সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৭

কিন্তু এখন যেমন সহজে বলে যাচ্ছি, আসল ভূতটা দেখার সময়ে মােটও ব্যাপারটা সহজ ঠেকেনি। ওরে বাবা! সে বড় গােলমেলে ব্যাপার। আর সেই দৃশ্য মনে পড়লে আজও গায়ের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায়।   তখন আমার বয়স মােটে বারাে বছর। পড়ি ক্লাস এইটে। আমাদের স্কুলটা ছিলাে দুটো গাঁয়ের মধ্যিখানের মাঠে একেবারে নিরিবিলি জায়গায়। চারপাশে বড় বড় গাছ, আর ঝােপঝাড় ছিল। পিছনের পুকুরপাড়ে কল্কে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৭

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৬

নীলু বলল—আমাদের পাড়ায় থাকে। বিজু, তাের নাম বল।  ম্যাজিসিয়ান হাত তুলে বলল—থাক্ থাক্। বিজু তাে? ব্যস, ওতেই হবে।  নীলু বলল—বিজু, তােকে কিন্তু দুটো টাকা দিতে হবে। আমিও দিয়েছি।   বললুম—দেব। কিন্তু এখন যে নেই রে !  ম্যাজিসিয়ান বলল–আচ্ছা, আচ্ছা এবার শােন বাবা, আমি যা করার সব করে দিয়েছি। এখন তােমাদের কি করতে হবে, বলছি। আমি… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৬

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৫

 যেই যাবে কাছাকাছি, ডাকিনীটা ওর গলা মটকে রক্ত চুষে খাবে। | হাঁ করে তাকিয়ে ওর কাণ্ড দেখছি, এমন সময় আমাদের কুকুর ভুলাে এসে আমার পা শুকে লেজ নেড়ে কেঁউ কেঁউ করে উঠল। ভুলাের মতাে তেজী কুকুর গাঁয়ে আর দুটো নেই। ওর গায়ের গন্ধ পেলেই মাঠের শেয়ালগুলাে লেজ গুটিয়ে তল্লাট ছেড়ে পালায়। একবার এক ভালুকওলা এসেছে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৫

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৪

 তৃতীয় উপজাতি হচ্ছে প্রাণীজ ভূত অর্থাৎ মানুষ বাদে অন্যান্য প্রাণী মরে যে ভূতের জন্ম। যেমন ধরুন, গরু মরে যে ভূত হয়েছে, তার নাম ‘গােদানাে’।  ভবভূতি আরও কৌতূহলী হয়ে বললেন—সবরকম ভূতই তাে এখানে রয়েছে ?   ভূতনাথ বললেন—হুউ । তবে সবসময় দেখা পাওয়া মুশকিল। আপনি তত সুন্দরবন অভয়ারণ্যে গেছেন। কবার বাঘ দেখতে পেয়েছেন, বলুন?  ভবভূতি সায় দিয়ে… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৪

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৩

রাস্তাটা ডাইনে ঘুরছে এবার। সামনে গেট দেখা যাচ্ছে। তার ওপাশে বাংলো মতাে একটা বাড়ি। গেটের কাছাকাছি যেতেই ভবভূতি দেখলেন, আচমকা কী একটা ঢ্যাঙা লিকলিকে মূর্তি সটান ঝােপ ঠেলে রাস্তায় এল এবং তাঁদের সামনে একটু তফাতে সঁাড়িয়ে, গেল। ভবভূতি ফিসফিস করে উঠলেন—গজু। ওটা কী ?   গজপতি দাড়িয়ে গেছেন। তেমনি ফিসফিসিয়ে বললেন-এই সেরেছে। কিছু খাবার আনা… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-৩

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-২

ভবভূতি অবাক হয়ে বলেছিলেন—বলাে কী! -হ্যা। মেকসিকো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূততত্ত্বে ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়। আমাদের ভুতাে সেই ডিগ্রি পেয়ে এখন ভারতের নামকরা ঘােস্ট এক্সপার্ট অর্থাৎ ভূত–বিশেষজ্ঞ হয়েছে। গতবছর যখন রামচন্দ্রপুর ঘােস্ট প্রজেক্ট-থুড়ি, ভূতেদের অভয়ারণ্য চালু হল, তখন তার । উদ্বোধন করেছিলেন কে জানাে তাে? ভূত বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী মিসেস এস সি হাড়মটমটিয়া। ভবভূতি আরও অবাক।–এমন সরকারি দফতরের… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-২

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১

কোয়ার্টার পর্যন্ত এখানে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। করেছে খানিকটা দুরে। ওরা এখন পালিয়ে সেই কোয়ার্টারে ঢুকবে। পরের ট্রেন আসার সময় হলে স্টেশনে আসবে। ফের পালাবে।   অবিশ্বাসী ভবভূতি বললেন–তাহলে এই স্টেশনঘরটা তৈরি হল কীভাবে শুনি?  সে অনেক হাঙ্গামা করে হয়েছিল। সায়েব ইঞ্জিনিয়াররা এসে বানিয়েছিল। ওরা খুব ডানপিটে ছিল বলেই পেরেছে। গজপতি পা বাড়িয়ে ফের বললেন—অর… Continue reading সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর নিঝুম রাতের আতঙ্ক খন্ড-১

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মীরার গ্রামের বাড়ি শেষ খন্ড

খুব ভালো কথা। মেয়েকে ডেকে ‘রায় নিয়ে দাও। আর দেলােয়ারকে বল তাকে যেন রেলস্টেশনে নিয়ে ট্রেনে তুলে দেয়। সে কি এক বস্ত্রে যাবে, না একটা স্যুটকে সঙ্গে নিতে পারবে? | আজহার সাহেব একদৃষ্টিতে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তার হাত কাপছে। মনে হচ্ছে তিনি চোখেও ঝাপসা দেখছেন মনােয়ারার মুখ কেমন যেন অস্পষ্ট লাগছে।   মনােয়ারা চোখ… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মীরার গ্রামের বাড়ি শেষ খন্ড

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মীরার গ্রামের বাড়ি খন্ড-২৮

যাও তােমার আপাকে আসতে বলো, একগ্লাস পানি আর একটা চামচ নিয়ে যেন আসে।’  দূর থেকে বের হয়ে এল। সে দাঁত দিয়ে সেই চেশে কানা মামলার চেষ্টা করছে। তাকে অনেকক্ষণ কান্না চেপে রাখতে হবে। আপাকে খবর দিতে হবে, তারপর নির্জন কোনাে জায়গায় গিয়ে কাপতে হবে। তার সব বন্ধৱাই খুব কান পেলে বাথরুমে দরজা বন্ধ করে কালে।… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মীরার গ্রামের বাড়ি খন্ড-২৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখা মীরার গ্রামের বাড়ি খন্ড-২৭

এতবড় একটা মাছ দেখে একজন মানুষ কী করে বলে মদুটাতাে খারাপ না। দাদাজান কি আশা করেছিলেন সে ছিপ দি৷ তিমি মাছের সাইজের একটা কাতল মাছ ধরবে?   মাছের গায়ে হাত রেখে শেফা বসে আছে। আজহার সাহেব এই অবস্থায় মেয়ের ছবি তুললেন। এটা নিয়ে শোর মনে অশান্তি। বাবা একেবারেই ছবি উছ চিঠিন। ভালা হচ্ছে না। এতাে গুছিয়ে… Continue reading হুমায়ূন আহমেদের লেখা মীরার গ্রামের বাড়ি খন্ড-২৭