আয়নাঘর-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

কফি হাউস মাঝে মাঝে কিছু কায়দা করে নােটিস দিয়ে দেয় – আজ বেলা নটা থেকে সাড়ে ন‘টা পর্যন্ত ফ্রী কফি। ব্যবসার নতুন কোন চাল। আজও এরকম কিছু হয়েছে বোধহয়। লিলিয়ান কফির মগ হাতে জায়গা খুঁজছে তখন শুনল হাত। উঁচিয়ে কে তাকে ডাকছে – হ্যালাে লিলিয়ান, এদিকে এস জায়গা আছে।  লিলিয়ান তাকিয়ে দেখে, তাহের।।  সে কয়েক… Continue reading আয়নাঘর-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

আয়নাঘর-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

তা ছাড়া মা’র সঙ্গে তিন মিনিট কথা বলাও যাবে না। একবার টেলিফোন হাতে পেলে তিনি ছাড়বেন না। রাজ্যের কথা বলতে থাকবেন। লিলিয়ান যদি বলে – এখন রাখি মা, বিল উঠছে। মা বলবেন – আর একটু, জুরুরী কথাটাই বলা হয় নি। তোর পজার চাচা ঐদিন কি করেছে শােন। ঐ লােকটার আক্কেল বলে এক জিনিস এখনাে হল… Continue reading আয়নাঘর-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

আয়নাঘর-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

লিলিয়ানের অনুমান মিথ্যা হল না। বিকেলে লিলিয়ানদের দলের সবাই বসে কফি খাচ্ছে। ছেলেটি উপস্থিত। লিলিয়ানের কাছে গিয়ে হাসিমুখে বলল, আমি আপনার জন্যে একটা ফিল্ম কিনে এনেছি।  লিলিয়ান কঠিন মুখে বলল, কেন?  ‘আমার কারণে আপনার ফিল্ম নষ্ট হয়েছে। আমি প্রথম থেকেই লক্ষ্য করেছিলাম। আমার উচিত ছিল আপনাকে সতর্ক করা। তা করি নি, উল্টা মজা পেয়ে হেসেছি।… Continue reading আয়নাঘর-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ

আয়নাঘর-হুমায়ূন আহমেদ

০১. ইহা খেতে বড় সৌন্দর্য হয় লিলিয়ান এক টুকরা মাছ ভাজা মুখে দিয়ে হাসিমুখে বলল, ইহা খেতে বড় সৌন্দর্য হয়। তাহের হো-হো করে হেসে ফেলল। লিলিয়ান ইংরেজিতে বলল, আমার ধারণা আমি ভুল বাংলা বলি নি। হাসছ কেন? তাহের হাসি থামাল না। তার হাসিরোগ আছে। একবার হাসতে শুরু করলে সহজে থামতে পারে না। লিলিয়ান আহত গলায়… Continue reading আয়নাঘর-হুমায়ূন আহমেদ

মৃন্ময়ী-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ূন আহমেদ

আসতে পারব না। তােমার মােবাইলের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাচ্ছে— আমি কাজের কথা সেরে নেই। বল তাের কাজের কথা দাঁড়া এক সেকেন্ড তাের কাজের কথার আগে আমি আমার নিজের কথা বলে নেই, পরে ভুলে যাব। আমার বেলায় এটা খুব বেশি হয়। সময় মতাে কথা বলা হয় না বলে কখনােই বলা হয় না। কথাটা হলাে— আমি মােজা বানাতে… Continue reading মৃন্ময়ী-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ূন আহমেদ

মৃন্ময়ী-পর্ব-(২৬)-হুমায়ূন আহমেদ

পঞ্চাশ মিনিটের ক্লাস। আমি উপস্থিত হলাম চল্লিশ মিনিট পর। ক্লাসে ঢুকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল। টিচার নেই। কাওসার স্যার ক্লাস নিতে আসেন নি।……….. যে যার মতাে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছে। কেউ কেউ ডিজাইন টেবিলে বসে কাজ করছে। তবে বেশির ভাগই গল্প করছে। ফরিদা বলল ইউনিভার্সিটির কারেন্ট গুজব শুনেছিস? আমাদের বিখ্যাত গৰু স্যার রেজিগনেশন লেটার পাঠিয়েছেন।  আজ ক্লাসে… Continue reading মৃন্ময়ী-পর্ব-(২৬)-হুমায়ূন আহমেদ

মৃন্ময়ী-পর্ব-(২৫)-হুমায়ূন আহমেদ

আমি গাড়িতে উঠেই মােবাইল ফোনে বাবাকে টেলিফোন করলাম। ষাট হাজার টাকা বাবার জন্যে কোনাে ঘটনাই না। বাবা টেলিফোন ধরলেন। কিছুটা অবাক হয়েই বললেন, মা ব্যাপার কী ? কোনাে ব্যাপার না বাবা, আমার কিছু টাকা দরকার। কখন দরকার ?  আমি ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরব একটার সময়। তখনই দরকার। তুমি কাউকে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিও। ……….তেমন প্রয়ােজন মনে করলে আমি… Continue reading মৃন্ময়ী-পর্ব-(২৫)-হুমায়ূন আহমেদ

মৃন্ময়ী-পর্ব-(২৪)-হুমায়ূন আহমেদ

মা শরীর দুলিয়ে হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, হাসির কিছু হয় নি মা। সে সত্যি কথা বলেছে। লুকায় নি। কেউ সত্যি কথা বললে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা যায় না । মা চোখ বড় বড় করে বললেন, তুই রেগে যাচ্ছিস কেন ? এখনাে তাে ছেলেটার তাের সঙ্গে বিয়ের দলিল রেজেস্ট্রি হয় নি। আগে হােক, তারপর রাগ করিস। … Continue reading মৃন্ময়ী-পর্ব-(২৪)-হুমায়ূন আহমেদ

ঢেকুর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রায় চোদ্দো পুরুষের বসতবাড়িটা দারুব্রহ্মবাবুকে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভালো। একে তো বড়ো বাড়ি কেনার খদ্দের নেই, তার ওপর যদি বা খদ্দের জোটে, তারা ভালো দাম দিতে চায় না। বলে, এই অজ পাড়াগাঁয়ে ও বাড়ি কিনে হবেটা কী? কথাটা সত্যি? তবে বহুকাল আগে এ গ্রাম ছিল পুরোদস্তুর একখানা শহর। এই… Continue reading ঢেকুর – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পণ্ডিতের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

সেই যে হবুচন্দ্র গবুচন্দ্র মন্ত্রী ছিল, সেই হবুচন্দ্র রাজার একটা ভারি জবর পণ্ডিতও ছিল। তার এতই বুদ্ধি ছিল যে, তার পেটে অত বুদ্ধি ধরত না। তাই তাকে দিন রাত নাকে কানে তুলোর ঢিপ্‌লী গুঁজে বসে থাকতে হত, নইলে বুদ্ধি বেরিয়ে যেত। তুলোর ঢিপ্‌লী গুঁজত বলে নাম হয়েছিল ‘ঢিপ্‌লী’ পণ্ডিত। একদিন হয়েছি কি, হবুচন্দ্রের দেশের জেলেরা… Continue reading পণ্ডিতের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী