শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৩)-হুমায়ুন আহমেদ

‘তাহলে পাঁচ কাপ দি। বাবাকে এক কাপ, আমার নিজের দু কাপ। রাবেয়া চায়ের সরঞ্জাম সাজাতে লাগল। অভ্যস্ত নিপুণ হাত, দেখতে ভালাে লাগে। আমি বললাম, ‘মাসির বয়স কত রে ?  ‘অনেক। আমি ছাড়া সবাই তাে তাঁর হাতে। দেখলে মনে হয় না, তাই না? ‘। মার ব্যথাটা একটু কম মনে হয়।  ‘ছ’ বার মা এমন কষ্ট পেলেন!… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৩)-হুমায়ুন আহমেদ

শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ

রাবেয়ার প্রতি একটি গাঢ় মমতা ছাড়া আমাদের কারাে প্রতি তার কোনাে আকর্ষণ নেই। মার অনাদর খুব অল্প বয়সে টের পাওয়া যায়, যেমন আমি পেয়েছিলাম। রুনু ঝুনুও নিশ্চয়ই পেয়েছে। অথচ আমরা সবাই মিলে মাকে কী ভালােই না বাসি। উকিল সাহেবের বাসায় টেলিফোন আছে। সেখান থেকে ছােট খালার বাসায় টেলিফোন করলাম। ছােট খালা বাসায় ছিলেন না, ফোন… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ

শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ

বাস থেকে নেমে হকচকিয়ে গেলাম। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সব। রাস্তায় পানির ধারাস্রোত। লােকজন চলাচল করছে না, লাইটপােস্টের বাতি নিভে আছে। অথচ দশ মিনিট আগেও যেখানে ছিলাম, সেখানে বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। শুকনাে খটখট করছে চারদিক। কেমন অবাক লাগে ভাবতে, বৃষ্টি এসেছে, ঝুপ ঝুপ করে একটা ছােট্ট জায়গা ভিজিয়ে চলে গেছে। আর এতেই আশৈশব পরিচিত এ অঞ্চল… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ

মাছ ধরার আপদ-বিপদ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কথাটা উঠেছিল খবরের কাগজের একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে। সাঁতরাগাছিতে রেল লাইনের ধারে একটা পুকুর আছে। খুব মাছ আছে সেখানে। পুকুরের মালিক সরকারি রেল-দপ্তরের লোক। ছিপ ফেলে মাছ ধরার এমন সুযোগ নাকি আর কোথাও মিলবে না। অতএব রেলের অফিসে দশটা টাকা জমা দিয়ে সেই পুকুরে ছিপ হাতে বসে পড়া যায়। ভাদ্র মাসের শেষ। কদিন বৃষ্টির পর আকাশ… Continue reading মাছ ধরার আপদ-বিপদ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

বৃক্ষকথা-(শেষ)-পর্ব-হুমায়ুন আহমেদ

বাংলার কবি-সাহিত্যিকরা অবশ্যি কাঁঠাল নিয়ে মুগ্ধ। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত লাইন— তােমার যেখানে সাধ চলে যাও,আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব; দেখিব কাঁঠাল পাতা ঝরিতেছে অবিরল ভােরের বাতাসে। রবীন্দ্র–সাহিত্যে ছায়াদায়িনী বৃক্ষ হিসেবে কাঁঠাল গাছের উল্লেখ আছে। তবে কাঁঠাল ফলের কোনাে বর্ণনা পড়েছি বলে মনে পড়ছে না।  কবি মাইকেল মধুসূদনই কাঁঠাল ফলের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন—  কাঠাল, যার ফলে স্বর্ণকণা… Continue reading বৃক্ষকথা-(শেষ)-পর্ব-হুমায়ুন আহমেদ

বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ

এই গাছ সম্পর্কে একটাই তথ্য দিতে পারছি। এর পােড় এবং কলা পাহাড়িরা সবজি হিসেবে আগ্রহ করে খায়। আকাশমুখী এই থোড় দেখতে অপূর্ব এক ফুলের মতো। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখার মতো।আমার শৈশবের একটি বছর কেটেছে আমবাগানের ভেতর।  বাবার পােস্টিং হয়েছে দিনাজপুরের জগদ্দলে। আমরা থাকি জগদ্দলের এক পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে। সেই বাড়ি আমবাগানের ভেতর। কী প্রকাণ্ড সব… Continue reading বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ

বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৫)-হুমায়ুন আহমেদ

এই গাছের ফুল মেরুন কিংবা উজ্জ্বল বেগুনি। দেখতে অতি অত। মনে হয়—ফুল না, রঙিন প্রজাপতি বসে আছে। অন্য কোনাে ফুলের সঙ্গে সামান্যতম মিলও নেই। ফুল ফোটে আগস্ট–সেপ্টেম্বর মাসে। পাঁচ কোণ বিশিষ্ট ফল ফলে। সেই লও অত |  গাছটার বােটানিক্যাল নাম Abroyna augusta Lion. পরিবারের নাম Sterculiaceae  প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসা গ্রন্থে কোথাও ওলট কম্বলের নাম নেই।… Continue reading বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৫)-হুমায়ুন আহমেদ

বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৪)-হুমায়ুন আহমেদ

ঘৃতকুমারী Liliaceae পরিবারভুক্ত। রসায়ন এলােইন হলাে ঘৃতকুমারীর প্রধান রাসায়নিক উপাদান। এলােইনের প্রধান উপাদানগুলি হলাে কার্বালাইন, আইসাে বার্বালাইন, বিটা বার্বালাইন এবং এলাে এমােভিন।এলােইন ছাড়াও আরাে যেসব গুরুত্বপূর্ণ যৌগের সনি পাওয়া গেছে,  সেসব হচ্ছে ফ্লাভােনয়েডস, অক্সানথ্রোইনােনস, কুমারিন, এমিনাে অ্যাসিড, ক্টেরল, ট্রাইটারপেন, ম্যালিক এবং ফরমিক অ্যাসিড। গাছটিতে কিছু উদ্বায়ী তেল এবং অক্সনও আছে। ব্যবহার পশ্চিমা দেশে ঘৃতকুমারী নিয়ে… Continue reading বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৪)-হুমায়ুন আহমেদ

বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ুন আহমেদ

নীলমণি লতা  এই গাছের নামও রবীন্দ্রনাথের রাখা। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে ফুলের রঙ নীল। অর্কিড় ধরনের থােকা থােকা ফুল দেখে রবীন্দ্রনাথের মাথায় নীলমণি নাম আসাই স্বাভাবিক। লতাজাতীয় গাছ। ইংরেজিতে বলে Climbet. নুহাশ পল্পীতে আছে।  নীলমণি লতার বােটানিক্যাল নাম Paraea vxobxis. পরিবার হলে Verbenacea. একই পরিবারের একটি গাছ আছে সবাই চেনেন, গাছটার নাম রক্তাক্ত হৃদয়— Bleeding… Continue reading বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ুন আহমেদ

বৃক্ষকথা-পর্ব-(১২)-হুমায়ুন আহমেদ

যে শিক্ষক ভদ্রলােক বিম্ব গাছটির বিষয়ে আমাকে প্রথম জানিয়েছিলেন, মাসখানিক পরে তার সঙ্গে আবার দেখা। তিনি একটি তেলাকুচার চারা নিয়ে এসেছেন। চারাটি যত্ন করে লাগানাে হয়েছে। একটু বড় হলেই আমি এর পাতা খেয়ে ডায়াবেটিস সারাবাে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করমচা  বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালীতে চলে যাই। ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। অপু–দুর্গা বৃষ্টিতে ভিজছে। বৃষ্টি কমার জন্যে তারা একমনে… Continue reading বৃক্ষকথা-পর্ব-(১২)-হুমায়ুন আহমেদ