দুই দুয়ারী-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ুন আহমেদ

সাবের খানিক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইল। এক সময় চোখ মেলে বলল, ওরা বলেছে ওরা অসম্ভব কষ্ট পাবে।  ‘তাহলে ওদের আপনি বলুন না – আপনাকে মুক্তি দিতে। ওদের তাে ক্ষণস্থায়ী জীবন। সেই জীবন তাে ওরা ভােগ করল – আর কত।  ‘বলব?” ‘হ্যা বলুন?” ‘এটা বলতে লজ্জা করছে।” ‘লজ্জার কিছু নেই, আপনি বলুন।  সাবের চোখ বন্ধ করল।… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৭)-হুমায়ুন আহমেদ

আগস্ট বলল, আপনি কি কিছু বলতে চাচ্ছেন? বলতে চাইলে বলে ফেলুন। আর সুযােগ পাবেন না।  এষা নীচু গলায় বলল, আপনি কে আমি জানি না। জানতেও চাই না – হয়ত আপনি কেউ না, সাধারণ একজন মানুষ – কিংবা হয়ত বিশেষ ধরনের একজন মানুষ … আপনি যেই হােন, আমি হাত জোর করে আপনার কাছে একটা অনুরােধ করব। … Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৭)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ

‘পারছি – কিন্তু আমি যা বলছি তা সত্য। জীবাণুরা যে কোন ভাবেই হােক আমার সঙ্গে কম্যুনিকেট করতে পারছে। তােমাদের ব্যাপারটা আমি বােঝাতে পারছি না, কারণ কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার গ্রহণ করার মত মানসিক প্রস্তুতি তােমাদের নেই। ‘তুমি তাে আমাদেরই একজন। তােমার ভেতর সেই মানসিক প্রস্তুতি কি করে হয়ে গেল?”  ‘মিস্টার আগস্ট আমাকে সাহায্য করেছেন। মতিন সাহেব… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৫)-হুমায়ুন আহমেদ

‘আমাদের এখানে একজন আছেন তার নাম মিঃ আগস্ট। তাঁর সঙ্গে কি কথা বলেছেন ?”  ‘কথা বলে দেখবেন। চমৎকার মানুষ। “জ্বি – আচ্ছা, কথা বলব। নিন, অষুধটা খান। ‘আমি অষুধ খাব না বলে ঠিক করেছি। ‘কখন ঠিক করলেন?  ‘কিছুক্ষণ আগে। চোখ বন্ধ করে এই ব্যাপারটাই ভাবছিলাম। আমি ভেবে দেখলাম কি জানেন? আমি চিন্তা করে দেখলাম –… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৫)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৪)-হুমায়ুন আহমেদ

কোন কিছুতেই তার মন বসছে না। সাবেরের অসুখের এতটা যে বাড়াবাড়ি তা তিনি বুঝতেই পারেননি। ছেলের সঙ্গে ইদানীং তার যােগাযােগ নেই বললেই হয়। সাবের তাঁর ভয়ে অস্থির হয়ে থাকে। এটা জানেন বলেই তিনি নিজেকে দূরে দূরে রাখেন। তার মানে এটা না যে সাবের অসুস্থ হলেও তিনি জানবেন না। ডাক্তারের কথা শুনে তিনি বেশ বিচলিত বােধ… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৪)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৩)-হুমায়ুন আহমেদ

যা–ই হােক, গাছ হবার জন্যে আমি একটা ফাঁকা জায়গায় দু‘হাত উপরে তুলে দাঁড়ালাম। একটু ভয় ভয় করতে লাগল। কি গাছ হব তা জানি না। ব্যাটা কিছু বলে যায়নি। একটু দুঃশ্চিন্তাও হচ্ছে। আমার ইচ্ছা বটগাছ হওয়া। যা–ই হােক, দাড়াতে না দাঁড়াতেই বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি।দাড়িয়ে আছি, পঁড়িয়ে আছি। কেমন অন্য রকম লাগছে। তারপর হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পায়ের… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৩)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১২)-হুমায়ুন আহমেদ

‘আমি খেলব না।” ‘আপনার দানগুলি আমি চেলে দেব। আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। না – আমার শরীর ভাল না। তা হলে তাে আমাকে একা একাই খেলতে হয়।  হরিবাবু শুয়ে পড়লেন। কাজের মেয়েটা মশারী খাটিয়ে দিয়ে গিয়েছে। ঘরে বাতি জ্বলছে। সেই বাতির আলাে চোখে লাগছে। পাশের খাটে বসে লােকটা খট খট শব্দে লুডুর দান ফেলছে। হরিবাবু… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১২)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১১)-হুমায়ুন আহমেদ

লােকটি নীচু গলায় বলল, বিড়াল মিউ মিউ করে যে কথাগুলি বলে তা যদি মানুষ বুঝতাে তাহলে তাকে কোনদিন ফেলে দিয়ে আসতাে না। বিড়াল কি বলে?  ‘বিড়াল কাঁদতে কাঁদতে বলে, তুমি আমাকে অনেক দূরে ফেলে দিয়ে এসেছিলে। আশ্রয় এবং খাদ্যের সন্ধানে আমি অন্য কোথাও যেতে পারতাম। তা যাইনি। তােমার কাছেই ফিরে এসেছি। অনেক কষ্টে ফিরেছি। কেন জান?… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১১)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(১০)-হুমায়ুন আহমেদ

‘আপনি নিশ্চয়ই দাবী করেন না যে আপনি একজন দেবদূত। আকাশ থেকে পড়েছেন। কি যে বলেন। দেবদূত হতে যাব কেন?”  এষা গলার স্বর নামিয়ে বলল, সায়েন্স ফিকশানের কোন ক্যারেক্টার না তাে ?  আপনার কথাটা বুঝতে পারছি না।  ‘সায়েন্স ফিকশানে এরকম প্রায়ই পাওয়া যায় – ভবিষ্যতের একজন মানুষ টাইম মেশিনে করে অতীতে চলে এসেছেন – আপনি তেমন… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১০)-হুমায়ুন আহমেদ

দুই দুয়ারী-পর্ব-(৯)-হুমায়ুন আহমেদ

এষা দোতলার বারান্দা থেকে দেখল লােকটা কাঁঠাল গাছের নীচে মােটা একটা বই নিয়ে বসে আছে। কি বই এত মন দিয়ে পড়ছে? একবার ভাবল নীচে নেমে জিজ্ঞেস করবে, পর মুহূর্তেই মনে হল – কি দরকার। এষা সাবেরের ঘরে ঢুকল। তিনদিন ধরে সে জ্বরে ভুগছে। লােকটার সঙ্গে সে ঘন্টাখানিক বৃষ্টিতে ভিজেছিল। লােকটার কিছু হয়নি। তার ঠাণ্ডা লেগে… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(৯)-হুমায়ুন আহমেদ