বৃহন্নলা-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

কুয়ার পানি নদীর পানির মতাে গরম নয়, খুব ঠাণ্ডা। পানি গায়ে দিতেই গা জুড়িয়ে গেল। সারা দিনের ক্লান্তি, বিয়েবাড়ির উদ্বেগ, মৃত্যুসংক্রান্ত জটিলতা—সব ধুয়ে–মুছে গেল। চমৎকার লাগতে লাগল। তা ছাড়া পরিবেশটাও বেশ অদ্ভুত। পুরনাে ধরনের একটা বাড়ি। ঝকঝকে উঠোনের শেষ প্রান্তে শ্যাওলা–ধরা প্রাচীন কুয়া। আকাশে পরিষ্কার চাঁদ। কামিনী ফুলের গাছ থেকে ভেসে আসছে মিষ্টি গন্ধ। এক… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

এই কথা বলতে–বলতে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।  আমার মামা খুবই আবেগপ্রবণ মানুষ। অল্পতে রাগতেও পারেন, আবার সেই রাগ হিমশীতল পানিতে রূপান্তরিত হতেও সময় লাগে না। তিনি মেয়ের বড়চাচাকে জড়িয়ে ধরে নিজেও কেঁদে ফেললেন। কাতর গলায় বললেন, ‘আপনি আমাদের নিয়ে মােটেও চিন্তা করবেন না। আমাদের কিচ্ছু লাগবে না, আপনি বাড়ির ভেতরে যান বেয়াই সাহেব।  অদ্ভুত… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

বৃহন্নলা-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ

অতিপ্রাকৃত গল্পে গল্পের চেয়ে ভূমিকা বড় হয়ে থাকে। গাছ যত–না বড়, তার ডালপালা তার চেয়েও বড়। এই গল্পেও তাই হবে। একটা দীর্ঘ ভূমিকা দিয়ে শুরু করব। পাঠকদের অনুরােধ করছি তাঁরা যেন ভূমিকাটা পড়েন। এর প্রয়ােজন আছে।  আমার মামাতাে ভাইয়ের বিয়ে। বাবা–মার একমাত্র ছেলে, দেখতে রাজপুত্র না হলেও বেশ সুপুরুষ। এম এ পাস করেছে। বাবার ব্যবসা… Continue reading বৃহন্নলা-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ

ত্রিশূলে রক্তের দাগ –পর্ব -২- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আটটায় রাজবাড়ির গাড়ি এল। রাজবাড়ি ভৈরবমন্দিরের পেছনে। রাজবাহাদুর সুপ্রতাপ সিংহ অমায়িক মানুষ। খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসেন। কর্নেলের মতোই প্রকৃতিবিদ্যার বাতিক আছে। কত রকম দুপ্রাপ্য অর্কিড, ক্যাকটাস, আরও বিচিত্র গাছগাছড়ার সংগ্রহ আছে। ছোট্ট একটি চিড়িয়াখানাও আছে। বেশি নেশা পায়রার। পৃথিবীর নানাদেশের পায়রা পুষেছেন। কথায় কথায় কর্নেল জানতে চাইলেন, মুসিলিটা ক্যালিটা (শব্দ দুটো এরকমই মনে হল) জাতের… Continue reading ত্রিশূলে রক্তের দাগ –পর্ব -২- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

অনীশ-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

মা, ও মা। কি খােকা? ‘তুমি কী কর? ‘চা খাচ্ছি।’ ‘তুমি কোথায়?  তুই কোথায় খােকা? তুই কোথায়? এইখানে। “কী করছিস?  খেলছি।’  ও খােকা। খােকা। কি? ‘খােকা। খােকা। কাছে আয়।  আমার ছেলে কাঁদতে শুরু করল। তারপর সব আবার চুপচাপ হয়ে গেল। আমি ঘর থেকে বের হয়ে ডিরেক্টরকে বললাম, আজ আর কাজ করব না। আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিন,… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার স্বামী বিরক্ত গলায় বললেন, ‘কী হল? এ–রকম করছ কেন?  আমি নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করি। তিনি তিক্ত গলায় বলেন, ‘এইসব ঢং কবে বন্ধ করবে ? আর তাে সহ্য হয় না। মানুষের সহ্যের একটা সীমা আছে।  জ্বিলা, সবুজ দেখা যায়। সবুজ জিনিস, চলন্ত অবস্থায় যেমন সবুজ, ধামন্ত অবস্থায়ও সবুজ! এইটা হইল আপনার সাধারণ কথা।  মিসির আলি… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

আমি বললাম, ‘না।’  আমার গায়ে হাত দিয়ে স্পষ্ট করে বল।  আমি মায়ের গায়ে হাত দিয়ে স্পষ্ট করে বললাম, তােমার বিরুদ্ধে আমার। কোনাে অভিযােগ নেই।’  “সত্যি ! ‘হ্যা—সত্যি। শুধু খানিকটা অভিমান আছে। ‘অভিমান কেন?  ‘তােমার জামাই যেমন মনে করে, আমার ছেলের বাবা সে নয় তুমিও তাই মনে কর।’  মা চমকে উঠে বললেন, ‘এই কথা কেন বলছিস? … Continue reading অনীশ-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার ধারণা শরীর থেকেই ভালবাসার জন্ম হতে পারে। আমি আমার স্বামীকে ‘ভালবাসলাম। আমার ধারণা, এই ভালবাসার উৎস শরীর। মানুষের মন যেমন বিচিত্র, তার শরীরও তেমনি।  আমি এবং আমার মা, আমরা দুজনই ছিলাম নিঃসঙ্গ। তৃতীয় ব্যক্তি এসে আমাদের এই নিঃসঙ্গতা দূর করল। বাড়ির একতালাটা মা আমাদের দুজনকে ছেড়ে  দিলেন। মা’র সঙ্গে থেকেও তাঁর কাছ থেকে আলাদা থাকার… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

মা আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে বললেন, ‘হ্যা, দেব।” ‘সত্যি? ‘হ্যা, সত্যি। কীভাবে যেতে হয়, টাকাপয়সা কত্ত লাগে খোঁজখবর আন্। ‘তুমি সত্যি–সত্যি বলছ তাে মা? ‘বললাম তাে হা।’ ‘আমার এখনাে বিশ্বাস হচ্ছে না।’  ‘বিশ্বাস না হবার কী আছে? এই দেশে কি আর পড়াশােনা আছে? টাকা থাক তােকে বিলেতে রেখে পড়াতাম।’ | আমার আনন্দের সীমা রইল না।… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

তাহলে চল অন্য কোথাও যাই। ‘ঢাকার বাইরে যেতে আমার ইচ্ছা করে না।  ঢাকার ভেতরেই কোথাও যাই চল।’  কোথায় যেতে চাস? মামাদের বাড়ি!  ‘না।”  ‘বাবার দেশের বাড়িতে যাবে মা? বড়চাচা তাে লিখেছেন যেতে।  সেই চিঠি তুমি পড়েছ? হা।।  কেন পড়লে? আমি বলি নি—আমার কাছে লেখা কোনাে চিঠি তুমি পড়বে না? বলেছি, না বলি নি?  ‘বলেছ।”  তাহলে… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ