস করেছে?  সুধাকান্তবাবু গম্ভীর গলায় বললেন, আমি যদি এখানকার কাউকে একটা মিথ্যা… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

কুয়ার পানি নদীর পানির মতাে গরম নয়, খুব ঠাণ্ডা। পানি গায়ে দিতেই গা জুড়িয়ে গেল। সারা দিনের ক্লান্তি, বিয়েবাড়ির উদ্বেগ, মৃত্যুসংক্রান্ত জটিলতা—সব ধুয়ে–মুছে গেল। চমৎকার লাগতে লাগল। তা ছাড়া পরিবেশটাও বেশ অদ্ভুত। পুরনাে ধরনের একটা বাড়ি। ঝকঝকে উঠোনের শেষ প্রান্তে শ্যাওলা–ধরা প্রাচীন কুয়া। আকাশে পরিষ্কার চাঁদ। কামিনী ফুলের গাছ থেকে ভেসে আসছে মিষ্টি গন্ধ। এক… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

এই কথা বলতে–বলতে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।  আমার মামা খুবই আবেগপ্রবণ মানুষ। অল্পতে রাগতেও পারেন, আবার সেই রাগ হিমশীতল পানিতে রূপান্তরিত হতেও সময় লাগে না। তিনি মেয়ের বড়চাচাকে জড়িয়ে ধরে নিজেও কেঁদে ফেললেন। কাতর গলায় বললেন, ‘আপনি আমাদের নিয়ে মােটেও চিন্তা করবেন না। আমাদের কিচ্ছু লাগবে না, আপনি বাড়ির ভেতরে যান বেয়াই সাহেব।  অদ্ভুত… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ

অতিপ্রাকৃত গল্পে গল্পের চেয়ে ভূমিকা বড় হয়ে থাকে। গাছ যত–না বড়, তার ডালপালা তার চেয়েও বড়। এই গল্পেও তাই হবে। একটা দীর্ঘ ভূমিকা দিয়ে শুরু করব। পাঠকদের অনুরােধ করছি তাঁরা যেন ভূমিকাটা পড়েন। এর প্রয়ােজন আছে।  আমার মামাতাে ভাইয়ের বিয়ে। বাবা–মার একমাত্র ছেলে, দেখতে রাজপুত্র না হলেও বেশ সুপুরুষ। এম এ পাস করেছে। বাবার ব্যবসা… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ

ত্রিশূলে রক্তের দাগ –পর্ব -২- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আটটায় রাজবাড়ির গাড়ি এল। রাজবাড়ি ভৈরবমন্দিরের পেছনে। রাজবাহাদুর সুপ্রতাপ সিংহ অমায়িক মানুষ। খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসেন। কর্নেলের মতোই প্রকৃতিবিদ্যার বাতিক আছে। কত রকম দুপ্রাপ্য অর্কিড, ক্যাকটাস, আরও বিচিত্র গাছগাছড়ার সংগ্রহ আছে। ছোট্ট একটি চিড়িয়াখানাও আছে। বেশি নেশা পায়রার। পৃথিবীর নানাদেশের পায়রা পুষেছেন। কথায় কথায় কর্নেল জানতে চাইলেন, মুসিলিটা ক্যালিটা (শব্দ দুটো এরকমই মনে হল) জাতের… Continue reading ত্রিশূলে রক্তের দাগ –পর্ব -২- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

অনীশ-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

মা, ও মা। কি খােকা? ‘তুমি কী কর? ‘চা খাচ্ছি।’ ‘তুমি কোথায়?  তুই কোথায় খােকা? তুই কোথায়? এইখানে। “কী করছিস?  খেলছি।’  ও খােকা। খােকা। কি? ‘খােকা। খােকা। কাছে আয়।  আমার ছেলে কাঁদতে শুরু করল। তারপর সব আবার চুপচাপ হয়ে গেল। আমি ঘর থেকে বের হয়ে ডিরেক্টরকে বললাম, আজ আর কাজ করব না। আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিন,… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার স্বামী বিরক্ত গলায় বললেন, ‘কী হল? এ–রকম করছ কেন?  আমি নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করি। তিনি তিক্ত গলায় বলেন, ‘এইসব ঢং কবে বন্ধ করবে ? আর তাে সহ্য হয় না। মানুষের সহ্যের একটা সীমা আছে।  জ্বিলা, সবুজ দেখা যায়। সবুজ জিনিস, চলন্ত অবস্থায় যেমন সবুজ, ধামন্ত অবস্থায়ও সবুজ! এইটা হইল আপনার সাধারণ কথা।  মিসির আলি… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ