সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৭

গজপতির দিবানিদ্রার অভ্যাস নেই। বেরিয়ে গিয়ে রােদে দাড়িয়েছেন। সবে শীত পড়েছে। বেশ আরাম লাগে ।  হঠাৎ কানে এল, বেলগাছ থেকে কে সুর ধরে আওড়াচ্ছে । ‘গর, র, র, মানে এস এস   ভেউ মানে কে রে ? ঘেউ মানে খবৰ্কার যাব নাকি তেড়ে ? খাক মানে কামড়াব ভাক্ মানে যাঃ । অভি মানে পেটে ব্যথা কিছু… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৭

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৬

তাহলে আবার নির্ঘাৎ গজপতি রসিকতা করতে বেলগাছে চেপেছিলেন। এই ভেবে ভবভূতি হাে হো করে হেসে উঠলেন। বললেন—গজু, তুই মাইরি আস্ত ভূত!  -ভুত! বেলগাছের লােকটা ঘুষি তুলে বসল । তুমি ভুত । তােমার চোদ্দপুরুষ ভুত! আর গজু বলছ, সেই গজু-টজুকে আমি চিনি না    ভবভূতি বললেন–দেখ গজু, বাড়াবাড়ি কোনাে না। গায়ে জল ঢেলে দেব বলছি!  -কেন… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৬

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৫

আর এই ভাষার নামও খুঁজে পেয়েছেন ভবভূতি। শ্বান’ ভাষা। শ হল কি না কুকুর। তাদের ভাষার নাম ‘শ্বান’ ভাষা।  যে গােয়াল রােজ ‘সরমা অর্থাৎ ভবভূতিবাবুর বাড়িতে দুধ দিতে যায় সে অবাক হয়ে শোনে, ভবভূতি বলছেন—ঘেী ঘৌ ঘঃ ?   কালীপদ জবাব দিচ্ছে—ঘরররর ঘ্যাঃ।  —ভেঁক্ ভেঁক্‌। –ভেউ-উ–উ। —গঃ গ গাও!  গ —এ) এ্যা। গােয়ালা কালীপদকে চুপিচুপি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৫

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৪

এতক্ষণে ভবভূতির সংশয় ঘুচল। লাঠি ও বন্দুক মাটিতে রেখে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে হহ হহা করে হেসে বললেন—রাস। হাত বাড়াও। ধরে নামাচ্ছি। ব্ৰহ্মদৈত্য গুড়ির ওপরে বসে আছে। হাত বাড়িয়ে দিল। ভবভূতি তার হাত ধরে সাবধানে নামতে সাহায্য করলেন। নেমেই ব্ৰহ্মদৈত্য হাঁটুর ব্যাথা ভুলে চেঁচিয়ে উঠল—এই সেরেছে। হাড়িটা পড়ে আছে যে! সর্বনাশ! নির্ঘাৎ ব্যাটা এতক্ষণ আদ্ধেক সাবাড় করেছে। বলে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৪

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৩

হঠাৎ চমকে উঠলেন। তাহলে কি ওটা খড়মের শব্দ? অর্থাৎ বেলগাছের ব্ৰহ্মদৈত্য ? তাহলে কি সত্যি ব্ৰহ্মদৈত্য বলে কিছু আছে ? এবং সেই ব্ৰহ্ম দৈত্যই কি কুকুরগুলােকে রাতে কিছু খাইয়ে বশ করে ফেলেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে ? অথচ সকালে যখন দুধ পাঁউরুটি খাওয়াতে গেলেন, তখন ওর শান্তভাবে ছিল। এর মানে কী?  ভবভূতির মনে হল, নেহাত… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১৩

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১২

না, ব্ৰহ্মদৈত্যের জন্যে নয়। গাছটা ইয়া মােটা, বেলে ভর্তি। ভৰভূতি বেলের সরবত পেলে আর কিছু খেতে চান না। একগাল হেসে গজপতিকে বললেন–গজু, প্রতিদিন বেলের সরবতের নেমতন্ন রইল। এলেই পাবে।   গজপতি মুখে হঁ্যা বললেন বটে, কিন্তু মনে মনে বললেন -মাথা খারাপ ? বেলের সরবতের জন্যে রােজ ট্রেনে চেপে ব্ৰহ্ম দৈত্যর আখড়ায় আসব ? আমি তাে ভবুর… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১২

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১১

–না দেখেছি তাে কি বানিয়ে বলছি ? গজপতি গম্ভীর মুখে বলেন। আমার বয়েস বারাে–তেরাে হবে। ক্লাস এইটে পড়ি। মাধুরীদির ছেলেপুলে ছিল না বলে আমাকে মাঝে মাঝে নিয়ে যেতেন। খাটে শুয়ে পিট পিট করে তাকিয়ে ওইসব কাণ্ডকারখানা দেখতুম । বলতুমও কে দিদি, যাকে হজমি গুলি দিলে ? মাধুরীদি বলতেন, চুপ, চুপ। বলতে নেই।   ভবভূতি বলেন—সে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১১

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১০

সে ছিল আসলে যাকে বলে সত্যযুগ। তখন স্বর্গ থেকে দেবতারা ‘আসতেন পৃথিবীতে। দেবরাজ ইন্দ্রের বাহনের নাম ঐরাবত। ঐরাবতও মাঝে মাঝে স্বর্গের জলে চান করে সুখ পেত না—তেষ্টা মিটত না। চলে আসত পৃথিবীতে। জোলাপাড়ার কাছে ছিল একটা দিঘি। সেই দীঘিতে নেমে শুড়ে জল তুলে খেলা করত। তারপর স্বর্গে ফিরে যেত।   একদিন হয়েছে কী, ঐরাবত নেমেছে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১০

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৯

আরেকবার হয়েছে কী, করিম জোলা গেছে ঘােড় কিনতে শহরে। একখানে কুমড়োেলা কুমড়াে বিক্রি করছে। করিম বলল – ভাই, এগুলো কী? লােকটা ভাবল, কী বুদ্ধরে বাবা। কুমড়ােও চেনে না। তাই তামাসা করে বলল—এগুলো হচ্ছে ঘােড়ার ডিম।   করিম জোলা লাফিয়ে উঠল। জ্যান্ত ঘােড়া কেনার চেয়ে ঘােড়ার ডিম কিনলে সস্তায় হবে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরুবে : তাকে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৯

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৮

ভয়েভয়ে টিউবেলের কাছে গিয়ে সেই ঝােপটার দিকে তাকালুম।   কেউ নেই তাে ওখানে! একহাতে টিউবেলের হাতল চেপে অন্যহাতে জল খাওয়া ভারি কঠিন। হঠাৎ মনে হল হাতলটায় কেউ চাপ দিচ্ছে। গলগল করে জল পড়তেও দেখলুম। জলের তেষ্টা এত বেশি যে অত কিছু লক্ষ্য না করে জল খেতে থাকলুম।   জল খাওয়ার পর ভয়টা অনেকটা কেটে গেল। তখন… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৮