অনীশ-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

আমি বললাম, ‘না।’  আমার গায়ে হাত দিয়ে স্পষ্ট করে বল।  আমি মায়ের গায়ে হাত দিয়ে স্পষ্ট করে বললাম, তােমার বিরুদ্ধে আমার। কোনাে অভিযােগ নেই।’  “সত্যি ! ‘হ্যা—সত্যি। শুধু খানিকটা অভিমান আছে। ‘অভিমান কেন?  ‘তােমার জামাই যেমন মনে করে, আমার ছেলের বাবা সে নয় তুমিও তাই মনে কর।’  মা চমকে উঠে বললেন, ‘এই কথা কেন বলছিস? … Continue reading অনীশ-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার ধারণা শরীর থেকেই ভালবাসার জন্ম হতে পারে। আমি আমার স্বামীকে ‘ভালবাসলাম। আমার ধারণা, এই ভালবাসার উৎস শরীর। মানুষের মন যেমন বিচিত্র, তার শরীরও তেমনি।  আমি এবং আমার মা, আমরা দুজনই ছিলাম নিঃসঙ্গ। তৃতীয় ব্যক্তি এসে আমাদের এই নিঃসঙ্গতা দূর করল। বাড়ির একতালাটা মা আমাদের দুজনকে ছেড়ে  দিলেন। মা’র সঙ্গে থেকেও তাঁর কাছ থেকে আলাদা থাকার… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

মা আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে বললেন, ‘হ্যা, দেব।” ‘সত্যি? ‘হ্যা, সত্যি। কীভাবে যেতে হয়, টাকাপয়সা কত্ত লাগে খোঁজখবর আন্। ‘তুমি সত্যি–সত্যি বলছ তাে মা? ‘বললাম তাে হা।’ ‘আমার এখনাে বিশ্বাস হচ্ছে না।’  ‘বিশ্বাস না হবার কী আছে? এই দেশে কি আর পড়াশােনা আছে? টাকা থাক তােকে বিলেতে রেখে পড়াতাম।’ | আমার আনন্দের সীমা রইল না।… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

তাহলে চল অন্য কোথাও যাই। ‘ঢাকার বাইরে যেতে আমার ইচ্ছা করে না।  ঢাকার ভেতরেই কোথাও যাই চল।’  কোথায় যেতে চাস? মামাদের বাড়ি!  ‘না।”  ‘বাবার দেশের বাড়িতে যাবে মা? বড়চাচা তাে লিখেছেন যেতে।  সেই চিঠি তুমি পড়েছ? হা।।  কেন পড়লে? আমি বলি নি—আমার কাছে লেখা কোনাে চিঠি তুমি পড়বে না? বলেছি, না বলি নি?  ‘বলেছ।”  তাহলে… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

‘আমি যদি বলি মানুষ হিসেবে আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে, তাহলে কি আপনার বিশ্বাস হবে?  ‘বিশ্বাস হবে না। যে–সব গুণাবলী একজন মানুষকে সবার কাছে প্রিয় করে তার কিছুই আমার নেই। আমি শুকনাে ধরনের মানুষ। গল্প করতে পারি না। গল্প শুনতেও ভালাে লাগে না।’   ডাক্তার সাহেব উঠে দাঁড়াতে–দাঁড়াতে বললেন, “আমার বড় মেয়েটি আপনার ছাত্রী। তার ধারণা, আপনি… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

তিনি তার পরেও বললেন, ‘আসুন, আসুন।  বুড়ি ঘরে ঢুকল না। দরজার ওপাশ থেকেই বলল, ‘আপনার কি মাথা ধরা আছে?  ‘এখন নেই। রােজই সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। আজ এখনাে কেন যে শুরু হচ্ছে না বুঝতে পারছি না।’   বুড়ি হাসতে হাসতে বলল, “মনে হচ্ছে মাথা না–ধরায় আপনার মন খারাপ হয়ে গেছে। স্যার, আমি কি বসব?  ‘বসুন, বসুন।… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

চার শ ন নম্বর কেবিনের তােল পুরােপুরি পাল্টে গেছে। দেয়াল ঝকঝক করছে, কারণ প্লাস্টিক পেইন্ট করা হয়েছে। এ্যাটাচড় বাথরুমের দরজায় ঝুলছে হাল্কা নীল পর্দা। বাথরুমের কমােডের ফ্ল্যাশ ঠিক করা হয়েছে। পানির ট্যাপও সারানাে হয়েছে। মেঝেতে পানি জমে থাকত—এখন পানি নেই। কেবিনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বুড়ি বিছানায় শুয়ে শুয়ে গভীর মনােযােগে খাতায় কী—সব লিখছে। লেখার… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

তবু তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে দুঃখিত। লােকটি স্নেহময় গলায় বলল, কষ্ট কইরা খান। না–খাইলে শরীরে বল পাইবেন না।’  মিসির আলি শুধুমাত্র লােকটিকে খুশি করবার জন্যে পাউরুটি দুধে ভিজিয়ে মুখে দিলেন। খেতে কেমন যেন ঘাসের মতাে লাগছে।   আজ শুক্রবার।  শুক্রবারে রুটিন ভিজিটে ডাক্তাররা আসেন না। সেটাই স্বাভাবিক। তাঁদের ঘর সংসার আছে, পুত্র-কন্যা আছে। জন্মদিন, বিয়ে,… Continue reading অনীশ-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ হাসপাতালের কেবিন ধরাধরি ছাড়া পাওয়া যায় না, এই প্রচলিত ধারণা সম্ভবত পুরােপুরি সত্যি নয়। মিসির আলি পেয়েছেন, ধরাধরি ছাড়াই পেয়েছেন। অবশি জেনারেল ওয়ার্ডে থাকার সময় একজন ডাক্তারকে বিনীতভাবে বলেছিলেন, ভাই একটু দেখবেন—একটা কেবিন পেলে বড় ভালাে হয়। এই সামান্য কথাতেই কাজ হবে, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আজকাল কথাতে কিছু হয় না। যে–ডাক্তারকে অনুরােধ করা… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ

রম্য কথা-পর্ব-(শেষ)-আনিসুল হক

কতিপয় হাস্য-কৌতুক  এত দিন বাবা গাড়ি চালাতেন। মা পাশে বসতেন। ছেলে বসত পেছনে। আজ ছেলে বড় হয়েছে। সে নিজেই গাড়ি চালাতে পারে। লাইসেন্সও পেয়ে গেছে।  ছেলে গাড়ি চালাবে। মা বললেন, ওগাে, তুমি ওর পাশে বসাে। আমি পেছনে বসি।  বাবা বললেন, না। আমি পেছনেই বসব। ছেলে বলল, বাবা তুমি কেন পেছনে বসবে?  কারণ এত দিন আমি… Continue reading রম্য কথা-পর্ব-(শেষ)-আনিসুল হক