শ্রীযুক্ত নিত্যানন্দ পাটনায়েক কটক বেতার কেন্দ্রের একজন সামান্য ঘোষক। তিনি নিউজ বুলেটিনগুলি পাঠ করে শ্রোতাদের শোনান। মূল সংবাদের সঙ্গে তার সংযোগ খুবই কম, কারণ সে সবই রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে রিলে হয়ে আসে, স্থানীয় সংবাদ প্রচার করার সুযোগ কখনও কখনও পাটনায়েক যে পান না তা নয়, কিন্তু সেও খুবই কম। কারণ ঘোষকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে জুনিয়ার।… Continue reading আবহাওয়া-তারাপদ রায়
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
বেঁচে থাকা-সমরেশ মজুমদার
ট্র্যাঙ্গুলার পার্কের সামনে অবনীভূষণ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। আশেপাশের দোকানগুলো বন্ধ হচ্ছে। যে দোকানটায় ও তড়কা রুটি খায় সেটা ঝাঁপ টেনে দিচ্ছে, চেয়ারগুলো টেবিলের ওপর পা তুলে শোয়ানো। অতএব আজ রাত্রে খাওয়া হল না। অবনীভূষণ অবশ্য খাওয়ার জন্যে তেমন কোনও কিছু বোধ করছিল না। একটু আগেই শেষ বাসটা গড়িয়াহাটার দিকে গেছে। সেটা থেকেই নামল অবনী। বসন্ত… Continue reading বেঁচে থাকা-সমরেশ মজুমদার
ভ্রমণকাহিনি-তারাপদ রায়
নিতান্ত বুদ্ধিহীন কিংবা পাগল না হলে কি কেউ পুজোর সময় কলকাতার বাইরে যেতে চায়, অন্তত এই হাওড়া স্টেশন দিয়ে কারওর পক্ষে বেরোনো কী সম্ভব? কাউকে যদি সত্যি সত্যিই কলকাতার বাইরে পুজোর সময়ে থাকতে হয়, তা হলে তাকে আষাঢ় মাসেই রওনা হতে হবে। আর তা ছাড়া অবশ্য পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। কিন্তু যোগেশবাবুর পক্ষে সেটা সম্ভব… Continue reading ভ্রমণকাহিনি-তারাপদ রায়
হিম আগুন-সমরেশ মজুমদার
গত কয়েকদিনের মধ্যে গত রাতেই বোধহয় ঠান্ডাটা কট্টর ছিল। আজ বিছানা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে একটুও ইচ্ছে হচ্ছিল না। জানালার কাঁচ খোলা, বাইরের পৃথিবীটা আড়ালে। কিন্তু যেহেতু ঘড়ি বলছে এখন সকাল দশটা তাই অস্বস্তি শুরু হল। ঠিক এই মুহূর্তে যদি ঘড়িতে সময় সাড়ে ছয় বা সাত থাকত তাহলে দিব্যি ঘুমিয়ে পড়তে পারতাম। যেই জানলাম বেলা বেশ… Continue reading হিম আগুন-সমরেশ মজুমদার
ব্লু-জন গহ্বরের বিভীষিকা -সত্যজিৎ রায়
১৯০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাউথ কেনসিংটনের ৩৬ নং আপার কভেন্ট্রি ফ্ল্যাটে যক্ষ্মা রোগে ডাঃ জেস হার্ডকাসূলের মৃত্যুর পর, তাঁর কাগজপত্রের মধ্যে নিম্নলিখিত কাহিনীটি পাওয়া যায়। যাঁরা হার্ডকাকে ঘনিষ্ঠভাবে চিনতেন, তাঁরা একাহিনী সম্পর্কে কোনও মন্তব্য না করলেও, অন্তত এটুকু একবাক্যে স্বীকার করেন যে, হার্ডকাল একজন সুস্থমস্তিষ্ক বৈজ্ঞানিক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোক ছিলেন; তাঁর পক্ষে নিছক মনগড়া কতগুলো আজগুবি ঘটনাকে… Continue reading ব্লু-জন গহ্বরের বিভীষিকা -সত্যজিৎ রায়
দিদি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম পরিচ্ছেদ পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, এমন স্বামীর মুখে আগুন। শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিল – স্বামীজাতির মুখে চুরুটের আগুন ছাড়া অন্য কোনোপ্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না। অতএব এ সম্বন্ধে তিনি কিঞ্চিৎ সংকোচ… Continue reading দিদি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দুর্বুদ্ধি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভিটা ছাড়িতে হইল । কেমন করিয়া, তাহা খোলসা করিয়া বলিব না , আভাস দিব মাত্র । আমি পাড়াগেঁয়ে নেটিভ ডাক্তার , পুলিসের থানার সম্মুখে আমার বাড়ি । যমরাজের সহিত আমার যে পরিমাণ আনুগত্য ছিল দারোগাবাবুদের সহিত তাহা অপেক্ষা কম ছিল না , সুতরাং নর এবং নারায়ণের দ্বারা মানুষের যত বিবিধ রকমের পীড়া ঘটিতে পারে তাহা… Continue reading দুর্বুদ্ধি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শেষ পুরস্কার -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খসড়া সেদিন আই. এ. এবং ম্যাট্রিক ক্লাসের পুরস্কারবিতরণের উৎসব। বিমলা ব’লে এক ছাত্রী ছিল, সুন্দরী ব’লে তার খ্যাতি। তারই হাতে পুরস্কারের ভার। চার দিকে তার ভিড় জমেছে আর তার মনে অহংকার জমে উঠেছে খুব প্রচুর পরিমাণে। একটি মুখচোরা ভালোমানুষ ছেলে কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। সাহস করে একটু কাছে এল যেই, দেখা গেল তার পায়ে হয়েছে ঘা,… Continue reading শেষ পুরস্কার -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নীল মানুষ ও ছোট্ট বন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কেন যে মা ওকে জন্ম থেকেই আদর করে গুটুলি বলে ডাকত? সেই নামটাই ওর কাল হল। গুটুলির বয়েস বাড়লেও তার শরীরটা আর বাড়ে না। তার যখন সাত বছর বয়েস তখন তাকে দেখতে চার বছরের ছেলের মতন। দশ বছর বয়েসে দেখাত সাত বছরের ছেলের মতন। চোদ্দো বছর বয়েসে তাকে সবাই মনে করত দশ বছরের ছেলে। তারপর… Continue reading নীল মানুষ ও ছোট্ট বন্ধু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
নীল মানুষের মন খারাপ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গভীর জঙ্গল, এখানে মানুষ প্রায় আসেই না, দু-একজন কাঠুরে বা শিকারি দৈবাৎ এসে পড়লেও ভূতের ভয়ে পালিয়ে যায়। লোকের মুখে মুখে রটে গেছে যে ওই জঙ্গলে ভূত আছে। কেউ-কেউ বলে, ভূত নয়, ব্রহ্মদৈত্য। এই জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে একটা হাইওয়ে গেছে। সেখান দিয়ে ট্রাক যায়, অন্য গাড়ি যায়। কিন্তু কোনও গাড়ি কখনো থামে না এই জায়গায়।… Continue reading নীল মানুষের মন খারাপ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়