এই কঠিন গম্ভীর মানুষটা অসুখ-বিসুখ একেবারেই সহ্য করতে পারে না। অল্প শরীর খারাপেই শিশুর মতো হয়ে যায়। আজ শরীরটা বেশি রকম খারাপ। ফরিদা হাত-মুখ ধুইয়ে তাঁকে মেয়েদের বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এসেছেন। নিজের শোবার ঘর ধুয়ে মুছে মেয়েদের ঘরে যখন ঢুকলেন তখন সন্ধ্যা মিলিয়ে গেছে। সোবাহান সাহেব কম্বল গায়ে দিয়ে হাত-পা গুটিয়ে শুয়ে আছেন। তার গায়ে… Continue reading দারুচিনি দ্বীপ পর্ব:০৩ হুমায়ুন আহমেদ
দারুচিনি দ্বীপ পর্ব:০২ হুমায়ুন আহমেদ
আমার মনে হয় তুমি ভুল বলছি। ওরা তোমার অর্থ বিত্ত এইসব পছন্দ করে। তোমার মধ্যে পছন্দ করার মতো গুণাবলি বিশেষ নেই। তুমি মজার গল্প করতে পার না। আসর জমাতে পার না। তুমি অত্যন্ত ইস্ট্রোভার্ট ধরনের এক জন যুবক-যে এখনো বালকের খোলস ছাড়তে পারে নি।তুমি কি আমাকে যেতে নিষেধ করছ? না। তোমার বয়স বাইশ, তুমি নিশ্চয়ই… Continue reading দারুচিনি দ্বীপ পর্ব:০২ হুমায়ুন আহমেদ
দারুচিনি দ্বীপ পর্ব:০১ হুমায়ুন আহমেদ
মা, আমার চশমা? আমার চশমা কোথায় মা? শুভ্ৰ হাহাকার করে উঠল। শুভ্রর মা, গাঢ় মমতা নিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। কি অদ্ভুত ভঙ্গিতেই না শুভ্ৰ হাঁটছে। দুই হাত বাড়িয়ে অন্ধের মতো হেলতে দুলতে এগুচ্ছে। তার সামনে চেয়ার। এক্ষুণি চেয়ারের সঙ্গে ধাক্কা খাবে।মা, আমার চশমা কোথায়? বলতে বলতে সে সত্যিই চেয়ারের ধাক্কা খেল। শুভ্রর মা উঠে এসে… Continue reading দারুচিনি দ্বীপ পর্ব:০১ হুমায়ুন আহমেদ
নি শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
চায়ের তৃষ্ণ হচ্ছে। তিনি চুলায় কেতলি বসিয়ে দিলেন। নদীর শো-শো শব্দের সঙ্গে স্টোভের শো শী শব্দ মিশে অন্য এক ধরনের শব্দ হচ্ছে। চুলার সামনে বসে থাকতে থাকতে তাঁর হঠাৎ মনে হলো, পৃথিবী শব্দময় হলে কেমন হতো? যদি এমন একটি জগৎ থাকত যেখানে সবই শব্দময়। গাছ। অনবরত শব্দ করে যাবে। একেক গাছ থেকে একেক ধরনের শব্দ… Continue reading নি শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
নি পর্ব:১০ হুমায়ূন আহমেদ
অপমানসূচক একটা কথা বললাম, ওসি সাহেব। খুবই অপমানসূচক কথা। কিন্তু প্ৰাণে বাঁচতে হলে এ ছাড়া পথ নেই। হেড মাস্টার সাহেবও একই জিনিস কববেন। উনি রাজি হয়েছেন। বুদ্ধিমান লোক তো। বিপদ আঁচ করতে পেরেছেন। আপনার বুদ্ধি কম। আপনি বিপদ টের পাবেন শেষ সময়ে, যখন করার কিছু থাকবে না।ওসি সাহেব জালালুদিনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি কম বুদ্ধির… Continue reading নি পর্ব:১০ হুমায়ূন আহমেদ
নি পর্ব:০৯ হুমায়ূন আহমেদ
এরকমই কথা ছিল। আফজাল সাহেব বলে দিয়েছিলেন কোমরে দড়িবাঁধা অবস্থায় মবিনুর রহমানকে গেটের বাইরে দাড়া করিয়ে ওসি সাহেব তার বাড়িতে চা নাশতা খবেন।ওসি সাহেব এই কাজটিই এখন করছেন। তবে কাজটি করতে তাঁর খুব ভালো লাগছে না। লোক জমছে। অনেক মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। মানুষ বেশি জমলেই তারা একসঙ্গে এক জাতীয় চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। যার নাম… Continue reading নি পর্ব:০৯ হুমায়ূন আহমেদ
নি পর্ব:০৮ হুমায়ূন আহমেদ
পাড়াগায় যারা থাকে তাদের জীবন মোটামুটি নিস্তরঙ্গ। বড় ধরনের কিছু চারপাশে ঘটে না। দুরবিন নিয়ে কেউ উপস্থিত হলে তাকেই মনে হয় গ্যালিলিও। আসলে তার প্ৰতিভা হয়তো ঐকিক নিয়মে ভালো অঙ্ক করায় সীমাবদ্ধ। কাউকে স্পেসিফিক্যালি মিন করে আমি বলছি না। তুমি রাগ করো না।আমি রাগ করছি না। ব্যাপারটা সত্যিা হলে রাগ হতো। সত্যি না বলেই রাগের… Continue reading নি পর্ব:০৮ হুমায়ূন আহমেদ
নি পর্ব:০৭ হুমায়ূন আহমেদ
কিছু-একটা হয়েছে রূপাদের বাড়িতে।সবার মুখ হাসি হাসি। সবার মধ্যে চাপা উত্তেজনা। বড় ধরনের আনন্দের কোনো ঘটনা। এ-বাড়িতে ঘটে গেছে কিংবা ঘটতে যাচ্ছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে কেউ আলোচনা কবীতে চাচ্ছে না। আলোচনা করতে না চাইলেও রূপার ধারণা সে ব্যাপারটা আঁচ করতে পারছে।বিকেলে মিনু বলল, বরূপা শুনে যাও তো। এসো আমার সঙ্গে।কোথায়? ছাদে।কোনো গোপন কথা? গোপন… Continue reading নি পর্ব:০৭ হুমায়ূন আহমেদ
নি পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ
কালিপদ বিনা বাক্যব্যয়ে স্টেশনের দিকে রওনা হলো।সদরে যাচ্ছি কেন জানিস না-কি কালিপদ? জে না।ডিইও সাহেব খবর পাঠিয়েছেন। মবিন সাহেবের গম চুরির ব্যাপারে কথা বলতে চান। ঘটনা শুনে উনি খুবই ক্ষিপ্ত। আমাকে বললেন–শুধু চাকরি থেকে ডিসমিস করলে এতবড় অপরাধের শাস্তি হয় না। অপরাধীকে জেলে ঢুকাতে হবে। আমি অবশ্যি বলেছি মানী লোক একটা ভুল করেছে। বাদ দেন।… Continue reading নি পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ
নি পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ
মবিন সাহেব জবাব দিলেন না। এতদিন কেন আসেন নি এটা বলতে হলে এক গাদা কথা বলতে হবে। কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। রূপা চেষ্টা করছে খুব স্বাভাবিক থাকতে। তার আচার-আচরণে কিছুতেই যেন ধরা না পড়ে–যে সে এই মুহুর্তে এক ধরনের ঘোবের মধ্যে আছে। বিশ্বাস পর্যন্ত হচ্ছে না যে স্যার তার সামনে বসে আছেন। মানুষটাব চেহারা… Continue reading নি পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ