বাণেশ্বরের রোগমুক্তি -তারাপদ রায়

বাণেশ্বর সরকার একসময়ে খুব সিগারেট খেতেন। প্রতিদিন প্রায় তিরিশ-চল্লিশটা। একবার তার খুব গলা ফুলে যায়, ডাক্তারকে দেখান। ডাক্তারবাবু বলেন, আপনাকে সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে। আপনার গলার মধ্যে চাকা চাকা, লাল হলুদ দাগ দেখা যাচ্ছে। সিগারেট খাওয়া বন্ধ করলে এগুলো মিলিয়ে যাওয়ার আশা আছে। আর সিগারেট খাওয়া যদি না ছাড়তে পারি বাণেশ্বরের এই সংলগ্ন প্রশ্নে নির্বিকার… Continue reading বাণেশ্বরের রোগমুক্তি -তারাপদ রায়

আমেরিকা -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমেরিকায় নামবার আগে ভালো করে দাঁত মেজে নিও। কারণ তোমার দাঁতে প্রাচ্যদেশিয় বীজাণু থাকতে পারে। হাতঘড়ির সময়টাও মিলিয়ে নাও। কারণ আমেরিকায় সবকিছু ঘড়ি ধরে চলে। তোমার জুতোর তলায় রয়েছে প্রাচ্যদেশিয় ধুলো–ময়লা। রুমালে সেগুলো সাবধানে মুছে নাও। আমেরিকাকে নোংরা কোরো না। এবার প্রস্তুত হও। সিটবেল্ট বাঁধো। সিগারেট নিভিয়ে ফেলো। আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা কেনেডি এয়ারপোর্টে… Continue reading আমেরিকা -শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

শিকার কাহিনি-সমরেশ মজুমদার

আঠারো বছরের এই বাড়িটার মালিক পাণ্ডেজি। অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। কথা বলেন সুন্দর হিন্দিতে, অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে। বছর চল্লিশের মধ্যেই বয়স কিন্তু কথাবার্তায় এমন ভদ্রলোক আজকাল দেখা যায় না। লোকে বলে ওঁর বাবাও নাকি ওইরকম বিনয়ী ছিলেন। মাথা ঠান্ডা, একটুতে উত্তেজিত হওয়ার লোক নন বলে কানপুর থেকে কলকাতায় এসে এরকম তিনখানা বাড়ির মালিক হয়েছেন। খিদিরপুরের এই… Continue reading শিকার কাহিনি-সমরেশ মজুমদার

তোমার উদ্দেশে-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

“In Search Of You, In Search Of You…” ওইখানে তুমি থাকো। ওই সাদা বাড়িটায়, যার চূড়ায় শ্বেতপাথরের পরিটাকে বহু দূর থেকে দেখা যায়। নির্জন তোমাদের ব্যালকনি, বড়-বড় জানালায় ভারী পরদা ঝুলছে, দেয়ালে লাগানো এয়ারকুলার। মসৃণ সবুজ লনে বুড়ো একটা স্প্যানিয়াল কুকুর ঘুমিয়ে আছে। পরিস্কার বোঝা যায়, এসব এক পুরুষের ব্যাপার নয়। জন্মের পর থেকেই তুমি… Continue reading তোমার উদ্দেশে-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বন্ধুর মতো-সমরেশ মজুমদার

ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে রঞ্জন বলল, এই বাড়ি। দিশা মুখ তুলে তাকাল। পাঁচতলা ঝকঝকে। বাড়ি, সামনে গেট, নিচে কার-পার্কিং। বেশ সমৃদ্ধ চেহারা। আসার সময় দেখে বুঝেছে পাড়াটাও বেশ সমৃদ্ধ। অতএব ফ্ল্যাটের ভাড়া নিশ্চয়ই কম হবে না। রঞ্জন বলল, চলো। বাড়িটা পাঁচতলা হলেও লিফট আছে। দারোয়ান জানতে চাইল তারা কার কাছে যাবে। জেনে লিফট দেখিয়ে দিল।… Continue reading বন্ধুর মতো-সমরেশ মজুমদার

পরিবর্তিত পরিস্থিতি-সমরেশ মজুমদার

রিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন অবনীমোহন। তাঁর বাঁ-দিকে বাসব বসে আছে। বাসবের শরীর ইদানীং এত ভারী হয়েছে যে এক রিকশায় সহজভাবে বসা যাচ্ছে না। পার্টি অফিস থেকে বেরুবার সময় বাসব বলেছিল, দাদা, আপনি এখনও রিকশায় যাওয়া-আসা করছেন কেন! গাড়ি তো আছেই। অবনীমোহন মাথা নেড়েছিলেন, নাহে চল্লিশ সাল থেকে এই শহরে হেঁটে বেড়িয়েছি, শক্তি কমে এসেছে বলে রিকশায়… Continue reading পরিবর্তিত পরিস্থিতি-সমরেশ মজুমদার

মিট্টাগড়ের রহস্যময়ী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঘটনাটা আমাদের শুনিয়েছিলেন পূর্ণিয়ার ভাট্টাবাজারে একটা হোটেলের কামরায় বসে বনবিহারীলাল পাণ্ডেজি। আমি আর আমার বন্ধু দেবরাজ তখন পুরোনো, দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সন্ধানে বিভিন্ন মফসসল শহরে ঘুরে বেড়াতুম। জমিদার-তন্ত্রের তখন শেষ দশা। অনেক অভিজাত, বনেদি জমিদারবাড়ি ভেঙে পড়েছে। তা পড়ুক, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু ওইসব বাড়ির লাইব্রেরিতে অনেক দামি-দামি দুর্লভ বই অবহেলায় পড়ে নষ্ট… Continue reading মিট্টাগড়ের রহস্যময়ী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নতুন পুকুরের জাগ্রত দৈত্য-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কেয়া গাছের ঝোঁপের পাশে পর-পর দুদিন দুটো মোটা-মোটা সাপ দেখে বড়মামা ঠিক করলেন, সবকটা কেয়া গাছই কেটে ফেলবেন। কেয়া ফুল যখন ফোটে, দেখতে সুন্দর লাগে, গন্ধও খুব মিষ্টি। কিন্তু ওই গন্ধে নাকি সাপ আসে। সাপ দেখলে তো ভয় হবেই। কাছেই মিলি, বুবুন, টুকুনরা খেলা করে। এক-একদিন খেলতে খেলতে সন্ধে হয়ে যায়। ওরা অবশ্য একদিনও সাপ… Continue reading নতুন পুকুরের জাগ্রত দৈত্য-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বেনোজল-সমরেশ মজুমদার

স্টেশনটা পেরিয়ে শানবাঁধানো রিকশার চত্বরটায় পা দিতেই চমক লেগেছিল। কেমন একটা রুপোর স্রোত বইছে চারপাশে। একটা নিস্তরঙ্গ অথচ মৃদু নেশার ঘোর লাগা জগতে যেন হঠাৎই পা দিয়ে ফেললাম আমরা। এটা এমন একটা সময় যখন পৃথিবীর শেষতম বেরসিক লোককেও মাথা তুলে তাকাতে হয়। ভুলে যেতে হয় নিজেকে। আর একটা আচ্ছন্নতা ঘিরে ধরে তখন হুঁসিয়ার মনটাকে। ঘাড়… Continue reading বেনোজল-সমরেশ মজুমদার

চতুরঙ্গ-তারাপদ রায়

আমার জীবনে ভীষণ সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি একটা লোকের হাত কিছুতেই এড়াতে পারছি না। অথচ লোকটা আমার কেউ নয়। আত্মীয় নয়, বন্ধু নয়, কখনও কিছু ছিল না। এই লোকটার কাছে আমার কোনও ধারদেনা নেই, লোকটারও নেই আমার কাছে। ধারের কথায় বলি, একবার এক কাবুলি ভদ্রলোকের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছিলাম কিন্তু তিনিও আমার পিছনে এমন… Continue reading চতুরঙ্গ-তারাপদ রায়