এইসব আজেবাজে কথা লিখে শুধু শুধু পাতা ভরানো। কোনো মানে হয় না। আসলে আমাদের জীবনটা এরকম যে লেখার মতো কিছু ঘটে না। স্কুলে যাওয়া, স্কুল থেকে এসে ভাত খাওয়া, রাতে পড়াশোনা করে ঘুমুতে যাওয়া- ব্যস, এইটুকুতেই সব।আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি পড়ে মেয়েটার উপর আমার খুব ঈর্ষা হলো। কত ভাগ্যবতী মেয়ে! তার ছোট্ট জীবনে কত কিছু ঘটেছে।… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০৮ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০৭ হুমায়ূন আহমেদ
আমি উঠে বসলাম। নানিজান আমার পেছনে বালিশ দিয়ে দিলেন। তারপর শুরু করলেন হাসির এক গল্প। গল্প বলবেন কী, নিজেই হাসতে হাসতে বাঁচেন না। এক লাইন বলেন, বলেই হাসেন। আরো এক লাইন বলেন, আবারো হাসি। এমন হাসাহাসি শুরু হলো যে, কে বলবে এ বাড়িতে কোনো অসুখ-বিসুখ আছে! আমি অনেকদিন পর মাকে প্রাণ খুলে হাসতে দেখলাম। আর… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০৭ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ
হাদিউজ্জামান সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তোদের সবচে বড় সমস্যা হলো বিশ্বাসের সমস্যা। তোকে দোষ দিচ্ছি না। আমরা বাস করছি অবিশ্বাসের যুগে। আইয়েমে জাহেলিয়াতের সময় যে অবিশ্বাস ছিল এখন আবার আমরা সেই অবিশ্বাসের দিকেই যাচ্ছি। বড়ই আফসোসের কথা।দিলশাদ নরম গলায় বলল, বাবা, আমি দোয়াটা পড়ব। অবশ্যই পড়ব। কিন্তু আমি দোয়া শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করব না।হাদিউজ্জামান… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ
মতিঝিলের বারোতলা দালানের নতলায় ওয়াদুদুর রহমান সাহেবের অফিস রহমান ট্রেডিং কোম্পানি। দুকামরার অফিস। দুকামরার একটায় কর্মচারীরা বসে, অন্যটা দুভাগ করা হয়েছে। সেই দুভাগের একভাগে ওয়াদুদ সাহেবের অফিস ঘর, অন্যটা তাঁর খাস কামরা। খাস কামরা সুন্দর করে সাজানো। বিরাট একটা জানালা। জানালার দিকে পেছন ফিরে ওয়াদুদ সাহেব বসেন। কারণ জানালা দিয়ে তাকালে তার মাথা ঘোরে। তার… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ
ওয়াদুদুর রহমান তৎক্ষণাৎ মোটা শাশুড়ি আর চিকন বৌয়ের গল্প শুরু করলেন। রেখে-ঢেকে বলার পরেও গল্পের শেষটা শুনে দিলশাদের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাবার উপক্রম হলো। তার বড় আপা হাসতে হাসতে বিষম খেয়ে হেঁচকি উঠিয়ে ফেলল। দিলশাদ ভেবে পেল না তার আপা কী করে এমন আপত্তিকর একটা গল্প তাদের বলতে বলল। বোকা বলেই বোধহয় বলল। স্বামীকে খুশি… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ
টেলিফোনের শব্দে দিলশাদ জেগে উঠল। অনেক রাত, ঘর অন্ধকার। মাথার কাছে দেয়ালঘড়ি টিক টিক করছে। বেশ বাতাস। বাতাসে জানালার পর্দা নড়ছে। চারপাশের পৃথিবী পরিচিত, শব্দাবলি পরিচিত। কিন্তু যে টেলিফোনের শব্দ ঘুম ভাঙাল সেই টেলিফোন এলো কোত্থেকে? এ বাসায় টেলিফোন নেই। কখনো ছিল না। সাজ্জাদের যখন দিনকাল ভালো ছিল তখনো না। সাজ্জাদ টেলিফোনের জন্যে অ্যাপ্লাই করেছিল,… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ
বাবার সঙ্গে রিকশায় ঘোরার আনন্দের কোনো তুলনা নেই। কত মজার মজার কথা যে বাবা রিকশায় যেতে যেতে বলেন! হাসির কথা, জ্ঞানের কথা। কত রকম ধাঁধা, কত রকম অংক। একবার বাবা বললেন, টিয়া পাখি, দেখি তোর বুদ্ধি কেমন। কঠিন একটা ধাঁধা দিচ্ছি। হুট করে উত্তর দিতে হবে না। ভেবে-টেবে বলবি। ব্যাপারটা হলো শিকল নিয়ে। শিকল দি… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ
এপিটাফ পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ
শেফার স্মৃতির উদ্দেশে কালান্তক ব্যাধি বাসা বেঁধেছিল মেয়েটির ছোট্ট শরীরে। সে সেই ব্যাধিকে অগ্রাহ্য করল। মৃত্যুকে গ্রহণ করল অসীম সাহসিকতায়। কে জানে মেয়েটির সাহস দেখে হয়তো মৃত্যুও লজ্জা পেয়েছিল। “অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো সেই তো তোমার আলো।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ০১. কাল রাতে আমার খুব ভালো ঘুম হয়েছে। ঘুমের মধ্যে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখি নি।… Continue reading এপিটাফ পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ
অন্যদিন শেষ – পর্ব হুমায়ুন আহমেদ
সফিক সে কথার জবাব দিল না। আমি অবাক হয়ে দেখি তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। অশ্রু গোপন করবার জন্যে সে দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, শুধু জ্যোতির্ষিণব কেন তুই নিজেও যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাস আমার তাতে কিছুই যাবে আসবে না। আমি ঠিক উঠে দাঁড়াব। সেই রাত্রে একটি অদ্ভুত… Continue reading অন্যদিন শেষ – পর্ব হুমায়ুন আহমেদ
অন্যদিন পর্ব -৮- হুমায়ুন আহমেদ
এত বড় বাড়ি খাঁ খাঁ করছে। কেউ কোথাও নেই। গেটের পাশে দারোয়ান দাঁড়িয়ে থাকত আজ সেও নেই। দরজার সামনে ভাৱী পর্দা দুলছে। পর্দা টেনে ভেতরে ঢুকতে সংকোচ লাগলো। কে জানে হয়তো শেলীর মা ভেতরে বসে আছেন। তিনি কখনো আসেন না। আমার সামনে। হয়ত বিরক্ত হবেন। হয়ত লজ্জা পাবেন। বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনলাম। এগারোটা বাজাব ঘণ্টা… Continue reading অন্যদিন পর্ব -৮- হুমায়ুন আহমেদ