চারদিন পর সফিকের কাছে টয়লা ক্লিনের এক চিঠি এসে হাজির। প্রতি ঘণ্টায় মিনিমাম। ওয়েজ তিন ডলার পঞ্চাশ সেন্ট করে তােমাকে লাইব্রেরিতে একটি কাজ দেয়া হল। এখন পড়াশােনার ভাল সুযােগ পাবে।
লাভ কিছু হলাে না। ফাইন্যালে দেখা গেল চারটাই ডি | টয়লা ক্লিন ভ্ৰ কুঁচকে বললাে, এখন কী করবে?
গভীর সমুদ্র ম্যাডাম। বিষ খাওয়া ছাড়া উপায় নাই কিছু।
আরেকটা কোয়ার্টারের সুযোেগ যাতে দেয় এই চেষ্টা করব ? প্রথম দিকে কিছু সহজ কোর্স নিলে কেমন হয় ?
সফিককে দ্বিতীয় কোয়ার্টারের সুযােগ দেয়া হল। ডীনের অফিস থেকে পার্মিশনের জন্যে টয়লা ক্লিনকে প্রচুর দৌড়াদৌড়ি করতে হলাে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে হলাে দুটি ডি এবং একটি সি ও একটি এফ। টয়লা ক্লিন গম্ভীর হয়ে বললাে, এই ইউনিভার্সিটিতে তুমি আর পড়তে পারছ না সফিক। কী করবে এখন ? দেশে ফিরে যাবে ?
না। ইল্লিগেল এ্যালিয়েন হিসাবে থাকবে ? হা।
টয়লা ক্লিন শান্ত স্বরে বললাে, গুড লাক। আমেরিকা হচ্ছে ল্যান্ড অব অপরচুনিটি। কিছু একটা হয়েও যেতে পারে তােমার।
সফিক গ্রেভার ইনের কাছে একটা ঘর ভাড়া করে নিক্স প্লেসের কাজে লেগে গেল।
নিক্স প্লেস যে মহিলাটি চালায় তার নাম জোসেফাইন নিক্স। লম্বায় চার ফুট তিন ইঞ্চি। দৈর্ঘ্যের স্বল্পতা সে অবশ্যি পুষিয়ে নিয়েছে ওজন দিয়ে। বর্তমান ওজন ২৩০ পাউন্ড। সে ওজনও প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে। গায়ের রঙ ঘন কুষ্ণ বর্ণ। গত ছয় পুরুষ ধরে আমেরিকায়
বাস করেও আফ্রিকার আদিম বর্ণের কিছুমাত্র পরিবর্তন হয় নি। সফিককে চাকরি দেবার সময় সে ঘড়ঘড়ে গলায় বললাে, তােমাকে চাকরি দিচ্ছি একটি মাত্র কারণে তােমার গায়ের রং কালাে। সাদা মানুষগুলিকে ঈশ্বর বিষ্টা দিয়ে তৈরি করেছেন। সাদা মানুষের রক্তের মধ্যে একটা জিনিসই আছে সেটা কী জান ?
সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ
বিষ। আসল হেমলক বিষ। পৃথিবীতে যত অন্যায় অবিচার হয়েছে সব করেছে সাদা মানুষ।
তাই কি ?
একদম খাঁটি কথা। অমাির এখানে সাদা মানুষ ঢুকলে পাছায় লাথি দিয়ে বের করে দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তা দেয়া যায় না। কারণ ফেডারেল আইনে সাদা এবং কালাের মধ্যে
কোনাে ভেদাভেদ নাই। কী কুৎসিত আইন। সাদা কখনাে কালাের সমান হয় ?
জোসেফাইনের এখানে একটি সাদা ছেলেও কাজ করে। কিন্তু তাতে জোসেফাইনের কিছুই যায় আসে না। চক্ষু লজ্জাটজ্জা বলে তার কাছে কিছু নেই।
সাদা মানুষদের মুণ্ডুপাত না করে সে তার দিন শুরু করে না ।
হ্যারি (জোসেফাইনের স্বামী) যে আজ জেলে খাবি খাচ্ছে সে কীসের জন্যে ?কী কারণে? একটি মাত্র কারণ জজ সাহেব ছিল সাদা। জুরিরা ছিল সাদা। যে পুলিশ ধরেছে সেও ছিল সাদা। এই অবস্থায় হ্যারির বিশ বছরের জেল হবে না তাে কার হবে ? ইলেকট্রিক চেয়ারে নিয়ে যে বসায় নি সে আমার উপর মাদার মেরীর অসীম করুণা আছে বলেই।
হ্যারির অভাবে জোসেফাইন যে খুব কাতর সে রকম মনে করারও কোনাে কারণ নেই। দিনের মধ্যে দুএকবার সে বলবেই যীশু খ্রিস্টের দয়া হ্যারি এখন জেলে। বাইরে থাকলে নিক্স প্রেসের অর্ধেক বিয়ার সে–ই খেয়ে ফেলতাে। এখন ভাল হয়েছে । জেলে বসে আঙ্গুল চুষছে।
কাস্টমারদের সঙ্গে নিত্যদিন খিটিমিটি লেগে আছে। কেউ হয়তাে বললাে, ব্লাডি মেরীতে জল মনে হচ্ছে বেশি হয়ে যাচ্ছে জোসেফাইন । বেশি হলে খেয়ে না তােমাকে পায়ে ধরে সাধছি ? পয়সা দিচ্ছি ঠিক জিনিস খাবাে। পানি মেশানাে ব্লাডি মেরী খাব কেন ? আলবত খাবে। তুমি একা নও তােমার চৌদ্দগুষ্টি খাবে।
সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ
টাকা পয়সা নিয়েও সফিকের সঙ্গে তার খিটমিটি লেগেই আছে। ঘণ্টায় দু’ডলারের বেশি কিছুতেই দেবে না। পােষালে কাজ কর না পােষালে করবে না। দশ ঘণ্টা কাজ করলে সে হিসাব করে বের করে সাত ঘণ্টা কাজ হয়েছে। তার বড় মেয়ে এ্যালেনকে নিয়েও তার আদিখ্যাতার অন্ত নেই। সুযােগ পেলেই গলা নিচু করে বলবে, | খবরদার কোনাে রকম ফষ্টিনিষ্টির চেষ্টা করবে না। আমার মেয়েটা খারাপ। একটু ইশারা করলেই সর্বনাশ। আমি যদি দেখি এইসব কিছু হচ্ছে তাহলে খুন করে ফেলব হুই।
এ্যালন নিজেও তাঁর মায়ের মত তিনমণি বস্তা । তাকে নিয়ে ফষ্টিনষ্টি করার ইচ্ছা হবার কোনাে কারণ নেই। কিন্তু মেয়ের মা তা বােঝে না। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র অবশ্যি সত্যি সত্যি ভাল না। আড়ালে পেলেই সফিকের সঙ্গে কুৎসিত সব অঙ্গভঙ্গি করে। একদিন বেশ ভাল মানুষের মত সফিককে মুভি দেখাতে নিয়ে
গেল । মুভি দেখাবার এত সাধ্য সাধনার কারণ জানা গেল মুভি শুরু হবার পর। হার্ড কোর পর্ণো মুভি একটি। মেয়েটি মেঘ স্বরে বললাে, সব কায়দা কানুন যাতে শিখতে পার সে জন্যেই নিয়ে এলাম। অনেক কিছু জানার আছে।
Read more