শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ১২ হুমায়ূন আহমেদ

মনোয়ারা উঠোনে বসে আছেন। পুষ্প তাঁর মাথার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। পুষ্পের মুখও শুকনো। সে কাল রাতে রাজবাড়ি থেকে চলে এসেছে। সারারাত কেঁদেছে। কি হয়েছে কিছুই বলেনি। মনোয়ারাও জিজ্ঞেস করেননি। তিনি অস্থির তার নিজের চিন্তায়। অন্যের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর মত তার মনের অবস্থা না। মনোয়ারা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন রাস্তার দিকে। কাউকে আসতে দেখলে… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ১২ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ১১ হুমায়ূন আহমেদ

আবদুল করিম ভুরু কুঁচকে পান চিবাচ্ছিল। বেহালা তার কোলের উপর রাখা। থু করে মুখের পান ফেলে দিয়ে বেহালা কাঁধে তুলে নিল। বেহালার ছড় কপালে ছুঁইয়ে দাঁত দিয়ে নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরল। তারপরই হঠাৎ যেন একটা ঝড় বয়ে গেল। পরাণ ঢোলীর অস্বস্তি দূর হল। খঞ্জনীবাদক শীরদাঁড়া সোজা বসল, বাঁশিওয়ালা তার বাঁশি বদলে নতুন বাঁশি নিল।নীতু বলল,… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ১১ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ১০ হুমায়ূন আহমেদ

তোর বাবার বুদ্ধি বেশি তো–সবকিছুতে মাতব্বরি করবে। ব্যক্তিগত একটা চিঠি বাংলা একাডেমীকে দেয়ার কি আছে? যাই হোক, আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হচ্ছে–আমাদের এই বাড়ি ছিল বিখ্যাত এক বাড়ি–হাওড় অঞ্চলের এই বাড়ি সবার চোখে পড়ে। সেটাই স্বাভাবিক। একাত্তর সনের মে মাসে পাকিস্তানী মিলিটারী যখন গানবোট নিয়ে হাওড় অঞ্চলে ঢুকল তাদের চোখেও এই বাড়ি পড়ল। তারা… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ১০ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৯ হুমায়ূন আহমেদ

নীতু রান্নাঘরের দিকে গেল। রমিজার মা রান্নাঘরে আছে। তার সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করা যায়। এই মহিলাটাও খুব ভাল শুধু হাসে। নীতু বলেছিল, আপনি এত হাসেন কেন? সে বলেছে–মনের দুঃখে হাসি। মনে দুঃখ বেশি তো, এই জন্যে হাসিও বেশি। দার্শনিক ধরনের উত্তর। নীতুর ধারণা, গ্রামের মানুষরা সহজ সরল হলেও সহজভাবে তারা কথা বলতে পারে না। সব… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৯ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৮ হুমায়ূন আহমেদ

তাকিয়ে বলল, আপনি আমার কপালের ঘাম মুছে দিন। বাঁ হাতটা সে শিশুর মাখার উপর রেখেছে। ডান হাতে সে খুঁজছে শিশুটির পা। তার নিজের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। বুক ধ্বক ধ্বক করছে। শিশুর দ্বিতীয় পাটি পাওয়া যাচ্ছে না।… এই তো, এই তো পাওয়া গেছে। ও গড প্লীজ হেল্প মি। আধো তন্দ্রা আধো জাগরণের ভেতর দিয়ে দূর্গা… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৮ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৭ হুমায়ূন আহমেদ

খিদে নামক একটা জটিল ব্যাপার দিয়ে আল্লাহপাক মানুষকে যে বিপদে ফেলেছেন এই নিয়েই সে এখন ভাবছে। খিদে নিয়ে জন্মগ্রহণ করা মানে পরাধীন হয়ে জন্মানো। খিদে না থাকলে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে মানুষ জন্মাত। আল্লাহপাকের মানুষকে পুরোপুরি স্বাধীন করার ইচ্ছা ছিল না। ইচ্ছা থাকলে তিনি অবশ্যই একটা উপায় করতেন।পায়ের শব্দে মতি পেছনে ফিরে পুরোপুরি হকচকিয়ে গেল। শাহানা… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৭ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৬ হুমায়ূন আহমেদ

বলেই কুসুমের মন খারাপ হয়ে গেল। কি বিশ্রি করেই না সে কথাগুলি বলল! অথচ আজ সে প্রতিজ্ঞা করে এসেছে, যেভাবেই হোক একটা কাজ সে আজই করবে। সারা পৃথিবীর মানুষ তাকে বেহায়া বললেও করবে। তার গায়ে থুথু দিলেও করবে। কাজটা হচ্ছে–সে মতির কাছে গিয়ে বলবে–এই যে অধিকারী সাব! আফনে গানের দল করছেন। দল নিয়া দেশে-বৈদেশে ঘুরবেন।… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৬ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৫ হুমায়ূন আহমেদ

ইরতাজুদ্দিনের পেছনে পেছনে দুজন কামলাও আছে। একজনের হাতে ছাত ধরা। তারাও পাচ্ছে। ইরতাজুদ্দিন থমথমে গলায় বললেন, আশ্চর্য কাণ্ড! তুই কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে এলি একা একা? আর কখনো যেন এরকম না হয়। কখনো না।তিনি পথের উপরই বসে পড়েছেন। বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছেন। শাহানার মনে হল, এই মানুষটার হার্টের কোন সমস্যা আছে। নয়ত… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৫ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৪ হুমায়ূন আহমেদ

মজিদ দোকান খুলে একা একা চুপচাপ বসে থাকে। কাঁচের বৈয়ম ভরতি তালমিছরি। মাঝে মাঝে তালমিছরির টুকর। মুখে ফেলে দেয়।মতি মজিদের দোকানের একপাশে শুয়ে থাকবে সাব্যস্ত করল। পথে কুসুমের বাড়িতে থামবে–পানি খেয়ে যাবে। কুসুমের বাবা অনেকদিন বাইরে, উনার কোন খোঁজ খবর আছে কিনা তাও জানা দরকার।কুসুমের বয়স কুড়ি হয়েছে। এই বয়সে গ্রামের মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়–কুসুমের… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৪ হুমায়ূন আহমেদ

শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৩ হুমায়ূন আহমেদ

নীতু লজ্জিত ভঙ্গিতে নিচু হল। কদমবুসির নিয়ম-কানুন সে ঠিক জানে না। দুহাত দিয়ে দুপা ছুঁতে হয় না-কি এক হাত দিয়ে? পা ছোঁয়ার পর হাতের আঙুলে চুমু খেতে হয়, না হাতের আঙুল মাথায় ছোঁয়াতে হয়? পা কবার ছুঁতে হয়–একবার না দুবার? নীতুর মনে হচ্ছে–ছোটখাট কোন ভুল করলেই এই মানুষটা ধমক দেবেন। ধমক দেয়াই হয়ত তার স্বভাব।… Continue reading শ্রাবণমেঘের দিন পর্ব – ০৩ হুমায়ূন আহমেদ